মঙ্গলবার

শব্দ কত প্রকার - শব্দের শ্রেণীবিভাগ

শব্দ কাকে বলে - শব্দের প্রকারভেদ ও শ্রেণীবিভাগ


এখানে যা থাকছে---

  • শব্দের শ্রেণীবিভাগ
  • শব্দের প্রকারভেদ
  • শব্দ কাকে বলে
  • উৎসগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ
  • গঠনগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ
  • পদগত দিক দিয়ে শ্রেণীবিভাগ

শব্দের শ্রেণীবিভাগ, শব্দের প্রকারভেদ, শব্দ কাকে বলে, উৎসগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ, গঠনগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ, পদগত দিক দিয়ে শ্রেণীবিভাগ
শব্দ কাকে বলে - শব্দের প্রকারভেদ


শব্দ কি বা কাকে বলেঃ

আমরা বাংলা বর্ণমালায় যে সকল বর্ণ বা অক্ষর পায় সেগুলো থেকে কিছু অক্ষর বা বর্ণ পাশাপাশি বসালে যদি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর অর্থ প্রকাশ পায় তখন সেই বর্ণ সমষ্টি বা বর্ণ গুচ্ছ কে এক সাথে এক একটি শব্দ বলে। যেমন বাংলা বর্ণমালার কিছু বর্ণ ন, য়, ছ এবং য় পরপর এক সাথে বসিয়ে পাই 'নয়ছয়', এখানে 'নয়ছয়' একটি শব্দ কারণ 'নয়ছয়' গঠিত হয়েছে কয়েকটি বর্ণ পাশাপাশি বসে এবং নয়ছয় এর একটি অর্থ আছে, কোনোকিছু এলোমেলো বা উল্টা পাল্টা করা বোঝাতে নয়ছয় ব্যবহার করা হয়। সুতারং কয়েকটি বর্ণ পাশাপাশি বসে অর্থ প্রকাশ করলে তাকে শব্দ বলে। ইংরেজিতে শব্দ কে ওয়ার্ড (Word) বলা হয়। 



বাংলা ভাষা ও শব্দের উৎপত্তি ও জন্মঃ

বাংলা ভাষা একটি মিশ্র ভাষা। বঙ্গ অঞ্চলে বসবাসকারী লোকজন যে সকল কথা নিজেরা বলাবলি করত সে সকল কথার বা ভাষার শব্দ কে বাঙ্গালীদের নিজেস্ব ভাষা বা দেশি ভাষা বলে। শুধু দেশি ভাষা নয়, বঙ্গ অঞ্চলে বিদেশিরা শাসন করার সময় বিদেশিদের সাথে কথা বলতে বা তাদের সাথে তাল মিলাতে বাঙ্গালীরা বিদেশিদের কিছু ভাষা ব্যবহার করতে করতে বাংলা ভাষায় মিশিয়ে ফেলেছে। অন্য দিকে সংষ্কৃত ভাষাভাষির লোকজন যখন বঙ্গ অঞ্চলে বসবাস শুরু করে তখন সংষ্কৃত ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় মিশে গেছে। অর্থাৎ বাঙ্গালীরা বা আমরা যে সকল কথা বলি তার শব্দ গুলো কোনোটি আমাদের নিজস্ব দেশি শব্দ, কোনোটি আর্বি-ফার্সি-ইংরেজি বা বিদেশি শব্দ এবং অন্য গুলো সংষ্কৃত শব্দ। এভাবেই দেশি, বিদেশি ও সংষ্কৃত শব্দ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে।



শব্দের প্রকারভেদ বা শব্দের শ্রেণীবিভাগঃ

শব্দকে নানা শ্রেণীতে বিভক্ত করা যেতে পারে। শব্দের শ্রেণীবিভাগ করতে যে সকল দিক বিবেচনা করা হয় তা নিম্নরূপ-

  • ১. উৎসগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ।
  • ২. গঠনগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ।
  • ৩. পদগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ। 


উপরোক্ত প্রতিটি বিষয়গত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ নিম্নে তুলে ধরা হলো। 



উৎসগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদঃ

উৎস অর্থ উৎপত্তি বা জন্ম। সুতারং কোনো শব্দের জন্ম বা উৎপত্তি স্থানকে সেই শব্দের উৎস স্থান বলা হয়ে থাকে। বাংলা ভাষায় আমরা যে সকল শব্দ কথা বলার সময় ব্যবহার করি তা সব বাংলাদেশের নিজস্ব ভাষার শব্দ নয়। কিছু শব্দ এসেছে বিদেশিদের কাছ থেকে, কিছু শব্দ এসেছে সংষ্কৃত ভাষা থেকে আবার কিছু শব্দের উৎপত্তি ঘটেছে বাংলাদেশে বসবাসকারী লোকের কথা বার্তা থেকে। শব্দের উৎস বা উৎপত্তি বা আগমনের উপর ভিত্তি করে শব্দ কে তাই আধুনিক ভাষাবিদেরা ৪ টি ভাগে ভাগ করে থাকেন, যথা-

  • ১. তৎসম শব্দ
  • ২. তদ্ভব শব্দ
  • ৩. দেশি শব্দ
  • ৪. বিদেশি শব্দ


উপরোক্ত প্রকারভেদ ছাড়াও উৎসগদ দিক দিয়ে শব্দের আরেকটি ভাগ রয়েছে, সেটি হল-

  • ৫. অর্ধ-তৎসম শব্দ


তৎসম অর্থ তার সমান অর্থাৎ সংষ্কৃতের সমান। বাংলাভাষায় ব্যবহৃত যেসকল শব্দ সরাসরি সংষ্কৃত ভাষা থেকে এসেছে সে সকল শব্দ কে তৎসম শব্দ বলা হয়ে থাকে। এসকল শব্দ সংষ্কৃত ভাষাতে যেভাবে বলা হয় বা উচ্চারণ করা হয়, বাংলা ভাষাতেও হুবহু সে ভাবেই উচ্চারণ করা হয়। সুতরাং সংষ্কৃত ভাষায় ব্যবহৃত যে সকল শব্দ হুবহু বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয় বা বাংলা ভাষার লোকজন কথা বলার সময় ব্যবহার করে সে সকল শব্দ কে তৎসম শব্দ বলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সংষ্কৃত ভাষায় যারা কথা বলে তারা "সূর্য্য" বলে, বাংলা ভাষায়ো আমরা কথা বলার সময় সূর্য্য কে "সূর্য্য" বলি। "সূর্য্য" শব্দটি সংষ্কৃত ভাষার লোকের ভাষা যা বাঙ্গালীরা হুবহু সংষ্কৃত ভাষার লোকের মতই বলে থাকে তাই "সূর্য্য" শব্দটি একটি তৎসম শব্দ।


তদ্ভব অর্থ তা থেকে উদ্ভব বা উৎপত্তি। এখানে তা বলতে সংষ্কৃত কে বোঝানো হয়েছে তাই তদ্ভব অর্থ সংষ্কৃত থেকে উদ্ভব বা সংষ্কৃত থেকে উৎপত্তি। অর্থাৎ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যে সকল শব্দ তৎসম শব্দ নয় বা সংষ্কৃত শব্দের মত হুবহু নয় কিন্তু কিছুটা বিকৃত হয়ে সংষ্কৃত থেকে উৎপত্তি ঘটেছে বা সংষ্কৃত থেকে জন্ম নিয়ে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে সে সকল শব্দ কে তদ্ভব শব্দ বলে। বাংলা ভাষায় কিছু শব্দ আছে যা সংষ্কৃত ভাষার লোকেদের মত হুবহু না হলেও প্রায় তাদের মতই বাঙ্গালীরা উচ্চারণ করে। অর্থাৎ শব্দটি সংষ্কৃত ভাষার লোকেরা যেভাবে উচ্চারণ করে হুবহু তাদের মত না হলেও অনেকটা তাদের মতই। এ সকল শব্দ সংষ্কৃত ভাষার শব্দ যা বাংলা ভাষায় এসেছে ঠিকি কিন্তু সরাসরি না এসে কিছুটা বিকৃত বা পরিবর্তন হয়ে এসেছে। সুতরাং সংষ্কৃত ভাষার যে সকল শব্দ সরাসরি বাংলা ভাষায় না এসে কিছুটা পরিবর্তন হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে সে সকল শব্দ কে তদ্ভব শব্দ বলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, "হস্ত" শব্দ টি সংষ্কৃত ভাষার একটি শব্দ, কিন্তু বাঙ্গালীরা "হস্ত" শব্দ টি বাংলা ভাষায় সরাসিরি ব্যবহার না করে কিছুটা বিকৃত করে এই শব্দের পরিবর্তে "হাত" শব্দ ব্যবহার করে। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত "হাত" শব্দটি হুবহু সংষ্কৃত শব্দের মত না বরং পরিবর্তন হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে এবং শব্দটি সংষ্কৃত থেকে উৎপত্তি হয়েছে বলে এটি একটি তদ্ভব শব্দ। সুতারং সংষ্কৃত থেকে উদ্ভব বা উৎপন্ন কোনো শব্দ সরাসরি সংষ্কৃতের মত না হয়ে কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় যুক্ত হলে তাকে তদ্ভব শব্দ বলে।


বাংলার আদিবাসী লোকজন যেমন মুন্ডা, কোল ইত্যাদি সম্প্রদায়ের লোকেরা বাংলা ভাষার নিজেস্ব বা দেশিয় কিছু শব্দ ব্যবহার করে সে সকল শব্দ কে দেশি শব্দ বলে। বাংলার আদি কাল থেকে এসকল শব্দ আদিবাসীরা বাংলা ভাষায় ব্যবহার করেছে, এ সকল সম্প্রদায়ের লোকেরে নিজেদের ভাব আদান প্রদান ও নতুন নতুন জিনিস তৈরি করে তার যে সকল নাম প্রদান করেছে সে সকল শব্দ দেশি শব্দের অন্তর্গত। যেমন আদিবাসীরা "কুলা" শব্দটি ব্যবহার করে  অর্থাৎ এই শব্দটির উৎপত্তি স্থল বাংলার আদিবাসী সম্প্রদায় বা বাংলা ভাষাভাষির লোকের মুখে তাই "কুলা" শব্দটি একটি দেশি শব্দ।


বিদেশি শব্দ বলতে অন্য দেশের শব্দ বলে। নানা সময়ে বঙ্গদেশ বা ভারতবর্ষের বাংলা ভাষাভাষির লোকদের বিভিন্ন বিদেশি শাসকেরা শাসন করে গেছে। কখনো ইংরেজরা, কখনো আরবেরা, কখোনো বা ফরাসিরা। এসকল বিদেশিরা এই অঞ্চল শাসন করার সময় অনেক শব্দ বা ভাষা ব্যবহার করত। বাংগালীরা এসব বিদেশি শাসকদের সাথে যোগাযোগ করতে গিয়ে বিদেশিদের ভাষা ব্যবহার করত। বিদেশিদের যে সকল শব্দ বাংগালীরা ব্যবহার করতে করতে বাংলা ভাষায় নিয়মিত ব্যবহার করা শুরু করেছিল তা বাংলা ভাষায় এমন ভাবে মিশে গেছে যে সে সকল শব্দ বাংগালীরা নিয়মিত ব্যবহার শুরু করে। ফলে এসকল বিদেশি শব্দ বাংলা ভাষায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ হয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা যে "চেয়ার" শব্দটি ব্যবহার করি এটি ইংরেজদের বলা একটি শব্দ। "চেয়ার" শব্দটি ইংরেজী শব্দ হলেও এটি বাংলা ভাষার বেশিরভাগ লোক বলতে বলতে বাংলা ভাষায় মিশিয়ে ফেলেছে। তাই বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যে সকল শব্দ বিদেশিদের কাছ থেকে উৎপত্তি ঘটে বাংলা ভাষায় মিশেগেছে সে সকল শব্দ কে বিদেশি শব্দ বলে। বর্তমানেও অনেক বিদেশি শব্দ বাংলা ভাষায় মিশে চলেছে। যেমন মোবাইল ফোন বাংলাদেশে ব্যবহার শুরু হওয়ার পর "মোবাইল" শব্দটি বাঙ্গালীরা ব্যবহার করছে ফলে যদিও শব্দটি বিদেশি শব্দ তবুও এটি বাংলা শব্দ হিসেবে বাংলা ভাষায় যুক্ত হয়েছে।



গঠনগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদঃ

গঠণ বলতে শব্দের উপাদান কে বোঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ কোন ধরনের উপাদান বা শব্দাংশ দ্বারা শব্দ গঠিত হয়েছে তা প্রকাশ করতে শব্দের গঠনগত প্রকারভেদ জানা আবশ্যক। শব্দাংশ বলতে একটি শব্দের ক্ষুদ্র অংশ কে বোঝায়। গঠনগত দিক দিয়ে শব্দকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-

  • ১. মৌলিক শব্দ
  • ২. সাধিত শব্দ বা যৌগিক শব্দ


একটি শব্দকে ভাংলে বা খন্ড খন্ড করলে যে সকল শব্দাংশ পাওয়া যায় সে সকল শব্দাংশের যদি আলাদা কোনো অর্থ না থাকে তবে সেই শব্দ কে মৌলিক শব্দ বলে। অপার দিকে একটি শব্দকে ভাংলে বা খন্ড খন্ড করলে যে সকল শব্দাংশ পাওয়া যায় এবং প্রতিটি খন্ডের বা শব্দাংশের যদি আলাদা আলাদা অর্থ প্রকাশ পায় তবে সেই শব্দ কে সাধিত শব্দ বলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় "টিয়া" শব্দটিকে আমরা কয়েকটি ভাগ করে পাই "টি" এবং "য়া"। এখানে "টি" এবং "য়া" খন্ড দুটির আলাদা কোনো মানে বা অর্থ নেই বলে "টিয়া" শব্দটি একটি মৌলিক শব্দ। অপর দিকে "ভালোবাসা" শব্দটিকে আমরা কয়েকটি খন্ড করে পাই "ভালো" এবং "বাসা"। এখানে "ভালো" এবং "বাসা" উভয়েরি আলাদা আলাদা অর্থ রয়েছে তাই ভালোবাসা হচ্ছে একটি সাধিত শব্দ।



পদগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদঃ

একটি বাক্য গঠন করতে যে সকল শব্দ ব্যবহার করা হয় তার প্রত্যেকটি শব্দকে এক একটি পদ বলে। অর্থাৎ বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি অর্থ বোধক শব্দকে পদ বলে। আমরা জানি যে বাংলা ভাষায় পদ ৫ প্রকার এবং সে গুলো হলো, বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়। কিন্তু বর্তমান আধুনিক ভাষাবিদেরা পদ কে ৮ ভাগে ভাগ করেছে। অর্থাৎ অব্যয় পদের পরিবর্তে অব্যয় পদ কে ভেঙ্গে আরো চারটি ভাগ বেশি করেছে। সুতারং পদগত দিক দিয়ে শব্দ ৮ প্রকার, যথা-

  • ১. বিশেষ্য
  • ২. বিশেষণ
  • ৩. সর্বনাম
  • ৪. ক্রিয়া
  • ৫. ক্রিয়া বিশেষণ (অব্যয়)
  • ৬. যোজক (অব্যয়)
  • ৭. অনুসর্গ (অব্যয়)
  • ৮. বিষ্ময় (অব্যয়)


যে সকল পদ বা শব্দ দ্বারা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য বলে, যেমন - রহিম, গরু, ছাগল। 


যে সকল পদ বা শব্দ দ্বারা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ পায় তাকে বিশেষণ বলে, যেমন- ভালো, মন্দ।


যে সকল পদ বা শব্দ কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর নামের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় তাকে সর্বনাম বলে, যেমন- সে, আমি, তুমি।


যে সকল পদ বা শব্দ দ্বারা কোনোকিছু করা খাওয়া বা সংঘটিত হওয়া বোঝায় তাকে ক্রিয়া বলে, যেমন- পড়া, খাওয়া, ঘুমানো।


যে সকল শব্দ বা পদ দ্বারা কোনো বিশেষণ বা ক্রিয়া পদের পরিমাণ বা তুলনা প্রকাশ পায় সে সকল শব্দ কে ক্রিয়া বিশেষণ বলে, যেমন- খুব, তীব্র, অল্প। অর্থাৎ অল্প শীত, এখানে অল্প শব্দটি দ্বারা শীতের পরিমাণ প্রকাশ পাচ্ছে তাই অল্প শব্দটি একটি ক্রিয়াবিশেষণ।


যে সকল শব্দ বা পদ সাধারণত দুটি পদ বা শব্দের মাঝে বসে বা একটি বাক্যের দুটি অংশের মাঝে বসে তার আগের অংশের সাথে পরের অংশকে যুক্ত বা যোগ করে তাকে যোজক বলে, যেমন- এবং, কিন্তু, অথবা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রহম এবং করিম স্কুলে যায়, এখানে রহিম ও করিম শব্দ দুটির মাঝে এবং শব্দটি বসে রহিম ও করিম কে যুক্ত করেছে।


যে সকল পদ বা শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে বা শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বাক্যে থাকা অন্য শব্দের সাথে সংযোগ স্থাপন করে তাকে অনুসর্গ বলে, যেমন- এর। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রহিমের (রহিম এর) কলম। এখানে "এর" শব্দটি একটি অনুসর্গ, রহিম শব্দের পরে বসে এটি রহিমের সাথে কলমের সম্পর্ক স্থাপন করেছে।


যে সকল শব্দ বা পদ দ্বারা বিষ্ময় বা আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশ পায়, সে সকল শব্দ কে বিষ্ময় পদ বা বিষ্ময় শব্দ বলে, যেমন- ওহ, উহু, য়ুহ, ওয়াও, হুররে।