মাংস রান্না লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মাংস রান্না লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার

রেজালা রান্নার রেসিপি

মাংসের রেজালা রান্নার নিয়ম - শাহী রেজালা


এখানে যা থাকছে---

  • রেজালা রান্নার রেসিপি
  • রেজালা রান্নার সহজ পদ্ধতি
  • গরুর মাংসের রেজালা
  • খাসির মাংসের রেজালা
  • মুরগীর মাংসের রেজালা
  • শাহী রেজালা রেসিপি


রেজালা রান্নার রেসিপি, রেজালা রান্নার সহজ পদ্ধতি, গরুর মাংসের রেজালা, খাসির মাংসের রেজালা, মুরগীর মাংসের রেজালা, শাহী রেজালা রেসিপি
রেজালা রান্নার নিয়ম


বিয়ে পার্বণ বা যে কোনো অনুষ্ঠানে মুখরোচক খাবার হিসেবে রেজালা অনন্য। ঈদ বা কোরবানি (কুরবানি) বা যে কোনো মেজবানি বা বিয়ে বাড়িতে রেজালা হতে পারে খুবি স্পেশাল রেসিপি। রেস্টুরেন্ট বা হোটেলের শাহী রেজালার ১০০% স্বাদ পেতে আজকের রেজালা রেসিপি মনযোগ সহকারে অনুসরন করুন।



রেজালা কি বা কোন ধরনের খাবারঃ

রেজালা (Rezala বা Rejala) সুস্বাদু খাবার গুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি সাধারন্ত ঝাঁঝালো বা ঝালযুক্ত মাংস রান্নার পদ্ধতি। বর্তমানে রেজালা রান্নায় লাল মরিচ ব্যবহার করায় এর রং সাধারণত লাল হয়ে থাকে। রেজালার প্রধান উপকরণ মরিচ হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক রন্ধন পদ্ধতিতে এর অন্যতম উপাদান গুলোর মধ্যে জায়ফল ও জয়ত্রী যোগ করা যেতে পারে। অনেকে রেজালা রান্নায় শাহী জিরা ব্যবহার করে থাকেন। রেজালা যেহেতু ঝাঁঝালো ঝাল মশলাযুক্ত মাংস রান্নার প্রণালী, তাই এটি জাংক ফুড বা ফ্যাটি ফুডের অন্তর্গত এক ধরনের রেসিপি। বর্তমানে নানান প্রকারের রেজালা পাওয়া যায়। গরুর মাংসের রেজালা, খাসির মাংসের রেজালা, মুরগীর মাংসের রেজালা এমনকি মাছের রেজালা খুবি জনপ্রিয়। মাছের রেজালার মধ্যে ইলিশ মাছের রেজালা, চিংড়ি মাছের রেজালা, কাতল মাছের রেজালা, রুই মাছের রেজালা বেশি জনপ্রিয়। সাধারণত কোরমা রান্নার পদ্ধতির মাঝে মরিচ বা ঝাল যোগ করে ঝাঁঝালো করলেই রেজেলা রান্না হয়ে যায়। মোঘল আমলে মোঘল'রা ঝাল যুক্ত খাবার পছন্দ করতো না। কোরমা পোলাও ছিলো তাদের খুবি প্রিয় খাবার। অপর দিকে স্থানীয় লোকেরা বা কর্মচারী পর্যায়ের লোকেরা ঝালযুক্ত খাবার পছন্দ করতো। কোরমা রান্নার প্রক্রিয়ার মাঝে স্থানীয় লোকেরা ঝাল যোগ করে রেজালা রান্নার উৎপত্তি ঘটায়।



রেজালা শব্দের উৎপত্তিঃ

ফরাসি শব্দ, 'রিদালা' থেকে বিবর্তনের মধ্যদিয়ে  'রেজালা' শব্দের উৎপত্তি ঘটেছে। মোঘল আমলে উপমহাদেশে নিম্নবিত্ত বা কর্মচারী পর্যায়ের লোকেদের একটি জনপ্রিয় খাবার ছিল রেজালা। নিম্নবিত্ত শব্দ হিসেবে মোঘল আমলে 'রাজিল' শব্দটি ব্যবহার করা হতো। অর্থাৎ তখনকার দিনে রেজালা ছিলো নিম্নবিত্ত সমাজ তথা কর্মচারী পর্যায়ের লোকেদের খাবার। 'রাজিল' শব্দ যেহেতু 'নিম্নবিত্ত' শব্দের সমর্থক শব্দ, 'নিম্নবিত্তদের খাবার' অর্থে তাই 'রাজিল' থেকে 'রাজিলা' শব্দের উৎপত্তি ঘটে। 'রাজিলা' শব্দটি উচ্চারণগত পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে 'রেজালা' শব্দে পরিবর্তন ঘটেছে। পরবর্তীতে রেজালা শুধু নিম্নবিত্ত নয়, সকল সমাজ ও সকল শ্রেণীর ভোজন প্রিয় লোকের কাছে খুবি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে রেজালা সুস্বাদু খাবার হিসেবে ছোট বড় সবার খুব প্রিয়। আধুনিক রেজালা রান্নার রেসিপিতে, ঝালযুক্ত মরিচ, জায়ফল, জয়ত্রী সহ অন্যান্য মশলার মিশ্রণ সহযোগে মাছ-মাংসের কোরমা রান্নার প্রক্রিয়া কে রেজালা বলে।



রেজালা রান্নার আজকের রেসিপিঃ

আগেই জেনেছি রেজালা মাছ-মাংস রান্নার বিশেষ এক পদ। মাংসের ভিন্নতা আর মাছের ভিন্নতার কারনে রেজালা রান্নার নামকরণে ও স্বাদে ভিন্নতা হয়ে থাকে। আমাদের আজকের রেসিপি, 'রেজালা রান্না' বা 'শাহী রেজালা' রান্নার পদ্ধতি। শতভাগ শাহী প্রক্রিয়ায় শাহী স্বাদ পেতে রেজালা রান্নার সহজ রেসিপিটি অনুসরণ করতে পারেন।



রেজালা রান্নার উপকরণ সমূহের পরিমাপ পদ্ধতিঃ

  • চা চামচ- চা চামচ বলতে ছোট্ট চামচ কে বোঝানো হয়। সাধারণত আমরা পিরিজ বা প্লেটে করে যে চামচ দিয়ে সেমাই খাই সে রকমের চামচ কে চা চামচ বলে। লবণ, চিনি বা চা পাতা যে ওঠাতে যে ধরনের চামচ ব্যবহার করা হয় তাকে চা চামচ বলে।
  • টেবিল চামচ- টেবিল চামচ বলতে সাধারণত ঝোল বা কারি বা রান্না করা তরকারি ওঠাতে আমরা যে ধরনের চামচ ব্যবহার করি সেই ধরনের চামচ কে বোঝানো হয়ে থাকে। 



শাহী রেজালা বা রেজালা রান্নার উপকরণঃ

  • মাংস-১কেজি (গরু, খাসি, মুরগী বা যে কোনো মাংস হতে পারে) 
  • দই- ২ চা চামচ (টক দই হতে হবে) 
  • আদা বাটা- ২ চা চামচ
  • রসুন বাটা- ১ চা চামচ
  • পেয়াজ বাটা- ১ টেবিল চামচ
  • কাঁচামরিচ অথবা শুকনা মরিচ- ৫-৭ টা অথবা স্বাদ মতো (ফালি করে কেটে মরিচের বীজ ফেলে দিতে হবে) 
  • দুধ- ১ টেবিল চামচ
  • পেয়াজ কুচি- ১ টেবিল চামচ (গোল করে কাটতে হবে) 
  • কাঠবাদাম- ৪-৫ টি (কুচি করে কেটে নিতে হবে)
  • পেস্তাবাদাম- ৫-৭ টি (কুচি করে কেটে নিতে হবে)
  • গোলাপজল- ১ চা চামচ
  • জাফরান- ১ চিমটি
  • ঘি- ১ টেবিল চামচ
  • কিসমিস- ১০-১৫ টি (কম-বেশি করা যেতে পারে)
  • লবণ- স্বাদ মতো
  • তেল- ২ টেবিল চামচ
  • পানি- পরিমাণ মতো



শাহী রেজালা বা রেজালা রান্নার প্রক্রিয়াঃ

  • ১. বীজ ফেলা মরিচ দুধে ভিজিয়ে রাখুন। সাথে মাংস মেরিনেট করে রাখুন। মাংস মেরিনেট করতে নিচের ধাপ অনুসরণ করুন।
  • ২. আদা বাটা ও রসুন বাটার সাথে কিছু পরিমাণ লবণ দিয়ে মাংসের সাথে ভালো করে মাখিয়ে সাথে টক দৈ যোগ করে আরো ভালো করে মাখিয়ে ১-২ ঘন্টা রেখেদিন এই প্রক্রিয়াকে মেরিনেট করা বলে এতে মাংস থেকে দূর্গন্ধ দূর হয় এবং মাংসের স্বাদ উন্নত হয়।
  • ৩. চুলায় কড়াই বা প্যান বসিয়ে তাতে অর্ধেক ঘি দিন এবং কুচি করে কেটে রাখা পেয়াজ ঘি সহকারে বাদামী করে ভেজে উঠিয়ে রাখুন। এই প্রক্রিয়াকে পেয়াজের বেরেস্তা বলে।
  • ৪. মেরিনেট করা মাংসের সাথে পেয়াজ বাটা, ভালো করে মেখে নিন।
  • ৫. একটি হাড়িতে বাকি অর্ধেক ঘি ও তেল দিয়ে অল্প আচে কয়েক সেকেন্ড নাড়ুন।
  • ৬. এবার পেয়াজ মাখানো মেরিনেট করা মাংস এবং তুলে রাখা পেয়াজের বেরেস্তা হাড়ির তেল-ঘি এর মাঝে ছাড়ুন।
  • ৭. কয়েক মিনিট মাঝারি আচে রাঁধুন এবং ভালো করে নেড়ে দিন।
  • ৮. এবার মাংসে সামান্য পরিমাণে পানি যোগ করুন যেন তাতে মাংস সেদ্ধ হয়ে যায় কিন্তু সেদ্ধ শেষে বেশি ঝোল না থাকে। এই অবস্থায় ঢাকনা দিয়ে রান্না করতে হবে এবং স্বাদ মতো এমন ভাবে লবণ যোগ করতে হবে যেন ঝোল শুকিয়ে গেলে মাংসে লবণের পরিমাণ ঠিক থাকে।
  • ৯. মাংস সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ তাপে রাধতে থাকুন মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন এবং মাখা মাখা ঝোল হলে চুলার তাপ কমিয়ে দিন।
  • ১০. কয়েক মিনিট মাঝারি আচে রান্নার পর চুলার আচ কিছুটা কমিয়ে আরো কিছু সময় রান্না করতে থাকুন।
  • ১১. হালকা আচে রান্নার পর মাংস ভুনা ভুনা হয়ে ঘ্রাণ ছড়াতে থাকলে এর মাঝে দুধে ভেজানো মরিচ বা ঝাল সহ দুধ এর সবটুকু মাংসের হাড়িতে ঢেলে দিন এবং নাড়ুনি দিয়ে ভালো করে নাড়িয়ে মিশিয়ে দিন।
  • ১২. মাঝারি আচে কিছু সময় রাঁধুন যেন দুধের কাচা ঘ্রাণ না থাকে এবং মাংসে ঝোল মাখা মাখা হয়ে ওঠে।
  • ১৩. চুলা থেকে মাংসের হাড়ি নামিয়ে বাকি উপকরণ গুলো একে একে মাংসের মাঝে যোগ করুন। অর্থাৎ রান্না করা মাংসে গোলাপজল, কাঠবাদাম কুচি, পেস্তাবাদাম কুচি, কিসমিস ও জাফরান মিশিয়ে নাড়ুনি দিয়ে নেড়ে ঢাকনা দিয়ে আধা থেকে এক ঘন্টা ঢেকে রাখুন।
  • ১৪. এবার ঢাকনা খুলে পোলাও বা বিভিন্ন উপকরণ সহকারে পরিবেশন করুন মজাদার ও সুস্বাদু রেজালা বা শাহী রেজালা।



রেজালা তৈরির বাড়তি টিপসঃ

রেজালা তৈরিতে এর উপাদান গুলো নিজের পছন্দ ও স্বাদ অনুযায়ী পরিবর্তন করা যেতে পারে। মরিচ কম বেশি করা যেতে পারে। কাঠবাদাম বা পেস্তাবাদাম না থাকলে ব্যবহার নাও করা যেতে পারে। কিসমিস না দিলেও চলবে। আধুনিক রেজালা তৈরিতে জয়ত্রী ও জায়ফল এবং শাহী জিরা ব্যবহার করা যেতে পারে। উপরের রেসিপিটি শাহী রেজালা রান্নার রেসিপি বা পদ্ধতি হওয়ায় উপাদান গুলোর মাঝে জায়ফল ও জয়ত্রী ও জিরা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি। রেজালা স্বাস্থ্য উপযোগী করতে তেল, ঘি, মশলা কম করে রান্না করা যেতে পারে।



রেজালা পরিবেশনের উপকরণঃ

রেজালা সাধারণত পোলাও ভাত এর সাথে পরিবেশন করা হয়। বাসমতী চালের ভাতের সাথেও পরিবেশন করা হয়ে থাকে। তবে সাধারণ যে কোনো চালের সাদা ভাতের সাথেও রেজালা পরিবেশন করা যেতে পারে। রুটি, পরাটা সহকারেও রেজালা খুব মুখরোচক। রেজালা ভাতের সাথে সালাদ যোগ করে খাওয়া যেতে পারে। দৈ যোগেও খাওয়া যায়। পছন্দ মতো রুচিশীল ভাবে রেজালা যে কোনো উপায়ে পরিবেশন করা যেতে পারে। 



রেজালা খাওয়ার উপকারিতাঃ

রেজালা সাধারন্ত মাংস রান্নার একধরণের পদ। রেজালা রুচিবর্ধক হওয়ায় যে কোনো বয়সের লোক এটা তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকে। মাংসে থাকে প্রচুর আয়রন যা শরীরের রক্ত বর্ধক হিসেবে কাজ করে। মাংসে থাকা বিরোফ্রবিন,  ভিটামিন বি৬, বি১২ সহ নানারকম উপাদান শরীরে শক্তি উৎপাদনের পাশাপাশি শরীর চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করে। রেজালায় মাংস থাকায় সেটা খনিজের অন্যতম উৎস হতে পারে। মাছ মাংসের রেজালা আমিষের ঘাটতি পুরোনে সহায়তা করে।



রেজালা খাওয়ার অপকারিতাঃ

রেজালা খাওয়ার ক্ষতিকারক কিছু দিক রয়েছে। রেজালা সাধারণত মসলা ও তেল - চর্বি যুক্ত খাবার। অধিক পরিমাণে রেজালা খেলে শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি ফ্যাট ও জাংক খাবার হওয়ায় মোটা বা স্থূলাকার লোকের জন্য বর্জনীয়। ছোট ও বয়ষ্কদের এ ধরনের খাবার না খাওয়ায় উত্তম। চর্বি যুক্ত খাবার হওয়ায় রেজালা হৃদ রোগ ঘটাতে সহায়তা করে। রেজালা মশলাযুক্ত খাবার হওয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য ও শারীরিক বিপাকীয় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাদের স্বাস্থ্যগত ঝুকি রয়েছে তাদের রেজালা খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।



শুভকামনায়---

কে-মাহমুদ

৫-৭-২১

বুধবার

বিরিয়ানি রান্নার - আধুনিক রেসিপি

ঝরঝরে ও সুস্বাদু বিরিয়ানি রান্নার উপায়


এখানে যা থাকছে---

  • আধুনিক উপায়ে বিরিয়ানি রান্না
  • বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি
  • চিকেন বা মুরগির মাংসের বিরিয়ানি
  • বিফ বা গরুর মাংসের বিরিয়ানি
  • মাটন বা খাসির মাংসের বিরিয়ানি
  • ঝরঝরে ও সুস্বাদু বিরিয়ানি

আধুনিক উপায়ে বিরিয়ানি রান্না, বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি, মুরগির মাংসের বিরিয়ানি, গরুর মাংসের বিরিয়ানি, খাসির মাংসের বিরিয়ানি, ঝরঝরে ও সুস্বাদু বিরিয়ানি
বিরিয়ানি রান্নার সুস্বাদু রেসিপি


বাঙ্গালি বরাবরি ভোজন রসিক। হাজীর বিরিয়ানি, কলকাতা বিরিয়ানি, কাচ্চি বিরিয়ানি সহ নানান পদের বিরিয়ানি রান্নার উদ্ভাবক রসিক প্রিয় বাঙ্গালি। অন্য দিকে ঘরোয়া বিরিয়ানি রান্নার স্বাদ যদি রেস্টুরেন্ট এর বিরিয়ানি কে হার মানায়, তাহলেতো কথাই নেই। তাই ঘরে বসেই সুস্বাদু আর ভূরিভোজন কে এক অন্যতম আধুনিক স্বাদ দিতে নিয়ে এলাম বিরিয়ানি রান্নার নতুন এক পদ্ধতি। আশা ও বিশ্বাস বাসায় রান্না করে পাবেন নতুন এক আধুনিক স্বাদ আর নতুনত্বের আত্মতৃপ্তি।



বিরিয়ানির উৎপত্তিঃ

আঞ্চলিক ভাষায় বিরিয়ানি কে বিরেনি বা বিরানি বলে। বিরিয়ানি রেসিপি মূলত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সমাজ উৎপত্তি ঘটিয়েছে। ইংরেজিতে বিরিয়ানি কে Biryani বা Biriani বলে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ তথা ভারতবর্ষ বা ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ইত্যাদি দেশ গুলোর জনপ্রিয় খাবার বা রেসিপি হিসাবে বিরিয়ানি খুবি জনপ্রিয়।



বিরিয়ানির প্রকারঃ

বিরিয়ানি রান্নার রয়েছে নানা পদ্ধতি আর বাহারি রেসিপি। প্রকরণের দিক দিয়ে দেখতে গেলে বিরিয়ানি রান্নার পদ্ধতি ও উপকরণগত পার্থক্য কেই প্রাধান্য দিতে হয়। স্থানগত দিক দিয়ে প্রকরণ করতে গেলে ঢাকাইয়া বিরিয়ানি, কলকাতা বিরিয়ানি, কাচ্চি বিরিয়ানি, হাজীর বিরিয়ানি, ঘরোয়া পদ্ধতিতে বিরিয়ানি, রেস্টুরেন্ট এর বিরিয়ানি, বাঙালী বিরিয়ানি, অবাঙালী বিরিয়ানি অন্যতম। আবার সাদা বিরিয়ানি, ঝরঝরে বিরিয়ানি, রেডিমেড বিরিয়ানি মসলার বিরিয়ানি এমন নানান ভাগে বিরিয়ানি কে ভাগ করা যেতে পারে। বিরিয়ানি কে উপকরণগত দিক দিয়ে ভাগ করতে গেলে মটন বা মাটন বা খাসির মাংসের বিরিয়ানি, বিফ বা গরুর মাংসের বিরিয়ানি, চিকেন বা মুরগির মাংসের বিরিয়ানি এমন নানান ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। অনেকে চিকেন বিরিয়ানি মসলা বা নানারকম রেডিমেড বিরিয়ানি মসলা সহকারে বিরিয়ানি রান্না করতে পছন্দ করেন। কেওবা পছন্দ করেন ঘরোয়া মসলা ব্যবহার করে বিরিয়ানি রান্না করতে। ঈদে যেমন রমজানের ঈদ অথবা কোরবানি ঈদে নানারকম পদের পাশাপাশি বিরিয়ানি এক জনপ্রিয় পদ। পুজা পর্বণেও বিরিয়ানির জুড়ি মেলা ভার। তাই বিরিয়ানি দেশ কাল রুচি ভেদে নানান প্রকারের হতে পারে।



বিরিয়ানি রান্নার আজকের রেসিপিঃ

আধুনিক উপায়ে বিরিয়ানি রান্না, বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি, মুরগির মাংসের বিরিয়ানি, গরুর মাংসের বিরিয়ানি, খাসির মাংসের বিরিয়ানি, ঝরঝরে ও সুস্বাদু বিরিয়ানি
বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি


বিরিয়ানি রান্নার নিয়ম রয়েছে অসংখ্য। ঝরঝরে বিরিয়ানি আর সুস্বাদু বিরিয়ানি সকলেই প্রত্যাশা করে। মেজবানি বা বিয়ের অনুষ্ঠান বা ঘরোয়া ভাবে একি পদ্ধতিতে বিরিয়ানি রান্না করার একটি আধুনিক ও সুস্বাদু পদ্ধতি বা নিয়ম রয়েছে। যে কোন মাংস সহকারে এ পদ্ধতিতে বিরিয়ানি রান্না সম্ভব, আবার খেতেও খুব সুস্বাদু। এ পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এটি আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম। আমাদের আজকের রান্না ঘরে থাকছে সহজ, ঝরঝরে, সুস্বাদু ও আধুনিক পদ্ধতিতে বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি।



বিরিয়ানি রান্নার উপকরণঃ

যে কোন মাংস, লবণ, পিয়াজ, তেল, আদা বাটা, ধনে গুড়া, আলু বোখারা (না হলেও চলবে), পেয়াজ বাটা, ঘি, জিরা বাটা, এলাচ, লবঙ্গ, রসুন বাটা, মরিচের গুড়া, বিরিয়ানি মসলা (না হলেও চলবে তবে এর পরিবর্তে পোস্তা বাটা, জয়ত্রি বাটা ও জয় ফল বাটা ব্যবহার করতে হবে), দারুচিনি, তেজপাতা, চিলি সস (না হলেও চলবে), টমেট সস (না হলেও চলবে), দৈ, পানি, কাচা মরিচ, পোলাও এর চাল বা সুগন্ধি চাল (চিকন বা বাসমতী চাউল হলেও চলবে)।



বিরিয়ানি রান্নার উপকরণ গুলোর আনুপাতিক পরিমাণঃ

মাংস - ২ কেজি, লবণ - স্বাদ মতো, পেয়াজ বাটা - ১ কাপ , গোল করে কাটা পিয়াজ কুচি- ১ কাপ, ধনে গুড়া - ১ চা চামচ, তেল - ২৫০ গ্রাম বা এর বেশি, এলাচ - ৫-৭ টি, লবঙ্গ - ৫ টি, আদা বাটা - ২ চা চামচ, জিরা বাটা - ২ চা চামচ, রসুন বাটা - ২ চা চামচ, মরিচের গুড়া - ১ চা চামচ , ঘি - ২ চা চামচ, বিরিয়ানি মসলা - ২ টেবিল চামচ (না হলেও চলবে তবে এর পরিবর্তে পোস্তা বাটা, অল্প পরিমাণ জয়ত্রি বাটা ও ১ টি জয় ফল বাটা পরিমাণ মতো মিশিয়ে মোট ১ টেবিল চামচ ব্যবহার করতে হবে), আলু বোখারা ৪-৫ টি (না হলেও চলবে), দারুচিনি - ৮-১০ খন্ড, তেজপাতা - ৫ টি, চিলি সস - ২ চা চামচ (না হলেও চলবে), টমেট সস - ২ চা চামচ (না হলেও চলবে), দৈ - ৫০ গ্রাম, পানি - পরিমাণ মত, আস্ত কাচা মরিচ - ৪-৫ টি, চাল - ১ কেজি।



বিরিয়ানি রান্নার নিয়ম বা পদ্ধতিঃ

আসুন এবার রান্না শুরু করা যাক,

  • ১. প্রথমে মাংস মাঝারি সাইজে কেটে লবন দিয়ে আধা ঘন্টা রেখে দিন।
  • ২. কড়াইতে পিয়াজ কুচি গোল গোল করে কেটে বাদামি করে ভেজে তুলে রাখুন।
  • ৩. কড়াইতে তেল দিয়ে মাংস ৪-৫ মিনিট অল্প আচে ভেজে তুলে রাখুন।
  • ৪. এবার পরিমান মত তেল দিয়ে কড়াইতে আদা বাটা, পিয়াজ বাটা, জিরা বাটা, রসুন বাটা, মরিচের, এলাচ - ৫-৭ টি, লবঙ্গ - ৫ টি  গুড়া, ধনে গুড়া, লবণ ও বিরিয়ানি মসলা বা এর পরিবর্তে নেওয়া মসলা (পোস্তা বাটা, জয়ত্রি ও জয় ফল বাটা) দিয়ে কিছু সময় নাড়ুন।
  • ৫. এবার ভেজে রাখা মাংস মসলার মাঝে দিয়ে কিছু সময় কষিয়ে নিন এবং আস্ত তেজ পাতা, ভাংগা দারুচিনি এই সময় দিতে পারেন।
  • ৬. এর পর চিলি সস ও টমেট সস দিতে পারেন এবং পরিমাণ মতো দৈ দিয়ে মাংস কষাতে থাকুন।
  • ৭. মাংস কষানো হয়ে গেলে অল্প পানি দিয়ে সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রাধুন, পানি দেওয়ার সময় লবণে হয়েছে কিনা দেখে নিন।
  • ৮. ঢাকনা ঢেকে রান্না করবেন এবং মাঝে মাঝে দেখবেন মাংস সেদ্ধ হয়েছে কিনা, মনে রাখবেন রান্না এমন ভাবে করবেন যেন শেষ পর্যন্ত মাংসে বেশি পানি না থাকে, মানে গামাহ গামাহ বা গাঢ় গাঢ় থাকে। মাংস নামানোর ১০ মিনিট আগে আস্ত কাচা মরিচ এবং ভেজে রাখা পেয়াজ ও আলু বোখারা মাংসে দিয়ে দিন।
  • ৯. চুলা থেকে মাংস নামিয়ে রাখুন এবং অন্য একটি হাড়িতে বা পাত্রে পানি দিয়ে গরম করুন, এবং কিছু পরিমাণ গরম পানি তুলে অন্য পাত্রে রাখুন।
  • ১০. হাড়িতে থাকা গরম পানির মাঝে চাউল দিন এবং মনে রাখবেন চাউলের উপর যেন এক বিঘাতের বেশি পানি থাকে।
  • ১১. চাউল এমন ভাবে রান্না করুন যেন সবসময় ঢিল ঢালা পানি থাকে, পানি মিশানো চালে সামান্য লবণ দিয়ে দিন এবং বেশি সেদ্ধ না হয়ে যায় সে দিকে খেয়াল রাখুন অর্থাৎ খুবি অল্প পরি মানে ভাতে মাজ থাকা অবস্থায় নামিয়ে ফেলুন।
  • ১২. কোন ছাকনি বা চালনীর উপর পাতলা কাপড় বিছিয়ে হাড়ির পুরা চাউল ঢেলে দিন এবং ঢালা চাউলে আগে থেকে তুলে রাখা গরম পানি ঢেলে দিন এবং পানি ঝরিয়ে নিন।
  • ১৩. বেশি সময় দেরি না করে পানি ঝরলেই দ্রুত গরম গরম ভাত সসপেন বা হাড়িতে কিছু পরিমাণে অল্প অল্প করে ঢালুন এবং তার উপর রান্না করা মাংস বিছিয়ে দিন, আবার ভাত ঢালুন আবার মাংস বিছান এভাবে পরতা পরতা বা ভাজে ভাজে ভাত ও মাংস ঢালুন।
  • ১৪. সব ভাত ও মাংস হাড়িতে ঢালা হয়ে গেলে ভাতের উপর ঘি ছড়িয়ে দিন।
  • ১৫. খুনতি বা নাউড়ি বা নাড়ানি দিয়ে ভাত মিশ্রিত মাংস নাড়ুন যেন একে অপরের সাথে মিশে যায় তবে খেয়াল রাখবেন যেন ভাত কেটে বা চটকে না যায়।
  • ১৬. এবার হাড়িতে বা সসপেনে ঢাকনা দিয়ে চুলার উপর রাখুন তবে চুলায় তাপ থাকলেও যেন আগুন না জ্বলে, চুলা থেকে কিছু পরিমাণে কয়লা হাড়ি বা সসপেনের ঢাকনার উপর রাখুন এবং ঢাকনার উপরে ভারি কিছু চাপা দিয়ে রাখুন যেন ধোয়া বের হতে না পারে।
  • ১৭. হাড়ির ঢাকনা না খুলে এভাবে আধা ঘন্টা রাখুন তবে খেয়াল রাখবেন এই সময়ে চুলার তাপ যেন কোন ক্রমেই বেশি না থাকে এবং আগুন জ্বলে না ওঠে।
  • ১৮. সব শেষে পাত্রের ঢাকনা খুলে সুন্দর করে প্লেটে সাজিয়ে পরিবেশন করুন আধুনিক পদ্ধতিতে রান্না করা সুস্বাদু ও মজাদার ঝর ঝরে বিরিয়ানি। আর যে কোন সালাদ সহকারে গরম গরম খাওয়া শুরু করুন ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি আধুনিক মুখে জল আনা সুগন্ধি বিরিয়ানি।



এমন স্বাদের ও মজাদার সব রান্না পেতে আমাদের সাথেই থাকুন, আপনার পছন্দ বা মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানালে খুশি হব। আপনার নিজের তৈরি কোন রান্না বা রেসিপি থাকলে রেসিপির ছবি ও আপনার ছবি সহ আমাদের লিখে জানাতে পারেন। আমরা আপনার নাম ও ছবি সহ রেসিপি আমাদের সাইটে প্রকাশ করবো। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে এখানে ক্লিক করে ই-মেইলে ম্যাসেজ করুন




আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


কে-মাহমুদ

০৯-১০-২০১৯

রবিবার

কাস্টার্ড তৈরির সহজ রেসিপি

ফ্রুট কাস্টার্ড তৈরির নিয়ম ও উপকারিতা


এখানে যা থাকছে-

  • কাস্টার্ড তৈরির নিয়ম ও পদ্ধতি
  • কাস্টার্ড এর উপকারিতা
  • ফ্রুট কাস্টার্ড তৈরির রেসিপি
  • কাস্টার্ড পাউডার তৈরির নিয়ম ও ব্যবহার

কাস্টার্ড তৈরির নিয়ম ও পদ্ধতি, কাস্টার্ড এর উপকারিতা, ফ্রুট কাস্টার্ড রেসিপি, কাস্টার্ড পাউডার তৈরির নিয়ম ও ব্যবহার, বাড়িতে হোম মেড কাস্টার্ড পাউডার
ফ্রুট কাস্টার্ড রেসিপি



ভূমিকাঃ

কাস্টার্ড একটি জনপ্রিয় ও মজাদার সুস্বাদু রেসিপি। শুধু বড়দের নয় শিশু দের ফলাহার ঠিক রাখতে কাস্টার্ড হতে পারে একটি অন্যতম উপায়। সাধারন্ত দুধ, মিষ্টি, পনির, চিনি মিশ্রিত মিষ্টান্ন কে কাস্টার্ড বা Custard বলে। নানান ফলের মিশ্রণ যোগে তৈরি ফ্রুট কাস্টার্ড যেন স্বাদে আর রসে অতিথি আপপায়নের অন্যতম উপকরণ। আমাদের আজকের রেসিপি ফ্রুট কাস্টার্ড। মজাদার আর সুস্বাদু রেসিপিটি আশাকরি সকলের পছন্দের তালিকায় ঠায় পাবে।



ফ্রুট কাস্টার্ড এর উপকারিতাঃ

ফ্রুট কাস্টার্ড ফলের সমাহারে ভরপুর মজাদার রেসিপি। কাস্টার্ড খাওয়ার উপকারিতা অনেক।নানান ফলের মিশ্রণ একে করেছে ভিটামিন আর পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। তবে দুধ, ডিম, চিনির মিশ্রণ থাকায় ফ্যাটে ভরপুর ফ্রুট কাস্টার্ড। যারা ফ্যাট কন্ট্রল করতে চান বা ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য ফ্রুট কাস্টার্ড না খাওয়া উত্তম। ফ্রুট কাস্টার্ড এক ধরনের রিস ফুড। এটি জাংক ফুডের অন্তর্গত। তবে বাচ্চাদের ফলে অরুচি দূরকরণে ফ্রুট কাস্টার্ড এক অনন্য পদ্ধতি। তাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় ফলাহারে অরুচি দূর করে পুষ্টি সরবরাহ ঠিক রাখতে ফ্রুট কাস্টার্ড এক মজার আর সুস্বাদু রেসিপি। বড়দেরো এটি একটি রুচিকর খাবার। আপেল কাস্টার্ড,  ব্যানানা কাস্টার্ড, এগ বা ডিমের কাস্টার্ড নিজের পছন্দ মতো তৈরি করে অতিথি আপপায়নে আনতে পারেন নতুনত্ব। ক্যালসিয়াম আর প্রোটিন এর অভাব পূরণে কাস্টার্ড অন্যতম রেসিপি যদিও অতিরিক্ত ক্যালরি ও ফ্যাট থাকায় সকলের জন্য এটি স্বাস্থ্যকর নাও হতে পারে। নিচে তুলে ধরা হলো মজাদার কাস্টার্ড রেসিপি - ফ্রুট কাস্টার্ড।



ফ্রুট কাস্টার্ড তৈরির উপকরণঃ

  • ১. আপেল,কলা,আনার,আঙ্গুর,খেজুর,কিসমিস বা নানান প্রকার ফল কুচি (তবে তরমুজ বা এমন রসালো ফল না থাকা ভালো) - পরিমাণ ২ কাপ।
  • ২. কাস্টার্ড পাউডার - ৩ টেবিল চামচ পরিমাণ। 
  • ৩. গরুর দুধ - এক লিটার পরিমাণ। 
  • ৪. ডিমের কুসুম - ২ টি কুসুম।
  • ৫. চিনি - আধাকাপ পরিমাণ বা স্বাদ মতো।
  • ৬. কিসমিস - ২ টেবিল-চামচ পরিমাণ।
  • ৭. কাঠবাদাম - ২ টেবিল-চামচ পরিমাণ (না হলেও চলবে)।



ফ্রুট কাস্টার্ড তৈরির সহজ নিয়মঃ

  • ১. একটি পাত্রে ডিমের কুসুম নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিই।
  • ২. ফেটিয়ে নেওয়া ডিমের কুসুমের মাঝে কাস্টার্ড পাউডার দিয়ে এমন ভাবে বিট করি বা মিশায় যেনো কাস্টার্ড পাওডার ডিমের কুসুমের সাথে ভালোভাবে মিশে যায়।
  • ৩. চুলায় একটি পাত্র নিয়ে তাতে দুধ ও চিনি এক সাথে ঢেলে মাঝারি আচে জ্বাল দিয়ে দুধের পরিমাণ অর্ধেকে করে ফেলি, দুধ-চিনি এক সাথে জ্বাল দেওয়ার সময় বারবার নাড়াতে ভুলবেন না যেনো।
  • ৪. ডিমের কুসুম ও কাস্টার্ড পাউডারের মিশ্রণ আস্তে আস্তে দুধ-চিনির মাঝে ঢেলে দিই।
  • ৫. মিশ্রণটি ফুটে ওঠা পর্যন্ত বারবার নাড়তে থাকি এবং গাঢ় হয়ে ফুটতে থাকলে চুলা থেকে নামিয়ে একটি পাত্রে ঢেলে নিই।
  • ৬. পাত্রে থাকা ঘন মিশ্রণ স্বাভাবিক ভাবে ঠান্ডা হয়ে এলে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিই।
  • ৭. পরিবেশন বা খাবার আগে ফ্রিজ থেকে কাস্টার্ড মিশ্রণ নামিয়ে পরিবেশন বা খাবার পাত্রে ঢেলে এর মাঝে কিসমিস এবং কেটে রাখা ফল দিয়ে মিশিয়ে নিই, কাঠবাদাম থাকলে সেটাও মিশিয়ে নিই।
  • ৮. এবার পরিবেশন বা খাওয়া শুরু করি মজাদার ও সুস্বাদু ফ্রুট কাস্টার্ড। মনে রাখতে হবে খাওয়ার বেশিক্ষণ আগে বা পরিবেশনের অনেক আগে কাস্টার্ডে ফল কুচি মিশালে কাস্টার্ড পাতলা হয়ে যাবে ও ফলের স্বাদ খারাপ হয়ে যাবে, তাই ঠিক পরিবেশন বা খাওয়ার আগে কাস্টার্ডে ফল মিশাতে হবে।



দোকানে কাস্টার্ড পাউডার না পেলে বা কেও যদি ঘরোয়া ভাবে কাস্টার্ড পাওডার তৈরি করতে চান তবে নিচের রেসিপিটি আপনার জন্যে ---



কাস্টার্ড পাউডার তৈরির নিয়মঃ

কাস্টার্ড পাউডার কী বা কাস্টার্ড পাউডার কি দিয়ে তৈরি এটা জানা থাকলে বাজার মার্কেট বা দোকান থেকে কাস্টার্ড পাওডার কিনতে না পারলেও ঘরে বসেই তৈরি সম্ভব হোমমেড কাস্টার্ড পাউডার বা পাওডার। বাজারে কাস্টার্ড পাউডার দাম বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। ১০০ গ্রাম কাস্টার্ড পাউডারের দাম ৬০-৯০ টাকা এর মাঝে হতে পারে। আসুন জেনে নিই কাস্টার্ড পাউডার তৈরির উপকরণ বা পদ্ধতি বা কাস্টার্ড পাউডার তৈরির সহজ রেসিপি-

  • ১. কর্নফ্লাওয়ার বা ভুট্টার ময়দা বা বার্লি - এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ।
  • ২. খাবার রং বা ফুড কালার, হলুদ রং হলে ভালো হবে - চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ।
  • ৩. চিনি - এক কাপ পরিমাণ বা স্বাদ মতো।
  • ৪. গুড়ো দুধ - এক কাপের চারভাগের এক ভাগ পরিমাণ।
  • ৫. ভ্যানিলা এসেন্স - ৪-৫ ফোটা মাত্র, বাজারে কিনতে পাওয়া যাবে।


উপরের সবগুলো উপাদান এক সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে ব্লেন্ডার মেশিন বা কোন কিছু দিয়ে গুঁড়ো বা মিহি করে ছাঁকনি দিয়ে ছেকে নিলেই পাওয়া যাবে কাস্টার্ড পাউডার।



ক্রেডিট ফর রেসিপি-

ইতি

২৮-০৩-২০২১


সোমবার

গরুর মাংসের - সুস্বাদু রেসিপি

গরুর মাংস রান্না - সহজ রেসিপি


  • সুস্বাদু গরুর মাংসের রেসিপি 
  • গরুর মাংস রান্নার সহজ রেসিপি 
  • বিয়ে বাড়ি বা বনভোজনে মাংস রান্না


গরুর মাংস রান্নার সহজ রেসিপি, গরুর মাংসের সুস্বাদু রেসিপি, বিয়েবাড়ি বা অনুষ্ঠানে মাংস রান্না
সুস্বাদু রান্না করা মাংস

যে যাই বলুক গরুর মাংসের (Beef) মত সুস্বাদু মাংস খুব কমি আছে। রান্না-ঘরে বা কোন অনুষ্ঠান বা বিয়েবাড়ি বা বনভোজন সহ নানা আয়োজনে এর জুড়ি মেলা ভার। এছাড়া কুরবানী ঈদে গরুর মাংসের পর্যাপ্ততা রাঁধুনির মনের ইচ্ছাকে যেন বপন করে, গরুর মাংসের নানা পদের বাহারি আস্বাদ।


আসুন এবার রান্না ঘরে ঢুকে পড়ি। রেধেফেলি গরুর মাংসের মজাদার আর সহজ এক সুস্বাদু পদ।


প্রয়োজনীয় উপকরণঃ

  • গরুর মাংস- এক কেজি 
  • তেল- দেড় কাপ 
  • পিয়াজ বাটা - মাঝারি সাইজের ৭-৮ টি 
  • রসুন বাটা - ৩-৪ টি 
  • প্যাকেটেজাত গরুর মাংসের গুড়া মসলা- ছোট এক প্যাকেট 
  • ধনে গুড়া বা বাটা- ২ চা চামচ 
  • হলুদ- ৩ চা চামচ 
  • লবণ- পরিমান মত 
  • টমেটো সস- হাফ টেবিল চামচ (না হলেও চলবে) 
  • ভিনেগার বা লেবুর রস- ২ চা চামচ 
  • দৈ- হাফ টেবিল চামচ (না হলেও চলবে) 
  • তেজ পাতা- আস্ত ৪-৫ টি 
  • দারুচিনি- বড় করে ভাংগা ৪-৫ ইঞ্চি পরিমান 
  • আদা বাটা- হাফ টেবিল চামচ 
  • মরিচ বাটা বা গুড়া- এক টেবিল চামচ 
  • পানি- পরিমাণ মত

মাংস রান্নার প্রণালীঃ

  • ১. মাংসে লবণ দিয়ে আধা ঘন্টা মাখিয়ে রাখুন। 
  • ২. কড়াইয়ে মাংস দিয়ে জ্বাল দিন। 
  • ৩. মাংসে পানি বের হলে পানি ফেলে দিয়ে একটি পাত্রে তুলে রাখুন। 
  • ৪. কড়াইয়ে এক কাপ তেল দিন। 
  • ৫. মরিচের গুড়া/বাটা দিয়ে নাড়ুন। 
  • ৬. আদাবাটা দিন ও নাড়ুন। 
  • ৭. রসুন বাটা, ধনে গুড়া বা বাটা, প্যাকেটজাত মাংসের গুড়া মসলা, পিয়াজ বাটা, দৈ থাকলে দৈ, ভিনেগার বা লেবুর রস, দাড়ুচিনি, তেজপাতা, হলুদ, লবণ দিয়ে ভালো করে নাড়ুন এবং তেল তেল ভাব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। 
  • ৮. ভোনা মসলার মাঝে মাংস দিয়ে দিন। 
  • ৯. বাকি তেল কড়াইয়ে দিয়ে ভালোকরে ভোনা করে কষিয়ে নিন। 
  • ১০. সামান্য পানি ও টমেট সস থাকলে দিয়ে কিছু সময় রাঁধুন। 
  • ১১. কড়াই থেকে মাংস নামিয়ে, প্রেশারকুকার, সসপ্যান বা হাড়িতে দিয়ে ডাকনা দিন এবং এটা করার আগে প্রয়োজন মত পানি দিন ও লবণ লাগলে দিয়ে দিন। 
  • ১২. সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। 
  • ১৩. চুলা থেকে কিছু সময় নামিয়ে রাখুন। 
  • ১৪. ঢাকনা দিয়ে ১ ঘন্টা রেখে দিন। 
  • ১৫. ঢাকনা খুলে, সালাত বা দৈ সহ পরিবেশন করুন রান্না করা মজাদার ও সুস্বাদু গরুর মাংস।

ব্যাস, ঝটপট সহজেই রেঁধে ফেলুন আর বন্ধু বান্ধব সহ পাড়াপড়শি দের নিয়ে জমিয়ে গল্পে গল্পে খাওয়ার মজা উপভোগ করুন। সুস্বাদু এই রান্না বিয়ে বাড়ি কিম্বা যে কোন অনুষ্ঠানে সহজেই রান্না করা যায়।


আপনার কোন রেসিপি থাকলে আমাদের লিখে জানাতে পারেন। আমরা আপনার রেসিপি আমাদের সাইটে প্রকাশ কোরবো। সুস্বাদু চিকেন খিচুড়ির রেসিপি পেতে এখানে ক্লিক করুন


রোদেলা-মাহমুদ
২৩-১১-২০২০