ধান থেকে চাল উৎপাদনের পরবর্তী কাজ সেই চাল (Rice) সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করা। কারণ সঠিক উপায় বা পদ্ধতি অনুসরণ না করলে চাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না। এছাড়া সঠিক নিয়ম মেনে চাল সংরক্ষণ না করলে পোকা ও ছত্রাকের আক্রমনের ফলে তা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আর্থিক ক্ষতি রোধ করে চাল কে দীর্ঘদিন খাবার উপযোগী রাখতে কিছু কৌশল বা টিপস মেনে চলা উচিত। আমাদের আজকের আলোচনা দীর্ঘদিন চাল ভালো রাখার কিছু কার্যকরী উপায় বা কৌশল নিয়ে।
১. দীর্ঘদিন চাল সংরক্ষণের একটি কার্যকরী উপায় হল চাল'কে বায়ুনিরোধক পাত্রে সংরক্ষণ করা। এজন্য আমরা পলেথিনের থলি অথবা প্লাস্টিকের ড্রাম ব্যবহার করতে পারি। তবে সবচেয়ে ভালো হয় স্টিল বা এলুমিনিয়ামের ড্রাম ব্যবহার করা। ড্রাম বা পলেথিনে চাউল রেখে এর মুখ ভালোকরে বন্ধ করে দীর্ঘদিন চাল ভালো রাখা যায়। ড্রাম বা প্লাস্টিকের থলি কে বায়ুরোধী করতে প্রয়োজনে টেপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে চাল অনেক দিন ধরে পোকা মুক্ত ও ছত্রাক মুক্ত ভাবে ভালো রাখা যায়।
২. চাল ভালো রাখার আরেকটি কৌশল হল, চালের পাত্রে কিছু পরিমাণে নিম পাতা রেখে ঢাকনা দিয়ে সংরক্ষণ করা। নিম পাতা না পেলে আমরা তেজপাতা ব্যবহার করতে পারি। এছাড়া চালের পাত্রে কিছু পরিমাণ গোলমরিচ রেখেও চাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।
৩. এক বা দুই বছর পর্যন্ত চাল সংরক্ষণ করতে চাল অবশ্যই শুষ্ক স্থানে রাখা প্রয়োজন। ভেজা ও আদ্র আবহাওয়ায় চাউল যাতে ছত্রাকে ধরে নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া চাউল সংরক্ষণের পাত্র যাতে পিপড়া বা ইঁদুর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
৪. সিদ্ধ করা ধান থেকে উৎপন্ন চাল বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়। তাই চাল আতপ চাল বেশিদিন সংরক্ষণ না করায় উত্তম। তবে বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করলে যে কোনো ধরনের চাল দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়।
৫. চাল পোকা মুক্ত ভাবে সংরক্ষণ করতে অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্থানে চাল সংরক্ষণ করতে হবে। চাউল রাখার স্থান প্রথমে ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এর পর জীবানু নাশক স্প্রে করে স্থানটি জীবানু মুক্ত করতে হবে। এছাড়া কীটনাশক স্প্রে করে কীট মুক্ত করা যেতে পারে। ফ্লোরে সরাসরি না রেখে পলেথিন বিছিয়ে, মাচা বা র্যাকে বাক্স বন্দী করে চাউল সংরক্ষণ করতে হবে।
৬. চাউল পোকা মুক্ত ভাবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে আমরা ফ্রিজ ব্যবহার করতে পারি। ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে চাল অনেক দিন ফ্রেশ ও পোকা মুক্ত ভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া পোকা যুক্ত চাউল পোকামুক্ত করতে আমরা রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করতে পারি। চার থেকে পাচ দিন চাউল রেফ্রিজারেটরে রাখলে চাউলের সকল পোকা মারা যায়।
৭. চাউল বস্তাবন্দি করে সংরক্ষণ করতে প্লাস্টিকের বা পলেথিনের বস্তা উত্তম। পাটের বস্তা ব্যবহার করলে বস্তার মাঝে প্লাসটিকের আস্তরণ থাকা উচিত। এছাড়া পোকা দমনের জন্য চালে মেডিসিন ব্যবহার করে চাল দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করা যায়।
চাল থেকে ভাত হয় আর সেই ভাতে পোকা থাকুক সেটি কেউ আশা করে না। তাই চাউল পোকা মুক্ত ভাবে অনেক দিন ভালো রাখতে সচেতনতার পাশাপাশি উপরোক্ত ট্রিক্স বা কৌশলের মত নানা বিধ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।
আমরা আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ টপিকস শেয়ার করতে চলেছি। প্রেম কি, What is love? আসলে ভালোবাসা কি। আজকের আলোচনা সত্যিই ইন্টারেস্টিং হতে চলেছে। সবার আগে এমন সব তথ্য পেতে নিচে ফলো আইকনে ক্লিক করে সাইটে ফলো করুন, আশা করি লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথেই থাকবেন। আপনাদের আন্তরিকতা আমাদের উৎসাহ যোগায়। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
কথায় আছে সকলেই প্রেমে পড়ে। সত্যিই কি তাই? আমরা সত্যিই কি প্রেমে পড়ি। হয়ত পড়ি, হয়ত না। তবু পৃথিবীর সকলেই যেন প্রেমের কাঙাল। কবি সাহিত্যিক থেকে শুরু করে অনেক নামি দামি রাজা বাদশাও প্রেমের পাগল। প্রেম নিয়ে অনেক মজার মজার উপন্যাস রচিত হয়েছে। প্রেমের এক আশ্চর্য নিদর্শন তাজমহল।
ভালোবাসা যেন এক অপূর্ণ তৃপ্তি। ভালোবাসার সুধা যতই পানকরি না কেন যেন কিছুতেই এর তৃষ্ণা মেটে না। আমরা প্রেমের বিরহে সৃষ্টি করেছি দেবদাস। এত তো প্রেম প্রেম করছি। আপনার খবর কি? আচ্ছা আপনি কি কখনো প্রেমে পড়েছেন? প্রেমের স্মৃতি বড়ই মধুর তাই না? আপনার প্রথম প্রেম কে ছিল? বলতে পারেন, আপনি কেন তার প্রেমে পড়েছিলেন? তার প্রতি কেন আকর্ষণ বোধ করেছিলেন? তার সাথে প্রথম কোথায় দেখা হয়েছিল আপনার? আমাকে বলতে হবে না অন্তত মনে মনে এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর খুজুন। এগুলোর মাঝেই লুকিয়ে আছে আজকের উত্তর। আসলে ভালোবাসা কি।
এই আর্টিকেলটি ভিডিও আকারে দেখতে নিচের ভিডিও আইকনে ক্লিক করুন>>>
প্রেম কি - ভিডিও
বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহম্মেদের মতে ভালোবাসা সাতটি পদ্মফুল আর তাতে রয়েছে সাত রঙের ছড়াছড়ি। তাইতো মানুষের জীবনে বারবার প্রেম আসে। মানুষ প্রেমে পড়ে। ভালোবাসা এক মানবিক অনুভূতি, যেন আবেগময় একটি অভিজ্ঞতা। হয়েও হইলো না শেষ। দেখা যায় না কিন্তু বোঝা যায়। যেন অনন্তকাল ধরে বহমান। ভেবে দেখুন আপনি প্রথম যার প্রেমে পড়েছিলেন সে কোনোনা কোনো ভাবে আপনার পরিচিত হয়ে উঠেছিল। শুধু তার রূপ বা লাবন্য নয়। আপনি প্রেমে পড়েছিলেন তার চোখের, তার ব্যবহারের হয়তবা তার মনভোলানো কথার। ভালোলাগা থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল অদম্য এক ইচ্ছার। কি এক আকর্ষণ, তাকে চাই, শুধু মন চাহে, দেখিতে চাই তাকে। আপনি তাকেই ভালোবেসেছিলেন যে আপনার চোখে হয়ে উঠেছিল অমূল্য স্বপ্নময় রাজ্য। তাকে পেয়েছিলেন বলেই যেন ভালোবেসেছিলেন।
মানুষ যখন কারো প্রতি আকর্ষণ বোধ করে তখন মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন নামক এক ধরনের হরমন নিঃসরিত হয়। এই হরমন আপনার মনে আনন্দের দোলা দেয়। ভালোবাসার মানুষ হয়ে ওঠে নিখুঁত। তার দোষ গুলো এড়িয়ে যেতে শুরু করে। তার সবকিছুই হয়ে ওঠে আনন্দময়। ভুলিতে চাহিলেও যেন পারিনা ভুলিতে। কিন্তু ভালোবাসা কি? আপনি কেন তাকে ভালো বেসেছিলেন? প্রথমত নিশ্চিত তাকে পেয়েছিলেন বলেই ভালোবেসেছিলেন। ভালোবাসতে কাছেপেতে হয়। আমি কিন্তু আপনাকে শেখাতে চলেছি, সত্যিকারার্থে ভালোবাসা কি।
ভালোবাসার মানুষকে আমরা ধরে রাখতে চাই। পেতে চাই অনন্ত অনাদিকাল ধরে। যৌবনের ছোয়া প্রেমকে করে তোলো মধুময়। কি এক আকর্ষনের ভূত চেপে বসে শরীরে। শারীরিক আকর্ষণ তাকে বারবার পেতে চাই। তার স্পর্শ যেন অমূল্য, কোনো এক পরিতৃপ্তির মধুময় স্মৃতি। রুক জ্যাকসনের মতে, "প্রেম হচ্ছে স্বার্থ সিদ্ধির চরম অভিব্যক্তি।" শারীরিক আকর্ষন যেন মানষিক আকর্ষণকে দোলা দেয়। মানষিক আকর্ষন হয়ে ওঠে বেগবান। ভালোবাসার মানুষটি আপনার চোখে হয়ে ওঠে অনন্যা, এদিকে তাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে আপনি হয়ে ওঠেন প্রেম পাগল। শুরু হয় পাগলামি। তাকে চাই শুধু তাকেই চাই। কি এক প্রেম পাগল বুলি।
আমি কিন্তু আপনাকে ভালোবাসা কি শেখাতে চলেছি। স্মরণ করুন, কাওকে কাছে পেয়েছিলেন বলেই তার প্রেমে পড়েছিলেন। আপনি যখন কারো প্রেমে পড়েছিলেন তখন তার সবকিছু আপনার ভালো লাগতে শুরু করেছিল। আপনি শিশু থেকে কৈশোর, দিন দিন বড় হতে শুরু করেছিলেন, দৈহিক আকর্ষন বিপরীত কাওকে পাবার আকাংক্ষা জাগ্রত করেছিল। কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়ে উঠেছিল বলেই মানষিক আকর্ষণ আপনাকে পাগল করে তুলেছিল। কাওকে প্রয়োজন। মস্তিষ্ক বিপরীত কাওকে পাবার জন্য ব্যাকুল করে তুলেছিল। বাঁচবিচার নেই, আপনি সহজে যাকে কাছে পেয়েছিলেন, ভেবে দেখুন তারি প্রেমে পড়েছিলেন। যেন তাকে ছাড়া পারিনা থাকিতে। কি এক আকর্ষন, কি এক মায়া, কি এক স্নেহ, আপনার সৃষ্টি করেছিল পাগলামি। তার জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা যেন গড়ে তুলেছিল সারাজীবন পাশে থাকার আকাঙ্ক্ষা। তাকে পেয়েছিলেন বলেই ভালোবেসেছিলেন।
গানটি মনে পড়ে যায়, তখন তোমার একুশ বছর বোধয় আমি তখন অষ্টাদশীর ছোঁয়ায়। যেন তারুন্য থেকেই প্রেম আসে। শারীরিক আকর্ষণ সৃষ্টি করে মানষিক আকর্ষণ। শুরু হয় পাগলামি। কারো জন্য অপেক্ষা করা, কারো জন্য মিথ্যা বলা, কারো জন্য জেগে থাকা। ধ্যান জ্ঞান যেন তারি জন্য। তবেকি বলতে পারি, শারীরিক পরিতৃপ্তির জন্য আমরা যে পাগলামী করি তারি নাম ভালোবাসা? ধরা যায় না দেখা যায় না শুধু অনুভব করা যায়। সত্যবলতে কি, যৌবন ছাড়া ভালোবাসা হয় না, আকাঙ্ক্ষার পরিতৃপ্তি পেতে আমাদের পাগলামিই ভালোবাসা। তাই ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা হয়েছিল বলেই ভালো বেসেছিলেন। শারীরীক আকর্ষন মস্তিষ্ককে এটা বুঝিয়ে ছিল যে তার সব ভালো, যে কোনো মূল্যে তাকে পেতে চাই।
কাছে পাই বলেই আমরা ভালোবাসি। আবেগ জন্মায়। আবেগ আসে তারুন্য থেকে। আবেগ ছাড়া ভালোবাসা পঙ্গু। ভেবে দেখুন পাশের বাড়ির কালার বোন ভালোবাসে আবার ধলার বোনটিও প্রেমে পড়ে। সকলেরি প্রেম আসে। শারীরিক চাহিদা কুহু রবে প্রেম কে ডেকে চলে দিন রাত। কাছে আয়, প্রিয় কাছে আয়। কুহু কুহু রবে। শীত বসন্ত বর্ষাতে। আমরা প্রেমে পড়ি। প্রেম আছে বলেই আজো ফুলফোটে, ফল হয়। প্রেম আছে বলেই আমরা আজো বেচে আছি। সত্যিকারার্থে প্রেম আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হলেও প্রেম যেন জীবনের ফুল।
কাওকে পাবার জন্য পাগলামিটায় প্রেম, আবেগটায় ভালোবাসা। স্যালুট প্রেম স্যালুট ভালোবাসা। ভালোবাসা আছে বলেই আমরা বেচে আছি। আসুন ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা করতে শিখি।
"What is real Love, bengali love story, মানুষ মেয়েদের প্রেমে কেনো পড়ে, বার বার প্রেমে পড়ার কারন, ভালবাসার বিজ্ঞান, মানুষ বিয়ে কেন করে, love meaning in bengali, প্রেমের কাহিনী, why people fall in love,motivational video, why mam fall in love scientific result in bangla, valobasha paoar upay, মানুষ কেন প্রেমে পরে, ছেলে মেয়েরা বার বার কেন প্রেমে পড়ে জানেন ? প্রেমে পড়েছে মন, প্রেমের কাহিনী , the science of love, bangla natok, love, herat touching video,bangla love story, fall in love, Relationship Story, Tips for Your Love Life, new bangla natok, fall in love in bangla, জেনে রাখু সত্যিকারের love analysis, Bhalobasa, Valobashar Golpo bangla, Heart touching love story, bangla, motivational video, What is Love? love, What Is Love, word meaning of love, love bengali meaning, a social romantic love story bangla, Love Meaning, প্রেমে পরার লক্ষন, ভালোবাসা, প্রেম, love Motivation Bangla, The science of love, love science, fall in love, the science of love Bangla, love story bang."
শিং বা জিয়াল মাছ অথবা মাগুরমাছ (Catfish) দেশি মাছের মধ্যে অন্যতম সুস্বাদু মাছ। শিং মাছের গায়ে আশ নেই বললেই চলে। অপার দিকে মাছের গায়ের রং কালচে বা বাদামী হওয়ায় খাবার প্লেটে বেমানান দেখায় বিধায় মাছের গায়ের রং তোলা ছাড়া উপায় থাকে না। কিন্তু আশ তোলা খুবি কষ্টকর এক ব্যপার। বাড়ির রাঁধুনি বা মহিলাদের এটা এক বিরক্তিকর কাজ। অনেকে শিং মাছ পরিষ্কারের ভয়ে সুস্বাদু হওয়া সত্ত্বেও কিনতে ভয় পান। শিং মাছ শুধু যে পরিষ্কার করায় ঝক্কিঝামেলা তাই নয়, তাজা বা জীবন্ত শিং মাছ কোটা বা কাটা আরেক মস্ত বড় বিপদজনক কাজ! শিং মাছের কাটা খুব বিশক্ত! তাজা শিং মাছ কাটতে গেলে শিং কাটা ফুটিয়ে দিতে পারে তাই কিছু কৌশল অবলম্বন ছাড়া এ থেকে রেহায় পাওয়া খুবি কষ্টকর। রাঁধুনি দের সুবিধার্তে আমাদের আজকের ঘরোয়া টিপস, শিং মাছ কাটার নিয়ম ও শিং মাছ সহজে ও দ্রুত পরিষ্কারের পদ্ধতি, কৌশল ও নিয়ম নিয়ে।
শিং মাছ কাটা বা কোটার আগে করণীয়ঃ
জ্যান্ত বা তাজা শিং বা মাগুর মাছ কাটার আগে সাবধান থাকা উচিত। শিং মাছ কোটার আগে নিম্নের নিয়ম গুলো অনুসরণ করুন-
১. ধারালো বটি বা দা সংগে রাখুন যাতে শিং মাছ সহজে কাটা যায়।
২. চুলার ছাই অথবা ধুলো অথবা কাঠের গুড়ো সংগে রাখুন যাতে মাছ কাটার সময় পিছলে না যায়।
৩. তাজা বা জ্যান্ত শিং মাছ মেরে নিলে কাটতে সুবিধা হয় তাই শিং মাছ মেরে ফেলার জন্য সামান্য লবন সংগে রাখুন।
৪. তাজা শিং মাছের গায়ে লবন ছিটিয়ে দিন এবং কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন এতে শিং মাছ দ্রুত মরে যাবে।
৫. চুলার ছাই অথবা ধুলো অথবা কাঠের গুড়ো শিং মাছে মেখে নিন যাতে মাছ কাটার সময় পিছলে না যায়।
৬. শিং মাছের কাটার উপরের অংশের মাথা এক হাত দিয়ে জব্দ করে ধরুন এবং মাছের মাঝ বরাবর অন্য হাত দিয়ে ধরে মাছের কাটা ও মাছের পাখনা এবং ফুলকা, নাড়ি ভুড়ি কেটে ফেলুন। ঝামেলা এড়াতে মাথা কেটে ফেলে দিতে পারেন।
মাছের কাটা ও নাড়ি ভুড়ি বটি বা ছুরি দিয়ে কাটার পর মাছের গা পরিষ্কার ও সাদা করতে নিচের নিয়ম গুলো অনুসরণ করুন।
সহজে শিং মাছ পরিষ্কার করার নিয়ম বা পদ্ধতি বা কৌশল-১ঃ
বেশি ঘষামাজা ছাড়া শিং মাছ সহজে পরিষ্কার করতে নিচের পদ্ধতি বা কৌশল গ্রহণ করা যেতে পারে-
১. একটি চালনিতে কেটে রাখা শিং মাছ গুলো রেখে ছায় ময়লা ধুয়ে ফেলুন।
২. কয়েকটি পেঁপে গাছের কাচা পাতা সংগ্র করুন।
৩. পেঁপের পাতা গুলো কুচি কুচি করে কেটে নিন।
৪. কুচি করে কেটে রাখা পাতা গুলো চালনিতে ধুয়ে রাখা শিংমাছের মধ্যে ঢালুন এবং চালনিতে হাত দিয়ে মাঝারি চাপে পেঁপে পাতা কুচি ও মাছ মিশিয়ে হালকা ঘসতে থাকুন।
৫. কয়েক মিনিট পর সহজেই শিং মাছের কালচে ও ছোপ ছোপ বাদামী রঙ চলে গিয়ে সাদা রঙ ধারণ করবে।
৬. পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, পেপের পাতা থাকলে হাত দিয়ে ফেলে পুনরায় ধুয়ে ফেললেই পেয়ে যাবেন চকচকে সাদা পরিষ্কার শিং মাছ।
শিং মাছ পরিষ্কার করার নিয়ম-২ঃ
শহর জীবনে শিং মাছ পরিষ্কার করা আরেক ঝামেলার বিষয়। এ ঝামেলা দূর করতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন-
১. একটি পাত্রে বা চালনিতে কেটে রাখা শিং মাছ গুলো রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ছায় বা ময়লা ধুয়ে ফেলুন।
২. মাছ কেনার সময় কয়েকটি কাচা পেপে কিনুন অথবা যে কোন ভাবে সংগ্রহ করুন।
৩. পেঁপে গুলো থেকে খোসা ছাড়িয়ে নিন।
৪. পেঁপের খোসা গুলো ব্লেন্ডার মেশিন দিয়ে মিহি বা মলম করে ফেলুন অথবা পাটায় বেটে মিহি করে নিন।
৫. মিহি বা মলম করা পেঁপের খোসা কেটে রাখা শিং মাছে ভালো করে মাখিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন।
৬. ১০-১৫ মিনিট পর হাত দিয়ে মাছ গুলো হালকা ঘসে ধুয়ে ফেললেই পাওয়া যাবে পরিষ্কার ও ধবধবে সাদা শিং মাছ।
উপরের ঘরোয়া টিপস গুলো কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন। আপনাদের জানা এমন কোনো টিপস থাকলে আমাদের লিখে জানান। আমরা আপনার নাম ছবি সহ তা আমাদের সাইটে প্রকাশ করবো।
বাঙ্গালি বরাবরি ভোজন রসিক। হাজীর বিরিয়ানি, কলকাতা বিরিয়ানি, কাচ্চি বিরিয়ানি সহ নানান পদের বিরিয়ানি রান্নার উদ্ভাবক রসিক প্রিয় বাঙ্গালি। অন্য দিকে ঘরোয়া বিরিয়ানি রান্নার স্বাদ যদি রেস্টুরেন্ট এর বিরিয়ানি কে হার মানায়, তাহলেতো কথাই নেই। তাই ঘরে বসেই সুস্বাদু আর ভূরিভোজন কে এক অন্যতম আধুনিক স্বাদ দিতে নিয়ে এলাম বিরিয়ানি রান্নার নতুন এক পদ্ধতি। আশা ও বিশ্বাস বাসায় রান্না করে পাবেন নতুন এক আধুনিক স্বাদ আর নতুনত্বের আত্মতৃপ্তি।
বিরিয়ানির উৎপত্তিঃ
আঞ্চলিক ভাষায় বিরিয়ানি কে বিরেনি বা বিরানি বলে। বিরিয়ানি রেসিপি মূলত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সমাজ উৎপত্তি ঘটিয়েছে। ইংরেজিতে বিরিয়ানি কে Biryani বা Biriani বলে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ তথা ভারতবর্ষ বা ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ইত্যাদি দেশ গুলোর জনপ্রিয় খাবার বা রেসিপি হিসাবে বিরিয়ানি খুবি জনপ্রিয়।
বিরিয়ানির প্রকারঃ
বিরিয়ানি রান্নার রয়েছে নানা পদ্ধতি আর বাহারি রেসিপি। প্রকরণের দিক দিয়ে দেখতে গেলে বিরিয়ানি রান্নার পদ্ধতি ও উপকরণগত পার্থক্য কেই প্রাধান্য দিতে হয়। স্থানগত দিক দিয়ে প্রকরণ করতে গেলে ঢাকাইয়া বিরিয়ানি, কলকাতা বিরিয়ানি, কাচ্চি বিরিয়ানি, হাজীর বিরিয়ানি, ঘরোয়া পদ্ধতিতে বিরিয়ানি, রেস্টুরেন্ট এর বিরিয়ানি, বাঙালী বিরিয়ানি, অবাঙালী বিরিয়ানি অন্যতম। আবার সাদা বিরিয়ানি, ঝরঝরে বিরিয়ানি, রেডিমেড বিরিয়ানি মসলার বিরিয়ানি এমন নানান ভাগে বিরিয়ানি কে ভাগ করা যেতে পারে। বিরিয়ানি কে উপকরণগত দিক দিয়ে ভাগ করতে গেলে মটন বা মাটন বা খাসির মাংসের বিরিয়ানি, বিফ বা গরুর মাংসের বিরিয়ানি, চিকেন বা মুরগির মাংসের বিরিয়ানি এমন নানান ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। অনেকে চিকেন বিরিয়ানি মসলা বা নানারকম রেডিমেড বিরিয়ানি মসলা সহকারে বিরিয়ানি রান্না করতে পছন্দ করেন। কেওবা পছন্দ করেন ঘরোয়া মসলা ব্যবহার করে বিরিয়ানি রান্না করতে। ঈদে যেমন রমজানের ঈদ অথবা কোরবানি ঈদে নানারকম পদের পাশাপাশি বিরিয়ানি এক জনপ্রিয় পদ। পুজা পর্বণেও বিরিয়ানির জুড়ি মেলা ভার। তাই বিরিয়ানি দেশ কাল রুচি ভেদে নানান প্রকারের হতে পারে।
বিরিয়ানি রান্নার আজকের রেসিপিঃ
বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি
বিরিয়ানি রান্নার নিয়ম রয়েছে অসংখ্য। ঝরঝরে বিরিয়ানি আর সুস্বাদু বিরিয়ানি সকলেই প্রত্যাশা করে। মেজবানি বা বিয়ের অনুষ্ঠান বা ঘরোয়া ভাবে একি পদ্ধতিতে বিরিয়ানি রান্না করার একটি আধুনিক ও সুস্বাদু পদ্ধতি বা নিয়ম রয়েছে। যে কোন মাংস সহকারে এ পদ্ধতিতে বিরিয়ানি রান্না সম্ভব, আবার খেতেও খুব সুস্বাদু। এ পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এটি আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম। আমাদের আজকের রান্না ঘরে থাকছে সহজ, ঝরঝরে, সুস্বাদু ও আধুনিক পদ্ধতিতে বিরিয়ানি রান্নার রেসিপি।
বিরিয়ানি রান্নার উপকরণঃ
যে কোন মাংস, লবণ, পিয়াজ, তেল, আদা বাটা, ধনে গুড়া, আলু বোখারা (না হলেও চলবে), পেয়াজ বাটা, ঘি, জিরা বাটা, এলাচ, লবঙ্গ, রসুন বাটা, মরিচের গুড়া, বিরিয়ানি মসলা (না হলেও চলবে তবে এর পরিবর্তে পোস্তা বাটা, জয়ত্রি বাটা ও জয় ফল বাটা ব্যবহার করতে হবে), দারুচিনি, তেজপাতা, চিলি সস (না হলেও চলবে), টমেট সস (না হলেও চলবে), দৈ, পানি, কাচা মরিচ, পোলাও এর চাল বা সুগন্ধি চাল (চিকন বা বাসমতী চাউল হলেও চলবে)।
মাংস - ২ কেজি, লবণ - স্বাদ মতো, পেয়াজ বাটা - ১ কাপ , গোল করে কাটা পিয়াজ কুচি- ১ কাপ, ধনে গুড়া - ১ চা চামচ, তেল - ২৫০ গ্রাম বা এর বেশি, এলাচ - ৫-৭ টি, লবঙ্গ - ৫ টি, আদা বাটা - ২ চা চামচ, জিরা বাটা - ২ চা চামচ, রসুন বাটা - ২ চা চামচ, মরিচের গুড়া - ১ চা চামচ , ঘি - ২ চা চামচ, বিরিয়ানি মসলা - ২ টেবিল চামচ (না হলেও চলবে তবে এর পরিবর্তে পোস্তা বাটা, অল্প পরিমাণ জয়ত্রি বাটা ও ১ টি জয় ফল বাটা পরিমাণ মতো মিশিয়ে মোট ১ টেবিল চামচ ব্যবহার করতে হবে), আলু বোখারা ৪-৫ টি (না হলেও চলবে), দারুচিনি - ৮-১০ খন্ড, তেজপাতা - ৫ টি, চিলি সস - ২ চা চামচ (না হলেও চলবে), টমেট সস - ২ চা চামচ (না হলেও চলবে), দৈ - ৫০ গ্রাম, পানি - পরিমাণ মত, আস্ত কাচা মরিচ - ৪-৫ টি, চাল - ১ কেজি।
বিরিয়ানি রান্নার নিয়ম বা পদ্ধতিঃ
আসুন এবার রান্না শুরু করা যাক,
১. প্রথমে মাংস মাঝারি সাইজে কেটে লবন দিয়ে আধা ঘন্টা রেখে দিন।
২. কড়াইতে পিয়াজ কুচি গোল গোল করে কেটে বাদামি করে ভেজে তুলে রাখুন।
৪. এবার পরিমান মত তেল দিয়ে কড়াইতে আদা বাটা, পিয়াজ বাটা, জিরা বাটা, রসুন বাটা, মরিচের, এলাচ - ৫-৭ টি, লবঙ্গ - ৫ টি গুড়া, ধনে গুড়া, লবণ ও বিরিয়ানি মসলা বা এর পরিবর্তে নেওয়া মসলা (পোস্তা বাটা, জয়ত্রি ও জয় ফল বাটা) দিয়ে কিছু সময় নাড়ুন।
৫. এবার ভেজে রাখা মাংস মসলার মাঝে দিয়ে কিছু সময় কষিয়ে নিন এবং আস্ত তেজ পাতা, ভাংগা দারুচিনি এই সময় দিতে পারেন।
৬. এর পর চিলি সস ও টমেট সস দিতে পারেন এবং পরিমাণ মতো দৈ দিয়ে মাংস কষাতে থাকুন।
৭. মাংস কষানো হয়ে গেলে অল্প পানি দিয়ে সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রাধুন, পানি দেওয়ার সময় লবণে হয়েছে কিনা দেখে নিন।
৮. ঢাকনা ঢেকে রান্না করবেন এবং মাঝে মাঝে দেখবেন মাংস সেদ্ধ হয়েছে কিনা, মনে রাখবেন রান্না এমন ভাবে করবেন যেন শেষ পর্যন্ত মাংসে বেশি পানি না থাকে, মানে গামাহ গামাহ বা গাঢ় গাঢ় থাকে। মাংস নামানোর ১০ মিনিট আগে আস্ত কাচা মরিচ এবং ভেজে রাখা পেয়াজ ও আলু বোখারা মাংসে দিয়ে দিন।
৯. চুলা থেকে মাংস নামিয়ে রাখুন এবং অন্য একটি হাড়িতে বা পাত্রে পানি দিয়ে গরম করুন, এবং কিছু পরিমাণ গরম পানি তুলে অন্য পাত্রে রাখুন।
১০. হাড়িতে থাকা গরম পানির মাঝে চাউল দিন এবং মনে রাখবেন চাউলের উপর যেন এক বিঘাতের বেশি পানি থাকে।
১১. চাউল এমন ভাবে রান্না করুন যেন সবসময় ঢিল ঢালা পানি থাকে, পানি মিশানো চালে সামান্য লবণ দিয়ে দিন এবং বেশি সেদ্ধ না হয়ে যায় সে দিকে খেয়াল রাখুন অর্থাৎ খুবি অল্প পরি মানে ভাতে মাজ থাকা অবস্থায় নামিয়ে ফেলুন।
১২. কোন ছাকনি বা চালনীর উপর পাতলা কাপড় বিছিয়ে হাড়ির পুরা চাউল ঢেলে দিন এবং ঢালা চাউলে আগে থেকে তুলে রাখা গরম পানি ঢেলে দিন এবং পানি ঝরিয়ে নিন।
১৩. বেশি সময় দেরি না করে পানি ঝরলেই দ্রুত গরম গরম ভাত সসপেন বা হাড়িতে কিছু পরিমাণে অল্প অল্প করে ঢালুন এবং তার উপর রান্না করা মাংস বিছিয়ে দিন, আবার ভাত ঢালুন আবার মাংস বিছান এভাবে পরতা পরতা বা ভাজে ভাজে ভাত ও মাংস ঢালুন।
১৪. সব ভাত ও মাংস হাড়িতে ঢালা হয়ে গেলে ভাতের উপর ঘি ছড়িয়ে দিন।
১৫. খুনতি বা নাউড়ি বা নাড়ানি দিয়ে ভাত মিশ্রিত মাংস নাড়ুন যেন একে অপরের সাথে মিশে যায় তবে খেয়াল রাখবেন যেন ভাত কেটে বা চটকে না যায়।
১৬. এবার হাড়িতে বা সসপেনে ঢাকনা দিয়ে চুলার উপর রাখুন তবে চুলায় তাপ থাকলেও যেন আগুন না জ্বলে, চুলা থেকে কিছু পরিমাণে কয়লা হাড়ি বা সসপেনের ঢাকনার উপর রাখুন এবং ঢাকনার উপরে ভারি কিছু চাপা দিয়ে রাখুন যেন ধোয়া বের হতে না পারে।
১৭. হাড়ির ঢাকনা না খুলে এভাবে আধা ঘন্টা রাখুন তবে খেয়াল রাখবেন এই সময়ে চুলার তাপ যেন কোন ক্রমেই বেশি না থাকে এবং আগুন জ্বলে না ওঠে।
১৮. সব শেষে পাত্রের ঢাকনা খুলে সুন্দর করে প্লেটে সাজিয়ে পরিবেশন করুন আধুনিক পদ্ধতিতে রান্না করা সুস্বাদু ও মজাদার ঝর ঝরে বিরিয়ানি। আর যে কোন সালাদ সহকারে গরম গরম খাওয়া শুরু করুন ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি আধুনিক মুখে জল আনা সুগন্ধি বিরিয়ানি।
এমন স্বাদের ও মজাদার সব রান্না পেতে আমাদের সাথেই থাকুন, আপনার পছন্দ বা মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানালে খুশি হব। আপনার নিজের তৈরি কোন রান্না বা রেসিপি থাকলে রেসিপির ছবি ও আপনার ছবি সহ আমাদের লিখে জানাতে পারেন। আমরা আপনার নাম ও ছবি সহ রেসিপি আমাদের সাইটে প্রকাশ করবো। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে এখানে ক্লিক করে ই-মেইলে ম্যাসেজ করুন।
আমি রোদেলা মাহমুদ। আমি ও আমার টিম দেশ মাটি ও মানুষের কথা বলি। আমরা মানবতার সেবায় নিবেদিত। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করতে আমাদের এই ছোট্ট প্রচেষ্টা। আপনাদের পাশে আছি পাশে থাকব এই কামনা সর্বদা। বিস্তারিত জানতে... এখানে ক্লিক করুন→