ছুটির দিনে লেখাপড়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছুটির দিনে লেখাপড়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার

নলকূপ স্থাপনের জন্য আবেদন পত্র

পরিষ্কার পানিও জলের জন্য প্রধানশিক্ষক সুপার অধ্যক্ষ বরাবর পত্র


  • নলকূপ স্থাপনের জন্যে আবেদন পত্র 
  • প্রধানশিক্ষক/সুপার/অধ্যক্ষ বা প্রিন্সিপাল বরাবর আবেদন
  • পরিষ্কার পানিও জলের সুব্যবস্থার জন্য আবেদন


বিদ্যালয়ে নলকূপ স্থাপনের জন্য আবেদন পত্র, কলেজ, মাদ্রাসায় নলকূপ স্থাপনের জন্য আবেদন, প্রধানশিক্ষক, সুপার,প্রিন্সিপাল, অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন পত্র
আবেদন পত্র

বাংলা ২য় - আবেদন পত্রঃ


★★★ বিদ্যালয়ে/মাদ্রাসায়/কলেজে পরিষ্কার খাবার পানিও জলের ব্যবস্থা কল্পে নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রধানশিক্ষক/সুপার/প্রিন্সিপাল/অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন পত্র।



২৯-১১-২০২০
প্রধানশিক্ষক,
ওয়ানটাইম স্কুল,
ঢাকা, বাংলাদেশ।

বিষয়ঃ পরিষ্কার পানিও জলের সুব্যবস্থা কল্পে নলকূপ স্থাপনের জন্য আবেদন পত্র।

জনাব,
সবিনয় বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ছাত্র। আমরা সকলেই অবগত যে, আমাদের বিদ্যালয় অত্র অঞ্চলের মধ্য বৃহত্তম। বিশাল দুই হাজার ছাত্র ছাত্রী থাকায় আমাদের বিদ্যালয় গর্বিত। আমাদের আছে ৫ টি বৃহৎ সুউচ্চ দালান, একটি বিশাল খেলার মাঠ, দুটি ক্যানটিন। ছেলে ও মেয়েদের জন্য রয়েছে পৃথক ৪ টি শৌচাগার। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় যে, ছাত্রছাত্রীদের জলের অভাব মেটাতে রয়েছে মাত্র দুইটি পুরাতন নলকূপ। যা দ্বারা জীবাণু যুক্ত ময়লা পানি বের হওয়ায় এর পানি পানযোগ্য নয়। জলের অভাবে ছাত্রছাত্রীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। রোগবালাই আর স্বাস্থ্য সমস্যা যেন নিত্য দিনের সঙ্গী। 

অতএব, সবিনয় প্রার্থনা, অতিদ্রুত জীবাণুমুক্ত পরিষ্কার ও নিরাপদ জলের ব্যবস্থা কল্পে বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত নলকূপ স্থাপনের সুব্যবস্থা করে বাধিত করবেন।

ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে,
রোদেলা
শ্রেণী- ১০ম
রোল- ১

আশা করি আবেদন পত্রটি সকলের উপকারে আসবে। আর কি কি বিষয়ে সমস্যা আছে আমাদের কমেন্ট করে লিখে জানালে সমাধানের চেষ্টা করব।


সকলের শুভকামনায়-

রোদেলা মাহমুদ।

২৯-১১-২০২০

শনিবার

হাতের লেখা সুন্দর করার উপায়

হাতের লেখা ভালো করার সহজ উপায়


  • হাতের লেখা সুন্দর করার সহজ কৌশল 
  • হাতের লেখা স্টাইলিশ করার উপায় 
  • ভালো হাতের লেখার গুরুত্ব
  • হাতের লেখা ঠিক করার সহজ নিয়ম


হাতের লেখা সুন্দর করার উপায়, বাংলা ইংরেজী হাতের লেখা, ভালো আকর্ষণীয় হাতের লেখা
হাতের লেখা



সুন্দর হাতের লেখা সুন্দর মন আর মেধাবী ব্যক্তিত্বের পরিচয়। সকলেই চাই হাতের লেখা সুন্দর করতে। সুন্দর হাতের লেখা শিশু কাল থেকে শুরু করে শৈশব আর কৈশোরে গড়ে তুলতে হয়। শিশু কালে মায়ের হাতেই শুরু হয় হাতের লিখা গড়ে তোলার হাতে খড়ি। পরীক্ষায় ভালো ফলের বা ভালো রেজাল্টের জন্য হাতের লেখা বড় ভূমিকা পালন করে। তাই সকলেরি প্রত্যাশা সুন্দর আর প্রশংসা যোগ্য হাতের লেখার।



হাতের লেখা সুন্দর করার উপায় সমূহঃ

বাংলা বা ইংরেজী, যে কোন হাতের লেখা সুন্দর করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ। হাতের লেখা সুন্দর ও প্রশংসা যোগ্য ও আকর্ষণীয়  করে গড়ে তুলতে নিচের নিয়ম গুলো ধাপে ধাপে মেনে চলুন-



১. অক্ষর বা বর্ণ গুলো সঠিক ভাবে লেখা -

ভালো হাতের লেখার প্রথম শর্ত হল অক্ষর বা বর্ণ স্পষ্ট ও পরিষ্কার এবং সঠিক মাত্রা বা মার্জিনে লেখা। বাংলা স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ সঠিক ভাবে লক্ষ্য করতে হবে। যে সকল বর্ণে মার্জিন বা মাত্রা আছে সে গুলো মার্জিন বা মাত্রা সহ এবং অর্ধ মাত্রা বর্ণ গুলো এবং মাত্রাহীন বর্ণ গুলো মাত্রাহীন ভাবেই লেখার চেষ্টা করতে হবে। বাক্য লিখার সময় যেন একটি বর্ণ বা অক্ষর পাশের বর্ণ বা অক্ষরের সাথে মিশে বা পাশের বর্ণের মাঝে ঢুকে না যায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অন্য দিকে একটি শব্দের পর অন্য শব্দ লেখার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন দূরত্ব ঠিক থাকে। দূরত্ব কম হলে লেখা পড়তে অসুবিধা হবে বা বোঝা যাবে না আবার দূরত্ব বেশি হলে পড়তে অসুবিধা সহ ভালো দেখাবে না। সাধারন্ত দুটি শব্দের মাঝে এক বর্ণ বা অক্ষর পরিমান ফাকা যায়গা রেখে পরের শব্দ লেখা উচিৎ। হাতের লেখা সুন্দর, ভালো আর আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে এগুলি প্রথম শর্ত। নিচের ছবির উদাহরণ গুলো লক্ষ্য করুন- 
হাতের লেখা ভালো করার উপায়, বাংলা ও ইংরেজী হাতের লেখা, সুন্দর আকর্ষণীয় হাতের লেখার গুরুত্ব, হাতের লেখা ঠিক করার সহজ নিয়ম
হাতের লেখা ভালো করার উপায়


২. বর্ণ বা অক্ষরের সাইজ বা আকার আকৃতি ঠিক রাখা -

বর্ণ বা অক্ষরের আকার আকৃতি সুন্দর হাতের লেখা গড়ে তোলার অন্যতম আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। একটি বর্ণ বড় অন্যটি ছোট এমন হলে দেখতে বিশ্রী লাগে। এই সমস্যা সমাধানের একটি উপায় রয়েছে। স্কেল বা রুলার দিয়ে মার্জিন টেনে দুটি মার্জিনের মাঝে লিখতে হবে। বার বার লিখতে হবে এবং ধীরে ধীরে লিখতে হবে। এভাবে কিছুদিন অভ্যাস করলে নিশ্চয় বর্ণ ছোট বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যা দূর হবে। তবে হ্যা, অনেক সময় আকার(া), রশ্বিকার (ি) ইত্যাদি অনেকে ইচ্ছা করেই অক্ষরের থেকে বড় বা ছোট করে লেখে, সেটা কিন্তু কোন সমস্যা নয় বরং সুন্দর বা স্টাইলিশ করার জন্য এমন করা সৌন্দর্যময় বটে। নিচের ছবির উদাহরণ লক্ষ্য করুন- 

হাতের লেখা ভালো করার উপায়, বাংলা ও ইংরেজী হাতের লেখা, সুন্দর আকর্ষণীয় হাতের লেখার গুরুত্ব, হাতের লেখা ঠিক করার সহজ নিয়ম
হাতের লেখা সুন্দর করার উপায়


৩. বর্ণ বা অক্ষরের প্রতিটি রেখা সমন্তরাল রাখতে চেষ্টা করা -

হাতের লেখা সুন্দর করতে একটি বর্ণের রেখা গুলোর সাথে অন্য বর্ণের একই তলে থাকা অন্য বর্ণ গুলোর রেখা গুলো সমান্তরাল রাখতে চেষ্টা করতে হবে। হাতের লেখা আকর্ষণীয় করতে বর্ণের অক্ষর গুলো সমান্তরাল রাখা অতি আবশ্যক। নিচের ছবিতে থাকা উদাহরণ গুলো লক্ষ্য করুন- 
হাতের লেখা ভালো করার উপায়, বাংলা ও ইংরেজী হাতের লেখা, সুন্দর আকর্ষণীয় হাতের লেখার গুরুত্ব, হাতের লেখা ঠিক করার সহজ নিয়ম
হাতের লেখা ভালো করার উপায়


৪. স্টাইলিশ ভাবে লেখার মানষিকতা তৈরি করা-

সুন্দর আর স্টাইলিশ (Stylish) ভাবে লেখার মানষিকতা না থাকলে হাতের লেখা কখনো সুন্দর হয় না। লেখার প্রতি যত্নবান হলে হাতের লেখা সুন্দর হয়ে ওঠে। এক রকম হলেই হলো এমন মানষিকতা রেখে দ্রুত যাচ্ছে না তাই ভাবে লেখলে হাতের লেখা কখনোই সুন্দর হয় না। এছাড়া অন্যের ভালো কোন হাতের লেখা অনুসরণ করে অন্যের মত করে লেখলেও হাতের লেখা ভালো হয়ে ওঠে। তবে যে কোন এক ধরনের লেখা অনুসরণ করতে হবে, নইলে লেখা ঠিক হতে সময় নেবে। আর হ্যা, লক্ষ্য রাখতে হবে সে কি ভাবে লেখে। মনে রাখতে হবে বার বার প্রাকটিসের মাধ্যমে হাতের লেখা সুন্দর হয়ে ওঠে। 
 

৫. লেখার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া-

লেখার পরেই পড়ার অবস্থান। হাতের লেখা সুন্দর করতে বেশি বেশি লেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যত বেশি লেখা হবে তত বেশি ভুল সংশোধন হবে। যত বেশি ভুল সংশোধন হবে ততো বেশি লেখা সুন্দর হবে। চেষ্টা থাকতে হবে আর লেখার প্রতি গুরুত্ব সহকারে সময় দিতে হবে। আশা করা যায় খুব দ্রুত হাতের লেখা সুন্দর হয়ে উঠবে। 


৬. কিছু লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারনা রাখা-

রচনা লেখার নিয়মাবলী, পত্র লেখার পদ্ধতি, প্যারাগ্রাফ লেখার কোয়ালিটি, কিছু প্যারা প্যারা আকারে লেখার সিস্টেম বা পদ্ধতি লেখার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। আর লেখা সৌন্দর্যময় হলে হাতের লেখা সুন্দর দেখায়। 


৭. লাইন সোজা রাখা ও নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা-

লাইন সোজা না হলে হাতের লেখা ঠিক থাকলেও লেখা সৌন্দর্যময় হয় না। লাইন সোজা রাখার জন্য একটা কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে, খাতার বাম পাশে ছোট্ট একটি দাগ দিন এবং ঠিক সোজাসুজি খাতার অপার পাশে ডান পাশে আরেকটি দাগ দিন, প্রয়োজনে মাঝামাঝি জায়গাতে আরেকটি চিহ্ন বা দাগ দিন এবং দাগ গুলো বরাবর লেখা শুরু করুন। খেয়াল রাখুন যেন লেখা উপরে বা নিচের দিকে উঠে বা নেমে না যায়। সোজা রাখতে চেষ্টা করুন। নিচের ছবির উদাহরণ লক্ষ্য করুন-
হাতের লেখা ভালো করার উপায়, বাংলা ও ইংরেজী হাতের লেখা, সুন্দর আকর্ষণীয় হাতের লেখার গুরুত্ব, হাতের লেখা ঠিক করার সহজ নিয়ম
হাতের লেখা সোজা করার উপায়



উপরের নিয়ম গুলো অনুসরণ করলে আশাকরি হাতের লেখা ধীরে ধীরে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও স্টাইলিশ হয়ে উঠবে। তাহলে আজি শুরু করুন, নিজেকে স্মার্ট আর ব্যক্তিত্ত সম্পন্ন পরিচয় করাতে সুন্দর বা ভালো হাতের লেখার কোন বিকল্প নেই।


আমাদের সাথেই থাকুন। নিচের বক্সে কমেন্ট করুন। ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


সকলের শুভকামনায় - 

কে-মাহমুদ 

৬-১১-২০২০

শুক্রবার

আইসিটি কি - ICT বিস্তারিত

আইসিটি, ICT বা Information and communication  Technology


আইসিটি (ICT) কি, কাকে বলে, আইসিটি যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ এবং এর গুরুত্ব, তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।



ICT  কি, আইসিটি কাকেবলে,  তথ্য প্রযুক্তি, যোগাযোগ প্রযুক্তি, আইসিটির গুরুত্ব
আইসিটি


ICT বা আইসিটি সম্পর্কে জানতে প্রথমে যা জানা প্রয়োজনঃ

• Data - ডেটা অর্থ উপাত্ত। কোন তথ্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করলে আমরা যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগ পেয়ে থাকি তাকে Data বা উপাত্ত বলে। 'রহিমের বয়স ১০, সে ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ে' - এখানে ১০ বছর, ৪র্থ শ্রেনী হচ্ছে রহিমের ডেটা (Data) বা উপাত্ত।
• Information - ইনফরমেশন অর্থ তথ্য। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট ডেটা যদি অপূর্ণাঙ্গ বিষয় হয় তবে তথ্য হবে পূর্ণাঙ্গ বিষয়। অর্থাৎ কয়েকটি ডেটা মিলে যে ফলাফল পাওয়া তা তথ্য বা Information. রহিমের বয়স ১০, সে ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ে' - এখানে পুরো বাক্যটি হচ্ছে রহিমের তথ্য।
• Communication - ইংরেজি communication (কমিউনিকেশন) শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ যোগাযোগ। সাধারন্ত একে অপরের সাথে তথ্য আদান প্রদান করতেই আমরা যোগাযোগ করে থাকি।
• Technology - টেকনোলজি শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। বিজ্ঞান মানব সেবায় বা বিশ্বের প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত নানা প্রকার যন্ত্রপাতি, কলাকৌশল, পদ্ধতি আবিষ্কার করে চলেছে। এগুলোকে বিজ্ঞানের সেবা বলা যেতে পারে। বিজ্ঞান আমাদের যে সেবা দেয় বা যে সকল যন্ত্রপাতি বা পদ্ধতি উপহার দেয় তাকে প্রযুক্তি বা technology বলে।


ICT বা আইসিটি কি বা কাকে বলেঃ

Information and Communication Technology এর সংক্ষিপ্ত রূপ ICT. সুতারং ICT কে বিশ্লেষণ করলে আমরা দুই ধরনের উপাদান পেয়ে থাকি-

  • ১. Information Technology বা তথ্য প্রযুক্তি।
  • ২. Communication Technology বা যোগাযোগ প্রযুক্তি।


Information Technology কি বা কাকে বলেঃ

Information শব্দের অর্থ তথ্য বা উপাত্য এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। সুতারং যে সকল কলাকৌশল বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংরক্ষন, লিপিবদ্ধকরণ,  বিশ্লেষণ সহ নানা প্রকার কাজ করা যাই সে সকল প্রযুক্তিকে ইনফরমেশন টেকনোলজি বলে। উদাহরন - মোবাইল, ক্যালকুলেটর, কম্পিউটার ইত্যাদি।



Communication Technology কি বা কাকে বলেঃ

Communication শব্দের অর্থ যোগাযোগ এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। সুতারং যে সকল প্রযুক্তি বা কলাকৌশল বা পদ্ধতি বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে যোগাযোগ স্থাপন করা যায় তাকে কমিউনিকেশন টেকনোলজি বা যোগাযোগ প্রযুক্তি বলে। উদাহরন - বাস, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি।

সুতারং, যে সকল প্রযুক্তি, কৌশল, পদ্ধতি , যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে একই সাথে তথ্য আদান প্রদান, সংরক্ষন, বিশ্লেষণ ও যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, সে সকল যন্ত্র, পদ্ধতি বা প্রযুক্তি কে আইসিটি বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বলে। উদাহরন - মোবাইল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ইত্যাদি।



ICT যন্ত্র বা প্রযুক্তি চিহ্নিত করণঃ

বাস- এটি শুধুমাত্র যোগাযোগ স্থাপন করে কিন্তু কোন তথ্য সংরক্ষন ও বিশ্লেষণ করতে পারে না তাই এটি ICT যন্ত্র নয়।
কম্পিউটার- এটি একি সাথে তথ্য সংরক্ষন, বিশ্লেষণ  ও যোগাযোগ স্থাপন করে তাই এটি ICT যন্ত্র।
মোবাইল- এটিও তথ্য বিশ্লেষণ  ও যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে তাই এটি ICT যন্ত্র।
ক্যালকুলেটর- এটি তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারলেও যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে না তাই এটি ICT যন্ত্র নয়।



ICT বা আইসিটি ডিভাইস বা যন্ত্র চেনার উপায়ঃ

যদি কোন যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ বা পদ্ধতি তথ্য সংরক্ষন, বিশ্লেষণ, লিপিবদ্ধ করণ সহ যোগাযোগ স্থাপনের কাজে ব্যবহার যায় করা যায় তবে তা ICT বা আইসিটি যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ। কিছু আইসিটি ও আইসিটি যন্ত্রাংশ যেমন- ওয়েব ক্যামেরা, কম্পিউটার, মোবাইল, ইন্টারনেট, মেমরি ইত্যাদি।



ICT এর গুরুত্ব সংক্ষিপ্ত আকারেঃ

বর্তমান আধুনিক বিশ্বে ICT যন্ত্র বা যন্ত্রাংশের ভূমিকা ব্যপক। আইসিটি ছাড়া বর্তমান বিশ্ব কল্পনা করা অসম্ভব। ICT এর কল্যানে বিশ্বের এক প্রান্তের মানুষ নিমেষেই অন্য প্রান্তের লোকের সাথে তথ্য আদান প্রদান ও যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছে। জন্ম নিয়েছে এক নতুন পৃথিবী। উৎপত্তি ঘটেছে গ্লোবাল ভিলেজের (Global Village)। ঘরে বসে অফিসের কাজ, বিশ্বের এক প্রান্তে বসে অপার প্রান্তের কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ এক মাত্র আইসিটির কল্যানেই সম্ভব হয়েছে। আধুনিক বিশ্ব যেন  আইসিটি ছাড়া কল্পনা করা অসম্ভব।



আজ এপর্যন্তই, আইসিটিতে ভালো ফল করার জন্য আইসিটির উপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। উপরের আলোচনায় আশা করি সকলে আইসিটি বা ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলোজি সম্পর্কে সকলে বুঝতে পেরেছি। সকলের শুভকামনা করে আজ বিদায়--

কে মাহমুদ

১৫-১০-২০২০

মঙ্গলবার

ছুটির দিনে পড়াশোনা

"ছুটির দিনে মামার দেশে
আম কুড়াতে সুখ,
পাকা জামের শাখাই বসে
রঙ্গিন করি মুখ।"

কবিতার ছন্দ যেন মন কে দোলা দেয়, "আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।"


ছুটি মানেই আনন্দ, বন্ধের দিন মানেই লাগামহীন ছুটে চলা। হোক সেটা বাস্তবে অথবা কল্পনায়।




ছুটি বা বন্ধে লেখাপড়ার কৌশল


বন্ধে লেখা পড়া মানে তাল গাছ থেকে পড়া! তাই প্রয়োজন বাড়তি এক কৌশল। করোনা সহ নানা রকম দূর্যোগে ব্যপারটি আরো জটিল। আজকের আলোচনা এ সকল কৌশল নিয়ে।



ছুটিতে লেখাপড়া, করোনার বন্ধে পড়াশোনা, অনলাইনে পড়ালেখা
ছুটির দিনের পড়াশোনা


আধুনিক এই সমাজের সাথে আগেকার অনেক তফাৎ । তখন ছুটি মানে ছিল গোল্লাছুট, মারবেল আর কানামাছি খেলা। মামার বাড়ি, দাদার বাড়ি আর বন-কাঠালে আড্ডা দেওয়া, আর বন বনানির কোলে বসে নানারকম ফল-ফলালির স্বাদ নেওয়া। এটা বলছি মোবাইল ফোন আসার আগেকার কথা। আধুনিক সমাজ  মোবাইল বদলে দিয়েছে এমন ভাবে যেন কয়েক প্রজন্ম ডিঙিয়ে আজকের এই আধুনিক সমাজ। এখন কেও আর আমকুড়াতে সুখ পায় না, না পায় মামার বাড়ি গিয়ে। পেলেও আগেকার মত নয়। এখন যত সুখ মোবাইল, কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের বিশাল দুনিয়াই। এই যুগে শিক্ষা ব্যবস্থা শুধু কোন এক গ্রামের কোন এক বিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষা ব্যবস্থা আজ দুনিয়া জোড়া। এটি বিশাল এক বিশ্বগ্রাম, গ্লোবালাইজেশনের ফল। কম্পিটিশন যেন তুঙ্গে।  এখন আর ছুটির দিনে বসে থাকলে চলে না। আনন্দের পাশা পাশি জ্ঞানার্জনে সকলে আজ ব্যস্ত। ব্যপারটি কেমন জানি সিস্টেমেটিক্যাল।



ছুটি মানেই গা ছেড়ে পড়ে থাকা এটা একেবারেই নয়। তাহলে আধুনিক কম্পিটিশনের যুগে পিছিয়ে পড়বে কুড়ে আর আনন্দে গা ভাসানো ছাত্র-ছাত্রী'রা। কিন্তু মন তো আর সিস্টেমে থাকতে চাই না, ছুটি মানে যে আনন্দ। তাই ছুটির দিনে আমাদের আনন্দের সাথে তাল মিলিয়ে কিভাবে পড়াশোনা করা যাই তার একটা পরিকল্পনা আবশ্যক।



পরিকল্পনা তো অনেক ভাবেই করা যাই। তবে ছুটির দিনে পড়াশোনার পরিকল্পনা এমন হওয়া চাই যেন আনন্দের মাধ্যমেই তা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।



তাহলে শুরু করা যাক আমাদের পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা।


  • ১. ছুটির দিনে পড়ার প্রস্তুতি হিসাবে আমাদের প্রথম কাজ মোবাইলে পাঠ্য বই সহ নানারকম বই অনলাইন, বা বন্ধু-বান্ধবী বা শিক্ষকদের নিকট থেকে নিয়ে নেওয়া। ডিজিটাল বই নানা প্রকারে থাকতে পারে সেটা পিডিএফ বা এপলিকেশন যেকোন ভাবে। গুগোল মামাকে চার্চ দিলে এসকল বই অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা যেতে পারে। তাছাড়া নানারকম শিক্ষামূলক ওয়েব সাইটেও বই পাওয়া যাই। আমরা ইচ্ছা করলে https://1timeschool.com এই ওয়েবসাইট থেকে বই ডাউনলোড করে নিতে পারি। মোবাইল প্লেস্টোরেও এগুলো পাওয়া যাই।

  • ২. নানারকম গেম রয়েছে যা শিক্ষা মূলক।  মোবাইলের play store থেকে আমরা এ সকল গেম নামিয়ে নিতে পারি। এছাড়া যারা কম্পিউটার ব্যবহার করি তারা গুগলে সার্চ দিলে অসংখ্য শিক্ষামূলক ফ্রি গেম ডাউনলোড করতে পারব। letter game, word game এমন শিক্ষামূলক শব্দ টাইপ করে সার্চ করলে অনেক অনেক শিক্ষা গেম প্লে স্টোরে পাওয়া যাবে, যা সম্পূর্ণ ফ্রিতে ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে। খোজ নিলে অনেক বন্ধুর কাছেও এমন গেম পাওয়া যাই।

  • ৩. ইন্টারনেট বিশ্বকে করেছে একটি পাঠশালা। এর কল্যানে এখন ঘরে বসেই নানা তথ্য জানা যায়। মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে আমরা অনলাইনে নানা রকম শিক্ষা সাইট থেকে আনন্দের সাথে সাথে শিক্ষাও গ্রহন করতে পারি। বিশ্ব জ্ঞান কোষ http://bn.wikipedia.org  বা  https://1timeschool.com এর মত অসংখ্য সাইট রয়েছে যা পড়াশোনার পাশাপাশি নানা রকম তথ্য দিয়ে থাকে। ইন্টারনেট যেন এক বিশ্ব জ্ঞান ভান্ডার। গুগলে কিছু জানতে চাইলেও এমন অসংখ্য সাইট পাওয়া যাবে। যেমন গুগলে গিয়ে, " সহজ পদ্ধতিতে ন্যারেশন" লিখে সার্চ দিলে ন্যারেশন শিখার পদ্ধতি নিয়ে হাজির হবে অসংখ্য সাইট।

  • ৪. গল্প আর উপন্যাসের বই পড়তে যেন এক অন্য রকম মজা। সকলের বাড়িতেই এসকল বই রয়েছে। যখন মন চাই শুরু করুন বই পড়া, সেটা হোক পাঠ্যবই বা গল্প-উপন্যাস। যা ইচ্ছা পড়ুন তাতেই কাজ হবে।

  • ৫. আমরা ছুটির দিনি গুলোতে কবিতা, উপন্যাস সহ নানারকম গল্প লিখার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি, এগুলো মিস্তিষ্কের অচল অংশ সচল করে তোলে। মন ভালো রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিশোর বয়সেই আনন্দ করতে করতে লিখে ফেললেন, " আয় তবে সহচরী, হাতে হাতে ধরি ধরি, নাচিবো ঘুরি ঘুরি, গাহিব গান।" কি মজা তাই না। সৃষ্টি করুন আর আনন্দ করুন।

  • ৬. প্রতিদিন কমপক্ষে এক বার হলেও চ্যটিং ম্যাসেজিং বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময় পড়ার কথা তুলুন। আপনি পড়ছেন না একথা বললেও পড়া নিয়ে বলা হয়, সমস্যা নেই। দেখবেন এর মাধ্যমে পড়ার আগ্রহ তৈরী হবে।

  • ৭. সংবাদ পত্র পড়া অনেকেরি অভ্যাস আছে, এটি খুব ভালো অভ্যাস। পত্রিকায় নানা তথ্য পাওয়া যায়। ইটস এ স্টোর হাউজ অব নলেজ। এতে শিক্ষা পাতায় নানা রকম তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া ইন্টেরনেটেও অনেক সংবাদ পত্র সাইট রয়েছে, https://prothomalo.com, https://kalerkantho.com, https://www.dailynayadiganta.com সাইটগুলো অনলাইন সংবাদ পত্রের মধ্যে অন্যতম।


  • ৮. দিন বা রাতে যে কোন নির্দৃষ্ট সময় বেছে নিন। সেটা এক বা দুই সময়ো হতে পারে। পাঠ্য বই এ সময় পড়া যেতে পারে। আর পড়ার চর্চা টি ধরে রাখার জন্যেও সময় নির্বাচন করা খুবি জরুরী।

  • ৯. ছুটির দিনে বেড়াতে যাওয়া যেতে পারে।  এটাও কিন্তু এক ধরনের পড়া। এর নাম প্রাকৃতি থেকে পড়া। ভ্রমনের ফলে আমাদের মন চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন হয়।

  • ১০. মজার মজার রান্না করতে চেষ্টা করুন। হাস-মূরগী পালন করুন, বাগান গড়ে তুলুন। প্রতিটি বিষয়ের হিসাব রাখুন এবং এগুলো করে কিকি অভিজ্ঞতা হল তা লিখে রাখুন। যেমন মুরগি দিনে কয়টি ডিম দিয়েছে, বাগানের গোলাপ গাছটি ৫ দিনে কত সে.মি বেড়ে উঠেছে ইত্যাদি। এছাড়া না না রকম হাতের কাজ করুন, এই সময়ে কম্পিউটারে এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল, একসিস, পাওয়ার পয়েনট সহ নানা রকম প্রগ্রামিং এর কাজ শিখুন। যা মজার পাশাপাশি জ্ঞানার্জনে সহযোগীতা করবে। প্রতিদিন ডায়েরী লেখার অভ্যাস করুন।


ছুটির দিনে বাড়িতে আরো অসংখ্য ভাবে পড়া যেতে পারে। এগুলো যার যার কোয়ালিটি আর বুদ্ধির উপর নির্ভরশীল।  আপনি শুরু করুন। সেটা ভুল দিয়ে হলেও। কারন যে শুরু করে সে শেষ করে, কিন্তু যে শুরু করে না সে কখনো-ই শেষ করতে পারে না।



যার যার অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগানোর উপযুক্ত সময় ছুটির দিন গুলো। বর্তমান যুগ কম্পিটিশনের যুগ। আর বিশ্ব আজ একক পাঠশালা। নিজের মত করে আনন্দ করুন আর বিশ্ব থেকে জ্ঞান নিন। পড়ুন, আনন্দের সাথে, আনন্দের মাধ্যমে। এগুলো আপনাকে বাস্তব জীবনে প্রথম না করুক অন্তত লাস্ট বেঞ্চের বাসিন্দা করবেনা!





কে-মাহমুদ
৫-৫-২০২০