ভালো ফল করার কৌশল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভালো ফল করার কৌশল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার

ভালো ছাত্র হওয়ার উপায় - ১০০% কার্যকর!

একজন ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় - ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার কৌশল


এখানে যা থাকছে---

  • ভালো ছাত্র হওয়ার উপায়
  • ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার কৌশল
  • কিভাবে ভালো ছাত্র হওয়া যাবে
  • মেধাবী হওয় উপায়
  • একজন ভালো ছাত্রের বৈশিষ্ট্য
  • ভালো ছাত্র হওয়ার সহজ উপায়

ভালো ছাত্র হওয়ার উপায়, ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার কৌশল, কিভাবে ভালো ছাত্র হওয়া যাবে, মেধাবী হওয় উপায়, একজন ভালো ছাত্রের বৈশিষ্ট্য, ভালো ছাত্র
ভালো ছাত্র হওয়ার উপায়

ভালো হতে কে না চায়! কিন্তু, ভালো বললেই তো আর, ভালো হওয়া যাই না। ভালো না হওয়ার সমস্যা নিয়ে আমরা কমবেশি সকলেই হয়ত কখনো না কখনো মহা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। কারো ছেলে মেধাবী নয়, কারোবা মেয়ে। কেও তার সন্তানকে নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন, কেও বা নিজেকে নিয়েই টেনশন করছেন। আমাদের সকলের মনে একটায় প্রশ্ন, আসলে ভালো ছাত্র কিভাবে হওয়া যায়? আমাদের আজকের আলোচনা ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার উপায় বা ভালো ছাত্র হওয়ার কৌশল নিয়ে। আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনি নিশ্চিত থাকুন, ভালো ছাত্র হওয়ার কৌশল, খুব সহজে আয়ত্ত করতে পারবেন।


আমাদের উৎসাহ দিয়ে এমন সব আর্টিকেল, সবার আগে পেতে, নিচে সাবস্ক্রাইব বাটনে এখনি ক্লিক করুন। আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করবেন, বেল বাটনে ক্লিক করতে ভুলবেননা ফেসবুক পেজে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথেই থাকুন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।


এই লেখাটি ভিডিও আকারে দেখতে ভিডিও আইকনে ক্লিক করুন>>>
ভালো ছাত্র হওয়ার উপায় - ভিডিও

ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার প্রতিযোগিতা প্রবল হয় যখন নিজের ভাই বা বোন নিজের থেকে বেশি মেধাবী হয়ে ওঠে। নিজের সন্তান যখন পাশের বাড়ির ভাবির ছেলের চেয়ে কম মেধাবী হয়ে ওঠে, তখন সমস্যাটা আরো প্রখর হয়ে দেখা দেয়। ভালো শিক্ষার্থী হওয়া কঠিন কিছু নয়, কিছু নিয়ম বা ট্রিক্সের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই ভালো ছাত্র হয়ে উঠতে পারি। তাহলে চলুন আমরা মেধাবী হওয়ার সূত্র শিখি।


  • এবার আসুন প্রথম কাজে। ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার প্রথম কাজ হল পজেটিভ চিন্তা গ্রহণ করা। কিছুটা চেষ্টা করলে আপনি যে ভালো শিক্ষার্থী অবশ্যই হতে পারবেন এটা নিজের মনে গেথে তুলতে হবে। আপনার সন্তানকে উৎসাহ দিন, তাকে বলুন যে ভালো শিক্ষার্থী মানে এক রোল করা নয় বরং ভালো ছাত্র মানে মানসম্পন্ন ফলাফল করা। বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলা, আচার ব্যবহারে মার্জিত হওয়া। সুতারং সে অল্প চেষ্টা করলেই পারবে, সন্তানের মনে ধীরে ধীরে এমন ধারনা জন্মাতে সাহায্য করুন যে সেও ভালো সেও পারে শুধু আরেকটু চেষ্টা করলেই হয়ে যাবে। মনেরাখবেন নেগেটিভ ধারনা আমাদের পিছিয়ে দেয়। সুতরাং , তাকে বকা ঝকা নয় বরং পজেটিভ ভাবে উৎসাহ দিন।


  • এবার আসুন দ্বিতীয় কাজে। নিজের কাজের সাথে সময়ের সমন্বয় করুন। খাতা কলম নিয়ে একটা রুটিন তৈরী করে ফেলুন। কয়টার দিকে আপনি খেলবেন, কয়টার দিকে আপনি পড়বেন, কয়টার দিকে আপনি গোসল করবেন তার সাপ্তাহিক একটা লিস্ট তৈরি করে ফেলুন। মোবাইলে গেম খেলা খারাপ কিছু নয় কিন্তু সেটা পরিমিত মাত্রায়, শুধু খেলার সময়ে কিন্তু পড়া বা অন্য সময়ে নয়। খেলার সময়ে ছাড়া অন্য সময়ে বাড়িতে মোবাইল ব্যবহার করা বন্ধ করুন। মনেরাখবেন আপনি ভালো শিক্ষার্থি হতে চাচ্ছেন, তাই কষ্ট হলেও এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আপনার সন্তান সবসময় মোবাইল ব্যবহার করে এটা বন্ধ করানো কিন্তু শিক্ষকের দ্বায়িত্ত নয়, এটা আপনার দ্বায়িত্ত। একটা সময় নির্ধারণ করুন যখন সে গেম খেলতে বা ভিডিও দেখতে পারবে। পড়ার খাওয়ার বা অন্য সময়ে নয়। আজি রুটিন তৈরি করুন এবং সেই মত চলতে থাকুন। সন্তানকে রুটিন মাফিক চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করুন। তাহলে আপনি বা আপনার সন্তান ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন করে ফেলবেন।


  • নেগেটিভ ধারনার পরিবর্তে পজেটিভ ধারনার মাধ্যমে শিখতে চেষ্টা করুন। এটি আপনার তৃতীয় ধাপ। আমি বেশি পারি না এটা না বলে বলুন যে, আপনি চেষ্টা করলে বেশি পারবেন। আপনার সন্তান পড়েনা এটা না বলে বলুন যে আমার সন্তান ভালো পড়ে, আরেকটু চেষ্টা করে এবং পারবে। না শব্দটা খাতা থেকে আজি বাদ দিন। অন্যের সামনে সন্তানকে শুনিয়ে সন্তানের প্রশংশা করুন। আপনার সন্তানের সামনে আপনার বন্ধুকে বলুন যে আমার ছেলে অনেক রাত পর্যন্ত পড়ে, রাত ১২ টা পর্যন্ত পড়ার অভ্যাস করছে, আপনার ছেলের কি খবর? এভাবে সন্তান কে কিছু বুঝতে না দিয়ে অন্যকে বলে তাকে উৎসাহ দিন। সন্তানের সামনে বেশিবেশি তার প্রশংশা করুন। আর নিজের বেলায় নিজের মনকে এটা বোঝান যে এটা কঠিন কিছু নয়, অন্যরা পারে, আমিও পারব। লেগে থাকলে সফলতা আসবেই।


  • এবার আসুন চতুর্থ কাজে। সন্তানকে একটি নিরিবিলি পরিবেশ দিন। তার পড়ার রুমে যেন টেলিভিশনের আওয়াজ না যায় সে দিকে খেয়াল রাখুন। পড়ায় মন রাখতে বা পড়া দ্রুত মুখস্থ করতে মনোযোগী হওয়ার বিকল্প নেই। তাই পড়ার রুম এমন জায়গায় রাখুন যেন সেখানে শব্দ না যায়। আর হ্যা অবশ্যই টেবিলে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিছানায় পড়লে পড়ায় ১০০% মনোযোগ দেওয়া যায় না। বিছানায় পড়লে দ্রুত ঘুম আসে। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে পড়া মনে থাকে না।


  • লক্ষ্য স্থির করা আপনার পরবর্তী কাজ। এটি আপনার পঞ্চম কাজ। আপনি ভবিষ্যতে কি হতে চান? কোন জিনিস শিখতে আপিনি বেশি উৎসাহ বোধ করেন বা দ্রুত শিখে যান, আপনি সে দিকে মনোনিবেশ করুন। সকল পথেই বড় হওয়া যায়। আপনার পথটিও ভালো সেটি অনুধাবন করতে চেষ্টা করুন। কিছুই কঠিন নয়, আপনার মেধাও খারাপ নয়, আপনাকে শেখানো হয় নি বা আপনি শুরু থেকে সেই জিনিসটা শেখেন নি বলেয় পিছিয়ে পড়েছেন। আপনার ব্রেন ঠিক আপনার বন্ধুর মতই আছে। যে জিনিসটা ভালো লাগে ভবিষ্যতে সেটা হওয়ার পরিকল্পনা করুন। সে ভাবে চলতে চেষ্টা করুন। রুটিন মাফিক চলুন। সফলতা আসবেই।


  • আপনার ষষ্ঠ কাজ, প্রশ্ন করতে শেখা। আপনি প্রশ্ন করুন নিশ্চিত উত্তর পেয়ে যাবেন। কেন, কিভাবে এবং কি করে। প্রতিটি বিষয়ে এই প্রশ্ন করতে শিখুন। এ প্লাস বি হোল স্কয়ার সমান কেন, এ স্কয়ার প্লাস টু এবি প্লাস বিস্কয়ার হল। এমন প্রশ্ন মনে আনুন। শিক্ষক কে প্রশ্ন করুন, যে বোঝাতে পারে তাকেই প্রশ্ন করুন, কাওকে না পেলে মনে মনে প্রশ্ন করুন। উত্তর না পেলে বন্ধুদের কাছ থেকে সমাধান খুজুন, ইন্টারনেটে সমাধান খুজুন। সমাধান হোক বা না হোক প্রশ্ন করতে শিখুন। কিছু জানতে চাওয়া বা না জানা লজ্জার নয়, না জানা লজ্জার নয় বরং না বুঝে চুপ থাকা লজ্জার। আর প্রশ্ন করা গর্বের। মেধাবীরা প্রশ্ন করে। আপনিও প্রশ্ন করতে থাকুন। আপনি প্রশ্ন করতে শিখলে আপিনি ৬০% ভালো শিক্ষার্থী হয়ে উঠবেন।


  • ভালো শ্রতা হোন। এটি আপনার সপ্তম কাজ। শিক্ষক যখন শেখায় বা আলোচনা করে তখন জানা জিনিষ হলেও মনযোগ সহকারে শুনতে থাকুন। হয়ত অনেক না জানা জিনিসো জেনে যাবেন। মাঝে মাঝে বুঝতে অসুবিধা হলে তখনি প্রশ্ন না করে লিখে রাখুন, শোনা হয়ে গেলে প্রশ্ন করুন। আপনি ভালো শ্রতা মানে আপনি শিখতে আগ্রহী, শিক্ষকরা আগ্রহী শিক্ষার্থীদের শিখিয়ে মজা পায়, ফলে আপনি বেশি বেশি শিখতে শুরু করবেন।


  • আপনার অষ্টম কাজ হল কৌশলী হওয়া। আপনার সকালে নাকি বিকালে নাকি রাতে, কখন পড়তে বেশি ভালো লাগে, সেই সময় নির্ধারণ করুন। অনেকে সন্ধ্যায় ঘুম দিয়ে আটটা নয়টা থেকে অনেক রাত পর্যন্ত পড়ে। এটা যার যার অভ্যাস। খুব ভোর সকালে আজান দেওয়ার আগে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করুন। নামাজ পড়ে পড়তে শুরু করুন। এছাড়া শেখার কিছু টেকনিক বা কৌশল গ্রহণ করুন। যেমন বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরন করেন এটা মনে রাখতে সমস্যা হলে এভাবে মনে করুন যে, মুক্তি যুদ্ধের ৪ বছর পর বঙ্গবন্ধু মৃত্যুবরন করেন। অর্থাৎ ঊনিশশত একাত্তর যোগ চার সমান ঊনিশশত পঁচাত্তর (১৯৭১+৪=১৯৭৫)। কৌশলী হোন। আপনি নিশ্চিত ভালো শিক্ষার্থী হয়ে উঠবেন।


  • পড়ার বাইরে শিখতে চেষ্টা করুন। এটা আপনার নবম কাজ। নিয়মিত সাধারণ জ্ঞানের বই পড়ুন। ডিসকভারি চ্যানেলে এডভেঞ্চার সিরিজ দেখুন। ভালো লেখকদের বই পড়ুন। সপ্তাহে একটি দিন এজন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে। এটিই আপনার নবম কাজ।


  • আপনার দশম বা সর্বশেষ কাজ হল নিজেকে কর্ম ব্যস্ত রাখা। বাড়ির আশেপাশে ফুল বা ফলের বাগান গড়ে তুলুন। নিয়মিত তার পরিচর্যা করুন। শব্জি বাগানো গড়ে তোলা যেতে পারে। এছাড়া ইন্টারনেটেও কাজ করতে পারেন। এ জন্য ব্লগ সাইট বা ইউটিউবে ভিডিও চ্যানেল গড়ে তুলতে পারেন বা আপনার সন্তানকে গড়ে তুলতে সহযোগীতা করুন।


আপনি সবগুলো কাজ সঠিক ভাবে করার মাধ্যমে নিজেকে অবশ্যই ভালো ছাত্র বা নিজেকে ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। খুব সহজ তাইনা, শুধু লেখাটি মনে রাখলেই হবে না কিন্তু। কাজে করে দেখাতে হবে। নিজে করুন অথবা আপনার সন্তানকে করতে উৎসাহ দিন। আপনি নিশ্চিত ভালো শিক্ষার্থি হয়ে উঠবেন।


এতক্ষন ধরে আমাদের লেখা মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আমাদের সাইটে সাবস্ক্রাইব করে অবশ্যই সাথে থাকবেন। আমরা এরকম আরো লেখা আপনাদের উপহার দেব। লেখাটি কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।


শিক্ষা মূলক তথ্য পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে ঘুরে আসতে পারেন। আমাদের ফেসবুক পেজের ঠিকানা https://www.facebook.com/1timeschool.bd আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Ghas Full - ঘাস ফুল। ইউ টিউব চ্যানেলের ঠিকানা https://youtube.com/@ghasfull আমাদের সাথেই থাকুন।





পরীক্ষায় ভালো করার উপায়
ভালো ছাত্র হওয়ার উপায়
একজন ভাল ছাত্র হওয়ার উপায়
সাফল্য অর্জনের উপায়
সফলতা অর্জন
মেধাবী হওয়ার উপায়
বুদ্ধিমান হওয়ার উপায়
নিজেকে বদলাবেন যেভাবে
কীভাবে বদলাবেন নিজেকে
মেধাবী হওয়ার উপায়
ক্লাসে ১ম হওয়ার উপায়
এইচএসসিতে ভালো করার উপায়
student habits for success
how to change your habit
study tips
study motivation
student habit
student motivation
bangla study tips
how to change your life
How to Become a good student?
How to Become a Topper?
Ways to be a good student
The way you plan to be a good student
Quantum method
meditation
bangla motivation
student life

#goodstudent
#motivation
#topper
#brilliant

সোমবার

জিডি করার নিয়ম -বিস্তারিত

জিডি করার সঠিক নিয়ম


  • জিডি করার নিয়ম ও উপকারিতা 
  • অনলাইনে জিডি করার নিয়ম 
  • সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয় 
  • জিডি খরচ ও ফর্ম পূরণের নিয়ম

জিডি করার নিয়ম, অনলাইনে জিডি করার নিয়ম, সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয়, জিডি খরচ, ফর্ম পূরণের নিয়ম ও উপকারিতা
জিডি করার নিয়ম


জেনারেল ডায়েরি (General Dairy) এর সংক্ষিপ্ত রূপ জিডি (GD)। সাধারন্ত সরাসরি মামলা যোগ্য নয় বা আমল যোগ্য নয় এমন কোন মামলার জন্যে পুলিশ স্টেশন (polish station) বা থানায় প্রাথমিক ভাবে যে সাধারণ ডায়েরি করা হয় তাকে জিডি বলে।



অনলাইন জিডি কিঃ

ডিজিটাল ব্যবস্থার উন্নতির ফলে অনলাইন ভিত্তিক প্লাটফর্ম বেশ জনপ্রিয় ও সহজ হয়ে উঠেছে। জনগনের সুবিধার দিক বিবেচনা করে কিছু কিছু থানায়, থানার নিজস্ব ওয়েবসাইটে অনলাইন ভিত্তিক জিডি করার সুবিধা দিয়েছে। অনলাইন ভিত্তিক জিডি করার সুবিধাকে অনলাইন জিডি বা অনলাইনে জিডি বলে।



জিডি ফর্ম এর নমুনা ছক ও পূরণের নিয়মঃ

জিডি সাধারন্ত নির্দিষ্ট ফরমেটে কিছু বিশেষ তথ্য সহ পুরন করতে হয়। জিডি ফর্ম প্রতিটি থানাতে পাওয়া যায়। এটি বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। থানায় যেয়ে জিডি ফর্ম চাইলেই জিডি ফর্ম পাওয়া যাবে এমন কি থানায় জিডি করার জন্য দ্বায়িত্তে থাকা কোন পুলিশ জিডি ফর্ম পূরণ করতে সাহায্য করবে। এসকল কোন কাজ তথা ফর্ম প্রাপ্তি এবং পূরণের জন্য কোন প্রকার ফি লাগবে না। নিম্নে জিডি ফর্মের একটি নমুনা ছক তুলে ধরা হল-

জিডি(GD) এর নমুনা ছক
তারিখঃ ০৯-১১-২০২০
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা,
সাভার থানা, সাভার, ঢাকা।

বিষয়ঃ সাধারণ ডায়েরি করণের (জিডি) জন্য আবেদন পত্র।

জনাব,
যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী,

নামঃ -------কে-মাহমুদ---------
বয়সঃ ------১৮-----------------
পিতা/স্বামীঃ --এ.বি.সিদ্দিক--
মাতাঃ----মিসেস এ.বি.সিদ্দিক----
ঠিকানাঃ---এডভান্স টিচিং সেন্টার, সাভার থানা, সাভার, ঢাকা।

এই মর্মে জানাচ্ছি যে, আজ/গত ----০১-১১-২০২০----- ইং তারিখ,---- বিকাল ৩টার------ সময়, ----সাভার বাসস্ট্যান্ড, সাভার, ঢাকা------ থেকে আমার নিম্নোক্ত কাগজাদি/মালামাল হারিয়ে গেছে।

হারিয়ে যাওয়া কাগজাদি/মালামালের বিবরণ ও সংখ্যা-

১. এস.এস.সি সার্টিফিকেট,
রেজিঃ নং- ১০০৩৪৫৬৭, রোল নং- ১১১১২২, বোর্ড- ঢাকা, পাশের সন- ২০১৭------- সংখ্যা-১টি।
২.---------------------------
৩.---------------------------

বিষয়টি থানায় অবগতির জন্য সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) অন্তর্ভুক্ত করার বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।

বিনীত নিবেদক,

কে-মাহমুদ
(আবেদনকারীর স্বাক্ষর)
পূর্ণ নামঃ মোহাম্মাদ কে-মাহমুদ
স্থায়ী ঠিকানাঃ কে.বাড়ীয়া, সাভার থানা, সাভার, ঢাকা।
মোবাইল নংঃ ০১৩০৩৬২১৫২২


অনলাইনে জিডি করার নিয়মঃ

ডিজিটালাইজেশনের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের কিছু কিছু থানায় জিডির অনলাইন সার্ভিস চালু হয়েছে, ইন্ডিয়া তেও একি রকম ব্যবস্থা রয়েছে। তবে মিথ্যা ও নানারকম প্রতারণাময় কর্মকান্ডের ফলে অনলাইন সার্ভিস মাঝে মাঝে বন্ধ থাকে। পরীক্ষা মুলক ভাবে এই কার্য্যক্রম মাঝে মাঝে অব্যাহত থাকে এবং আশা করা যাচ্ছে অনলাইন সার্ভিস খুব দ্রুত সম্প্রসারন ও নিয়মিত হবে।


অনলাইনে জিডি ফর্ম পূরণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন সার্ভিস ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়েব সাইটে "সিটিজেন হেল্প রিকয়েস্ট" অপশনে পাওয়া যাবে। এই অপশন থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করে সাবমিট করলে জিডি করা হয়ে যাবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েব সাইটে যেয়ে "মেইল(E-mail)" অপশনে ক্লিক করে সকল প্রকার তথ্য দিয়ে মেইল করলেও আপনার আবেদন গ্রহণ হবে এবং পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আপনার সাথে প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারে। বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন



জিডি ফর্ম পূরণ করার পর করণীয়ঃ

থানায় যেয়ে হোক বা অনলাইনেই হোক জিডি ফর্ম পূরণ করার পর একটি জিডি নম্বর পাওয়া যাবে যা অতি যত্ম সহকারে সংরক্ষণ করতে হবে। থানায় যেয়ে ফর্ম পূরণ করলে একি তথ্য দ্বারা ২ কপি ফর্ম পূরণ করতে হবে এক কপি থানায় জমা করে রাখতে হবে এবং অন্য কপি ভারপ্রাপ্ত অফিসারের স্বাক্ষর ও জিডি নং যুক্ত করে নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে। অনলাইনে ফর্ম পূরণ করলে অবশ্যই প্রিন্ট কপি বের করে রাখতে হবে এবং জিডি নম্বর সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। এই নম্বর সম্বলিত ও স্বাক্ষর সম্বলিত কপিই পরবর্তীতে আইনি কাজে বা যে কোন প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হবে।



সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয়ঃ

সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে- 

  • প্রথম কাজ থানায় যেয়ে একটি জিডি করা।
  • অফিসারের স্বাক্ষর ও জিডি নম্বর সম্বলিত এক কপি পূরণ করা জিডি ফর্ম নিজের কাছে রাখা।
  • পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞাপন দেওয়া (অনেক সময় বিজ্ঞাপন না দিলেও চলে)। 
  • জিডি কপি ও যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে সেই পত্রিকা সহ নিজ বিদ্যালয় বা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানের সাথে যোগাযোগ করা।
  • এর পর কাজ হল, জিডি কপি, বিজ্ঞপ্তি সহ পত্রিকা সহ নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডে যাওয়া এবং বোর্ড থেকে দেওয়া নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে নির্দিষ্ট ফি প্রদানপূর্বক নতুন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা ও শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষর সম্বলিত রিসিট (ফর্ম পূরণ ও টাকা দেওয়ার প্রমাণ) সংগ্রহ করা। 
  • বোর্ড সার্টিফিকেট দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ বলে দেবে। সম্ভাব্য তারিখের পর যেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে রিসিট দেখিয়ে যে কোন অফিস ডে তে, অফিস সময়ে নতুন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা যাবে।



জিডি কোন থানায় করা উচিৎঃ

জিডি যে কোন থানায় করা যেতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো নিজ এলাকার নিজ থানায় জিডি করা। কারন অন্য থানায় জিডি করলে প্রশাসনিক সহায়তা পেতে ঝামেলা হয়। তাই সবচেয়ে ভালো হচ্ছে নিজের থানাতে বা যে থানাতে থাকা হয় সেই থানাতে গিয়ে জিডি করা।



জিডি কখন এবং কেন করা উচিৎঃ

নিজের বা পরিবারের নিরাপত্তা পেতে বা কোন আইনি সহায়তা পেতে লোকে জিডি করে। পরিবারের প্রতি বা নিজের প্রতি কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ দ্বারা হুমকি বা অপরাধ মূলক ক্ষতির আশংকা থাকলে জিডি করা উচিৎ। এছাড়া সার্টিফিকেট, রেজাল্ট শিট, প্রশংসা পত্র বা অন্যকোন প্রয়োজনীয় কাগজাদি হারিয়ে গেলে, দলিল বা চেক বই হারিয়ে গেলে বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজাদি হারিয়ে গেলে লোকে জিডি করে। 


কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সমাজে অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে বা মাদকসেবী কেও সমাজের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে পারে বা করছে এমন তথ্য জানিয়ে যে কেও জিডি করতে পারে। এছাড়া কোন অবৈধ সভা সমাবেশ সম্পর্কিত তথ্য বা বাড়ির কোন ভাড়াটিয়া সম্পর্কিত তথ্য দিয়ে জিডি করা যেতে পারে। বাসা বা বাড়ির দারোয়ান বা বেতন ভুক্ত কোন কর্মচারী বা নৈশপ্রহরি হারিয়ে গেলে বা তার কোন তথ্য দিয়ে জিডি করতে পারে। এছাড়া আরো অনেক কারনে জিডি করা যেতে পারে। সাধারন্ত যে সকল বিষয়ে সরা সরি মামলা করা সম্ভব নয় শুধু সে সকল ক্ষেত্রেই জিডি করা হয়ে থাকে। 


ছাত্র-ছাত্রীদের ইভটিজিং সমস্যা বা কেও ইভটিজং করে বা করতে পারে এমন হুমকির আশংকা থাকলে অবশ্যই জিডি করে রাখা উচিৎ। এছাড়া মোবাইল চুরি গেলে বা কোন সম্পদ কেও নষ্ট করতে পারে এমন আশংকা থাকলে জিডি করা উচিৎ।



জিডি করতে খরচ কতঃ

জিডি করতে কোন প্রকার খরচ নেই। ফর্ম পর্যন্ত ফ্রি এমনকি ফ্রিতে তা দ্বায়িত্তে থাকা পুলিশ পুরোন করতে সহায়তা করবে। তাই জিডি করতে খরচের কোন ঝামেলা বা ভয় নেই।



জিডি কখন গ্রহণ যোগ্যঃ

জিডি করলেই জিডি গ্রহণ যোগ্য নাও হতে পারে। পুলিশ অফিসার জিডির কারন এবং বিবরণ আমল যোগ্য নয় মনে করলে জিডির জন্য তদন্ত নাও করতে পারে বা জিডি আমলে নাও নিতে পারে।



জিডি করণে সাবধানতাঃ

জিডি অবশ্যই সঠিক তথ্য দ্বারা করা উচিৎ। কারন জিডি করার পর অভিযোগ আমল যোগ্য হলে সংশ্লিষ্ট অফিসার তদন্ত করতে পারেন। সুতরাং ভুয়া বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জিডি করলে পরবর্তীতে ফেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কাওকে ঝামেলায় ফেলতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জিডি করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।



জিডি করার উপকারিতা বা গুরুত্বঃ

জিডি একটি প্রমাণ দলিল বা সাক্ষ্য। এটি খুবি গুরুত্বপূর্ণ উপকারি দলিল। এর উপকারিতা অপরিসীম। জিডি করার পর কেও অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে জিডির কপি দেখিয়ে মামলা করা বা আইনী সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। কোন অপরাধের কেও সাক্ষী না থাকলে জিডি করা থাকলে জিডি স্বাক্ষী দলিল হিসাবে কাজ করে। এছাড়া মোবাইল বা কোন দলিলাদি হারিয়ে গেলে আইনী সহায়তা পেতে জিডি অত্যাবশ্যক একটি বিষয়। 


আমরা সাধারন্ত জিডি করতে অনীহা প্রকাশ করি কিন্তু আগে থেকে জিডি করা থাকলে ইভটিজিং বা এমন কোন অপরাধ ঘটার পূর্বেই রোধ করা সম্ভব। নিজের জান ও মালের বা পরিবারের সুরক্ষায় তাই জিডির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।



তাহলে আজ এপর্যন্তই ---


শুভকামনায়---

কে-মাহমুদ

০৯-১১-২০২০

শনিবার

হাতের লেখা সুন্দর করার উপায়

হাতের লেখা ভালো করার সহজ উপায়


  • হাতের লেখা সুন্দর করার সহজ কৌশল 
  • হাতের লেখা স্টাইলিশ করার উপায় 
  • ভালো হাতের লেখার গুরুত্ব
  • হাতের লেখা ঠিক করার সহজ নিয়ম


হাতের লেখা সুন্দর করার উপায়, বাংলা ইংরেজী হাতের লেখা, ভালো আকর্ষণীয় হাতের লেখা
হাতের লেখা



সুন্দর হাতের লেখা সুন্দর মন আর মেধাবী ব্যক্তিত্বের পরিচয়। সকলেই চাই হাতের লেখা সুন্দর করতে। সুন্দর হাতের লেখা শিশু কাল থেকে শুরু করে শৈশব আর কৈশোরে গড়ে তুলতে হয়। শিশু কালে মায়ের হাতেই শুরু হয় হাতের লিখা গড়ে তোলার হাতে খড়ি। পরীক্ষায় ভালো ফলের বা ভালো রেজাল্টের জন্য হাতের লেখা বড় ভূমিকা পালন করে। তাই সকলেরি প্রত্যাশা সুন্দর আর প্রশংসা যোগ্য হাতের লেখার।



হাতের লেখা সুন্দর করার উপায় সমূহঃ

বাংলা বা ইংরেজী, যে কোন হাতের লেখা সুন্দর করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ। হাতের লেখা সুন্দর ও প্রশংসা যোগ্য ও আকর্ষণীয়  করে গড়ে তুলতে নিচের নিয়ম গুলো ধাপে ধাপে মেনে চলুন-



১. অক্ষর বা বর্ণ গুলো সঠিক ভাবে লেখা -

ভালো হাতের লেখার প্রথম শর্ত হল অক্ষর বা বর্ণ স্পষ্ট ও পরিষ্কার এবং সঠিক মাত্রা বা মার্জিনে লেখা। বাংলা স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ সঠিক ভাবে লক্ষ্য করতে হবে। যে সকল বর্ণে মার্জিন বা মাত্রা আছে সে গুলো মার্জিন বা মাত্রা সহ এবং অর্ধ মাত্রা বর্ণ গুলো এবং মাত্রাহীন বর্ণ গুলো মাত্রাহীন ভাবেই লেখার চেষ্টা করতে হবে। বাক্য লিখার সময় যেন একটি বর্ণ বা অক্ষর পাশের বর্ণ বা অক্ষরের সাথে মিশে বা পাশের বর্ণের মাঝে ঢুকে না যায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অন্য দিকে একটি শব্দের পর অন্য শব্দ লেখার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন দূরত্ব ঠিক থাকে। দূরত্ব কম হলে লেখা পড়তে অসুবিধা হবে বা বোঝা যাবে না আবার দূরত্ব বেশি হলে পড়তে অসুবিধা সহ ভালো দেখাবে না। সাধারন্ত দুটি শব্দের মাঝে এক বর্ণ বা অক্ষর পরিমান ফাকা যায়গা রেখে পরের শব্দ লেখা উচিৎ। হাতের লেখা সুন্দর, ভালো আর আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে এগুলি প্রথম শর্ত। নিচের ছবির উদাহরণ গুলো লক্ষ্য করুন- 
হাতের লেখা ভালো করার উপায়, বাংলা ও ইংরেজী হাতের লেখা, সুন্দর আকর্ষণীয় হাতের লেখার গুরুত্ব, হাতের লেখা ঠিক করার সহজ নিয়ম
হাতের লেখা ভালো করার উপায়


২. বর্ণ বা অক্ষরের সাইজ বা আকার আকৃতি ঠিক রাখা -

বর্ণ বা অক্ষরের আকার আকৃতি সুন্দর হাতের লেখা গড়ে তোলার অন্যতম আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। একটি বর্ণ বড় অন্যটি ছোট এমন হলে দেখতে বিশ্রী লাগে। এই সমস্যা সমাধানের একটি উপায় রয়েছে। স্কেল বা রুলার দিয়ে মার্জিন টেনে দুটি মার্জিনের মাঝে লিখতে হবে। বার বার লিখতে হবে এবং ধীরে ধীরে লিখতে হবে। এভাবে কিছুদিন অভ্যাস করলে নিশ্চয় বর্ণ ছোট বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যা দূর হবে। তবে হ্যা, অনেক সময় আকার(া), রশ্বিকার (ি) ইত্যাদি অনেকে ইচ্ছা করেই অক্ষরের থেকে বড় বা ছোট করে লেখে, সেটা কিন্তু কোন সমস্যা নয় বরং সুন্দর বা স্টাইলিশ করার জন্য এমন করা সৌন্দর্যময় বটে। নিচের ছবির উদাহরণ লক্ষ্য করুন- 

হাতের লেখা ভালো করার উপায়, বাংলা ও ইংরেজী হাতের লেখা, সুন্দর আকর্ষণীয় হাতের লেখার গুরুত্ব, হাতের লেখা ঠিক করার সহজ নিয়ম
হাতের লেখা সুন্দর করার উপায়


৩. বর্ণ বা অক্ষরের প্রতিটি রেখা সমন্তরাল রাখতে চেষ্টা করা -

হাতের লেখা সুন্দর করতে একটি বর্ণের রেখা গুলোর সাথে অন্য বর্ণের একই তলে থাকা অন্য বর্ণ গুলোর রেখা গুলো সমান্তরাল রাখতে চেষ্টা করতে হবে। হাতের লেখা আকর্ষণীয় করতে বর্ণের অক্ষর গুলো সমান্তরাল রাখা অতি আবশ্যক। নিচের ছবিতে থাকা উদাহরণ গুলো লক্ষ্য করুন- 
হাতের লেখা ভালো করার উপায়, বাংলা ও ইংরেজী হাতের লেখা, সুন্দর আকর্ষণীয় হাতের লেখার গুরুত্ব, হাতের লেখা ঠিক করার সহজ নিয়ম
হাতের লেখা ভালো করার উপায়


৪. স্টাইলিশ ভাবে লেখার মানষিকতা তৈরি করা-

সুন্দর আর স্টাইলিশ (Stylish) ভাবে লেখার মানষিকতা না থাকলে হাতের লেখা কখনো সুন্দর হয় না। লেখার প্রতি যত্নবান হলে হাতের লেখা সুন্দর হয়ে ওঠে। এক রকম হলেই হলো এমন মানষিকতা রেখে দ্রুত যাচ্ছে না তাই ভাবে লেখলে হাতের লেখা কখনোই সুন্দর হয় না। এছাড়া অন্যের ভালো কোন হাতের লেখা অনুসরণ করে অন্যের মত করে লেখলেও হাতের লেখা ভালো হয়ে ওঠে। তবে যে কোন এক ধরনের লেখা অনুসরণ করতে হবে, নইলে লেখা ঠিক হতে সময় নেবে। আর হ্যা, লক্ষ্য রাখতে হবে সে কি ভাবে লেখে। মনে রাখতে হবে বার বার প্রাকটিসের মাধ্যমে হাতের লেখা সুন্দর হয়ে ওঠে। 
 

৫. লেখার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া-

লেখার পরেই পড়ার অবস্থান। হাতের লেখা সুন্দর করতে বেশি বেশি লেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যত বেশি লেখা হবে তত বেশি ভুল সংশোধন হবে। যত বেশি ভুল সংশোধন হবে ততো বেশি লেখা সুন্দর হবে। চেষ্টা থাকতে হবে আর লেখার প্রতি গুরুত্ব সহকারে সময় দিতে হবে। আশা করা যায় খুব দ্রুত হাতের লেখা সুন্দর হয়ে উঠবে। 


৬. কিছু লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারনা রাখা-

রচনা লেখার নিয়মাবলী, পত্র লেখার পদ্ধতি, প্যারাগ্রাফ লেখার কোয়ালিটি, কিছু প্যারা প্যারা আকারে লেখার সিস্টেম বা পদ্ধতি লেখার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। আর লেখা সৌন্দর্যময় হলে হাতের লেখা সুন্দর দেখায়। 


৭. লাইন সোজা রাখা ও নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা-

লাইন সোজা না হলে হাতের লেখা ঠিক থাকলেও লেখা সৌন্দর্যময় হয় না। লাইন সোজা রাখার জন্য একটা কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে, খাতার বাম পাশে ছোট্ট একটি দাগ দিন এবং ঠিক সোজাসুজি খাতার অপার পাশে ডান পাশে আরেকটি দাগ দিন, প্রয়োজনে মাঝামাঝি জায়গাতে আরেকটি চিহ্ন বা দাগ দিন এবং দাগ গুলো বরাবর লেখা শুরু করুন। খেয়াল রাখুন যেন লেখা উপরে বা নিচের দিকে উঠে বা নেমে না যায়। সোজা রাখতে চেষ্টা করুন। নিচের ছবির উদাহরণ লক্ষ্য করুন-
হাতের লেখা ভালো করার উপায়, বাংলা ও ইংরেজী হাতের লেখা, সুন্দর আকর্ষণীয় হাতের লেখার গুরুত্ব, হাতের লেখা ঠিক করার সহজ নিয়ম
হাতের লেখা সোজা করার উপায়



উপরের নিয়ম গুলো অনুসরণ করলে আশাকরি হাতের লেখা ধীরে ধীরে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও স্টাইলিশ হয়ে উঠবে। তাহলে আজি শুরু করুন, নিজেকে স্মার্ট আর ব্যক্তিত্ত সম্পন্ন পরিচয় করাতে সুন্দর বা ভালো হাতের লেখার কোন বিকল্প নেই।


আমাদের সাথেই থাকুন। নিচের বক্সে কমেন্ট করুন। ফেসবুক পেজে লাইক দিন।


সকলের শুভকামনায় - 

কে-মাহমুদ 

৬-১১-২০২০

শুক্রবার

অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়ম

অ্যাসাইনমেন্ট বা এসাইনমেন্ট কি, নিয়ম ও উদাহরণ


  • অ্যাসাইনমেন্ট বা এসাইনমেন্ট  কি
  • অ্যাসাইনমেন্ট তৈরির উপকরণ
  • অ্যাসাইনমেন্ট তৈরির প্রাথমিক কার্যাদি 
  • অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়ম 
  • অ্যাসাইনমেন্ট এর নমুনা বা উদাহরণ


অ্যাসাইনমেন্ট বা এসাইনমেন্ট  কি, তৈরির নিয়ম, নমুনা ও উদাহরণ
 অ্যাসাইনমেন্ট


শিক্ষা ব্যবস্থায় অ্যাসাইনমেন্ট বা এসাইনমেন্ট একটি গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়। বিশ্লেষণাত্মক ও গবেষণা মূলক শিক্ষা কার্য্যক্রমের মাধ্যমে বাস্তব ধর্মি জ্ঞানার্জনে অ্যাসাইনমেন্ট একটি বড় ভূমিকা পালন করে।



অ্যাসাইনমেন্ট বা এসাইনমেন্ট কিঃ

অ্যাসাইনমেন্ট মূলত একটি গবেষণা পত্র বা কার্য্য পত্র। কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর পাঠ্যবিষয়ক ও পারিপার্শ্বিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে যুক্তি নির্ভর বিশ্লেষণ ও গবেষণার মাধ্যমে ফলাফল যাচাই ও উপাস্থাপন করার কার্য্যক্রম বা কার্য্য পত্র কেই অ্যাসাইনমেন্ট বা এসাইনমেন্ট বলে।



অ্যাসাইনমেন্ট তৈরির উপকরণঃ

একটি সুন্দর, বাস্তব নির্ভর বা ভালো অ্যাসাইনমেন্ট তৈরির জন্য নিম্নোক্ত উপকরণ সংগে থাকা আবশ্যক।

  • ১. এ৪ সাইজের কিছু সাদা কাগজ। 
  • ২. কালো বলপয়েন্ট বা কলম। 
  • ৩. সবুজ রঙের মার্কার কলম। 
  • ৪. একটি রুলার বা স্কেল। 
  • ৫. বিষয় নির্ভর মূল বই। 
  • ৬. বিষয় নির্ভর গাইড, পত্রিকা বা তথ্যাদি। 
  • ৭. ইন্টারনেট সংযোগকৃত মোবাইল বা কম্পিউটার।


অ্যাসাইনমেন্ট তৈরির প্রাথমিক কার্যাদিঃ

অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে প্রাথমিক ভাবে যে সকল বিষয় খুব গুরুত্ব ও মনযোগ সহকারে সম্পাদন করতে হবে তা নিম্নরূপ-

  • ১. অ্যাসাইনমেন্ট এর জন্য নির্ধারিত বিষয় ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। 
  •  ২. সংগ্রহকৃত বই, পত্রিকা বা তথ্যাদি থেকে বিষয় সম্পর্কিত তথ্যাদি বাছাই ও চিহ্নিত করতে হবে। 
  • ৩. মার্কার কলম ও স্কেল ব্যবহার করে এ৪ সাইজের কাগজে সুন্দর করে মার্জিন আঁকতে হবে।


এ৪ সাইজের কাগজে অ্যাসাইনমেন্ট এর বিষয় লিখার নিয়মঃ

অ্যাসাইনমেন্ট এর কভার বা প্রথম পৃষ্ঠায় যা লিখতে হবে-

খাতার উপর মাঝামাঝি জায়গাতে মার্কার কলম দিয়ে বড় করে লিখতে হবে, "অ্যাসাইনমেন্ট"। এর পর নিচে মার্কার কলম দিয়ে বিদ্যালয়ের নাম। তার নিচে বিদ্যালয়ের ঠিকানা। মার্কার কলম দিয়ে নিজ নাম, শ্রেনী, রোল, শাখা, মোবাইল নং। মার্কার কলম দিয়ে বিষয়ের নাম ও শিরণাম বা সূচীপত্র। অ্যাসাইনমেন্ট প্রদানকারী শিক্ষকের নাম ও পদবী। অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার তারিখ।



অ্যাসাইনমেন্ট এর মূল পৃষ্ঠায় লিখার নিয়মঃ

ভূমিকা অংশ- এই অংশে বিষয় সম্পর্কিত ভূমিকা উপস্থাপন করতে হবে। সংক্ষেপে বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি বা গুরুত্ব সংক্ষিপ্ত ভাবে এই অংশে তুলে ধরা যেতে পারে।


বর্ণনা অংশ- বিষয় সম্পর্কিত তথ্যাদি উপস্থাপন, বিশ্লেষণ, পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ, এবং তথ্য প্রমাণের মাধ্যমে বিষয় সম্পর্কিত আলোচনা এই অংশের প্রধান আলোচ্য বিষয়। অপ্রাসঙ্গিক কিছু অন্তর্ভুক্ত না করে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা প্রমাণ ও যুক্তির মাধ্যমে উপাস্থাপন করতে হবে।


উপসংহার অংশ- এই অংশে বিষয়ের উপসংহার টানতে হবে। সাধারন্ত বিষয়টি বিশ্লেষণ ও বর্ণনা করে যে ফলাফল পাওয়া গেল সেটি সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরতে হবে। ভবিষ্যতে বিষয়টি কিরূপ ফল আনবে সেটিও তুলে ধরা যেতে পারে।



অ্যাসাইনমেন্ট এর নমুনা বা উদাহরণঃ


(কভার পৃষ্ঠার নমুনা)

অ্যাসাইনমেন্ট
এডভান্স টিচিং সেন্টার, টিচিং পাড়া, বাংলাদেশ। 
অ্যাসাইনমেন্ট নং-১

উপস্থাপনায়ঃ
শিক্ষার্থীর নামঃ রোদেলা মাহমুদ
শ্রেণীঃ ৯ম
বিভাগঃ বানিজ্য
রোলঃ
মোবাইল নংঃ +৮৮০১৩০৩৬২১৫২২

বিষয়ঃ বাংলা ১ম
বিষয়ের শিরনামঃ খিচুড়ি রান্নার পদ্ধতি

প্রণয়নকারী ও তত্ত্বাবধায়কঃ
শিক্ষকের নামঃ কে-মাহমুদ।
শিক্ষকের পদবীঃ ব্যবস্থাপক, এডভান্স টিচিং সেন্টার



জমাদানের তারিখঃ ০৫-১১-২০২০ ইং


------------------------- ------------------------- -------------------------
(ভিতরের পৃষ্ঠার নমুনা)


বিষয়ের শিরণামঃ খিচুড়ি রান্নার পদ্ধতি।



আজকের রান্নার বিষয় - খিচুড়ি।


খিচুড়ি উপমহাদেশ এমনকি বাংলাদেশের একটি মজাদার ও জনপ্রিয় খাবার। আমারা ব্যস্ততম জীবনে হয়তো দ্রুত ও মজাদার রান্না সচরাচর রেধে উঠতে পারি না। মজাদার আর ঝটপট রান্নায় খিচুড়ি হতে পারে অন্যতম একটি সুস্বাদু খাবার। অনেকেই হয়ত ভালো রাধতে পারি না কিন্তু খিচুড়ি রান্না এতই সোজা যে, যে কেও খুব সহজেই দ্রুত এটি রেধে ফেলতে পারে। আর বৃষ্টির দিনে সুস্বাদু খাবার হিসাবে খিচুড়ি ছাড়া যেন বাঙালী হৃদয় পূর্ণতা পায় না।



স্বাস্থ্য উপকারিতাঃ
খিচুড়ি খুবি সাধারণ ও জনপ্রিয় খাবার যা সকল বয়সের জন্য স্বাস্থ্যকর। যারা ডায়েট কন্ট্রল করে তাদের খাবার তালিকার একটি পুষ্টিকর খাবা র হতে পারে খিচুড়ি। খিচুড়ি রান্না খুবি সোজা, দ্রুত রান্না যায় এবং সুস্বাদু ও বটে, তাই ব্যাচেলর দের ঝট পট রান্না ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি একটি উত্তম খাবার।


তাহলে খিচুড়ি রান্নার উপকরণ ও পদ্ধতি গুলো জেনে নেওয়া যাক-----


 খিচুড়ি রান্নার উপকরণঃ
  • ১. চাল - ১ কাপ
  • ২. ডাল - ১ কাপ [মুগ ডাল/মুসুড়ি ডাল হলে ভালো হয়] 
  • ৩. আস্ত জিরা - ১ চা-চামচ 
  • ৪. শুকনো মরিচ - ২ টি 
  • ৫. তেজপাতা - ২ টি [না হলেও চলবে] 
  • ৬. পিয়াজ কুচি - বড় ১ টি 
  • ৭. আদা বাটা - ১ চা-চামচ 
  • ৮. হলুদ গুড়ো - ১/২ চা-চামচ 
  • ৯. মরিচের গুড়ো - ১/৪ চা-চামচ 
  • ১০. জিরা গুড়া - ১/৪ চা-চামচ 
  • ১১. চিনি - ১ চা-চামচ [না হলেও চলবে] 
  • ১২. তেল - ২ টেবিল-চামচ 
  • ১৩. গরমমসলা গুড়ো - ১ চা চামচ 
  • ১৪. লবন স্বাদ অনুযায়ী 

রন্ধন প্রণালীঃ
  • ১. ডাল ও চাল এক সাথে মিশিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে ৩০ মিনিট রাখতে হবে।
  • ২. হাড়িতে পানি গরম করে অন্য পাত্রে উঠিয়ে রাখতে হবে। 
  • ৩. হাড়িতে অল্প তেল দিয়ে গরম করে তার মাঝে ডাল-চাল ছেড়ে হালকা ভেজে অন্য পাত্রে উঠিয়ে রাখতে হবে। 
  • ৪. হলুদ গুড়ো, মরিচের গুড়ো এবং জিরা গুড়ো মিশিয়ে অল্প পানি দিয়ে পেস্ট করতে হবে। 
  • ৫. হাড়িতে বাকি তেল ঢেলে গরম করে নিতে হবে। 
  • ৬. গরম তেলে শুকনো মরিচ ও আস্ত জিরা ছেড়ে দিতে হবে।
  • ৭. চট পট শব্দ শুরু হলে আদা বাটা ও পিয়াজ কুচি ছেড়ে হালকা বাদামী করে ভাজতে হবে। 
  • ৮. তেজ পাতা ও আগে থেকে পেস্ট করে রাখা মসলা ঢেলে হালকা আচে দু-মিনিট নাড়তে হবে। 
  • ৯. ডাল-চাল ঢেলে আরো দু-মিনিট নাড়তে হবে। 
  • ১০. লবন, চিনি ও চার কাপ গরম পানি যোগ করে নাড়তে হবে। 
  • ১১. চাল সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করতে হবে, পানি লাগলে গরম পানি যোগ করতে হবে এবং ঢেকে রাখতে হবে। 
  • ১২. চুলা বন্ধ করে দিতে হবে এবং গরমমসলা গুড়ো ছড়িয়ে হালকা নেড়ে ৩০ মিনিট ডেকে রাখতে হবে। 
  • ১৩. যে কোন আচার বা মুরগীর রোস্ট বা ডিম ভাজি সহ গরম গরম পরিবেশন করতে হবে। 


খিচুড়ি রান্নার অনেক পদ্ধতি রয়েছে। শাকসবজি বা আলু সহ খিচুড়ি রান্না অনেকেই পছন্দ করে। পুষ্টিকর খাবার হিসাবে খিচুড়ি যেমন জনপ্রিয় তেমনি জনপ্রিয় ঝট-পট রান্নায়। খিচুড়ি প্রতিটি বাঙালীর পছন্দের ও অতি প্রিয় খাবার।



----------------------- ----------------------- 


তাহলে আজ এ পর্যন্তই আশাকরি সকলে অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়ম সম্পর্কে ধরনা পেয়েছি। এখন আরো সুন্দর আরো বস্তুনিষ্ঠ অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে পারব। ভালোফল করার জন্য চাই ভালো কৌশল। অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে আমাদের কৌশলী হওয়ার পাশাপাশি মনোযোগী হতে হবে।



কোন প্রকার সমস্যা হলে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানালে খুশি হব। 



সকলের শুভকামনায়- 

কে-মাহমুদ

মঙ্গলবার

ছুটির দিনে পড়াশোনা

"ছুটির দিনে মামার দেশে
আম কুড়াতে সুখ,
পাকা জামের শাখাই বসে
রঙ্গিন করি মুখ।"

কবিতার ছন্দ যেন মন কে দোলা দেয়, "আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।"


ছুটি মানেই আনন্দ, বন্ধের দিন মানেই লাগামহীন ছুটে চলা। হোক সেটা বাস্তবে অথবা কল্পনায়।




ছুটি বা বন্ধে লেখাপড়ার কৌশল


বন্ধে লেখা পড়া মানে তাল গাছ থেকে পড়া! তাই প্রয়োজন বাড়তি এক কৌশল। করোনা সহ নানা রকম দূর্যোগে ব্যপারটি আরো জটিল। আজকের আলোচনা এ সকল কৌশল নিয়ে।



ছুটিতে লেখাপড়া, করোনার বন্ধে পড়াশোনা, অনলাইনে পড়ালেখা
ছুটির দিনের পড়াশোনা


আধুনিক এই সমাজের সাথে আগেকার অনেক তফাৎ । তখন ছুটি মানে ছিল গোল্লাছুট, মারবেল আর কানামাছি খেলা। মামার বাড়ি, দাদার বাড়ি আর বন-কাঠালে আড্ডা দেওয়া, আর বন বনানির কোলে বসে নানারকম ফল-ফলালির স্বাদ নেওয়া। এটা বলছি মোবাইল ফোন আসার আগেকার কথা। আধুনিক সমাজ  মোবাইল বদলে দিয়েছে এমন ভাবে যেন কয়েক প্রজন্ম ডিঙিয়ে আজকের এই আধুনিক সমাজ। এখন কেও আর আমকুড়াতে সুখ পায় না, না পায় মামার বাড়ি গিয়ে। পেলেও আগেকার মত নয়। এখন যত সুখ মোবাইল, কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের বিশাল দুনিয়াই। এই যুগে শিক্ষা ব্যবস্থা শুধু কোন এক গ্রামের কোন এক বিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষা ব্যবস্থা আজ দুনিয়া জোড়া। এটি বিশাল এক বিশ্বগ্রাম, গ্লোবালাইজেশনের ফল। কম্পিটিশন যেন তুঙ্গে।  এখন আর ছুটির দিনে বসে থাকলে চলে না। আনন্দের পাশা পাশি জ্ঞানার্জনে সকলে আজ ব্যস্ত। ব্যপারটি কেমন জানি সিস্টেমেটিক্যাল।



ছুটি মানেই গা ছেড়ে পড়ে থাকা এটা একেবারেই নয়। তাহলে আধুনিক কম্পিটিশনের যুগে পিছিয়ে পড়বে কুড়ে আর আনন্দে গা ভাসানো ছাত্র-ছাত্রী'রা। কিন্তু মন তো আর সিস্টেমে থাকতে চাই না, ছুটি মানে যে আনন্দ। তাই ছুটির দিনে আমাদের আনন্দের সাথে তাল মিলিয়ে কিভাবে পড়াশোনা করা যাই তার একটা পরিকল্পনা আবশ্যক।



পরিকল্পনা তো অনেক ভাবেই করা যাই। তবে ছুটির দিনে পড়াশোনার পরিকল্পনা এমন হওয়া চাই যেন আনন্দের মাধ্যমেই তা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।



তাহলে শুরু করা যাক আমাদের পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা।


  • ১. ছুটির দিনে পড়ার প্রস্তুতি হিসাবে আমাদের প্রথম কাজ মোবাইলে পাঠ্য বই সহ নানারকম বই অনলাইন, বা বন্ধু-বান্ধবী বা শিক্ষকদের নিকট থেকে নিয়ে নেওয়া। ডিজিটাল বই নানা প্রকারে থাকতে পারে সেটা পিডিএফ বা এপলিকেশন যেকোন ভাবে। গুগোল মামাকে চার্চ দিলে এসকল বই অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা যেতে পারে। তাছাড়া নানারকম শিক্ষামূলক ওয়েব সাইটেও বই পাওয়া যাই। আমরা ইচ্ছা করলে https://1timeschool.com এই ওয়েবসাইট থেকে বই ডাউনলোড করে নিতে পারি। মোবাইল প্লেস্টোরেও এগুলো পাওয়া যাই।

  • ২. নানারকম গেম রয়েছে যা শিক্ষা মূলক।  মোবাইলের play store থেকে আমরা এ সকল গেম নামিয়ে নিতে পারি। এছাড়া যারা কম্পিউটার ব্যবহার করি তারা গুগলে সার্চ দিলে অসংখ্য শিক্ষামূলক ফ্রি গেম ডাউনলোড করতে পারব। letter game, word game এমন শিক্ষামূলক শব্দ টাইপ করে সার্চ করলে অনেক অনেক শিক্ষা গেম প্লে স্টোরে পাওয়া যাবে, যা সম্পূর্ণ ফ্রিতে ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে। খোজ নিলে অনেক বন্ধুর কাছেও এমন গেম পাওয়া যাই।

  • ৩. ইন্টারনেট বিশ্বকে করেছে একটি পাঠশালা। এর কল্যানে এখন ঘরে বসেই নানা তথ্য জানা যায়। মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে আমরা অনলাইনে নানা রকম শিক্ষা সাইট থেকে আনন্দের সাথে সাথে শিক্ষাও গ্রহন করতে পারি। বিশ্ব জ্ঞান কোষ http://bn.wikipedia.org  বা  https://1timeschool.com এর মত অসংখ্য সাইট রয়েছে যা পড়াশোনার পাশাপাশি নানা রকম তথ্য দিয়ে থাকে। ইন্টারনেট যেন এক বিশ্ব জ্ঞান ভান্ডার। গুগলে কিছু জানতে চাইলেও এমন অসংখ্য সাইট পাওয়া যাবে। যেমন গুগলে গিয়ে, " সহজ পদ্ধতিতে ন্যারেশন" লিখে সার্চ দিলে ন্যারেশন শিখার পদ্ধতি নিয়ে হাজির হবে অসংখ্য সাইট।

  • ৪. গল্প আর উপন্যাসের বই পড়তে যেন এক অন্য রকম মজা। সকলের বাড়িতেই এসকল বই রয়েছে। যখন মন চাই শুরু করুন বই পড়া, সেটা হোক পাঠ্যবই বা গল্প-উপন্যাস। যা ইচ্ছা পড়ুন তাতেই কাজ হবে।

  • ৫. আমরা ছুটির দিনি গুলোতে কবিতা, উপন্যাস সহ নানারকম গল্প লিখার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি, এগুলো মিস্তিষ্কের অচল অংশ সচল করে তোলে। মন ভালো রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিশোর বয়সেই আনন্দ করতে করতে লিখে ফেললেন, " আয় তবে সহচরী, হাতে হাতে ধরি ধরি, নাচিবো ঘুরি ঘুরি, গাহিব গান।" কি মজা তাই না। সৃষ্টি করুন আর আনন্দ করুন।

  • ৬. প্রতিদিন কমপক্ষে এক বার হলেও চ্যটিং ম্যাসেজিং বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময় পড়ার কথা তুলুন। আপনি পড়ছেন না একথা বললেও পড়া নিয়ে বলা হয়, সমস্যা নেই। দেখবেন এর মাধ্যমে পড়ার আগ্রহ তৈরী হবে।

  • ৭. সংবাদ পত্র পড়া অনেকেরি অভ্যাস আছে, এটি খুব ভালো অভ্যাস। পত্রিকায় নানা তথ্য পাওয়া যায়। ইটস এ স্টোর হাউজ অব নলেজ। এতে শিক্ষা পাতায় নানা রকম তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া ইন্টেরনেটেও অনেক সংবাদ পত্র সাইট রয়েছে, https://prothomalo.com, https://kalerkantho.com, https://www.dailynayadiganta.com সাইটগুলো অনলাইন সংবাদ পত্রের মধ্যে অন্যতম।


  • ৮. দিন বা রাতে যে কোন নির্দৃষ্ট সময় বেছে নিন। সেটা এক বা দুই সময়ো হতে পারে। পাঠ্য বই এ সময় পড়া যেতে পারে। আর পড়ার চর্চা টি ধরে রাখার জন্যেও সময় নির্বাচন করা খুবি জরুরী।

  • ৯. ছুটির দিনে বেড়াতে যাওয়া যেতে পারে।  এটাও কিন্তু এক ধরনের পড়া। এর নাম প্রাকৃতি থেকে পড়া। ভ্রমনের ফলে আমাদের মন চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন হয়।

  • ১০. মজার মজার রান্না করতে চেষ্টা করুন। হাস-মূরগী পালন করুন, বাগান গড়ে তুলুন। প্রতিটি বিষয়ের হিসাব রাখুন এবং এগুলো করে কিকি অভিজ্ঞতা হল তা লিখে রাখুন। যেমন মুরগি দিনে কয়টি ডিম দিয়েছে, বাগানের গোলাপ গাছটি ৫ দিনে কত সে.মি বেড়ে উঠেছে ইত্যাদি। এছাড়া না না রকম হাতের কাজ করুন, এই সময়ে কম্পিউটারে এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল, একসিস, পাওয়ার পয়েনট সহ নানা রকম প্রগ্রামিং এর কাজ শিখুন। যা মজার পাশাপাশি জ্ঞানার্জনে সহযোগীতা করবে। প্রতিদিন ডায়েরী লেখার অভ্যাস করুন।


ছুটির দিনে বাড়িতে আরো অসংখ্য ভাবে পড়া যেতে পারে। এগুলো যার যার কোয়ালিটি আর বুদ্ধির উপর নির্ভরশীল।  আপনি শুরু করুন। সেটা ভুল দিয়ে হলেও। কারন যে শুরু করে সে শেষ করে, কিন্তু যে শুরু করে না সে কখনো-ই শেষ করতে পারে না।



যার যার অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগানোর উপযুক্ত সময় ছুটির দিন গুলো। বর্তমান যুগ কম্পিটিশনের যুগ। আর বিশ্ব আজ একক পাঠশালা। নিজের মত করে আনন্দ করুন আর বিশ্ব থেকে জ্ঞান নিন। পড়ুন, আনন্দের সাথে, আনন্দের মাধ্যমে। এগুলো আপনাকে বাস্তব জীবনে প্রথম না করুক অন্তত লাস্ট বেঞ্চের বাসিন্দা করবেনা!





কে-মাহমুদ
৫-৫-২০২০