অনুচ্ছেদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনুচ্ছেদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার

ড. মুহাম্মদ ইউনূসঃ ক্ষুদ্রঋণের জনক ও নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশি

ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশি কিংবদন্তি


(আর্টিকেলটি AI এর সহায়তায় K-Mahmud লিখেছেন)


ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত জীবন, ক্যারিয়ার, গ্রামীণ ব্যাংকের গঠন, নোবেল পুরস্কার, উপদেষ্টা হিসেবে ভূমিকা ও তার বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জীবনী, নোবেল পুরস্কার, গ্রামীণ ব্যাংক, সামাজিক ব্যবসা এবং উপদেষ্টা হিসেবে তার অবদানসহ বিস্তারিত মানবিক বিশ্লেষণ
Dr. Muhammad Yunus


ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমন একজন কিংবদন্তি, যিনি বিশ্বকে দেখিয়েছেন দারিদ্র্য বিমোচনের একটি নতুন পথ। ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রবর্তক এবং গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের দরিদ্র মানুষের জীবনে হয়ে উঠেছেন আশার আলো।



ছোটবেলা ও শিক্ষা জীবন

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিজ জেলায় সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।



ক্যারিয়ার জীবনের সূচনা

১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনসম্মতি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশে ফিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ তার মনোজগতে পরিবর্তন আনে। তিনি উপলব্ধি করেন, প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থা গরীব মানুষের দরজায় পৌঁছায় না। সে সময়েই ক্ষুদ্রঋণের ধারণা তার মনে গেঁথে যায়।



গ্রামীণ ব্যাংকের গঠন

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৭৬ সালে জোবরা গ্রামের কয়েকজন দরিদ্র মহিলাকে নিজ তহবিল থেকে ঋণ প্রদান করার মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সূচনা করেন। এরপর বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামীণ ব্যাংক যা জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটায়।



নোবেল পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

২০০৬ সালে ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি পেয়েছেন র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার, প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম, কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেলসহ বহু আন্তর্জাতিক সম্মাননা সহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কার।



নোবেল পুরস্কার পরবর্তী জীবন

নোবেল পুরষ্কার বিজয়ের পর ড. ইউনূসের প্রভাব আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আরও বিস্তৃত লাভ করে। তিনি “Creating a World Without Poverty” (২০০৮) এবং “A World of Three Zeros” (২০১৭) নামে দুটি প্রভাবশালী বই লেখেন।


২০০৮ সালে “Yunus Centre” প্রতিষ্ঠা করেন, যা সামাজিক ব্যবসা, পরিবেশ ও দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে।


তিনি ফ্রান্স, ব্রাজিল, জার্মানি, ভারতসহ অনেক দেশে সামাজিক ব্যবসার মডেল বাস্তবায়নে সহায়তা করেন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেন।


২০২১ সালে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে তিনি “Vaccines as Global Common Good” ক্যাম্পেইনের নেতৃত্ব দেন, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে।


উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন

ড. ইউনূস বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্বব্যাংকে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট বাংলাদেশের  সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর দেশ অবিভাবক শূন্য হয়ে পাড়লে ছাত্র সমাজ বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাকে মনোনীত করেন। দ্বায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সংষ্কারে তিনি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেন। (


তিনি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদস্য হিসেবে ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সরকার ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত থেকেছেন।


বর্তমানে তিনি “Three Zero Club” এবং “Social Business Youth Alliance” এর মাধ্যমে তরুণদের উৎসাহিত করছেন এবং সারা বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন পথ তৈরি করছেন।



ব্যক্তিগত জীবন

ড. ইউনূসের প্রথম স্ত্রী ছিলেন ভেরা ফরবস। তাদের এক কন্যা মনিকা ইউনূস, যিনি একজন খ্যাতিমান অপেরা শিল্পী এবং নিউ ইয়র্কে থাকেন। পরবর্তীতে তিনি আফরোজী ইউনূসকে বিয়ে করেন, যিনি একজন শিক্ষাবিদ। তাদের কন্যা দিনা আফরোজ ইউনূস ঢাকায় অবস্থান করেন এবং পারিবারিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন।



ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক কিংবদন্তি

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জীবন কেবল একজন অর্থনীতিবিদের নয়, বরং একজন চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও মানবতার পক্ষে নিরলস যোদ্ধার প্রতিচ্ছবি। তার চিন্তা ও কাজ আজো বিশ্বজুড়ে লক্ষ মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, সাহস জোগায় এবং সমাজকে বদলে দেওয়ার প্রেরণা জোগায়। বাংলাদেশের তরুন সমাজের তিনি এক আলোক বর্তিকা, বিশ্বের বুকে এক দীপ্তিময় নক্ষত্র।


এখানে আছেঃ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর জীবনী, গ্রামীণ ব্যাংক এর ইতিহাস, নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশি, ক্ষুদ্রঋণ পদ্ধতি, Muhammad Yunus adviser, Yunus Centre, Social Business Bangladesh


Credit : K-Mahmud & AI Technology

সোমবার

Our school library - Short paragraph

Our school library - Easy and Short Paragraph


এখানে যা থাকছে ---

  • Our school library paragraph
  • Our school library short paragraph
  • Our school library easy paragraph
  • School library paragraph for HSC & SSC
  • Class 6 7 8 9 10 school library

Our school library paragraph, Our school library short paragraph, Our school library easy paragraph, School library paragraph for HSC SSC 6 7 8 9 10
School Library - Paragraph


A school library plays an important role in the education of the students. Every school has a library. There is a big library in our school too. It is on the first floor of our school building. There are a good many almirahs in the library. They are full of books. Most of these books are in Bangla. Our school has collected books on various topics written by famous writers. There are as many as five thousand books in our school Library. A librarian is in charge of the library. He keeps records of all the books. He issues books to and receives it back from the students. There is a reading room in it where the students read books and papers during leisure period. We find pleasure to stay there during leisure hours.


নিচে অনুবাদ দেখুনঃ


একটি স্কুল লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি স্কুলে একটি লাইব্রেরি আছে। আমাদের স্কুলেও একটি বড় লাইব্রেরি আছে। এটা আমাদের স্কুল ভবনের প্রথম তলায়। লাইব্রেরিতে অনেক আলমিরা আছে। সেগুলো বইয়ে ভরা। এসব বইয়ের অধিকাংশই বাংলায়। আমাদের স্কুল বিখ্যাত লেখকদের লেখা বিভিন্ন বিষয়ের বই সংগ্রহ করেছে। আমাদের স্কুলের লাইব্রেরিতে পাঁচ হাজারের মতো বই আছে। গ্রন্থাগারের দায়িত্বে রয়েছেন একজন গ্রন্থাগারিক। তিনি সব বইয়ের রেকর্ড রাখেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বই প্রদান করেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তা ফেরত নেন। এটিতে একটি পাঠকক্ষ রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে বই এবং কাগজ পড়ে। আমরা অবসর সময়ে সেখানে থাকার আরাম খুঁজি।


ভিডিও ঃ School Library

মঙ্গলবার

শব্দ কত প্রকার - শব্দের শ্রেণীবিভাগ

শব্দ কাকে বলে - শব্দের প্রকারভেদ ও শ্রেণীবিভাগ


এখানে যা থাকছে---

  • শব্দের শ্রেণীবিভাগ
  • শব্দের প্রকারভেদ
  • শব্দ কাকে বলে
  • উৎসগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ
  • গঠনগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ
  • পদগত দিক দিয়ে শ্রেণীবিভাগ

শব্দের শ্রেণীবিভাগ, শব্দের প্রকারভেদ, শব্দ কাকে বলে, উৎসগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ, গঠনগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ, পদগত দিক দিয়ে শ্রেণীবিভাগ
শব্দ কাকে বলে - শব্দের প্রকারভেদ


শব্দ কি বা কাকে বলেঃ

আমরা বাংলা বর্ণমালায় যে সকল বর্ণ বা অক্ষর পায় সেগুলো থেকে কিছু অক্ষর বা বর্ণ পাশাপাশি বসালে যদি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর অর্থ প্রকাশ পায় তখন সেই বর্ণ সমষ্টি বা বর্ণ গুচ্ছ কে এক সাথে এক একটি শব্দ বলে। যেমন বাংলা বর্ণমালার কিছু বর্ণ ন, য়, ছ এবং য় পরপর এক সাথে বসিয়ে পাই 'নয়ছয়', এখানে 'নয়ছয়' একটি শব্দ কারণ 'নয়ছয়' গঠিত হয়েছে কয়েকটি বর্ণ পাশাপাশি বসে এবং নয়ছয় এর একটি অর্থ আছে, কোনোকিছু এলোমেলো বা উল্টা পাল্টা করা বোঝাতে নয়ছয় ব্যবহার করা হয়। সুতারং কয়েকটি বর্ণ পাশাপাশি বসে অর্থ প্রকাশ করলে তাকে শব্দ বলে। ইংরেজিতে শব্দ কে ওয়ার্ড (Word) বলা হয়। 



বাংলা ভাষা ও শব্দের উৎপত্তি ও জন্মঃ

বাংলা ভাষা একটি মিশ্র ভাষা। বঙ্গ অঞ্চলে বসবাসকারী লোকজন যে সকল কথা নিজেরা বলাবলি করত সে সকল কথার বা ভাষার শব্দ কে বাঙ্গালীদের নিজেস্ব ভাষা বা দেশি ভাষা বলে। শুধু দেশি ভাষা নয়, বঙ্গ অঞ্চলে বিদেশিরা শাসন করার সময় বিদেশিদের সাথে কথা বলতে বা তাদের সাথে তাল মিলাতে বাঙ্গালীরা বিদেশিদের কিছু ভাষা ব্যবহার করতে করতে বাংলা ভাষায় মিশিয়ে ফেলেছে। অন্য দিকে সংষ্কৃত ভাষাভাষির লোকজন যখন বঙ্গ অঞ্চলে বসবাস শুরু করে তখন সংষ্কৃত ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় মিশে গেছে। অর্থাৎ বাঙ্গালীরা বা আমরা যে সকল কথা বলি তার শব্দ গুলো কোনোটি আমাদের নিজস্ব দেশি শব্দ, কোনোটি আর্বি-ফার্সি-ইংরেজি বা বিদেশি শব্দ এবং অন্য গুলো সংষ্কৃত শব্দ। এভাবেই দেশি, বিদেশি ও সংষ্কৃত শব্দ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে।



শব্দের প্রকারভেদ বা শব্দের শ্রেণীবিভাগঃ

শব্দকে নানা শ্রেণীতে বিভক্ত করা যেতে পারে। শব্দের শ্রেণীবিভাগ করতে যে সকল দিক বিবেচনা করা হয় তা নিম্নরূপ-

  • ১. উৎসগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ।
  • ২. গঠনগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ।
  • ৩. পদগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ। 


উপরোক্ত প্রতিটি বিষয়গত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ নিম্নে তুলে ধরা হলো। 



উৎসগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদঃ

উৎস অর্থ উৎপত্তি বা জন্ম। সুতারং কোনো শব্দের জন্ম বা উৎপত্তি স্থানকে সেই শব্দের উৎস স্থান বলা হয়ে থাকে। বাংলা ভাষায় আমরা যে সকল শব্দ কথা বলার সময় ব্যবহার করি তা সব বাংলাদেশের নিজস্ব ভাষার শব্দ নয়। কিছু শব্দ এসেছে বিদেশিদের কাছ থেকে, কিছু শব্দ এসেছে সংষ্কৃত ভাষা থেকে আবার কিছু শব্দের উৎপত্তি ঘটেছে বাংলাদেশে বসবাসকারী লোকের কথা বার্তা থেকে। শব্দের উৎস বা উৎপত্তি বা আগমনের উপর ভিত্তি করে শব্দ কে তাই আধুনিক ভাষাবিদেরা ৪ টি ভাগে ভাগ করে থাকেন, যথা-

  • ১. তৎসম শব্দ
  • ২. তদ্ভব শব্দ
  • ৩. দেশি শব্দ
  • ৪. বিদেশি শব্দ


উপরোক্ত প্রকারভেদ ছাড়াও উৎসগদ দিক দিয়ে শব্দের আরেকটি ভাগ রয়েছে, সেটি হল-

  • ৫. অর্ধ-তৎসম শব্দ


তৎসম অর্থ তার সমান অর্থাৎ সংষ্কৃতের সমান। বাংলাভাষায় ব্যবহৃত যেসকল শব্দ সরাসরি সংষ্কৃত ভাষা থেকে এসেছে সে সকল শব্দ কে তৎসম শব্দ বলা হয়ে থাকে। এসকল শব্দ সংষ্কৃত ভাষাতে যেভাবে বলা হয় বা উচ্চারণ করা হয়, বাংলা ভাষাতেও হুবহু সে ভাবেই উচ্চারণ করা হয়। সুতরাং সংষ্কৃত ভাষায় ব্যবহৃত যে সকল শব্দ হুবহু বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয় বা বাংলা ভাষার লোকজন কথা বলার সময় ব্যবহার করে সে সকল শব্দ কে তৎসম শব্দ বলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সংষ্কৃত ভাষায় যারা কথা বলে তারা "সূর্য্য" বলে, বাংলা ভাষায়ো আমরা কথা বলার সময় সূর্য্য কে "সূর্য্য" বলি। "সূর্য্য" শব্দটি সংষ্কৃত ভাষার লোকের ভাষা যা বাঙ্গালীরা হুবহু সংষ্কৃত ভাষার লোকের মতই বলে থাকে তাই "সূর্য্য" শব্দটি একটি তৎসম শব্দ।


তদ্ভব অর্থ তা থেকে উদ্ভব বা উৎপত্তি। এখানে তা বলতে সংষ্কৃত কে বোঝানো হয়েছে তাই তদ্ভব অর্থ সংষ্কৃত থেকে উদ্ভব বা সংষ্কৃত থেকে উৎপত্তি। অর্থাৎ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যে সকল শব্দ তৎসম শব্দ নয় বা সংষ্কৃত শব্দের মত হুবহু নয় কিন্তু কিছুটা বিকৃত হয়ে সংষ্কৃত থেকে উৎপত্তি ঘটেছে বা সংষ্কৃত থেকে জন্ম নিয়ে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে সে সকল শব্দ কে তদ্ভব শব্দ বলে। বাংলা ভাষায় কিছু শব্দ আছে যা সংষ্কৃত ভাষার লোকেদের মত হুবহু না হলেও প্রায় তাদের মতই বাঙ্গালীরা উচ্চারণ করে। অর্থাৎ শব্দটি সংষ্কৃত ভাষার লোকেরা যেভাবে উচ্চারণ করে হুবহু তাদের মত না হলেও অনেকটা তাদের মতই। এ সকল শব্দ সংষ্কৃত ভাষার শব্দ যা বাংলা ভাষায় এসেছে ঠিকি কিন্তু সরাসরি না এসে কিছুটা বিকৃত বা পরিবর্তন হয়ে এসেছে। সুতরাং সংষ্কৃত ভাষার যে সকল শব্দ সরাসরি বাংলা ভাষায় না এসে কিছুটা পরিবর্তন হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে সে সকল শব্দ কে তদ্ভব শব্দ বলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, "হস্ত" শব্দ টি সংষ্কৃত ভাষার একটি শব্দ, কিন্তু বাঙ্গালীরা "হস্ত" শব্দ টি বাংলা ভাষায় সরাসিরি ব্যবহার না করে কিছুটা বিকৃত করে এই শব্দের পরিবর্তে "হাত" শব্দ ব্যবহার করে। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত "হাত" শব্দটি হুবহু সংষ্কৃত শব্দের মত না বরং পরিবর্তন হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে এবং শব্দটি সংষ্কৃত থেকে উৎপত্তি হয়েছে বলে এটি একটি তদ্ভব শব্দ। সুতারং সংষ্কৃত থেকে উদ্ভব বা উৎপন্ন কোনো শব্দ সরাসরি সংষ্কৃতের মত না হয়ে কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় যুক্ত হলে তাকে তদ্ভব শব্দ বলে।


বাংলার আদিবাসী লোকজন যেমন মুন্ডা, কোল ইত্যাদি সম্প্রদায়ের লোকেরা বাংলা ভাষার নিজেস্ব বা দেশিয় কিছু শব্দ ব্যবহার করে সে সকল শব্দ কে দেশি শব্দ বলে। বাংলার আদি কাল থেকে এসকল শব্দ আদিবাসীরা বাংলা ভাষায় ব্যবহার করেছে, এ সকল সম্প্রদায়ের লোকেরে নিজেদের ভাব আদান প্রদান ও নতুন নতুন জিনিস তৈরি করে তার যে সকল নাম প্রদান করেছে সে সকল শব্দ দেশি শব্দের অন্তর্গত। যেমন আদিবাসীরা "কুলা" শব্দটি ব্যবহার করে  অর্থাৎ এই শব্দটির উৎপত্তি স্থল বাংলার আদিবাসী সম্প্রদায় বা বাংলা ভাষাভাষির লোকের মুখে তাই "কুলা" শব্দটি একটি দেশি শব্দ।


বিদেশি শব্দ বলতে অন্য দেশের শব্দ বলে। নানা সময়ে বঙ্গদেশ বা ভারতবর্ষের বাংলা ভাষাভাষির লোকদের বিভিন্ন বিদেশি শাসকেরা শাসন করে গেছে। কখনো ইংরেজরা, কখনো আরবেরা, কখোনো বা ফরাসিরা। এসকল বিদেশিরা এই অঞ্চল শাসন করার সময় অনেক শব্দ বা ভাষা ব্যবহার করত। বাংগালীরা এসব বিদেশি শাসকদের সাথে যোগাযোগ করতে গিয়ে বিদেশিদের ভাষা ব্যবহার করত। বিদেশিদের যে সকল শব্দ বাংগালীরা ব্যবহার করতে করতে বাংলা ভাষায় নিয়মিত ব্যবহার করা শুরু করেছিল তা বাংলা ভাষায় এমন ভাবে মিশে গেছে যে সে সকল শব্দ বাংগালীরা নিয়মিত ব্যবহার শুরু করে। ফলে এসকল বিদেশি শব্দ বাংলা ভাষায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ হয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা যে "চেয়ার" শব্দটি ব্যবহার করি এটি ইংরেজদের বলা একটি শব্দ। "চেয়ার" শব্দটি ইংরেজী শব্দ হলেও এটি বাংলা ভাষার বেশিরভাগ লোক বলতে বলতে বাংলা ভাষায় মিশিয়ে ফেলেছে। তাই বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যে সকল শব্দ বিদেশিদের কাছ থেকে উৎপত্তি ঘটে বাংলা ভাষায় মিশেগেছে সে সকল শব্দ কে বিদেশি শব্দ বলে। বর্তমানেও অনেক বিদেশি শব্দ বাংলা ভাষায় মিশে চলেছে। যেমন মোবাইল ফোন বাংলাদেশে ব্যবহার শুরু হওয়ার পর "মোবাইল" শব্দটি বাঙ্গালীরা ব্যবহার করছে ফলে যদিও শব্দটি বিদেশি শব্দ তবুও এটি বাংলা শব্দ হিসেবে বাংলা ভাষায় যুক্ত হয়েছে।



গঠনগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদঃ

গঠণ বলতে শব্দের উপাদান কে বোঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ কোন ধরনের উপাদান বা শব্দাংশ দ্বারা শব্দ গঠিত হয়েছে তা প্রকাশ করতে শব্দের গঠনগত প্রকারভেদ জানা আবশ্যক। শব্দাংশ বলতে একটি শব্দের ক্ষুদ্র অংশ কে বোঝায়। গঠনগত দিক দিয়ে শব্দকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-

  • ১. মৌলিক শব্দ
  • ২. সাধিত শব্দ বা যৌগিক শব্দ


একটি শব্দকে ভাংলে বা খন্ড খন্ড করলে যে সকল শব্দাংশ পাওয়া যায় সে সকল শব্দাংশের যদি আলাদা কোনো অর্থ না থাকে তবে সেই শব্দ কে মৌলিক শব্দ বলে। অপার দিকে একটি শব্দকে ভাংলে বা খন্ড খন্ড করলে যে সকল শব্দাংশ পাওয়া যায় এবং প্রতিটি খন্ডের বা শব্দাংশের যদি আলাদা আলাদা অর্থ প্রকাশ পায় তবে সেই শব্দ কে সাধিত শব্দ বলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় "টিয়া" শব্দটিকে আমরা কয়েকটি ভাগ করে পাই "টি" এবং "য়া"। এখানে "টি" এবং "য়া" খন্ড দুটির আলাদা কোনো মানে বা অর্থ নেই বলে "টিয়া" শব্দটি একটি মৌলিক শব্দ। অপর দিকে "ভালোবাসা" শব্দটিকে আমরা কয়েকটি খন্ড করে পাই "ভালো" এবং "বাসা"। এখানে "ভালো" এবং "বাসা" উভয়েরি আলাদা আলাদা অর্থ রয়েছে তাই ভালোবাসা হচ্ছে একটি সাধিত শব্দ।



পদগত দিক দিয়ে শব্দের শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদঃ

একটি বাক্য গঠন করতে যে সকল শব্দ ব্যবহার করা হয় তার প্রত্যেকটি শব্দকে এক একটি পদ বলে। অর্থাৎ বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি অর্থ বোধক শব্দকে পদ বলে। আমরা জানি যে বাংলা ভাষায় পদ ৫ প্রকার এবং সে গুলো হলো, বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়। কিন্তু বর্তমান আধুনিক ভাষাবিদেরা পদ কে ৮ ভাগে ভাগ করেছে। অর্থাৎ অব্যয় পদের পরিবর্তে অব্যয় পদ কে ভেঙ্গে আরো চারটি ভাগ বেশি করেছে। সুতারং পদগত দিক দিয়ে শব্দ ৮ প্রকার, যথা-

  • ১. বিশেষ্য
  • ২. বিশেষণ
  • ৩. সর্বনাম
  • ৪. ক্রিয়া
  • ৫. ক্রিয়া বিশেষণ (অব্যয়)
  • ৬. যোজক (অব্যয়)
  • ৭. অনুসর্গ (অব্যয়)
  • ৮. বিষ্ময় (অব্যয়)


যে সকল পদ বা শব্দ দ্বারা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য বলে, যেমন - রহিম, গরু, ছাগল। 


যে সকল পদ বা শব্দ দ্বারা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ পায় তাকে বিশেষণ বলে, যেমন- ভালো, মন্দ।


যে সকল পদ বা শব্দ কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর নামের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় তাকে সর্বনাম বলে, যেমন- সে, আমি, তুমি।


যে সকল পদ বা শব্দ দ্বারা কোনোকিছু করা খাওয়া বা সংঘটিত হওয়া বোঝায় তাকে ক্রিয়া বলে, যেমন- পড়া, খাওয়া, ঘুমানো।


যে সকল শব্দ বা পদ দ্বারা কোনো বিশেষণ বা ক্রিয়া পদের পরিমাণ বা তুলনা প্রকাশ পায় সে সকল শব্দ কে ক্রিয়া বিশেষণ বলে, যেমন- খুব, তীব্র, অল্প। অর্থাৎ অল্প শীত, এখানে অল্প শব্দটি দ্বারা শীতের পরিমাণ প্রকাশ পাচ্ছে তাই অল্প শব্দটি একটি ক্রিয়াবিশেষণ।


যে সকল শব্দ বা পদ সাধারণত দুটি পদ বা শব্দের মাঝে বসে বা একটি বাক্যের দুটি অংশের মাঝে বসে তার আগের অংশের সাথে পরের অংশকে যুক্ত বা যোগ করে তাকে যোজক বলে, যেমন- এবং, কিন্তু, অথবা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রহম এবং করিম স্কুলে যায়, এখানে রহিম ও করিম শব্দ দুটির মাঝে এবং শব্দটি বসে রহিম ও করিম কে যুক্ত করেছে।


যে সকল পদ বা শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে বা শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বাক্যে থাকা অন্য শব্দের সাথে সংযোগ স্থাপন করে তাকে অনুসর্গ বলে, যেমন- এর। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রহিমের (রহিম এর) কলম। এখানে "এর" শব্দটি একটি অনুসর্গ, রহিম শব্দের পরে বসে এটি রহিমের সাথে কলমের সম্পর্ক স্থাপন করেছে।


যে সকল শব্দ বা পদ দ্বারা বিষ্ময় বা আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশ পায়, সে সকল শব্দ কে বিষ্ময় পদ বা বিষ্ময় শব্দ বলে, যেমন- ওহ, উহু, য়ুহ, ওয়াও, হুররে।

শনিবার

DIASPORA - Paragraph

Paragraph about Diaspora


Here You Will find---

  • Write a paragraph about Diaspora
  • Diaspora paragraph
  • Paragraph Diaspora
  • Paragraph Diaspora in 200 words
  • SSC HSC Honours Masters Paragraph

Write a paragraph about Diaspora, Diaspora paragraph, Paragraph Diaspora, Paragraph Diaspora in 200 words, SSC HSC Honours Masters Paragraph
Diaspora - Paragraph


"DIASPORA"

Those who accept immigration are called immigrants or diaspora. Immigration refers to migration from one country to another. An diaspora is a person who leaves his country for permanent residence in another country. At present, a person who is permanently residing in another country for any need is called an immigrant or a diaspora. Numerous Bangladeshis are working and living as immigrants in different countries. However, people migrate from disaster and famine affected areas to disaster free areas. Basically, most people leave the country in danger. Many times people from war-torn countries migrate to neighboring countries. Many Bengalis who immigrated in 1971 are still living in India. The life of a diaspora often becomes difficult. It is very painful for a diaspora to leave his family behind. Rohingya refugees are living in Bangladesh as migrants due to persecution by the Myanmar government. U*kr*ai*ne has been at war with Ru*ss*ia, forcing mny U*kr*ai*nia*ns to emigrate to neighboring countries. An immigrant or a diaspora never gets the same benefits as a permanent citizen of the country. So diaspora life is very dependent. Since people in danger are diasporas. So we should get along well with the diasporas. Diasporas play a role in the economic development of the country in tandem with the local citizens of the country. Therefore, every government should provide various facilities to the immigrants or diasporas.



নিচে অনুবাদ বা অর্থ প্রদান করা হলঃ


"অভিবাসী"

যারা অভিবাসন গ্রহণ করেন তাদের অভিবাসী বলা হয়।  এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থান্তর কে অভিবাসন বোঝায়। অভিবাসী এমন একজন ব্যক্তি যিনি তার দেশকে অন্য দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ছেড়ে যান। বর্তমানে, যে কোনও ব্যক্তি স্থায়ীভাবে অন্য দেশে যে কোনও প্রয়োজনে বাস করছেন তাকে অভিবাসী বলা হয়। অসংখ্য বাংলাদেশীরা বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হিসাবে কাজ করছেন এবং জীবনযাপন করছেন। তবে লোকেরা দুর্যোগ এবং দুর্ভিক্ষে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলগুলি থেকে দুর্যোগমুক্ত অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়। মূলত, বেশিরভাগ মানুষ  বিপদে পড়ে অভিবাসী হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলির লোকেরা অনেক সময়  প্রতিবেশী দেশগুলিতে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৭১ সালে অভিবাসিত অনেক বাঙালি এখনও ভারতে বসবাস করছেন। একজন অভিবাসীর জীবন প্রায়শই কঠিন হয়ে যায়। একজন অভিবাসীর পক্ষে তার পরিবারকে পিছনে ফেলে রাখা খুব বেদনাদায়ক। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা মিয়ানমার সরকার কর্তৃক অত্যাচারের কারণে অভিবাসী হিসাবে বাংলাদেশে বাস করছে। ই*উ*ক্রে*ন রা*শি*য়া*র সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, অনেক ই*উ*ক্রে*নী*য়*কে প্রতিবেশী দেশগুলিতে চলে যেতে বাধ্য করেছে। একজন অভিবাসী কখনই দেশের স্থায়ী নাগরিকের মতো সুবিধা পান না। তাই অভিবাসী জীবন খুব নির্ভরশীল। যেহেতু বিপদে পড়ে লোকেরা অভিবাসী হয়। সুতরাং আমাদের অভিবাসীদের সাথে ভাল ব্যবহার করা উচিত। অভিবাসীরা দেশের স্থানীয় নাগরিকদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, প্রতিটি সরকারকে অভিবাসীদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা উচিত।

করোনা সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা

করোনা (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে সচেতন নাগরিকের করণীয়


প্রবন্ধ - রচনা - পত্র - এসাইনমেন্ট


করোনা মোকাবেলায় জনসচেতনতা বাড়াতে করণীয়, করোনা সংক্রমণ রোধে করণীয়
কোভিড-১৯ সচেতনতা


[এই প্রবন্ধটি ইংরেজীতে পেতে এখানে ক্লিক করুন>>>]


করোনাভাইরাস বর্তমান বিশ্বের এক আতংকের নাম। করোনাভাইরাস রোগ (সিওভিড -১৯) একটি সংক্রামক রোগ যা সদ্য আবিষ্কৃত করোন ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রন ও প্রতিহত করতে এখনো পর্যন্ত কার্যকরী কোনো ঔষুধ আবিষ্কৃত হয় নি। ফলে জন সচেতনতা ছাড়া করোনা মহামারী রূপ  নিতে বাধ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় এদেশে দ্রুত করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুকি ব্যপক ও বিস্তৃত। 


সাধারণত, COVID-19 ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত বেশিরভাগ মানুষ হালকা থেকে মাঝারি শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা নিয়ে ভোগে এবং বিশেষ চিকিত্সার প্রয়োজন ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে, করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত বয়ষ্ক ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য ঝুকি বেশি থাকে। এছাড়া কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ব্যপক।


বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। কিন্তু কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রনের জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন। মাক্স পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রন সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগ জনগন অশিক্ষিত ও অসচেতন। করোনার ঝুকি না ভেবে এরা পাবলিক বাসে ভিড় করে। রেল, ফেরি, লঞ্চ এর একি অবস্থা। ধর্মিও আচার ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞতার ফলে, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র বের হচ্ছে। এই অতি মহামারীর মাঝে নানারক ধর্মিও ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করছে। পাবলিক ট্রানেসপোর্ট ও পাবলিক প্লেসে জনগণের এমন খাপছাড়া আচারন বাংলাদেশে করোনাভাইরাস দ্রুত শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে।


[করোনা পজিটিভ হলে করণীয়, ক্লিক>>>]


বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ প্রতিহত করতে সরকারের পাশাপাশি নানারকম দেশি বিদেশি সংগঠন প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রনে সরকার 'লকডাউন' এর মতো নানারকম কর্মসূচী গ্রহণ করছে। কিন্তু বেশিরভাগ জনগোষ্ঠী দারিদ্র হওয়ায় কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য হচ্ছে। অসচেতনত এই জনগোষ্ঠী লকডাউন কে উপেক্ষা করার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মেনে না চলায় বাংলাদেশে করোনা দিন দিন মহামারী রূপ নিচ্ছে।


বাংলাদেশে প্রায় সারাবছরই নানারকম ধর্মীয় ও সামাজিক আচার অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। ঈদ, পূজা, বড়দিন এর মতো নানারকম ধর্মিও অনুষ্ঠানে লোকজন গাদাগাদি করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে। হ্যান্ডশেক ও কোলাকুলি এদেশের অন্যতম আচার ব্যবহার। এ দুইটি আচারন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারোন। নানারকম সামাজিক ফেস্টিভেলে যানবাহনে গাদাগাদি করে চলাচল করায় করোনাভাইরাস নিমেষে ছড়িয়ে পড়ছে। অসচেতন জনগণ মাক্স, স্যানিটাইজার ও সামাজিক দূরত্ব না মেনেই নানারকম ফেস্টিভালে যাতায়ত করে যা খুবি হতাশাজনক। নিয়ম না মানা অশিক্ষিত ও অসচেতন জনগনের অন্যতম বদঅভ্যাস।


বাংলাদেশের জনগনের সামাজিক দূরত্ব না মানার অন্যতম কারন এদেশের ঘনবসতিপূর্ণ জনসংখ্যা। ফলে, ইচ্ছা থাকলেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা অনেকটা অসম্ভব। ধর্মীয় জ্ঞান সীমিত থাকায় করোনার মতো মহামারী কে অনেকে অবহেলা করছে। সচেতনতার অভাবে অধিকাংশ জনগণ জনসমাগম এড়িয়ে চলছে না, সঠিক ভাবে মাক্স পরিধান করছে না, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছে না। অন্যদিকে, দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো মজবুত না হওয়াই সরকার কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও লকডাউনের মতো কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে পারছে না।


বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে । করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। করোনা থেকে মুক্ত হওয়ার পরেও এর ক্ষতিকর প্রভাব বহন করছে অনেকে। করোনার প্রকৃত চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার হয় নি। অপরদিকে করোনা উপসর্গ নিয়ন্ত্রনের ব্যয়বহুল চিকিৎসা পদ্ধতি হওয়াই দারিদ্র জনগণের করোনা মোকাবেলা প্রায় অসম্ভব। এতো ভয়াবহতা শর্তেও এদেশের জনগণ অসচেতন। বাংলাদেশের জনগণ সচেতন না হলে করোনা পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেবে। চা বা কফিশপে অকারণে আড্ডা দেওয়ার মতো আমাদের বাজে আচারন পরিবর্তন করা না গেলে করোনা মোকাবেলা অসম্ভব হয়ে দাড়াবে।


সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনগণের আচারনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস কে প্রতিহত করা সম্ভব। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা মহামারী মোকাবেলায় বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারি। ফেসবুক ও টুইটারের মতো সোশাল নেটওয়ার্কে সচেতনতামূলক পোস্ট শেয়ারের পাশাপাশি দেওয়াল পোস্টারিং ও মাইকিং এর মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে পারি। মাক্স ও স্যানিটাইজার ব্যবহারের উপকারিতা,  সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উপকারিতা সম্পর্কে প্রচার প্রচারনা করতে পারি। 'মাস্ক পরুন নইলে মরুন', 'নো মাক্স নো সার্ভিস', এর মতো শতর্ক মূলক উক্তি দিয়ে ব্যানার ফেস্টুন লিখে সচেতনতা বাড়াতে পারি। সরকারের টিকাদান কর্মসূচী বাস্তবায়নে জনগনকে করোনা টিকা গ্রহণে উৎসাহ প্রদান আমাদের অন্য আরেকটি দ্বায়িত্ব।  আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। সচেতন না হলে আমাদের অকাল মৃত্যু অবধারিত।

সোমবার

দূর্নীতির কারণ, প্রতিরোধ ও উন্নয়ন

দূর্নীতি কি, প্রকারভেদ, দূর্নীতি মুক্ত সামাজ ও উন্নয়ন


  • দূর্নীতি কি বা কাকে বলে 
  • দূর্নীতির সংজ্ঞা 
  • দূর্নীতি বলতে কি বোঝায়
  • দূর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় 
  • দূর্নীতি মুক্ত করন, প্রতিরোধ ও সামাজিক উন্নয়ন 
  • অনুচ্ছেদ, রচনা ও বিতর্ক


দূর্নীতি কি, দূর্নীতির কারণ, দূর্নীতি প্রতিরোধের উপায়, দূর্নীতির প্রকারভেদ, সামাজিক উন্নয়ন, দূর্নীতি মুক্ত সামাজ, উন্নয়ন, অনুচ্ছেদ, রচনা, বিতর্ক
দূর্নীতি বনাম উন্নয়ন



একটি অনুচ্ছেদ বা রচনা বা বিতর্ক বা আলোচনা করলে কেমন হয়? দূর্নীতি বনাম উন্নয়ন নিয়ে। আজ আমাদের আলোচনা বা অনুচ্ছেদ, রচনা বা বিতর্ক দূর্নীতি মুক্ত সমাজ বনাম উন্নয়ন নিয়ে।



দূর্নীতি মুক্ত সমাজ-ই উন্নয়নের পূর্ব শর্ত


ভূমিকাঃ

উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আমরা যখন উন্নত ডিজিটাল দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি তখন রেডিও, টিভি, ফেসবুক, টুইটার, ইনেস্টাগ্রাম বা বিভিন্ন সামাজিক সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের সর্বত্র চোখে পড়ে দূর্নীতি, দূর্নীতি এবং দূর্নীতি। দূর্নীতি যেন রাষ্ট্রের শিরা - উপশিরায়। দূর্নীতি মুক্ত সমাজ ছাড়া কোন জাতি, সম্প্রদায় এমন কি কোন রাষ্ট্র মুক্ত হতে পারে না। পারেনা নিজেকে উন্নতির চরম শিখরে অবতীর্ণ করতে।



দূর্নীতি কি, কাকে বলে বা দূর্নীতির সংজ্ঞাঃ

ইংরেজী "Corruption" শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ, "দূর্নীতি"। বিশিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাষক, স্টিফেন ডি. মরিস রাজনৈতিক দূর্নীতি সম্পর্কে বলেন,"Political corruption is the illegitimate use of public power to benefit a private interest." সুতারং, দূর্নীতি হলো এমন একটি কার্য, যেখানে অনৈতিক অর্থ প্রদানের কারণে তৃতীয় কোন পক্ষ সুবিধা ভোগ করে এবং প্রভাববিস্তার করে। এখানে দূর্নীতির সাথে যুক্ত পক্ষটি এবং তৃতীয় পক্ষ উভয়ি লাভবান হয় এবং এই কার্য্যে দূর্নীতিগ্রস্থ পক্ষটি থাকে নীরব কর্তৃপক্ষ।



দূর্নীতি বনাম অর্থনৈতিক উন্নয়নঃ

একটি দেশ বা সমাজের প্রধান চালিকাশক্তি তার অর্থনীতি। Microeconomics ও Macroeconomics বা ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতি কখনোই দূর্নীতি মুক্ত বা দূর্নীতি প্রতিরোধ ছাড়া টিকে থাকতে পারে না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, উর্ধ্ব মুখি জিডিপি (GDP) বা সামাজিক খাতে অগ্রগতির জন্য চাই দূর্নীতি মুক্ত অর্থনীতি। Transparency International এর সূচক অনুযায়ী বিশ্বের চরম দূর্নীতিগ্রস্থ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পাকাপোক্ত! দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্ব গতি করে তুলেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের পকেট ভর্তি। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বিসমিল্লাহ গ্রুপের অর্থ আত্মসাৎ সহ অগণিত অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারি যেন সামাজিক উন্নয়ন কে পিছে টেনে ধরছে।



রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক দূর্নীতি বনাম সায়াজিক উন্নয়নঃ

"প্রশাসন জনগনের বন্ধু" - যেন কিছুতেই মানা যাই না আর। ঘুষ, অনৈতিক লেনদেনের মতো অসংখ্য প্রশাসনিক দূর্নীতির জাঁতাকলে প্রশাসন যেন আজ ক্ষমতাবানদের হস্তগত। অর্থ আত্মসাৎ, প্রশাসনিক চাঁদাবাজি, রাষ্ট্রিয় ও ব্যক্তিগত সম্পদ দখলের মতো ঘটনা ঘটছে অহরহো। নিরীহ বা নির্দোষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নানারকম দূর্নীতির কারণে পোহাতে হচ্ছে নানারকম ভোগান্তি। প্রশাসনিক অনৈতিক কার্যকালাপের ফলে সমাজের একপক্ষ ধনী থেকে আরো ধনী এবং সুবিধার পর সুবিধা পাবার পাশাপাশি অন্য পক্ষ হয়ে পড়ছে গরীব থেকে আরো গরীব, নির্যাতিতা থেকে আরো নির্যাতিতা। দূর্নীতি মুক্ত প্রশাসনিক অবকাঠামো ছাড়া সামাজিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।



Legal Corruption বনাম Social Progress:

Legal Corruption বা আইনী দূর্নীতি সামাজিক অগ্রগতি তথা Social Progress এর অন্যতম অন্তরায়। বিচারব্যবস্থায় দূর্নীতির ফলে নির্দোষ ব্যক্তিকে সাজা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে অহরহো। এরকম ঘটনা সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।



দূর্নীতি বনাম সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিঃ

যারা দূর্নীতি করে তারা আজ সমাজের পরাক্রমশালী অংশ। সমাজে এদেরি গলার জোর বেশি। এরাই সম্মানিত। এদের বাইরে বাকি সকলে যেন মেরুদন্ড নিচু করে হাটছে। ভঙ্গুর, চক্রান্ত, দূর্নীতি গ্রস্থ সমাজ কখনো উন্নতি করতে পারে না।



শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে দূর্নীতি বনাম মেরুদণ্ডহীন জাতীঃ

দূর্নীতি আজ শিক্ষাক্ষেত্র যেন সম্পূর্ণ রূপে গ্রাস করে ফেলেছে। SSC, HSC সহ প্রায় সকল পাবলিক পরীক্ষা, ইউনিভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা, এমনকি চাকুরী বা নিয়োগ পরীক্ষা দূর্নীতি আজ আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে। এগুলো যেম দূর্নীতি চাষের শস্যক্ষেত্র। প্রশ্নপত্র ফাস, টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট প্রদান এমনকি নিয়োগ বানিজ্যে মেধা শূন্য হয়ে পড়েছে এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। সমাজ হয়ে পড়েছে মেধা শূন্য জাতী হয়ে পড়েছে মেরুদণ্ডহীন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে দূর্নীতির রূপ আরো ভয়াবহ। মৃত ব্যক্তিকে জীবিত ঘোষণা করে চিকিৎসা ফি নেওয়া, ভূয়া কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট প্রদান, হাসপাতালের একটি পর্দা ক্রয়ে এক কোটি টাকা খরচ দেখানোর মতো হাস্যকর সব দূর্নীতি এই চিকিৎসাব্যবস্থায়। নানা অনিয়ম আর দূর্নীতিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা সয়লাব। ভঙ্গুর চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়।



স্থানীয় প্রশাসন বনাম দূর্নীতিঃ

সামাজিক উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসন বিরাট ভূমিকা পালন করে। নানারকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন সর্বদা অগ্রণী ভূমকা পালন করে। COVID-19 এর কষাঘাতে সমাজ যখন জর্জরিত তখন গণমাধ্যমে খবর আসে ভিজিএফ কার্ড চুরি, মৃত ব্যক্তির নামে বৃদ্ধভাতা প্রদান, একই ব্যক্তিকে একাধিক বেকার ভাতা প্রদানের মতো নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের। স্থানীয় প্রশাসনের দূর্নীতির কারনে সমাজের এক শ্রেণী হয়ে পড়েছে সুবিধা বঞ্চিত। পঙ্গু সমাজব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।



রাজনৈতিক দূর্নীতি বনাম সামাজিক উন্নয়নঃ

কোন দেশের রাজনীতি সেই দেশের চালিকাশক্তি। রাজনীতি দূর্নীতি গ্রস্থ হলে সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, দেখা দেয় মুদ্রাস্ফীতি, সৃষ্টি হয় ধনী গরীব বৈষম্য। সমাজের এক শ্রেণী হয়ে পড়ে অভিভাবকহীন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হয়ে পড়ে রুদ্ধ। বণ্টন প্রক্রিয়া হয়ে পড়ে অসমো। সমাজে তৈরি হয় অসমো প্রতিযোগিতা যা সামাজিক উন্নয়নের অন্তরায়।



Digital Corruption বনাম সামাজিক উন্নয়নঃ

সাইভার ক্রাইম, কপিরাইট আইনের অপব্যবহার সহ নানা রকম ইন্টারনেট ভিত্তিক দূর্নীতি আজ রূপ নিয়েছে ডিজিটাল দূর্নীতির। সমাজ যখন ডিজিটাল দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে তখন ডিজিটাল দূর্নীতি বাধা হয়ে সামনে আসে। Graft, Blacmail, Extortion, Influence pedding, Networking abuse of discretion, Favoritism, Nepotism, Clientelism এর মত নানা প্রকার ডিজিটাল দূর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায়।



দূর্নীতি রোধে করণীয়ঃ

পঙ্গু সমাজ কেউ-ই প্রত্যাশা করে না। সামাজিক উন্নয়ন আর ডিজিটাল দেশ গড়তে দূর্নীতি মুক্ত সমাজ ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই। দুদক বা দূর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে দেশ কে দূর্নীতি মুক্ত করনে সরকারের নানামুখী কর্মসূচি ও পদক্ষেপ প্রশংসা যোগ্য। একমাত্র দূর্নীতি মুক্ত কোন সমাজি পারে নিজেকে মাথা উচু করে দাড় করাতে। প্রশাসনিক পর্যায়ে জবাবদিহিতা, দূর্নীতি রোধে কমিশন গঠণ, সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টি, ধর্মিয় কৃষ্টি কালচারের প্রতি শ্রদ্ধা, একচেটিয়া কর্তৃত্ব এবং যথেচ্ছা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার খর্ব করে, সেবাদান কর্মকান্ড কে বিকেন্দ্রীকরণ করে সমাজ কে দূর্নীতি মুক্ত করা সম্ভব।



উপসংহারঃ

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, "দূর্নীতি মুক্ত সমাজ-ই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। " "উন্নয়ন আর দূর্নীতি মাসতুতো ভাই।"- কথাটি একমাত্র দূর্নীতিবাজদের মুখেই মানায়। Petty Corruption, Grand Corruption, Systemic Corruption, Legal Corruption সহ সকল প্রকার দূর্নীতি রোধের মাধ্যমেই একমাত্র সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব। তাই, সরকার, ব্যক্তি ও সামাজিক সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোকে দূর্নীতি মুক্তকরনে এগিয়ে আসা উচিৎ। আমাদের শ্লোগান হওয়া উচিৎ, " দূর্নীতি নয়, আমরা উন্নয়ন চাই।"


কে মাহমুদ
২০-১২-২০২০