সোমবার

বসন্ত বা পক্সের চিকিৎসা - বিস্তারিত

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স হলে করণীয় ও দাগ দূর করার উপায়


এখানে যা থাকছে---

  • জলবসন্ত বা চিকেন পক্স কি
  • বসন্তের এলোপ্যাথি ও হোমিও চিকিৎসা
  • বসন্ত বা পক্স এর আয়ুর্বেদী ও ঘরোয়া চিকিৎসা
  • বসন্ত বা পক্সের দাগ দূর করার উপায়
  • বসন্ত হলে যা খেতে হবে
  • জলবসন্ত হলে যা খাওয়া ঠিক নয়

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স কি, বসন্তের চিকিৎসা, বসন্ত বা পক্সের দাগ দূর করার উপায়, বসন্ত হলে যা খাওয়া উচিত, বসন্ত বা পক্স হলে যা খাওয়া উচিত নয়
বসন্তের চিকিৎসা ও করণীয়


বসন্ত, জলবসন্ত বা চিকেন পক্স কিঃ

বসন্ত পক্স বা জলবসন্ত সাধারন্ত একটি ভাইরাস ঘটিত ক্ষতিকারক সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ। তাই বসন্ত পক্স বা জলবসন্ত হলে এন্টিবায়োটিক জাতীয় কোনো ঔষুধে প্রতিরোধ বা প্রতিকার করতে পারে না। প্রয়োজন হয় এন্টিভাইরাল জাতীয় ঔষুধের। বসন্ত বা পক্সের জন্য দায়ী ভাইরাস মানব শরীরে প্রবেশের পর ভাইরাসের বংশবিস্তার এর সাথে সাথে মানব শরীরে যে সকল প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তাকে বসন্ত, পক্স, জলবসন্ত বা চিকেন পক্স বলে। মজার ব্যপার হলো চিকেন বা মুরগীর সাথে চিকেন পক্স বা জলবসন্তের কোন সম্পর্ক নেই। তাই চিকেন পক্স বা জলবসন্ত হলে নির্ভয়েই মুরগীর মাংস বা চিকেন খাওয়া যায়। 



বসন্ত বা পক্স কেন হয় বা হওয়ার কারনঃ

বসন্ত বা পক্স এক ধরনের ভাইরাসঘটিত রোগ। মানুষ সহ পশু পাখির বসন্ত বা পক্স হয়ে থাকে। পক্স, বসন্ত বা জলবসন্তের জন্য দায়ি ভাইরাসের নাম ভেরিসেলা জোস্টার ভাইরাস (Varicella zoster virus)। মানুষের শরীরে যখন ভেরিসেলা জোস্টার নামক ক্ষতিকারক ভাইরাস প্রবেশ করে তখন পক্স বা বসন্ত হয়ে থাকে। সাধারন্ত শরীরে প্রবেশের পর উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে দ্রুত বংশ বিস্তার করতে থাকে এবং শরীরের ক্ষতিসাধন করতে থাকে ফলে বসন্ত রোগ দেখা দেয়।



বসন্ত বা পক্স কিভাবে ছড়ায়ঃ

ভাইরাস নানা ভাবে ছড়াতে পারে। বসন্ত বা পক্সের ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে, স্পর্শে, থুতু বা কাশির মাধ্যমে, ব্যবহৃত জামা কাপড় ও খাবার পাত্রের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। রোগীর ব্যবহার করা টয়লেট বা বাথরুমের মাধ্যমেও খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। ক্ষত শুকানো মামড়ি বা র‍্যাশে থাকা রস বা পুজের মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই বসন্ত রোগীর বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন।



বসন্ত পক্স বা জলবসন্তের প্রকারঃ

মানুষ এবং পশু-পাখি উভয়েরি বসন্ত বা পক্স হয়ে থাকে। এটি একটি অত্যান্ত ছোয়াচে রোগ। মানুষের শরীরে সাধারন্ত ২ ধরনের বসন্ত দেখা দেয়, যথা-

  • ১. গুটি বসন্ত (Small Pox)
  • ২. জলবসন্ত বা চিকেন পক্স (Chicken Pox)


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO এর তথ্য মতে অনেক আগেই পৃথিবী থেকে গুটি বসন্ত বিদায় নিয়েছে। বর্তমানে মানব শরীরে যে বসন্ত দেখা যায় তা মূলত জলবসন্ত বা চিকেন পক্স।



জলবসন্তের পূর্ব লক্ষনঃ

মানব শরীরে ভেরিসেলা জোস্টার ভাইরাস প্রবেশের ১০-২০ দিন পর বসন্তের লক্ষণ প্রকাশ পায়। বসন্ত প্রকাশ হওয়ার পূর্বে বা আগে শরীরে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে জ্বর কিম্বা পেটে সমস্যা দিয়ে। বসন্ত উঠার ৫-৭ দিন আগে যে সকল সমস্যা দেখা দেয় তার মধ্যে পেটে সমস্যা, গ্যাস, বমি বা বদহজম অন্যতম। মাথা যন্ত্রনার সাথে জ্বর থাকতে পারে। বসন্ত ওঠার আগের দিন শরীরে জ্বর দেখা দিতে পারে। পূর্ব লক্ষন দেখে বসন্ত হবার সম্ভাবনা তেমন ভাবে বোঝা যায় না। তাই বসন্তের লক্ষন বুঝতে গুটি ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তবে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত নিশ্চিৎ হওয়া যেতে পারে যে কারো শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করেছে কি না।



জলবসন্ত বা চিকেন পক্সের লক্ষনঃ

নিম্ন লিখিত লক্ষন গুলো দেখে আমরা বুঝতে পারি যে পক্স, বসন্ত, জলবসন্ত বা চিকেন পক্স হয়েছে কি না-

  • ১. মাথা যন্ত্রনার সাথে জ্বর দেখা দেয়।
  • ২. পেটে গ্যাস ও বদহজম, বমি থাকতে পারে।
  • ৩. শরীর হঠাৎ দূর্বল লাগতে শুরু করতে পারে।
  • ৪. শরীরে ঘামাচির মত লাল র‍্যাশ দেখা দেয়।
  • ৫. শরীরে চুলকানি দেখা দিতে পারে।
  • ৬. লাল র‍্যাশ গুলো দ্রুত জল বা পানি ভর্তি ঠোসা বা র‍্যাশে পরিবর্তিত হতে থাকে।
  • ৭. জল ভর্তি র‍্যাশ গুলো প্রথমে বুকে, মুখে, মাথায় তারপর ধীরে ধীরে শরীরের অন্যান্য স্থানে দেখা দিতে থাকে।
  • ৮. প্রচন্ড জ্বর এর সাথে খাদ্যে অরূচি ও গন্ধহীন অনুভূতি দেখা দিতে পারে।



জলবসন্ত প্রতিরোধে ভ্যাকসিন বা টিকাঃ

সুস্থ শরীরে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে জলবসন্ত বা চিকেন পক্সের ঝুকি থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। পক্স ভ্যাক্সিন সাধারন্ত ১ বছরের বেশি বয়সের শিশু থেকে শুরু করে যে কোন বয়সে নেওয়া যেতে পারে। সাধারন্ত বসন্ত, জলবসন্ত বা চিকেন পক্সের ভ্যাকসিন বা টিকা হিসেবে ২ ডোজ টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হয়। প্রথম ডোজ গ্রহণের পর কয়েক মাস বিরতির পর বুস্টার ডোজ নেওয়া হয়। টিকা গ্রহণের পর শরীরে ভেরিসেলা জোস্টার ভাইরাস এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পর্যাপ্ত ইমিউনিটি তৈরি হয় ফলে ভাইরাস শরীরে টিকে থাকতে পারে না। টিকা গ্রহণের পরেও অনেকের শরীরে অনেক সময় জলবসন্ত দেখা দিতে পারে তবে তেমন কোন সমস্যা বা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না। মানব শরীরে একবার বসন্তের ভাইরাস ঢুকলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় ফলে ২য় বার আর বসন্ত বা পক্স হবার সম্ভাবনা থাকেনা বললেই চলে। তবে দূর্বল ও বৃদ্ধদের ইমিউনিটি কম থাকায় একাধিক বার বসন্ত, জলবসন্ত বা চিকেন পক্স দেখা দিতে পারে।



জলবসন্ত হলে দ্রুত যা করা উচিতঃ

শরীরে জল বসন্তের র‍্যাশ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। দ্রুত সঠিক ঔষুধ গ্রহণ না করলে প্রচুর যন্ত্রনা ভোগ করতে হতে পারে। শরীরে প্রচন্ড জ্বর ও যন্ত্রনায় অনেকে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। বসন্ত হলে শরীরে প্রচুর ঘাম দেখা দিতে পারে। শরীর কে সুস্থ রাখতে এ সময় প্রচুর পানি বা জলপান করা উচিত। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি দ্রুত এন্টিভাইরাল ওষুধ সেবন করা উচিত যাতে বসন্তের অসয্য যন্ত্রনা থেকে সহজে রেহায় পাওয়া যায়।



জলবসন্ত হলে এলোপ্যাথি চিকিৎসাঃ

জলবসন্ত যেহেতু ভাইরাস ঘটিত রোগ তাই এর তেমন চিকিৎসা নেই বললেই চলে। তবে বর্তমানে কিছু এন্টিভাইরাল ড্রাগ বা ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে, বসন্তের লক্ষন দেখা দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যবহার করলে ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা যেতে পারে ফলে জল ভর্তি গুটি কম ওঠে এবং বসন্তের প্রচন্ড জ্বর, ব্যথা ও প্রকোপ  অনেকটা কমে থাকে। বসন্তের গুটি দেখা দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মাঝে বসন্তের এন্টিভাইরাল ওষুধ হিসেবে প্রতি ৪-৫ ঘন্টা অন্তর Acyclovir গ্রুপের এন্টিভাইরাল ট্যাবলেট খাওয়া শুরু করতে হবে। ২ বছরের বেশি বয়সের যে কারো জন্য 400 মিলি এবং ২ বছরের কম বয়সী দের জন্য 200 মিলি এর ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। প্রতি ৪-৫ ঘন্টা অন্তর সেবন অর্থাৎ ২৪ ঘন্টায় ৫ টি করে ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। গুটি ওঠা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ৫-৭ দিন ধরে এই ট্যাবলেট খেতে হবে। এতে ভাইরাস বংশবিস্তার করতে পারবে না ফলে শরীরে জল ভরা গুটি বা র‍্যাশের হার খুবি কম থাকবে এবং যন্ত্রনা কম হবে। এই ট্যাবলেট গ্রহণের সাথে সাথে ২৪ ঘন্টার মাঝে একটি ইন্ট্রাভেনাস ইঞ্জেকশন বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইনজেকশন শিরায় প্রয়োগ করতে হবে। তবে দূর্বল ব্যক্তি না হলে এই ইঞ্জেকশন না নিলেও চলে। নিম্নে জলবসন্ত বা চিকেন পক্স এর এলোপ্যাথি চিকিৎসা ও ওষুধের প্রেসক্রিপশন তুলে ধরা হলো-

  • ১. গুটি ওঠার ২৪ ঘন্টার মাঝে একটি ইন্ট্রাভেনাস ইঞ্জেকশন বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইনজেকশন শিরায় প্রয়োগ করতে হবে, দূর্বল ব্যক্তি না হলে এই ইনজেকশন নেওয়ার প্রয়োজন নাই তবে নিলে ভালো হয়।
  • ২. গুটি ওঠার ২৪ ঘন্টার মাঝে ২ বছরের বেশি বয়সের লোকের ক্ষেত্রে এন্টিভাইরাল হিসেবে জলবসন্তের ওষুধ Acyclovir 400মিলি এবং শিশু হলে Acyclovir 200 মিলি ট্যাবলেট প্রতি ৪-৫ ঘন্টা অন্তর ১ টি অর্থাৎ  প্রতি দিন ৫ টি করে ৫-৭ দিন সেবন করতে হবে।
  • ৩. পেটে গ্যাস থাকলে ওমিপ্রাজল বা ইসোমিপ্রাজল সকাল বিকাল খাবার খাওয়ার ১৫ মিনিট আগে খেতে হবে, যার যেটায় গ্যাস কমে সেটা নিতে হবে।
  • ৪. জ্বর ও ব্যথা কমাতে প্রতি দিন সকাল ও রাতে খাবার খাওয়ার পর ১ টি করে প্যারাসিটামল বা Ace XR ট্যাবলেট খেতে হবে। তবে কোন ক্রমেই এসপিরিন জাতীয় ট্যাবলেট খাওয়া যাবে না তাতে ভাইরাসঘটিত সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে। ছোটরা প্যারাসিটামল সিরাপ খেতে পারে।
  • ৫. বদ হজম ও খাদ্য চাহিদা ঠিক রাখার জন্য প্রতি দিন সকাল ও রাতে খাবার খাওয়ার পর ১ টি করে ডমপেরিডন ট্যাবলেট খেতে হবে।
  • ৬. চুলকানি বা এলার্জি নিবারনের জন্য প্রতিদিন সকাল ও রাতে খাবার খাওয়ার পর একটি করে সিটিরিজিন ট্যাবলেট খেতে হবে।
  • ৭. র‍্যাশ জল পূর্ণ হয়ে ফেটে গেলে অথবা গালিয়ে দিলে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে ঘা দ্রুত শুকানোর জন্যে  র‍্যাশ বের হবার ২ দিন পর থেকে প্রতিদিন প্রতি ৬ ঘন্টা অন্তর বা ২৪ ঘন্টায় ৪ টি করে খালি পেটে Flucloxacillin 500 জাতিয় ঔষুধ যেমন Flux 500 খেতে হবে। এবং গুটি শুকিয়ে খোসা উঠে যাওয়ার পরো বা শরীর থেকে ব্যথা ঘা মামড়ি দূর হওয়ার পরেও ২-৩ দিন এটা খেতে হবে এতে বসন্তের দাগ কম হবে এবং ভিতরে থাকা ঘা শুকিয়ে যাবে।
  • ৮. র‍্যাশের চুলকানি কমিয়ে আরাম দিতে বসন্তের গুটির উপর বা ঘা এর উপর অলিভ অয়েল অথবা ক্যালামাইন লোশন লাগাতে হবে, এবং কোন ক্রমেই চুলকানো যাবে না নইলে স্থায়ী দাগ পড়ে যাবে।
  • ৯. র‍্যাশ শুকিয়ে গেলে দ্রুত সেরে ওঠা ও খোসা ছাড়াতে ও দাগ রোধ করতে নানা রকম এন্টিব্যাকটেরিয়াল লোশন বা ক্রিম ক্ষত স্থানে লাগানো যেতে পারে। একটি এন্টিব্যাকটেরিয়াল ক্রিম যেমন, Bet-CL ক্রিম যা একমি ল্যাবরেটরি প্রস্তুত করেছে।
  • ১০. বসন্ত বা পক্স মুক্ত হবার পর কমপক্ষে এক মাস স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে এবং এই সময় ভিটামিন ও মিনারেল গ্রহণ করা যেতে পারে।



জলবসন্তের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ

হোমিওপ্যাথি তে ভাইরাসের তেমন চিকিৎসা নেই । তবে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করলে অনেকটা আরাম পাওয়া যেতে পারে। নিম্নে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও বসন্ত রোগ প্রতিরোধে হোমিও ঔষুধ সমূহ তুলে ধরা হলো-

  • ১. গ্রামে বা পরিবারের কারো জলবসন্ত দেখা দিলে পূর্ব প্রস্তুতি বা বসন্তের ভাইরাস যাতে ক্ষতি করতে না পারে সে জন্য প্রতিরোধক ও প্রতিশোধক হিসেবে Variolinum , Vaccininum অথবা Malandrinum সকালে ও বিকালে পর পর ৭ দিন খালি পেটে ২ ফোটা করে বাড়ির সকলের সেবন করতে হবে। উক্ত ওষুধ গুলোর মাঝে Malandrinum বেশি সমাদৃত ও ব্যবহৃত হয়।
  • ২. বসন্ত দেখা দিলে এবং উচ্চজ্বর, গায়ে ব্যথা ও শারীরিক দূর্বলতা রোধে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর কয়েক ফোটা Baptisia Q সেবন করতে হবে।
  • ৩. জলবসন্তের র‍্যাশ বের হবার সময় অস্থিরতা, মাথা ও পিঠে যন্ত্রনা থাকলে Cimicifuga 30 সেবন করতে হবে।
  • ৪. জলবসন্ত হলে সর্দি  বা কাশি থাকলে Bryonia 30 সেবন করার ১৫ মিনিট পর থেকে Antim Tart 30 সেবন করতে হবে।
  • ৫. মুখে লালা, গালে ক্ষত ও দূর্গন্ধ দূর করতে Marc Vivus 30 অথবা Rhus Tox 30 সেবন করতে হবে।
  • ৬. র‍্যাশে পুজ বা ক্ষতে পুজ দেখা দিলে এবং জ্বর রোধে Marc Sol 30 সেবন করতে হবে।
  • ৭. অসহ্য চুলকানির সাথে মুখ ফোলা ফোলা ভাব থাকলে Apis Mel 30 অথবা Sulphur 30 এর যে কোনটি সেবন করা যেতে পারে।
  • ৮. র‍্যাশে পুজ বা গুটি পাকার সময় Arsenic Lod 30 সেবন করতে হবে।
  • ৯. ক্ষত শুকিয়ে খোসা বা মামড়ি ওঠার সময়ে Kali Sulph 30 সেবন করতে হবে।
  • ১০. বসন্ত থেকে মুক্ত হওয়ার পর শরীর খুব দূর্বল থাকে, এই সময়ে China 30 সেবন করলে দূর্বলতা দূর হয়।
  • ১১. সুস্থ হবার পর শরীরের ক্ষয় ক্ষতি ও দূষণ মূক্ত করতে নিয়মিত ভাবে কয়েক সপ্তাহ Rhus Tox 30 সেবন করতে হবে।
  • ১২. জলবসন্তের বায়োকমিক ওষুধ রয়েছে, র‍্যাশ বের হবার সময় জ্বর থাকলে বায়োকমিক ঔষুধ হিসেবে Ferrum Phos 6x এর পাশাপাশি Kali Mur 6x পর্যায় ক্রমে সেবন করলে সুফল পাওয়া যায়।



জলবসন্তের ঘরোয়া বা আয়ুর্বেদী চিকিৎসা বা টোটকাঃ

জলবসন্ত হলে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি বা বাড়িতে থাকা নানা রকম উপকরণ প্র‍য়োগ ও অবলম্বন করে খুব সহজে উপকার পাওয়া যেতে পারে, যেমন-

  • ১. জলবসন্ত হলে প্রচুর পরিমাণে পানিপান করতে  হবে কারন এই সময়ে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি বের হয়, তা ছাড়া শরীর সুস্থ রাখতে পানির বিকল্প নেই।
  • ২. রসুনে রয়েছে এন্টিবায়োটিক। তাই জলবসন্তের ঘা থেকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ রোধ করতে সকালে ও বিকালে খালি পেটে রসুন খাওয়া যেতে পারে।
  • ৩. আদার রস হজম কারক। তাই চায়ের সাথে আদারস সেবনে হজম সমস্যা দূর করার পাশাপাশি অনেক উপকার পাওয়া যায়।
  • ৪. কাচা পেয়াজ রস সেবন করলে শরীরে উপকারি অনুজীবের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাই মাঝে মাঝে পেয়াজ রস খাওয়া যেতে পারে।
  • ৫. ফ্যানের বাতাস খুব আরামদায়ক। জলবসন্ত হলে শরীরে ঘাম দেখা দেয় যা খুব বাজে ব্যপার। ঘাম শুকাতে ও শরীর ঠান্ডা রাখতে গরমের সময় ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে এসি বা এয়ারকন্ডিশন এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
  • ৬. বসন্তের ঘা পেকে গেলে বা গুটি পেকে গেলে কাচা হলুদের রস ও গাওয়া ঘি এক সাথে মিশিয়ে পেস্ট করে গুটি এর উপর লাগালে দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং আরাম পাওয়া যায়।
  • ৭. পায়ের তলায় জ্বালা করলে চাল ধোয়া পানিতে পা ভিজিয়ে রাখলে আরাম পাওয়া যাবে।
  • ৮. ঘা শুকিয়ে এলে ডাবের জল দিয়ে গোসল করলে এবং মুখে থাকা শুকনো ঘা ও দাগের উপর বার বার লাগালে দাগ দ্রুত দূর হয়।
  • ৯. উষ্ম গরম জলে কিছু নিম পাতা বাটা ছেড়ে সেই জল দিয়ে নিয়মিত গোসল করতে হবে, তবে উচ্চ জ্বর থাকলে গোসল না করে কাপড় ভিজিয়ে তা দিয়ে শরীর হাল্কা করে মুছিয়ে দিতে হবে।
  • ১০. কেউ র‍্যাশ বের অবস্থায় যদি সব র‍্যাশ দ্রুত ও এক সাথে বের করতে চান এবং উপরে উল্লেখিত এলোপ্যাথি এন্টিভাইরাল ওষুধ সেবন না করতে চান তবে পাট পাতা ও মেথি ভেজানো জল দিয়ে গা মূছিয়ে দিলে অথবা শুধু মেথি ভেজানো জল খাওয়ালে অথবা কলমি শাকের রস খাওয়ালে অথবা করলার পাতার সাথে হলুদ গুড়া মিশিয়ে খাওয়ালে অথবা তেলাকুচার রসের সাথে কাচা হলুদের রস খাওয়ালে অথবা ব্রাহ্মী পাতার রসের সাথে মধু মিশিয়ে খাওয়ালে সমস্ত গুটি বা র‍্যাশ এক সাথে বেরিয়ে যাবে ফলে দ্রুত আরগ্য হওয়া যেতে পারে।
  • ১১. ঘা শুকিয়ে গেলে নিয়মিত ৩-৪ দিন নিমপাতা ও কাচা হলুদ বাটা শরীরে ভালো করে মেখে শুকিয়ে গেলে গোসল করতে হবে এতে জীবাণু দূর হওয়ার পাশাপাশি শরীর ফুরফুরে মনে হবে ও আরাম পাওয়া যাবে।



জলবসন্ত হলে কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিতঃ

বসন্তের ভাইরাস সাধারন্ত চর্বি জাতীয় খাদ্যে বেশি বৃদ্ধি পায়।  তা ছাড়া এই সময় খাদ্য কম হজম হয় এবং অরুচি দেখা দেয়। তাই বসন্ত বা পক্স হলে আমাদের এমন সব খাবার খাওয়া উচিৎ যা শরীরের ইমিউনিটি বাড়ায় এবং সহজে হজম হয়-

  • ১. কাচা পেপে সেদ্ধ বা ভর্তা খাওয়া যেতে পারে যা সহজে হজম হওয়ার পাশা পাশি এই সময় খুবি উপকারি। নরম ভাতের সাথে পেপে ভর্তা খুবি উপকারি।
  • ২. নানারকম ফল ও ফলের রস খাওয়া যেতে পারে। ভিটামিন সি এই সময় খুবি প্রয়োজনীয় তবে লেবুর রস খাওয়া ঠিক নয় কারন লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড যা মুখের ঘা বা ক্ষতে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই লেবু বাদে সকল প্রকার ফল ও ফলের রস খাওয়া যেতে পারে।
  • ৩. ডাবের জল খুবি উপকারি তবে কোন ভাবেই নারিকেল খাওয়া ঠিক হবে না কারন নারিকেল ভাইরাসের সহায়ক।
  • ৪. মাংস খাওয়া এই সময় খুবি প্রয়োজন কারন শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মাংসের ভূমিকা ব্যাপক। মুরগীর মাংস হলে সব চেয়ে ভালো। গরুর মাংস না খাওয়ায় ভালো কারন এতে প্রচুর চর্বি ও এতে অনেকের এলার্জি রয়েছে। এমন মাংস খাওয়া উচিৎ যা সহজে হজম হয় এবং চর্বির পরিমাণ খুবি কম।
  • ৫. ডিম একটি আদর্শ খাদ্য। তাই বসন্ত বা পক্স হলে প্রতিদিন ডিম খাওয়া উচিৎ তবে হাসের ডিম না খাওয়ায় ভালো কারণ এতে অনেকের এলার্জি রয়েছে।
  • ৬. জুস ও তরল খাবার বসন্ত বা পক্স হলে বেশি করে খাওয়া উচিৎ। মাছের ঝোল বা কারি বা স্যুপ এই সময় খুবি উপকারি। তবে চিংড়ি ও ইলিশ জাতীয় মাছ না খাওয়ায় উত্তম।
  • ৭. উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার দেহের জন্য উপকারি তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন মিনারেল ও ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
  • ৮. বসন্ত হলে ডাল খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীরে আরাম পাওয়া যায় এবং ডাল খুব মজাদার ও উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবারো বটে।
  • ১০. দৈ খুব হজম সহায়ক। মুখের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি বদ হজম দূর করতে এই সময় হালকা টক দৈ খাওয়া যেতে পারে।



বসন্ত বা পক্স হলে যা খাওয়া যাবে নাঃ

বসন্ত বা জলবসন্ত বা চিকেন পক্স হলে খাবার দাবারে সচেতন হওয়া উচিৎ। কোন ধরনের খাবার খাওয়া ঠিক নয় তা জেনে নেওয়া উচিৎ। কোন ধরনের খাবার খেলে পক্স বৃদ্ধি পায় বা ক্ষতি হয় তা জানার মাধ্যমে এর প্রকোপ থেকে রেহায় পাওয়া যায়। যদিও খাবারে ততোটা বাচ বিচার নেই তবুও নিম্ন লিখিত খাবারের ব্যপারে পক্স হলে সচেতন থাকা উচিত-

  • ১. চর্বি বা ফ্যাট জাতীয় খাবার ভাইরাস সহায়ক তাই  বসন্ত বা পক্স হলে চর্বি বা ফ্যাট জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। সাধারন্ত পনির, মাখন, বাদাম, নারকেল, চকলেট এ সময় না খাওয়ায় উত্তম।
  • ২. তেল ঝাল ও মসলা যুক্ত খাবার সব সময়ি শরীরের জন্য ক্ষতি কর। বসন্ত হলে তাই তেল চর্বি ও ঝাল যুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
  • ৩. আখরোট, চিনাবাদাম বা কিসমিস এর মতো আর্গনিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ঠিক নয়। এসকল খাবারে এক ধরনের এসিড ররেছে যা ভাইরাসের জন্যে সহায়ক।
  • ৪. বসন্ত হলে গমের আটা বা গমের আটার তৈরি কিছু না খাওয়ার অনেকে পরামর্শ্ব দেন। তাই বসন্ত হলে গমের আটার তৈরি খাবার না খাওয়া ভালো।


বসন্ত বা পক্স হলে করণীয়ঃ

  • ১. দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া।
  • ২. র‍্যাশ দেখা দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মাঝে এন্টিভাইরাল ওষুধ খেতে শুরু করা, প্রয়োজনে টিকা নেওয়া যেতে পারে।
  • ৩. পরিষ্কার, আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে থাকতে হবে।
  • ৪. প্রতিদিন হালকা গরম জলে নিম পাতার রস মিশিয়ে সেই জলে গোসল করতে হবে, সাবান বা স্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে তবে ঘসা মাজা করা যাবে না, কাপড় দিয়ে না ঘসে চেপে চেপে শরীর শুকাতে হবে।
  • ৫. গোসল করা সম্ভব না হলে হালকা গরম জলে নিম পাতার রস মিশিয়ে সেই জল দিয়ে বার বার শরীর মুছিয়ে দিতে হবে।
  • ৬. প্রতিদিন ২ বার পোশাক চেঞ্জ করতে হবে। ও নিয়মিত কাপড় ও বিছানা পরিষ্কার করতে হবে।
  • ৭. ঘন ঘন ক্যালরি ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ পুষ্টিকর তরল খাবার খেতে হবে।
  • ৮. নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। এন্টিভাইরাল ঔষুধটি নিয়ম মত খেলে আশা করা যায় পক্সের র‍্যাশ বা গুটি এবং যন্ত্রনা সবি কম হবে।
  • ৯. কখনো চুলকানো যাবে না, হাতের নখ ছোট করতে হবে তাহলে দাগ কম হবে।
  • ১০. বেশি করে পানি খেতে হবে, ডাবের জল নিয়মিত খেতে পারলে ভালো হয়।
  • ১১. বসন্তের ঘা বা র‍্যাশ বা গুটি নিয়ে ঘাটা ঘাটি করা যাবে না।
  • ১২. হালকা ও আরাম দায়ক পোশাক পরতে হবে।
  • ১৪. ক্ষত শুকালে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ক্রিম বা লোশন লাগাতে হবে।
  • ১৫. রোদে বের হওয়া যাবে না এবং পরিশ্রম করা যাবে না। সেরে গেলে ১ বছর যাবৎ বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
  • ১৬. পরিবারের সদস্য দের থেকে দূরে থাকতে হবে, নিজেকে ঘর বন্ধী করতে পারলে উত্তম এবং খাবার পাত্র সহ সব কিছু পৃথক করতে হবে যাতে ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে।
  • ১৭. র‍্যাশ উঠা শুরুর থেকে ঘা শুকিয়ে মামড়ি উঠে সম্পূর্ণ রূপে সকল মামড়ি ঝরে না পড়া পর্যন্ত বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে অর্থাৎ নিজেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে কারন এই সময়েই  ভাইরাস বেশি করে সংক্রামণ ঘটায় ও ছড়িয়ে পড়ে। তাই বাড়ির সদস্য বা গ্রামের অন্যকে ভাইরাস মুক্ত রাখতে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। 
  • ১৮. গুটি শুকিয়ে গেলে খোসা বা মামড়ি যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না, নির্দিষ্ট স্থানে রেখে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।



বসন্ত বা পক্সের দাগ দূর করার উপায়ঃ

পক্স বা বসন্তের দাগ খুবি গভীর ও মারাত্মক হয়ে থাকে। যদিও এই দাগ কিছু দিন পর নিজে নিজেই দূর হয় তবে সেটা অনেক সময় নেয়। পক্সের দাগ দূর করতে নিচের পদক্ষেপ গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে-

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স কি, বসন্তের চিকিৎসা, বসন্ত বা পক্সের দাগ দূর করার উপায়
বসন্তের দাগ হলে করণীয়


  • ১. পক্সের দাগ দূর করার চেয়ে আগে ভাবা উচিৎ দাগ যাতে কম হয়। এন্টিভাইরাল ওষুধ গ্রহণ করলে খুব কম র‍্যাশ বের হয় ফলে দাগো কম হয়। তাই প্রথম কাজ বসন্তের র‍্যাশ দেখার ২৪ ঘন্টার মাঝে এন্টিভাইরাল ওষুধ হিসেবে Acyclovir জাতীয় ওষুধ গ্রহণ শুরু করতে হবে।
  • ২. র‍্যাশ বের হলে কোন ক্রমেই নখ দেওয়া যাবে না এবং গুটি জলে ভরে গেলে ছোট অবস্থাতেই জীবাণুমুক্ত সুচ বা কাটা দিয়ে ফুট করে জল বের করে মুছে ফেলতে হবে।
  • ৩. গুটির উপরে এন্টিব্যাকটেরিয়াল লোশন বা ক্রিম লাগাতে হবে ও মুখে এন্টিব্যাকটেরিয়াল ট্যাবলেট সেবন করতে হবে যাতে দ্রুত ক্ষত শুকিয়ে যায়।
  • ৪. ক্ষত শুকিয়ে গেলে মামড়ি বা খোসা ওঠানো যাবে না যতক্ষণ না নিজে থেকে সেটা উঠে যাচ্ছে। তবে এন্টিব্যাকটেরিয়াল ক্রিম বা লোশল লাগালে দ্রুত নিজে থেকে সেটা উঠে যাবে।
  • ৫. বসন্ত সারার পরেও ৩-৪ দিন এন্টিব্যাকটেরিয়াল ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হবে।
  • ৬. নিয়মিত ডাবের জল খেতে হবে এবং সেই সাথে প্রতি দিন মুখে ডাবের জল লাগিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
  • ৭. ঔষুধের দোকানে নানান প্রকারে দাগ ওঠানো ক্রিম বা লোশন পাওয়া যায়, ডাক্তারের পরামর্শ্ব মত যে কোন একটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • ৮. পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে।
  • ৯. রাত জাগার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে, প্রতিদিন দাগের উপরে এলোভেরা লাগানো যেতে পারে যাতে দাগ দ্রুত দূর হবে।
  • ১০. দাগ গভীর ও ক্ষতের দাগ পুরু হলে ডাক্তারের পরামর্শ্ব মতে সার্জিক্যাল ব্যবস্থার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।



বসন্ত বা পক্স নিয়ে যত ভুল ধারণা বা কুসংস্কারঃ

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স নিয়ে নানান প্রকার ভুল ধারণা ও কুসংস্কার রয়েছে। এসব মিন বা কুসংস্কারের ফলে বসন্ত রোগী আরোগ্যলাভের বদলে মানষিক ও শারীরিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে। সমাজে প্রচলিত এসব কুসংস্কার গুলো নিম্নরূপ-

  • ১. বসন্ত বা পক্স হলে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম খাওয়া যাবে না। এটি মস্ত বড় একটি ভুল ধারণা। বরং বসন্ত হলে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম বেশি করে খাওয়া উচিত। কারণ বসন্তের ভাইরাস শরীরের ইমিউনিটি সস্টেমের সাথে যুদ্ধ করে। আর ইমিউনিটি সিস্টেম কে শক্তিশালী করতে প্রয়োজন নানারকম ভিটামিন, মিনারেল ও পুষ্টিকর খাবার। মাছ, মাংস, দুধ, ডিমে রয়েছে প্রচুর ক্যালরি। তাই বসন্ত বা পক্স হলে মাস, মাংস, দুধ, ডিম খাওয়া যাবে না এটা একটা ভুল ধারণা।
  • ২. বসন্ত হলে গরুর মাংস খেলে দ্রুত সেরে যায়। এই ধারণাটি ভুল। গরুর মাংস ইমিউনিটি এর জন্যে ভালো হলেও এতে রয়েছে প্রচুর চর্বি তাই বসন্ত হলে না খাওয়ায় উত্তম। তা ছাড়া গরুর মাংসে অনেকের এলার্জি রয়েছে ফলে গরুর মাংস খেলে বা এলার্জি জাতীয় খাবার যেমন হাসের ডিম, বেগুন, পুইশাক ইত্যাদি খেলে শরীরে চুলকানি বেশি হতে পারে। তাই এই সময়ে এলার্জি জাতীয় খাবার না খাওয়ায় উত্তম।
  • ৩. বসন্ত বা পক্স হলে গোসল করা যাবে না। এটি আর একটি ভুল ধারণা। গোসল না করলে শরীর চাঙ্গা থাকে না। আর বসন্তের দূর্বলতা দূরকরণে তাই গোসল করা জরুরী। হালকা গরম পানিতে নিমের রস যোগে নিয়মিত গোসল করা উচিত। অতিরিক্ত জ্বর থাকলে বার বার জলে কাপড় ভিজিয়ে শরীর ভালো করে মুছিয়ে দিলে আরাম পাওয়া যায়। তাই বসন্ত বা পক্স হলে গোসল করা যাবে না ধারণাটি ভুল।
  • ৪. ওষুধ খেয়ে পক্স বসানো যাবে না। ধারনাটি বিজ্ঞান সম্মত নয়। বসন্ত বা পক্সের জন্যে ভেরিসেলা জোস্টার ভাইরাস দায়ি। এই ভাইরাস কে শরীরে বাড়তে না দেওয়া কোনক্রমে খারাপ হতে পারে না। তাই এন্টিভাইরাল ওষুধ খেয়ে বসন্তের প্রকোপ কমিয়ে দেওয়া বা বিসিয়ে দেওয়া কখনোই খারাপ হতে পারে না।
  • ৫. বসন্ত বা পক্সের রোগীকে ঋতুমতী মহিলাদের নিকট,  আতুর ও মরার নিকট যেতে দেওয়া যাবে না। ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। ভাইরাস জাত পাত দেখে না। এটি যে কাওকে ধরতে পারে। তবে বসন্ত রোগী কখনোই অন্যের বা ঋতুমতী মহিলাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। বরং বসন্ত রোগী কে অন্যদের থেকে দূরে থাকা উচিত যাতে অন্যদের বসন্ত না হয়।
  • ৬. একবার বসন্ত হলে আর হয় না। ধারনাটি কিছুটা ভুল আবার কিছুটা সঠিক। কারো একবার বসন্ত হলে তার দেহে বসন্তের ভাইরাস প্রতিহত করার ইমিউনিটি জন্মায়। তাই নতুন করে শরীরে বসন্তের ভাইরাস প্রবেশ করলেও কিছু হয় না। তবে দূর্বল বা বৃদ্ধদের ইমিউনিটি কম থাকায় ভাইরাস প্রবেশ করে ক্ষতি করতে পারে তাই একাধিক বার বসন্ত বা পক্স হতে পারে।
  • ৭. গুটি জাতীয় কিছু খেলে বা মুসুর ডাল বা ভাজা পিঠা খেলে বসন্তের গুটি বেশি হয়। ধারনাটি ভুল। এসবে বসন্ত রোগীর কোন সমস্যা হয় না। তবে তেলে ভাজা পিঠা তেল যুক্ত হওয়ায় না খাওয়া ভালো।



শেষ কথাঃ

বসন্ত বা পক্স হলে অনেকে রোগীকে খারাপ চোখে দেখে। যা ঠিক নয়। দূরত্ব বজায় রেখে বসন্ত রোগীর সাথে কথা বলা ও গল্পকরা উচিত। কারন যে কারো পক্স বা বসন্ত হতে পারে। আর সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা সেরেও যায়। রোগীকে মারাত্মক মনে হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। যে কোন ঔষুধ ডাক্তারের পরামর্শ্ব মতে ব্যবহার ও সেবন করা উচিত। 




আজ এপর্যন্তই,

সকলের সুস্বাস্থ্য কামনায়---

কে-মাহমুদ

২৪-০৫-২০২১

নিচের বক্সে কমেন্ট করুন। আপনার প্রতিটি কমেন্ট আমাদের নিকট খুবি গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার কমেন্টের উত্তর আমরা যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব দিতে চেষ্টা করবো। আমাদের সাথেই থাকুন।
1timeschool.com
EmoticonEmoticon