পরিসংখ্যান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পরিসংখ্যান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার

প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র ও সহজ নিয়ম

চলকের পরিচয় সহ প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র ও নিয়ম


এখানে যা থাকছে---

  • প্রচুরক বলতে কি বোঝায়
  • প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র
  • আয়তলেখ থেকে প্রচুরক নির্ণয়
  • সারণি থেকে প্রচুরক নির্ণয়
  • চলকের পরিচয় সহ প্রচুরক নির্ণয়

প্রচুরক বলতে কি বোঝায়, প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র, আয়তলেখ থেকে প্রচুরক নির্ণয়, সারণি থেকে প্রচুরক নির্ণয়, চলকের পরিচয় সহ প্রচুরক নির্ণয়
প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র ও নিয়ম

পরিসংখ্যানে কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপক পদ্ধতি গুলোর মধ্যে প্রচুরক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্রচুরক সম্পর্কে ধারনার্জনের মাধ্যমে তথ্য উপাত্তের পরিমাপ ও প্রবণতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা পাওয়া সম্ভব। আমাদের আজকের আলোচনা পরিসংখ্যানে প্রচুরক নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি ও সূত্র নিয়ে।



প্রচুরক কি বা কাকে বলেঃ

প্রচুর থেকে প্রচুরক শব্দের উৎপত্তি। প্রচুর বলতে বেশি সংখ্যক বার আছে এমন অর্থ প্রকাশ করে থাকে। আর যে সংখ্যা বা যে জিনিস বেশি সংখ্যক বার আছে সেই সংখ্যাকে প্রচুরক বলে। অর্থাৎ পরিসংখ্যান বা তথ্য উপাত্তে প্রচুর বা বেশি সংখ্যক বার আছে এমন সংখ্যাকে তথ্য উপাত্তের প্রচুরক বলে। ইংরেজিতে প্রচুরক কে Mode বলে। Mode শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ ধরণ, প্রণালী বা আকৃতি। সুতারং প্রচুরক হলো সেই পরিসংখ্যানিক তথ্য উপাত্ত যে তথ্য উপাত্ত বেশি সংখ্যক বার আছে।



প্রচুরক নির্ণয়ের পদ্ধতি সমূহঃ

প্রচুরক নির্ণয়ের পদ্ধতি সমূহকে তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যেতে পারে-
  • ১. ছক বিহীন সাধারণ তথ্যের প্রচুরক নির্ণয়
  • ২. ছক যুক্ত সাধারণ গুরুত্ব যুক্ত তথ্যের প্রচুরক নির্ণয়
  • ৩. ছক যুক্ত শ্রেণি বিন্যাসকৃত তথ্যের প্রচুরক নির্ণয়
  • ৪. আয়তলেখ থেকে প্রচুরক নির্ণয়

নিম্নে প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র ও পদ্ধতি গুলো সহজ ও সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরা হলো।



ছক বিহীন সাধারণ তথ্যের প্রচুরক নির্ণয়ের পদ্ধতিঃ

যদি তথ্য উপাত্ত ছক বিহীন থাকে তবে প্রচুরক নির্ণয় করতে গেলে তথ্য উপাত্তের মাঝে যে সংখ্যা বেশি বার আছে সেই সংখ্যাই হবে প্রচুরক সংখ্যা। সাধারণ তথ্যের প্রচুরক নির্ণয় করতে দুটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে-
  • ১ম ধাপ- তথ্য উপাত্তকে বিন্যস্ত করতে হবে।
  • ২য় ধাপ- গণনা করে বেশি সংখ্যক তথ্য উপাত্ত বাছাই করে প্রচুরক নির্ণয় করতে হবে।

নিম্নে  ছক বিহীন সাধারণ তথ্যের প্রচুরক নির্ণয়ের পদ্ধতি উদাহরণের সাহায্যে দেখানো হলো-
৫, ১০, ৫, ১৫, ২০, ১৫, ১৮, ১৫ তথ্য গুলোর প্রচুরক নির্ণয় করতে হবে।
এখানে তথ্য গুলো ছক বিহীন সাধারণ।
সুতারং তথ্য গুলোকে মানের ঊর্ধ্ব ক্রমে সাজিয়ে বিন্যস্ত করে পাই- ৫, ৫, ১০, ১৫, ১৫, ১৫, ১৮, ২০।
এখানে, ৫ সংখ্যাটি ২ সংখ্যক বার করে আছে, ১৫ সংখ্যাটি ৩ সংখ্যক বার করে আছে এবং বাকি সংখ্যা গুলো ১ বার করে আছে।
যেহেতু ১৫ সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বার আছে সেহেতু এখানে প্রচুরক ১৫।

মনে রাখতে হবে-
  • ১. সবচেয়ে বেশি বার আছে এমন সংখ্যা কে প্রচুরক সংখ্যা বলে।
  • ২. তথ্য উপাত্তে কোনো সংখ্যা বেশি বার না থাকলে তখন উত্তর হবে, প্রচুরক নেই, যেমন - ৫, ১০, ১৫ এর প্রচুরক হবে, এখানে প্রচুরক নেই।
  • ৩. তথ্য উপাত্তে একাধিক সংখ্যা বেশি বার থাকলে প্রচুরক উভয় ধরণের সংখ্যা হবে, যেমন- ৫, ৫, ৫, ৭, ৭, ৯, ১০, ১০, ১০ সংখ্যা গুলোর প্রচুরক হবে ৫ ও ১০ কারণ এই সংখ্যা গুলো সবচেয়ে বেশি বার করে আছে।



ছক যুক্ত সাধারণ গুরুত্ব যুক্ত তথ্যের প্রচুরক নির্ণয়ঃ

উপরের সাধারণ তথ্য যখন ছক আকারে থাকে তখন তাকে গুরুত্ব যুক্ত সাধারণ তথ্য বলে। যেমন- ৫, ৫, ১০, ১৫, ১৫, ১৫, ১৮, ২০ এই সংখ্যা গুলো লক্ষ্য করি। এখানে ৫ আছে ২ বার অর্থাৎ গণসংখ্যা ২, আবার ১০ আছে ১ বার অর্থাৎ গণসংখ্যা ১, আবার ১৫ আছে ৩ বার অর্থাৎ গণসংখ্যা ৩, আবার ১৮ আছে ১ বার অর্থাৎ গণসংখ্যা ১ এবং ২০ আছে ১ বার অর্থাৎ গণসংখ্যা ১। এই সংখ্যা বা তথ্য গুলো এভাবে না থেকে তথ্য গুলো নিম্নের ছক আকারেও থাকতে পারে--


সংখ্যাগণসংখ্যা
১০
১৫
১৮
২০

উপরের তথ্যে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ৫ আছে ২ সংখ্যক বার অর্থাৎ ১ম ঘরে ২ টি ৫ আছে, ১০ আছে ১ সংখ্যক বার অর্থাৎ ২য় ঘরে ১০ আছে ১ টি, ১৫ আছে ৩ সংখ্যক বার অর্থাৎ ৩য় ঘরে ১৫ আছে ৩ টি, ১৮ আছে ১ সংখ্যক বার অর্থাৎ ৪র্থ ঘরে ১৮ আছে ১ টি এবং ২০ আছে ১ সংখ্যক বার অর্থাৎ ৫ম ঘরে ২০ আছে ১ টি।
তথ্য উপাত্তের এমন ছক সাধারণ ছক বিহীন তথ্যের মতই স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে বলে এমন ছক যুক্ত তথ্যের প্রচুরক উপরের ছক বিহীন সাধারণ তথ্যের প্রচুরক নির্ণয়ের পদ্ধতির মতই করতে হবে।
অর্থাৎ প্রদত্ত ছক যুক্ত সাধারণ তথ্যের প্রচুরক হবে-
এখানে, ৫ সংখ্যাটি ২ সংখ্যক বার করে আছে, ১৫ সংখ্যাটি ৩ সংখ্যক বার করে আছে এবং বাকি সংখ্যা গুলো ১ বার করে আছে।
যেহেতু ১৫ সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বার আছে সেহেতু প্রচুরক ১৫।



ছক যুক্ত শ্রেণি বিন্যাসকৃত তথ্যের প্রচুরক নির্ণয়ঃ

ছক যুক্ত শ্রেণী বিন্যাস কৃত তথ্যের প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র নিম্ন রূপ-
প্রচুরক বলতে কি বোঝায়, প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র, আয়তলেখ থেকে প্রচুরক নির্ণয়, সারণি থেকে প্রচুরক নির্ণয়, চলকের পরিচয় সহ প্রচুরক নির্ণয়
প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র

প্রচুরক,
M০=L+{f1÷(f1+f2)}×h
অথবা,
M০=L+{D1÷(D1+D2)}×h
অথবা,
M০=L+{◮1÷(◮1+◮2)}×h

উপরের সকল প্রকার সূত্র একি জিনিস শুধু প্রতীক বা চিহ্ন পরিবর্তন করে লেখা হয়েছে, এখানে চলকের পরিচয় হলো,
M০=প্রচুরক।
L=M০ শ্রেণীর বা প্রচুরক শ্রেণীর নিম্ন সীমা।
f1/D1/◮1=প্রচুরক শ্রেণীর গণসংখ্যা - প্রচুরক শ্রেণীর আগের শ্রেণীর গণসংখ্যা।
f2/D2/◮2=প্রচুরক শ্রেণীর গণসংখ্যা - প্রচুরক শ্রেণীর পরের শ্রেণীর গণসংখ্যা।
h=শ্রেণী ব্যাপ্তি।

বিস্তারিত বুঝতে নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন-

প্রচুরক বলতে কি বোঝায়, প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র, আয়তলেখ থেকে প্রচুরক নির্ণয়, সারণি থেকে প্রচুরক নির্ণয়, চলকের পরিচয় সহ প্রচুরক নির্ণয়
চলকের পরিচয় সহ প্রচুরক নির্ণয়


বুঝার সুবিধার্থে নিম্নে উদাহরণের সাহায্যে শ্রেণী যুক্ত তথ্যের প্রচুরক নির্ণয় করে দেখানো হলো-


শ্রেণীগণসংখ্যা
৬-১০
১১-১৫
১৬-২০
২১-২৫
২৬-৩০

প্রদত্ত তথ্যে গণসংখ্যা সর্বাধিক ৩ আছে ১৬-২০ শ্রেণীতে সুতারং এই শ্রেণী প্রচুরক শ্রেণী।
এখানে,
L=১৬ [প্রচুরক শ্রেণীর নিম্ন সীমা]
f1=৫-১=৪[প্রচুরক শ্রেণীর গণসংখ্যা বিয়োগ তার আগের শ্রেণীর গণসংখ্যা]
f2=৫-৩=২[প্রচুরক শ্রেণীর গণসংখ্যা বিয়োগ তার পরের শ্রেণীর গণসংখ্যা]
h=৫ [h বা শ্রেণী ব্যপ্তি বলতে একটি শ্রেণীতে যত গুলো সংখ্যা আছে তার পরিমাণ বোঝায় যেমন, ১৬-২০ শ্রেণীতে ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০ সংখ্যা গুলো আছে যার পরিমাণ ৫ টি তাই শ্রেণী ব্যপ্তি h=৫]

সূত্রে মাণ বসিয়ে পাই,
প্রচুরক M০=L+{f1÷(f1+f2)}×h
=১৬+{৪÷(৪+২)}×৫
=১৬+{৪÷৬}×৫
=১৬+০.৬৬৬৬৬৬৬৭×৫
=১৬+৩.৩৩৩৩৩৩৩৫
=১৯.৩৩৩৩৩৩৩৫ বা ১৯.৩৩



আয়তলেখ থেকে প্রচুরক নির্ণয়ঃ

আয়ত লেখের মাধ্যমে প্রচুরক নির্ণয়ের জন্য প্রথমে অবিচ্ছিন্ন শ্রেণী যুক্ত গণসংখ্যা সারণি তৈরি করে নিতে হবে। ছক কাগজে X অক্ষ বরাবর অবিচ্ছিন্ন শ্রেণী, Y অক্ষ বরাবর গণসংখ্যা, O কে মূলবিন্দু, শুরু বোঝাতে ভাঙ্গা চিহ্ন, X অক্ষ বরাবর প্রতি শ্রেণীর নিম্ন সীমা ও ঊর্ধ্ব সীমার মাঝে প্রতি ক্ষুদ্রতম বর্গের একি পরিমাণ একক বাহু, Y অক্ষ বরাবর ক্রমসংখ্যা গণনার ক্ষেত্রে বর্গের সমান সংখ্যক একক বাহু গণনা করে ছক কাগজে আয়ত লেখ অংকন করতে হবে।

আয়ত লেখ অংকন করার ২য় পর্যায়ে যে শ্রেণীর আয়ত লেখ সবচেয়ে উচু বা সর্বোচ্চ, সেই শ্রেণীর আয়ত লেখ কে তার পাশের আয়ত লেখ থেকে যে পরিমাণ উচু সে পরিমাণ কে কলম বা পেন্সিলের কালি দিয়ে ভিন্ন ভাবে ভরাট করে দিলেই আয়ত লেখের সাহায্যে প্রচুরক নির্ণয় হয়ে যাবে।

নিম্নে উদাহরণের সাহায্যে ব্যখ্যা করা হলো-


শ্রেণীগণসংখ্যা
৬-১০
১১-১৫
১৬-২০
২১-২৫
২৬-৩০

উপরোক্ত তথ্যের আয়ত লেখ অংকন করতে হবে।

সমাধান-
আয়তলেখ অংকনের জন্য আবিচ্ছিন্ন শ্রেণী যুক্ত গণসংখ্যা সারণি তৈরি করা হলো।


শ্রেণীঅবিচ্ছিন্ন শ্রেণীগণসংখ্যা
৬-১০৫.৫-১০.৫
১১-১৫১০.৫-১৫.৫
১৬-২০১৫.৫-২০.৫
২১-২৫২০.৫-২৫-৫
২৬-৩০২৫.৫-৩০.৫

[অবিচ্ছিন্ন শ্রেণি নির্ণয় করার নিয়ম হলো, প্রতি শ্রেনির নিম্ন সীমা থেকে ০.৫ বিয়োগ এবং প্রতি শ্রেণীর ঊর্ধ্ব সীমার সাথে ০.৫ যোগ]

নিচের চিত্রে ছক কাগজে আয়ত লেখ অংকন করা হলো-

প্রচুরক বলতে কি বোঝায়, প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র, আয়তলেখ থেকে প্রচুরক নির্ণয়, সারণি থেকে প্রচুরক নির্ণয়, চলকের পরিচয় সহ প্রচুরক নির্ণয়
আয়তলেখের মাধ্যমে প্রচুরক নির্ণয়


ছক কাগজে X অক্ষ বরাবর অবিচ্ছিন্ন শ্রেণী, Y অক্ষ বরাবর গণসংখ্যা, O কে মূলবিন্দু, শুরু বোঝাতে ভাঙ্গা চিহ্ন, X অক্ষ বরাবর প্রতি শ্রেণীর নিম্ন সীমা ও ঊর্ধ্ব সীমার মাঝে প্রতি ক্ষুদ্রতম বর্গের একি পরিমাণ একক বাহু, Y অক্ষ বরাবর ক্রমসংখ্যা গণনার ক্ষেত্রে বর্গের সমান সংখ্যক একক বাহু গণনা করে ছক কাগজে আয়ত লেখ অংকন করা হলো। আয়ত লেখের প্রচুরক শ্রেণীর আয়ত কে ভিন্ন রং করে দেখানো হলো।



প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র ও টিপসঃ

  • ১. সবচেয়ে বেশি গণসংখ্যা আছে এমন শ্রেণি কে প্রচুরক শ্রেণী বলে।
  • ২. প্রচুরক নির্ণয় করতে গণসংখ্যা সারণিতে অতিরিক্ত কোনো ঘর কাটার প্রয়োজন হয় না।
  • ৩. প্রচুরক নির্ণয়ের সূত্র L+{f1÷(f1+f2)}×h.
  • ৪. প্রচুরক শব্দটি প্রচুর বা বেশি পরিমাণ ধারণা থেকে উৎপত্তি ঘটেছে।
  • ৫. প্রচুরক একটি কেন্দ্রীয় প্রবনতার পরিমাপক পদ্ধতি।

বৃহস্পতিবার

কেন্দ্রীয় প্রবণতা বলতে কি বোঝায়

কেন্দ্রীয় প্রবণতা কি বা কাকে বলে - এর পরিমাপ পদ্ধতি


এখানে যা থাকছে---

  • কেন্দ্রীয় প্রবণতা বলতে কি বোঝায়
  • কেন্দ্রীয় প্রবণতা কি বা কাকে বলে
  • কেন্দ্রীয় প্রবণতার সংজ্ঞা
  • কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপের পদ্ধতি


কেন্দ্রীয় প্রবণতা বলতে কি বোঝায়, কেন্দ্রীয় প্রবণতা কি বা কাকে বলে, কেন্দ্রীয় প্রবণতার সংজ্ঞা, কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপের পদ্ধতি
কেন্দ্রীয় প্রবণতা ও এর পরিমাপ


পরিসংখ্যানিক তথ্য উপাত্যে কেন্দ্রীয় প্রবণতা খুবি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেন্দ্রীয় প্রবণতা সম্পর্কে সঠিক ধারনার্জনের মাধ্যমে পরিসংখ্যানে তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ, তথ্য উপাত্তের মাননির্ণয়, অনুধাবন ও গাণিতিক সমস্যা সমাধান সহ বাস্তবিক জীবনে পরিসংখ্যানিক পদ্ধতি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব সম্পর্কে অনুধাবন করা সম্ভব হয়। আমাদের আজকের আলোচনা কেন্দ্রীয় প্রবণতা সম্পর্কে। আজকের আলোচনার মাধ্যমে আশাকরি কেন্দ্রীয় প্রবণতার সংজ্ঞা, প্রয়োগ, কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপের পদ্ধতি ও প্রকারভেদ নিয়ে সকল অজানা তথ্য জেনে ও বুঝে, গাণিতিক সমস্যা সমাধান পূর্বক বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করতে পারবো। 



কেন্দ্রীয় প্রবণতা সম্পর্কে জানার পূর্বে যা জানা প্রয়োজনঃ

  • কেন্দ্র বা কেন্দ্রিয় বলতে কি বোঝায় - আমরা নিশ্চয় বৃত্তের কেন্দ্র সম্পর্কে জানি। বৃত্তের মাঝে অবস্থিত যে বিন্দুকে ঘিরে বৃত্তের পরিধি গঠিত হয় সেই বিন্দু কে বৃত্তের কেন্দ্র বিন্দু বলে। অর্থাৎ ঠিক মাঝের বিন্দু। আমরা নিশ্চয় টিকাদান কেন্দ্রের নাম শুনেছি। যে জায়গাকে মাঝে রেখে এর আশেপাশের জনগণের টিকা প্রদান করা হয়, সেই জায়গাকে টিকাদান কেন্দ্র বলে। অর্থাৎ মাঝের জায়গা। এমন অনেক উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ কেন্দ্র বলতে ঠিক মাঝের জায়গা বা মাঝামাঝি স্থান কে বোঝানো হয়ে থাকে। কেন্দ্র বলতে যেহেতু মাঝামাঝি স্থান কে বোঝায়, কেন্দ্রীয় বলতে তাই মাঝের বা মাঝের দিকে বোঝায়। কোনো কিছু মাঝ বরাবর থাকা কে কেন্দ্রীয় বলা হয়ে থাকে। পরীক্ষা কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ভোটদান কেন্দ্র ইত্যাদি কেন্দ্র সম্পর্কিত উদাহরণ। ইংরেজী Center শব্দের অর্থ কেন্দ্র এবং Central শব্দের অর্থ কেন্দ্রীয়।
  • প্রবণতা- প্রবণতা বলতে অধিক ইচ্ছা কে বোঝানো হয়। কোনো কিছু পাবার বা কোথাও যাওয়ার অধিক ঝোক বা ইচ্ছা কে প্রবণতা বলে। রহিমের সংবাদপত্র পড়ার ঝোক বা খুব ইচ্ছা রয়েছে এটা না বলে, রহিমের সংবাদপত্র পড়ার প্রবণতা রয়েছে, এটাও বলা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রবণতা বলতে অধিক ঝোক বা অধিক ইচ্ছা কে বা কিছু করার অভ্যাস কে বোঝানো হয়ে থাকে। বর্তমানে ছেলে মেয়েদের গেম খেলার নেশা বা ঝোক রয়েছে না বলে গেম খেলার প্রবণতা রয়েছে বলা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রবণতা হলো এক ধরনের অভ্যাস বা ইচ্ছা বা কিছু করার ঝোক। ইংরেজী Tendency শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ প্রবণতা।
  • পুঞ্জিভূত - পুঞ্জিভূত শব্দের অর্থ একত্রিত করা বা জমানো। ইংরেজী Accumulated শব্দের অর্থ পুঞ্জিভূত। চারিদিক থেকে এসে এক জায়গাতে এসে জড়ো হওয়া কে পুঞ্জিভূত বলে। শীতের দিনে আগুনের পাশে এসে জড়ো হয়ে বসা কে পুঞ্জিভূত হয়ে বসা বলা যেতে পারে। অর্থাৎ পুঞ্জিভূত বলতে চারিদিক থেকে এসে কোনো স্থানে জড়ো হওয়াকে বোঝানো হয়ে থাকে।



কেন্দ্রীয় প্রবণতা বলতে কি বোঝায়ঃ

ইংরেজী Central tendency অর্থ কেন্দ্রীয় প্রবণতা। আমরা আগেই জেনেছি কেন্দ্র শব্দের অর্থ মাঝামাঝি এবং প্রবণতা শব্দের অর্থ ইচ্ছা বা ঝোক। পরিসংখ্যানে তথা তথ্য উপাত্তে দেখা যায় যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাঝা মাঝি মানের গণসংখ্যা বেশি সংখ্যাক হয়। যেমন, সমাজে গরীব, মধ্যবিত্ত এবং ধনী লোকের সংখ্যা বা গণসংখ্যা গণনা করলে দেখা যাবে মধ্যবিত্ত লোকের গণসংখ্যা বা সংখ্যা বেশি বা পুঞ্জিভূত। বেটে, মাঝারি ও লম্বা লোকের সংখ্যা বা গণসংখ্যা গণনা করলে দেখা যাবে মাঝারি সাইজের লোকজন সমাঝে বেশি বা পুঞ্জিভূত আছে। ক্লাসে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী এবং খারাপ ছাত্র-ছাত্রী কম থাকে কিন্তু মধ্যম মানের ছাত্র-ছাত্রী বেশি থাকে। অর্থাৎ গণসংখ্যা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় প্রায় সব ক্ষেত্রেই মাঝামাঝি স্থানের গণসংখ্যা বেশি সংখ্যাক জড়ো বা পুঞ্জিভূত হওয়ার ঝোক বা প্রবণতা। মাঝামাঝি স্থানকে কেন্দ্র বলা হয়ে থাকে ঝোক কে প্রবণতা বলা হয়ে থাকে আর একত্রিত হওয়াকে বা জড়সড় হওয়াকে ভালো বাংলায় পুঞ্জিভূত বলা হয়ে থাকে। সুতারং কেন্দ্রীয় প্রবণতা হলো কেন্দ্রের দিকে জড়সড় বা পুঞ্জিভূত হওয়ার ঝোক বা প্রবণতা। অর্থাৎ তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে প্রায় সকল ক্ষেত্রে তথ্য উপাত্তের মাঝামাঝি মানের তথ্য উপাত্ত বেশি হওয়ার প্রবণতা। তাই, তথ্য উপাত্তের কেন্দ্রের দিকে পুঞ্জিভূত হওয়ার প্রবণতা কেই কেন্দ্রীয় প্রবণতা বা Central tendency বলে।



কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপের পদ্ধতি সমূহঃ

তথ্য উপাত্তে মাঝা মাঝি মানের গণসংখ্যা সবসময় বেশি হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। যাকে আমরা কেন্দ্রীয় প্রবণতা বলে থাকি। কেন্দ্রীয় প্রবণতা বা গণসংখ্যার মাঝামাঝি অবস্থান নির্ণয় করার ৩ টি পদ্ধতি রয়েছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপ ৩ টি, যথা-

  • ১. গড়
  • ২. মধ্যক
  • ৩. প্রচুরক


গড়, মধ্যক এবং প্রচুরক কি কারণে কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপ পদ্ধতি সে সম্পর্কে নিচে আলোকপাত করা হলো।



গড় কেন কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপের একটি পদ্ধতিঃ

ইংরেজী Average বা Mean শব্দের অর্থ গড়। এখানে গড় বলতে গড়ের দরে বা কম বেশি না ধরে মাঝা মাঝি মান কে বোঝানো হয়ে থাকে। ছোট বড় মিশিয়ে মাঝামাঝি দামে কিছু কেনা কে গড়পড়তা বা গড় দামে কেনা বলে। অর্থাৎ গড় বলতে মাঝামাঝি স্থানের মানকে বোঝায়। গণসংখ্যার মাঝামাঝি স্থান কে কেন্দ্র করে বেশি হওয়ার ঝোক কে কেন্দ্রীয় প্রবণতা বলে এবং গড় পদ্ধতির মাধ্যমে মাঝামাঝি মান নির্ণয় করা হয়। সুতারং গড় পদ্ধতিকে কেন্দ্রীয় প্রবণতার একটি পরিমাপক পদ্ধিতি বলে।



মধ্যক কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপের পদ্ধতি হওয়ার কারণঃ

ইংরেজী Median শব্দের অর্থ মধ্যক। মধ্যক বলতে মাঝামাঝি অবস্থান আছে এমন গণসংখ্যা কে বোঝানো হয়ে থাকে। যেহেতু মধ্যক পদ্ধতির মাধ্যমে গণসংখ্যার মাঝামাঝি মান বা অবস্থান নির্ণয় করা হয়, সেহেতু মধ্যক কে কেন্দ্রী প্রবণতার পরিমাপক বলা হয়ে থাকে।



প্রচুরক কেন কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপের পরিমাপকঃ

ইংরেজী Mode শব্দের অর্থ প্রচুরক। প্রচুরক বলতে প্রচুর বা বেশি সংখ্যাক বোঝায়। তথ্য উপাত্ত তথা গণসংখ্যায় সর্বদা প্রচুর বা বেশি সংখ্যাক একি ধরনের গণসংখ্যা থাকে ঠিক মাঝামাঝি বা কেন্দ্রের দিকে। তাই প্রচুরক পদ্ধতিকে কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপক বলা হয়ে থাকে।



কেন্দ্রীয় প্রবণতা সম্পর্কে মূল কথাঃ

  • ১. তথ্য উপাত্তের কেন্দ্রের দিকে পুঞ্জিভূত হওয়ার প্রবণতা কে কেন্দ্রীয় প্রবণতা বকে।
  • ২. কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপের পদ্ধতি তিনটি।
  • ৩. কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপ গুলো হলো, গড়, মধ্যক ও প্রচুরক।
  • ৪. গড় মাঝামাঝি মান নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয় বলে এটি কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপের পদ্ধতি।
  • ৫. মধ্যক মাঝামাঝি মান নির্ণয় করতে ব্যবহার করা হয়। তাই মধ্যক কেন্দ্রীয় প্রবণতার একটি পরিমাপক।
  • ৬. প্রচুরক সবসময় মাঝামাঝি স্থানে থাকে তাই প্রচুরক পদ্ধতি কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপের অন্যতম একটি পদ্ধতি।



উপরের আলোচনার মাধ্যমে আশাকরি, কেন্দ্রীয় প্রবণতা কি, কাকে বলে, এর সংজ্ঞা, কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপ বা নির্ণয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ভাবে জানতে বুঝতে ও ধারনার্জন করতে পেরেছি। কোনো প্রকার মন্তব্য থাকলে নিচে মন্তব্য বক্সে লিখে জানান।



সকলের শুভকামনায়----

কে-মাহমুদ

১-৭-২১

শুক্রবার

মধ্যক নির্ণয়ের সূত্র ও নিয়ম

মধ্যক নির্ণয় করার সহজ নিয়ম


এখানে যা থাকছে---

  • মধ্যক নির্ণয়ের সূত্রসমূহ
  • জোড় গণসংখ্যার মধ্যক
  • বিজোড় গণসংখ্যার মধ্যক
  • মধ্যক করার সহজ নিয়ম
  • চলকের পরিচয় সহ মধ্যক নির্ণয়

মধ্যক নির্ণয়ের সূত্রসমূহ, জোড় গণসংখ্যার মধ্যক, বিজোড় গণসংখ্যার মধ্যক, মধ্যক করার সহজ নিয়ম, চলকের পরিচয় সহ মধ্যক নির্ণয়
মধ্যক নির্ণয়ের সূত্র ও নিয়ম

মধ্যক কি বা কাকে বলেঃ

সাধারণত মধ্য বা মাঝের পদ বা সংখ্যা কে মধ্যক বলে। পরিসংখ্যানে (Statistics) মধ্যকের ভুমিকা অপরিসীম। ইংরেজি Median শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ মধ্যক। শুধু পরিসংখ্যান নয় সকল ক্ষেত্রেই আমরা মধ্যক বলতে তাকেই বুঝি যে মাঝে অবস্থান করে। অর্থাৎ যে কম নয় আবার বেশি নয়, যে নিচু নয় আবার উচু নয়, যে ছোট নয় আবার বড় নয়, যে ঠান্ডা নয় আবার গরম নয় এমন অবস্থানকে মধ্যক বলে। গল্পে গল্পে বলতে গেলে এক বৃদ্ধের তিন ছেলে ছিল। বড় ছেলের নাম ছিল রহিম। মেঝো ছেলের নাম ছিল করিম। আর ছোট ছেলের নাম ছিল যব্বার। বৃদ্ধের মেঝ বা মাঝের ছেলের নাম করিম এবং সে রহিমের চেয়ে বড় কিন্তু যব্বারের চেয়ে ছোট। সুতারং বৃদ্ধের ছেলেদের মাঝে মধ্যক ছেলে হলো করিম। করিম মধ্যক কারন সে বয়সের দিক দিয়ে তিন ছেলের মাঝে মাঝামাঝিতে অবস্থান করছে। অর্থাৎ মধ্যক বলতে গণসংখ্যার সেই মান কে বোঝায় যে মান বা সংখ্যা বা পদ ঠিক মাঝামাঝি অবস্থান করে।


ক্রমযোজিত গণসংখ্যা কি এবং নির্ণয় করার নিয়মঃ

ক্রম শব্দের অর্থ পর পর। যোজিত শব্দের অর্থ যোগ। সুতারং ক্রমযোজিত শব্দের অর্থ পর পর যোগ। মনেকরি রহিমের বয়স ৩, করিমের বয়স ২, যব্বারের বয়স ৬। এখানে রহিম করিম ও যব্বারের ক্রমযোজিত গণসংখ্যা হবে, ০+রহিম, ০+রহিম++করিম, ০+রহিম+করিম+যব্বার। অর্থাৎ ০+৩, ০+৩+২, ০+৩+২+৬ বা ৩, ৫, ১১। এখানে রহিমের আগে কোন সংখ্যা ছিল না তাই রহিমের সাথে ০ যোগ করা হয়েছে। করিমের আগে ০+রহিম ছিল বলে ০+রহিম+করিম করা হয়েছে, যব্বারের আগে ০+রহিম+করিম ছিল বলে ০+রহিম+করিম+যব্বার করা হয়েছে। এটি অন্য ভাবেও করা যায়, আগের যোগফল+রহিম, আগের যোগফল+করিম, আগের যোগফল+যব্বার। অর্থাৎ ০+৩=৩, ৩+২=৫, ৫+৬=১১ বা, ৩, ৫, ১১। নিম্নে ছকে চিত্রাকারে দেখানো হলো-

মধ্যক নির্ণয়ের সূত্রসমূহ, জোড় গণসংখ্যার মধ্যক, বিজোড় গণসংখ্যার মধ্যক, মধ্যক করার সহজ নিয়ম, ক্রমযোজিত গণসংখ্যার নিয়ম
ক্রমযোজিত গনসংখ্যা নির্ণয়ের নিয়ম


মধ্যক নির্ণয়ে fm বলতে কি বুঝায়ঃ

ইংরেজী Maximum Modulation Frequency এর সংক্ষিপ্ত রূপ fm. এখানে Maximum Modulation Frequency বলতে সর্বাধিক সূচিত গণসংখ্যা বা সর্বাধিক মড্যুলেশন ফ্রিকোয়েন্সি বলে। যে ঘরে মধ্যক অবস্থান করে সেই ঘরের গণসংখ্যা কে fm ধরা হয়।


মধ্যক নির্ণয়ে Fc বলতে কি বুঝায়ঃ

Carrier Frequency এর সংক্ষিপ্ত রূপ Fc. পরিসংখ্যানে Fc বলতে মধ্যক বহনকারী ক্রমযোজিত গণসংখ্যা কে বোঝানো হয়ে থাকে। যে ঘরে মধ্যক অবস্থিত তার আগের ঘরের ক্রমযোজিত গণসংখ্যা কে Fc বলা হয়ে থাকে।


মধ্যক নির্ণয়ের আগে যা জানা প্রয়োজনঃ

  • ১. মধ্যক নির্ণয়ের জন্যে পরিসংখ্যানিক তথ্য উপাত্তে গণসংখ্যা কে f দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
  • ২. পরিসংখ্যানিক তথ্য উপাত্তে মধ্যক নির্ণয়ের জন্য ক্রমযোজিত গণসংখ্যা কে F দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
  • ৩. মধ্যক নির্ণয়ের জন্য মধ্য মানের অবস্থান কে ক্রমযোজিত গণসংক্যায় Fc দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়।
  • ৪. গণসংখ্যা বোঝাতে ছোট হাতের f এবং ক্রমযোজিত গণসংখ্যা বোঝাতে বড় হাতের F ব্যবহার করা হয়।
  • ৫. মোট গণসংখ্যা বা তথ্য উপাত্তের মোট সংখ্যা কে আধুনিক পরিসংখ্যানে n ধরা হয়।
  • ৬. মধ্যকের মান সবসময় মাঝামাঝি হয়।
  • ৭. ছক যুক্ত বা ছক কৃত তথ্যে n/২ বা n÷২ করলে যে উত্তর পাওয়া যাবে, ক্রমযোজিত ঘরের সংখ্যা গুলোর মাঝে প্রথম যে ঘরে এই উত্তর থেকে বড় সংখ্যা দেখা যাবে সেই ঘর কে মধ্যক শ্রেণী ধরতে হবে।
  • ৮. ছককৃত তথ্যে ক্রমযোজিত গণসংখ্যার ঘরে অবস্থিত যে সকল সংখ্যা n/২ বা n÷২ থেকে ছোট তাদের মাঝে সবসময় Fc থাকে এবং এই ছোট সংখ্যা গুলোর শেষ ঘরের ক্রমযোজিত গণসংখ্যা কে Fc ধরা হয়।
  • ৯. যে ঘরে Fc ধরা হয় তার পরের ঘরকে মধ্যক ঘর বলা হয় এবং মধ্যক ঘরে মধ্যমান বা মধ্যক অবস্থান করে, মধ্যক ঘরের গণসংখ্যা কে fm বলা হয়।
  • ১০. বিজড় সংখ্যা কে দুই ভাগ করতে বা ২ দ্বারা ভাগ করতে গেলে তা ভাগ করা সম্ভব হয় না তাই বিজোড় সংখ্যা কে ২ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য বা ভাগ করতে সংখ্যাটির সাথে ১ যোগ করে জোড় বানিয়ে তারপর ভাগ করতে হয়।
  • ১১. মধ্যকের সূত্র L+(n/২-Fc)h/fm বা L+(n÷২-Fc)h÷fm এ চলকের বর্ণনা বা বিবরণ বা পরিচয়,  L = মধ্যক শ্রেণীতে থাকা শ্রেণী ব্যপ্তি ঘরের সর্বনিম্ন মান, n =  গণসংখ্যা,  Fc = মধ্যক শ্রেণীর আগের ঘরের ক্রমযোজিত গণসংখ্যা,  h = শ্রেণীর ব্যপ্তি বা সীমা (যে কোন শ্রেণীর সর্বচ্চ মান থেকে সর্বনিম্ন মান বিয়োগ করে তার সাথে ১ যোগ করলে h এর মান পাওয়া যাবে), fm = মধ্যক শ্রেণীর গনসংখ্যা।


মধ্যক নির্ণয়ে তথ্য উপাত্তের প্রকাশগত ধারনাঃ

তথ্য উপাত্তের অর্থাৎ পরিসংখ্যান বা statistics এ মধ্যক নির্ণয়ের জন্যে তথ্য উপাত্তের উপস্থাপনগত ধারনা থাকা আবশ্যক। তথ্য উপাত্ত আমরা নানা ভাবে প্রকাশ করতে পারি। বোঝার সুবিধার্থে তথ্য উপাত্তের প্রকাশ বা উপস্থাপনের উপর ভিত্তি করে তথ্য উপাত্তকে প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারি, যথা-

  • ১. ছক বিহীন তথ্য উপাত্ত।
  • ২. ছক যুক্ত তথ্য উপাত্ত।

ছক বিহীন তথ্য উপাত্ত আবার আমরা ২ ভাবে পেয়ে থাকি, যথা-

  • ১.ক. অবিন্যস্ত ছক বিহীন তথ্য উপাত্ত।
  • ১.খ. বিন্যস্ত ছক বিহীন তথ্য উপাত্ত।

বিন্যস্ত ছক বিহীন তথ্য উপাত্ত আবার ২ ধরনের হয়ে থাকে, যথা-

  • ১.খ.১. বিজোড় সংখ্যাক বিন্যস্ত ছক বিহীন তথ্য উপাত্ত।
  • ১.খ.২. জোড় সংখ্যাক বিন্যস্ত ছক বিহীন তথ্য উপাত্ত।

অন্যদিকে ছক যুক্ত তথ্য উপাত্ত আমরা প্রধানত ২ ভাবে পেয়ে থাকি, যথা-

  • ২.ক. শ্রেণীবিহীন ছক যুক্ত তথ্য উপাত্ত।
  • ২.খ. শ্রেণী যুক্ত ছক যুক্ত তথ্য উপাত্ত।

তথ্য উপাত্ত এমন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রকাশ বা উপস্থাপন থাকে বলেই মধ্যক নির্ণয়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ও সূত্র অবলম্বন করতে হয়। নিম্নে তথ্য উপাত্তের উপস্থাপনের উপর ভিত্তি করে মধ্যক নির্ণয়ের সূত্র ও প্রক্রিয়া গুলো সহজ ভাবে উপস্থাপন করা হলো।



মধ্যক নির্ণয়ের সূত্র সমূহঃ

  • ১. ছক বিহীন বিজোড় সংখ্যাক তথ্য উপাত্তের ক্ষেত্রে, মধ্যক= (n+১)/২ বা (n+১)÷২ তম পদ অথবা, মধ্যপদের মান-ই মধ্যক।
  • ২. ছক বিহীন জোড় সংখ্যাক তথ্য উপাত্তের ক্ষেত্রে, মধ্যক= {n/২ তম পদ + (n/২+১) তম পদ}/২ অথবা, {n÷২ তম পদ + (n÷২+১) তম পদ}÷২ অথবা, মধ্য পদ দুটির যোগফল /২ অথবা, মধ্য পদ দুটির গড়।
  • ৩. শ্রেণী বিহীন ছক যুক্ত তথ্যের মধ্যক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে, মধ্যক নির্ণয়ের জন্যে ক্রমযোজিত গণসংখ্যার ঘর কেটে গণসংখ্যা জোড় হলে n/২ বা n÷২ তম পদ বের করতে হবে আর বিজোড় হলে (n/২)+১ বা (n÷২)+১ তম পদ বের করতে হবে এবং ক্রমযোজিত গণসংখ্যায় প্রাপ্ত মানের অবস্থান দেখতে হবে। অতএব, মধ্যক= যে ঘরে মধ্যপদের অবস্থান সেই ঘরের মান।
  • ৪. শ্রেণী যুক্ত এবং ছক যুক্ত তথ্যের মধ্যক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে, মধ্যক নির্ণয়ের জন্যে আগের নিয়মেই ক্রমযোজিত গণসংখ্যার ঘর কাটতে হবে এবং গণসংখ্যা জোড় হলে n/২ তম পদ বের করতে হবে ও বিজোড় হলে (n/২)+১ বা (n÷২)+১ তম পদ বের করতে হবে। ছকে ক্রমযোজিত গণসংখ্যায় প্রাপ্ত মানের অবস্থান দেখতে হবে। ছকে চলকের অবস্থান ও মান ধরতে হবে এবং সূত্রে মান বসাতে হবে। অতএব, মধ্যক= L+(n/২-Fc)h/fm বা L+(n÷২-Fc)h÷fm.
মধ্যক নির্ণয়ের সূত্রসমূহ, জোড় গণসংখ্যার মধ্যক, বিজোড় গণসংখ্যার মধ্যক, মধ্যক করার সহজ নিয়ম, চলকের পরিচয় সহ মধ্যক নির্ণয়
মধ্যক নির্ণয়ের সূত্র


ছক বিহীন তথ্য উপাত্তের মধ্যক নির্ণয়ের সূত্র ও নিয়মঃ

আমরা পূর্বেই জেনেছি যে ছক বিহীন তথ্য উপাত্ত বিন্যস্ত ও অবিন্যস্ত উভয় ভাবে থাকতে পারে। ছক বিহীন তথ্যের মধ্যক নির্ণয়ের জন্যে কাজ গুলো নিম্নরূপ-

  • ১. প্রথম কাজ হবে তথ্য গুলোকে ছোট থেকে বড় অথবা বড় থেকে ছোট ক্রমে সাজিয়ে বিন্যস্ত করে নেওয়া।
  • ২. তথ্য উপাত্তের সংখ্যা বা গণসংখ্যা জোড় নাকি বিজোড় তা লক্ষ্য করা।
  • ৩. তথ্য উপাত্ত বা গণসংখ্যা জোড় হলে জোড়ের নিয়ম ও সূত্র প্রয়োগ করে মধ্যক নির্ণয় করা।
  • ৪. তথ্য উপাত্ত বা গণসংখ্যা বিজোড় হলে বিজোড়ের নিয়ম ও সূত্র প্রয়োগ করে মধ্যক নির্ণয় করা।

নিম্নে উদাহরণের সাহায্যে বিস্তারিত সহজ ভাবে তুলে ধরা হলো-

উদাহরণ-১ঃ

মনেকরি ৫, ১০, ৮ সংখ্যা গুলোর মধ্যক নির্ণয় করতে হবে।


ব্যাখ্যাঃ

প্রথত - এখানে তথ্য উপাত্ত এলোমেলো বা অবিন্যস্ত তাই মানের ঊর্ধ/অধঃ ক্রমে সাজিয়ে বিন্যস্ত করে নিতে হবে। এখানে, তথ্য উপাত্ত মানের ঊর্ধ্ব ক্রমে বা ছোট থেকে বড় সাজিয়ে বিন্যস্ত কিরে পাই, ৫, ৮, ১০

দ্বিতীয়ত - বিন্যস্ত করার পর তথ্য উপাত্তের সংখ্যা বা গণসংখ্যা গণনা করে দেখতে হবে এবং গনসংখ্যা জোড় না বিজোড় তা যাচাই করতে হবে। এখানে মোট তথ্য উপাত্তের সংখ্যা বা গণসংখ্যা ৩ টি যা বিজোড়।

তৃতীয়ত - এখানে গণসংখ্যা ৩ টি যা বিজোড় হওয়ায় বিজোড়ের সূত্র প্রয়োগ করতে হবে। ছক বিহীন তথ্যের গণসংখ্যা বিজোড় হলে তার ২ টি সূত্র প্রয়োগ করা যেতে পারে, যথা-

i) গণসংখ্যা বিজোড় হলে মধ্যক নির্ণয়ের সাধারণ সূত্র:
এখানে গণসংখ্যা বিজোড় অতএব,
মধ্যক = মধ্যপদের মান।
এখানে মধ্য পদ বা মাঝের পদের মান ৮, সুতারং মধ্যক ৮ ।
ii) গণসংখ্যা বিজোড় হলে মধ্যক নির্ণয়ের আধুনিক সূত্র:

এখানে গণসংখ্যা n = ৩, যা বিজোড় অতএব,
মধ্যক = (n+১)/২ তম পদ
= (৩+১)/২ তম পদ
= ৪/২ তম পদ
= ২ তম পদ
এখানে বিন্যস্ত উপাত্ত প্রথম থেকে গণনা করে পাই ২ তম পদ ৮, সুতারং মধ্যক ৮ ।


সমাধানঃ

তথ্য গুলো কে মানের ঊর্ধ্ব ক্রমে সাজিয়ে পাই, ৫, ৮, ১০
এখানে গণসংখ্যা ৩ যা বিজোড়
অতএব,
মধ্যক=মধ্যপদের মান,
এখানে মধ্যপদ ৮
অতএব, মধ্যক = ৮


অন্য নিয়ম

তথ্য গুলো কে মানের ঊর্ধ্ব ক্রমে সাজিয়ে পাই, ৫, ৮, ১০
এখানে গণসংখ্যা n= ৩ যা বিজোড়
অতএব,
মধ্যক= (n+১)/২ তম পদ
=(৩+১)/২ তম পদ
=৪/২ তম পদ
=২ তম পদ
এখানে ২ তম পদ ৮
অতএব, মধ্যক = ৮



উদাহরণ-২ঃ

মনেকরি ৫, ১০, ৮, ৬ সংখ্যা গুলোর মধ্যক নির্ণয় করতে হবে।


ব্যাখ্যাঃ

প্রথত - এখানে তথ্য উপাত্ত এলোমেলো তাই মানের ঊর্ধ ক্রমে সাজিয়ে বিন্যস্ত করতে হবে। এখানে, তথ্য উপাত্ত ঊর্ধ্ব ক্রমে সাজিয়ে পাই, ৫, ৬, ৮, ১০

দ্বিতীয়ত - বিন্যস্ত করার পর গনসংখ্যা জোড় না বিজোড় তা যাচাই করতে হবে। এখানে মোট গণসংখ্যা ৪ টি যা জোড়।

তৃতীয়ত - এখানে গণসংখ্যা ৪ টি যা জোড় তাই জোড়ের সূত্র প্রয়োগ করতে হবে। ছক বিহীন তথ্যে গণসংখ্যা জোড় হলে ২ টি সূত্র প্রয়োগ করা যায়, যথা-


i) গণসংখ্যা জোড় হলে মধ্যক নির্ণয়ের সাধারণ সূত্র:

এখানে গণসংখ্যা জোড় অতএব,
মধ্যক = মধ্যপদ দুটির গড় অথবা, (মধ্যপদ দুটির সমষ্টি বা যোগফল)/২।
এখানে মধ্য পদ দুটি বা মাঝের পদ দুটির মান ৬ ও ৮, সুতারং মধ্যক = (৬+৮)/২
= ১৪/২
= ৭


ii) গণসংখ্যা জোড় হলে মধ্যক নির্ণয়ের আধুনিক সূত্র:

এখানে গণসংখ্যা n = ৪, যা জোড় অতএব,
মধ্যক = {(n /২) তম পদ + (n/২+১) তম পদ }/২
= {(৪ /২) তম পদ + (৪/২+১) তম পদ }/২
= { (২ তম পদ) + (২+১) তম পদ}/২
= {২ তম পদ + ৩ তম পদ}/২
{৬ + ৮}/২ [এখানে, ২ তম পদ ৬ ও ৩ তম পদ ৮]
= ১৪/২
= ৭
অতএব, মধ্যক = ৭



সমাধানঃ

তত্য গুলো মানের ঊর্ধ্ব ক্রমে সাজিয়ে পাই, ৫, ৬, ৮, ১০
এখানে গণসংখ্যা ৪ যা জোড়
অতএব, মধ্যক = (মধ্যপদ দুটির যোগফল) /২
= (৬ + ৮)/২
= ১৪/২
= ৭


অন্য নিয়ম-


তত্য গুলো মানের ঊর্ধ্ব ক্রমে সাজিয়ে পাই, ৫, ৬, ৮, ১০
এখানে গণসংখ্যা ৪ যা জোড়
অতএব, মধ্যক = {n/২ তম পদ + (n/২+১) তম পদ}/২
= {৪/২ তম পদ + (৪/২+১) তম পদ}/২
= {২ তম পদ + (২+১) তম পদ}/২
= {২ তম পদ + ৩ তম পদ}/২
= {৬+৮}/২
= ১৪/২
= ৭


ছক যুক্ত তথ্য উপাত্তের মধ্যক নির্ণয়ের সূত্র ও নিয়মঃ

আশাকরি আমরা ইতিমধ্যে ছক বিহীন তথ্যের মধ্যক নির্ণয়ের সূত্র ও পদ্ধতি খুব সহজেই আয়ত্ত করতে পেরেছি। এবার আমরা শিখবো ছক যুক্ত তথ্যের মধ্যক নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি। ছক যুক্ত তথ্য সাধারণত ২ ভাবে থাকতে পারে, শ্রেণী বিহীন ও শ্রেণী যুক্ত। তাই ছক যুক্ত তথ্যের মধ্যক নির্ণয়ের পদ্ধতিকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। ছক যুক্ত তথ্যের মধ্যক নির্ণয় করতে গেলে নিম্নোক্ত ধাপ গুলো অনুসরন করতে হবে-

  • ১. প্রথমত - লক্ষ্য করতে হবে যে তথ্য গুলো শ্রেণী যুক্ত নাকি শ্রেণী বিহীন।
  • ২. দ্বিতীয়ত - ছকে নতুন একটি ঘর কাটতে হবে যার নাম হবে ক্রমযোজিত গনসংখ্যা এবং ক্রমযোজিত গনসংখ্যা নির্ণয় করতে হবে।
  • ৩. তৃতীয়ত - ছকে মান ধরে সূত্র ও নিয়ম অনুযায়ী মধ্যক নির্ণয় করতে হবে।

নিম্নে উদাহরণের সাহায্যে শ্রেণী বিহীন তথ্যের মধ্যক নির্ণয়ের নিয়ম বিস্তারিত ও সহজ ভাবে তুলে ধরা হলো-


উদাহরণ-৩ঃ



প্রাপ্ত নম্বর গনসংখ্যা (f)
৫০
৬০
৭০
৮০
৯০


ব্যাখ্যাঃ

উপরের তথ্য থেকে মধ্যক নির্ণয়ের ধাপ সমূহ হবে নিম্ন রূপ-

  • ১. উপরের তথ্য থেকে এটা দেখা যাচ্ছে যে প্রদত্ত তথ্য উপাত্তে বা গণসংখ্যা সারণিতে কোন প্রকার শ্রেণী বা শ্রেণী ব্যপ্তি বা শ্রেণী ব্যবধান নেই সুতারং এটি শ্রেণী বিহীন তথ্য উপাত্ত।
  • ২. ছকে থাকা তথ্যের মধ্যক নির্ণয় করতে গেলে সবসময় ক্রমযোজিত ঘর কাটতে হয়। সুতারং শ্রেণী বিহীন তথ্য উপাত্তের পাশে আরেকটি ক্রমযোজিত গণসংখ্যার ঘর কাটলে গণসংখ্যা সারণি দাড়ায়-

প্রাপ্ত নম্বর গনসংখ্যা (f) ক্রমযোজিত গণসংখ্যা (F)
৫০
৬০
৭০
৮০
৯০ ১০
n=১০

  • ৩. এই ধাপে সূত্র বা পদ্ধতি প্রয়োগ করে মধ্যক নির্ণয় করতে হবে। প্রদত্ত তথ্যে মোট গণসংখ্যা n=১০ যা জোড়।

অতএব, মধ্যক হবে এর মাঝামাঝি তম পদ বা মাঝের পদ। আমরা জানি কোন সংখ্যা কে ২ দিয়ে ভাগ করলে মধ্য সংখ্যা বের হয়। এ ক্ষেত্রে মধ্যক হবে মাঝামাঝি সংখ্যা অর্থাৎ n/২ তম পদ বা, ১০/২ তম পদ বা, ৫ তম পদ। (বিজোড় হলে (n+১)/২ তম পদ বের করতে হবে)

এবার ক্রমযোজিত গনসংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যায় যে ৫ থেকে ছোট ক্রমযোজিত গনসংখ্যা ১ম ঘরে যা ২, ৫ থেকে ছোট ক্রমযোজিত গনসংখ্যা ২য় ঘরে যা ৩। ৫ থেকে ছোট ক্রমযোজিত গণসংখ্যার আর কোন ঘর নেই। আমরা জানি যে n/২ এর মান বের করার পর তা থেকে ছোট ক্রমযোজিত গণসংখ্যা থাকা ঘর গুলোর পরের ক্রমযোজিত গণসংখ্যার ঘরে মধ্যমান অবস্থান করে। n/২ করে আমরা মান পেয়েছি ৫ এবং ১ম দুই ঘরের ক্রমযোজিত গণসংখ্যার মান ৫ থেকে ছোট। সুতারং মধ্যমান পাওয়া যাবে ২য় ঘরের পরের ঘরে, অর্থাৎ ৩য় ঘরে। ৩য় ঘরের ক্রমযোজিত গণসংখ্যা ৬, গণসংখ্যা ৩ এবং প্রাপ্ত নম্বর ৭০ এবং এটি মধ্যক শ্রেণী। এই শ্রেণীর প্রাপ্ত নম্বর ৭০ বলে মধ্যক ৭০। এই ধরনের ছক থেকে মধ্যক নির্ণয় করতে fm, Fc, L ও h এর মান প্রয়োজন হয় না। তাই এসবের মান ধরার বা দেখানোর আবশ্যকতা নেই।


সমাধানঃ

প্রাপ্ত তথ্য থেকে মধ্যক নির্ণয়ের জন্যে ক্রমযোজিত গনসংখ্যা সারণি তৈরি করি-

প্রাপ্ত নম্বর গনসংখ্যা (f) ক্রমযোজিত গণসংখ্যা (F)
৫০
৬০
৭০
৮০
৯০ ১০
n=১০

এখানে গণসংখ্যা n=১০ যা জোড় যা ২ দ্বারা বিভাজ্য
এখন, n/২ = ১০/২ = ৫
৫ তম পদ ক্রমযোজিত গনসংখ্যার ৬ মান বিশিষ্ট ঘরে অবস্থিত এবং এই শ্রেণীর মান ৭০
অতএব, মধ্যক = ৭০



উদাহরণ-৪ঃ

নিম্নে উদাহরণের সাহায্যে শ্রেণী যুক্ত তথ্যের মধ্যক নির্ণয়ের পদ্ধতি তুলে ধরা হলো-

শ্রেণী ব্যপ্তি গনসংখ্যা (f)
৪১-৫০
৫১-৬০
৬১-৭০
৭১-৮০
৮১-৯০

ব্যাখ্যাঃ

  • ১. উপরের তথ্যটি বা গণসংখ্যা সারণিটি শ্রেণী যুক্ত। সুতারং এই তথ্যের মধ্যক নির্ণয়ের জন্যে শ্রেণী যুক্ত পদ্ধতির নিয়ম অনুসরন করতে হবে।
  • ২. আমরা জানি ছকে থাকা তথ্যের মধ্যক নির্ণয় করতে গেলে ছকে ক্রমযোজিত ঘর কাটতে হয়। সুতারং গণসংখ্যা সারণির সাথে আরেকটি ক্রমযোজিত গণসংখ্যার ঘর টানলে গণসংখ্যা সারণি দাড়াবে-

প্রাপ্ত নম্বর গনসংখ্যা (f) ক্রমযোজিত গণসংখ্যা (F)
৪১-৫০
৫১-৬০ ৩(Fc)
৬১(L)-৭০ ৩(fm)
৭১-৮০
৮১-৯০১০
n=১০

  • ৩. ক্রমযোজিত গণসংখ্যা ঘর কাটার পর এই ধাপে সূত্র প্রয়োগ করতে হবে। এখানে মোট গণসংখ্যা n=১০ যা জোড়। আগেই বলা হয়েছে কোন সংখ্যা কে ২ দিয়ে ভাগ করলে মধ্য সংখ্যা বের হয়। এ ক্ষেত্রে মধ্যক শ্রেণী হবে n/২ তম পদ যে শ্রেণীতে আছে সেই শ্রেণী। n=১০ হওয়ায় মধ্যক শ্রেণী হবে ১০/২ তম পদ যুক্ত শ্রেণী বা, ৫ তম পদ যুক্ত শ্রেণী। (বিজোড় হলে (n+১)/২ তম পদ যুক্ত শ্রেণী বের করতে হবে)

এবার ক্রমযোজিত গনসংখ্যার ঘরে দেখা যায় ৫ থেকে ছোট ক্রমযোজিত গনসংখ্যা আছে ১ম ও ২য় ঘরে। আমরা জানি যে n/২ এর মান বের করার পর তা থেকে ছোট ক্রমযোজিত গণসংখ্যা থাকা ঘরের শেষ ঘরে থাকা মান কে Fc ধরা হয় এবং ৫ থেকে ছোট ক্রমযোজিত ঘর গুলোর পরের ক্রমযোজিত গণসংখ্যার ঘরে মধ্যমান অবস্থান করে। n/২ করে আমরা মান পেয়েছি ৫ এবং ১ম দুই ঘরের ক্রমযোজিত গণসংখ্যার মান ৫ থেকে ছোট। ১ম ঘরের ক্রমযোজিত সংখ্যা ২ এবং ২য় ঘরের ক্রমযোজিত সংখ্যা ৩। এখানে ৫ অর্থাৎ n/২ থেকে ছোট শেষ ঘরের মানকে Fc ধরা হয়। অতএব এখানে Fc=৩। অন্যদিকে ৫ থেকে বা n/২ থেকে ছোট ঘর গুলোর পরের ঘর মধ্যক শ্রেণী হয় বলে এখানে মধ্যমান পাওয়া যাবে ২য় ঘরের পরের ঘরে, অর্থাৎ ৩য় ঘরে। ৩য় ঘরের ক্রমযোজিত গণসংখ্যা ৬, গণসংখ্যা ৩ এবং শ্রেণী ব্যপ্তি ৬১-৭০ এবং এটি মধ্যক শ্রেণী। সুতারং fm হবে এই শ্রেণীর গণসংখ্যার মান অর্থাৎ fm=৩। আবার L এর মান মধ্যক শ্রেণীর শ্রেণী ব্যপ্তির নিম্ন সীমা বা প্রথম সংখ্যা। এখানে মধ্যক শ্রেণীর শ্রেণী ব্যপ্তি ৬১-৭০ এবং এখানে নিম্ন সীমা বা প্রথম সংখ্যা ৬১, অতএব L=৬১। আবার h বলতে (শ্রেণী ব্যপ্তির উচ্চ সীমা + নিম্ন সীমা) +১ কে বোঝায়। এখানে শ্রেণীর উচ্চ সীমা ৭০, নিম্ন সীমা ৬১। অতএব, h=(৭০-৬১)+১=৯+১=১০

উপরোক্ত মান গুলো মধ্যক নির্ণয়ের সূত্রে প্রয়োগ করলে দাড়াবে-


মধ্যক=L+(n/২-Fc)h/fm
=৬১+(১০/২-৩)১০/৩
=৬১+(৫-৩)৩.৩৩
=৬১+(২)৩.৩৩
=৬১+৬.৬৬
=৬৭.৬৬

অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা পায় যে-


n/২= মোট গণসংখ্যা কে ২ দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত ভাগফল
fm=মধ্যক শ্রেণী বা n/২ শ্রেণী বা n/২ থেকে ছোট শ্রেণীর পরের শ্রেণীর গনসংখ্যা।
Fc= n/২ এর মান থেকে ছোট ক্রমযোজিত গনসংখ্যার শেষ শ্রেণী বা মধ্যক শ্রেণীর আগের শ্রেণীর ক্রমযোজিত গণসংখ্যা।
L= মধ্যক শ্রেণী বা fm গণসংখ্যা বিশিষ্ট শ্রেণীতে থাকা শ্রেণী ব্যপ্তির সর্ব নিম্ন সংখ্যা।
h=মধ্যক শ্রেণির(শ্রেণী ব্যপ্তির বড় সংখ্যা-ছোট সংখ্যা)+১


সমাধানঃ

প্রদত্ত তথ্য হতে মধ্যক নির্ণয়ের জন্যে ক্রমযোজিত গবসংখ্যা সারণি তৈরি করি-

প্রাপ্ত নম্বর গনসংখ্যা (f) ক্রমযোজিত গণসংখ্যা (F)
৪১-৫০
৫১-৬০ ৩(Fc)
৬১(L)-৭০ ৩(fm)
৭১-৮০
৮১-৯০ ১০
n=১০

এখানে গণসংখ্যা n=১০ যা জোড় যা ২ দ্বারা বিভাজ্য
এখন, n/২ = ১০/২ = ৫
সারণিতে ৫ তম পদ ক্রমযোজিত গণসংখ্যায় মান ৬ এর মাঝে অবস্থান করতে পারে যা ৬১-৭০ শ্রেণীতে অবস্থিত
অতএব, ৬১-৭০ হবে মধ্যক শ্রেণী
এখানে চলকের মান, L=৬১, n=১০, Fc=৩, h=(৭০-৬১)+১=৯+১=১০, fm=৩
অতএব, মধ্যক=L+(n/২-Fc)h/fm
= ৬১+(১০/২-৩)১০/৩
= ৬১+(৫-৩)৩.৩৩
= ৬১+(২)৩.৩৩
= ৬১+৬.৬৬
= ৬৭.৬৬



আমরা ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম শ্রেণীতে ভাগ করার মধ্য দিয়ে মধ্যক সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা পেয়েছি। ৬ষ্ঠ শ্রেণী, ৭ম শ্রেণী এবং ৮ম শ্রেণীতে পরিসংখ্যান তথা তথ্য উপাত্ত সম্পর্কে অনেকটা ধারনা পেয়েছি। ৯ম শ্রেণী, ১০ম শ্রেণী, ১১ - ১২ বা একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীতে মধ্যক নির্ণয়ের অনেকটা ধারনার্জন করতে পেরেছি। অনার্স ও মাস্টার্সে সেই ধারার পূর্ণাঙ্গ ধারনার্জনের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে শিখেছি। আমরা সকলেরি মধ্যমণি হতে চাই। এখানেই মধ্যক নির্ণয়ের সার্থকতা। আশাকরি আজকের বিস্তারিত আলোচনা সহজ ভাবে সকলে মধ্যক সম্পর্কে ধারনার্জন করতে সাহায্য করবে।


সমস্যা হলে কমেন্ট করে জানাবেন।


শুভকামনায়----
কে-মাহমুদ
১৭-০৬-২১

গড় নির্ণয়ের সূত্র ও কৌশল

সহজ ও সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে গাণিতিক গড় নির্ণয়


  • গড় কি বা গড় কাকে বলে
  • সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়ের সূত্র
  • সহজ ও মজার পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়
  • গাণিতিক গড় নির্ণয়
  • গড় নির্ণয়ের সূত্র
  • গড় নির্ণয়ের পদ্ধতি ও প্রকারভেদ


গড় কি, গড় কাকে বলে, সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়ের সূত্র, সহজ পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়, গাণিতিক গড় নির্ণয়ের সূত্র ও পদ্ধতি, গড় নির্ণয়ের সূত্র,গড়ের প্রকারভেদ
গড় নির্ণয়ের সূত্র ও পদ্ধতি



বীজগনিত বা পাটিগণিতে পরিসংখ্যান বা Statistics অধ্যায়ে বা তথ্য উপাত্য অধ্যায়ে গড় বা গাণিতিক গড় কি, কাকে বলে বা গড় করার নিয়ম সম্পর্কে ভয় ও বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যায়। কিভাবে সমাধান করবো, গড় ও গাণিতিক গড় নির্ণয়ের পদ্ধতি কি একই? সংক্ষিপ্ত ও সহজ পদ্ধতিতে কিভাবে গড় নির্ণয় করতে হয়? এমন নানান প্রশ্ন দেখা দেয় ছাত্র ছাত্রীদের মনে। ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম থেকে শুরু করে এইচএসসি বা ১১-১২ শ্রেণি এমনকি অনার্স মাস্টার্স লেভেলেও গড় বিষয়টি খুবি গুরুত্বপূর্ণ। আজকের আলোচনা গড় সম্পর্কে বিস্তারিত। সহজ, সংক্ষিপ্ত ও কৌশলগত মজার পদ্ধতি প্রয়োগ করে বিষয়টি এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, আশাকরি সকলে গড় সম্পর্কে না বুঝে আর থাকবো না।



গড় কি বা কাকে বলেঃ

গড় কি বা গড় কাকে বলে অর্থাৎ গড় মানে কি, এসম্পর্কে বুঝতে গেলে একটি গল্প না বললেই নয়। মনে করো, তিন সাইজের ৩ টি ঘোড়া নিয়ে তুমি ঘোড়ার ব্যাবসা শুরু করলে। তোমার ইচ্ছা, লাল রং এর বড় ঘোড়াটি ৫০০০০ টাকায় বিক্রি করবে, সাদা রং এর মাঝারি সাইজের ঘোড়াটি বিক্রি করবে ৩০০০০ টাকায় এবং ছোট্ট কালো রং এর বাচ্চা ঘোড়াটি বিক্রি করবে ১০০০০ টাকায়। যদি তিনটি ঘোড়া এই দামে বিক্রি করো তবে তুমি মোট ৫০০০০+৩০০০০+১০০০০=৯০০০০ টাকা পাবে। অর্থাৎ তোমার তিনটি ঘোড়া বিক্রি করে ৯০০০০ টাকা পেলেই তুমি হ্যাপি বা সন্তুষ্ট। এখন, একটি লোক ঘোড়া কিনতে তোমার কাছে এল। সে বললো ভাই তোমার তিনটি ঘোড়ায় আমি নেবো, বড় ছোটো বুঝি না, রং চোং বুঝি না। আমি ছোট বড় সকল ঘোড়া একই দামে কিনবো এবং প্রতিটি ঘোড়ার দাম দিবো ৩০০০০ টাকা করে। তুমি বিষয়টি নিয়ে ভাবলে। তোমার তিনটি ঘোড়া বিক্রি করে ৯০০০০ টাকা প্রয়োজন ছিল। আর এই ক্রেতা প্রতিটি ঘোড়া যদি ৩০০০০ টাকা করে ক্রয় করে তবুও তোমার কোনো লোকসান হবে না। কারণ লাল রং এর বড় ঘোড়াটি যদি ৩০০০০ টাকায় বিক্রি করো তবে সাদা রং এর মাঝারি টিও ৩০০০০ টাকা বিক্রি করতে পারছো এমনকি ছোট্ট কালো ঘোড়াটিও বিক্রি করতে পারছো ৩০০০০ টাকায়। সুতারং ৩০০০০+৩০০০০+৩০০০০=৯০০০০ টাকা তুমি পেয়ে যাবে ফলে কোনো লোকসান হবে না। এবার উদাহরণ বা ঘোড়ার গল্পটি লক্ষ্য করো। ছোট বড় প্রতিটি ঘোড়া ৩০০০০ টাকা বিক্রি করলে যেহেতু যত টাকায় মোট বিক্রি করতে চেয়েছিলে সেই দাম পাচ্ছ সুতারং এই ৩০০০০ টাকাই হলো তিনটি ঘোড়ার গড় দাম! অর্থাৎ কিছু এলো মেলো তথ্য যদি এলো মেলো ভাবে না ধরে সমান হারে ধরা হয় তবে সেই সমান বা সাধারণ তথ্যই হলো গড় তথ্য বা গড়। ইংরেজীতে গড়কে Average বা Mean বা মীন বলে। গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয়ের পদ্ধতি কে x̄ Theory বা X বার থিওরি বলা হয়ে থাকে।



গড়ের প্রকারভেদঃ

গড়কে নানান ভাবে প্রকরণ করা যেতে পারে। বিশ্লেষণ ও ক্ষেত্রগত দিক দিয়ে গড় কে ৩ টি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ গড় ৩ প্রকার। যথা-

  • ১. গাণিতিক গড় বা Arithmetic Mean (এটি মূলত পাঠ্য বইয়ে থাকা গড়, যা নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে) 
  • ২. গুণিতক গড় বা Geometric Mean (আনুপাতিক হিসাব, পরিবর্তন বা শতকরা হিসাবের গড় বের করতে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে এই পদ্ধতিতে গড় বের করা হয়, নিম্ন শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ে এ পদ্ধতি না থাকায় এ বিষয়ে এখানে আলোচনা করা হবে না) 
  • ৩. তরঙ্গ গড় বা Harmonic Mean (শেয়ার প্রতি গড় আয়, টাকা প্রতি গড় আয় বা এমন ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে গড় নির্ণয় করা হয়ে থাকে, নিম্ন শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ে এ পদ্ধতি না থাকায় এখানে আলোচনা করা হবে না)

 

গাণিতিক গড় কি বা কাকে বলেঃ

গড় বলতে গাণিতিক গড়কেই বোঝায়। ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম বা উচ্চ শ্রেণীতে আমরা পরিসংখ্যান বা তথ্য উপাত্ত অধ্যায়ে যে গড় করি তা মূলত গাণিতিক গড়। গণিতের সূত্র প্রয়োগ করে গড় নির্ণয় করাকে গাণিতিক গড় বলে। অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে আমরা নিজ নিজ শ্রেণীতে যতো প্রকার গড় নির্ণয় করি তার সকল পদ্ধতি কেই গাণিতিক গড় বলে। তাই পরীক্ষায় গাণিতিক গড় করতে বললে বিশেষ কোনো পদ্ধতিতে গড় করতে হবে না। তুমি যতো প্রকারের গড় করেছো বা যে যে সূত্র ব্যবহার করে যে যে পদ্ধতিতে গড় নির্ণয় করেছো তার সবি গাণিতিক গড় বা গড়। ইংরেজীতে গড় বা গাণিতিক গড়কে Arithmetic mean বলা হয়ে থাকে।



এক নজরে গড় নির্ণয়ের পদ্ধতি সমূহঃ

নিচের চিত্রে ছক বা চার্ট আকারে গড় নির্ণয়ের পদ্ধতি সমূহ তুলেধরা হলো। আশাকরি চার্ট বা ছকটি গাণিতিক গড় বা গড় নির্নয়ের জন্য খুবি সহায়ক হবে-

গড় কি, গড় কাকে বলে, সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়ের সূত্র, সহজ পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়, গাণিতিক গড় নির্ণয়ের সূত্র ও পদ্ধতি, গড় নির্ণয়ের সূত্র,গড়ের প্রকারভেদ
গড় নির্ণয়ের ছক বা চার্ট




গড় নির্ণয়ের সূত্রঃ

গড় বলতে আমরা গাণিতিক গড়কে বুঝি। তাই বই এর সকল সূত্র বা পদ্ধতিই গাণিতিক গড় বা গড়। অপর দিকে তথ্য উপাত্ত বই এ ২ ভাবে দেওয়া থাকে, যথা-

  • ১. ছক বিহীন তথ্য 
  • ২. ছকে থাকা তথ্য


নিম্নে ছক বিহীন ও ছকে থাকা তথ্যের গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয়ের সূত্র বা পদ্ধতি সহজ ভাবে তুলে ধরা হলো।



ছক বিহীন তথ্যের গড় নির্ণয়ের সূত্রঃ

ছক বিহীন তথ্যের গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয়ের সূত্রটি হলো-

গড় বা গাণিতিক গড় = রাশি সমষ্টি ÷ রাশি সংখ্যা।

এখানে রাশিগুলোর সমষ্টি বলতে তথ্য উপাত্তের সমষ্টিকে বোঝানো হয়েছে এবং রাশি সংখ্যা বলতে তথ্য উপাত্তে থাকা গণসংখ্যাকে বোঝানো হয়েছে।


উদাহরণঃ

৩০, ১৫, ১০, ৩৫, ১০ তথ্য বা ছক বিহীন তথ্য গুলোর গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয় কর।


সমাধানঃ

প্রদত্ত তত্যের, রাশি সমষ্টি = ৩০ + ১৫ + ১০ + ৩৫ + ১০ = ১০০ এবং রাশি সংখ্যা = ৫ টি অতএব,

গড় বা গাণিতিক গড়=১০০÷৫=২০



ছকে থাকা তথ্যের গড় নির্ণয়ের সূত্রঃ

ছকে থাকা তথ্য সাধারন্ত দুটি ভাবে থাকে। যথা-

  • ১. গুরুত্ব যুক্ত ছকে থাকা তথ্যের গড় নির্ণয় 
  • ২. শ্রেণী যুক্ত ছকে থাকা তথ্যের গড় নির্ণয়


গুরুত্ব যুক্ত ছকে থাকা তথ্যের গড় নির্ণয়ঃ

গুরুত্ব যুক্ত ছকে থাকা তথ্যের গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয় করতে গেলে গুরুত্ব যুক্ত তথ্য সম্পর্কে আমাদের ধারনার্জন প্রয়োজন। তথ্য গুলো শ্রেণী ব্যাপ্তিতে বিভক্ত না করে যদি ছকে উপস্থাপন করা হয় তখন তাকে গুরুত্ব যুক্ত তথ্য ছক বা সারণী বলে। গণসংখ্যা সারণী থেকে গুরুত্ব যুক্ত তথ্যের গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয়ের জন্য অতিরিক্ত একটি ঘর কাটতে হয়। ঘরটির নাম, তথ্য x গণসংখ্যা। গুরুত্ব যুক্ত তথ্যের গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয়ের সূত্র হলো-

গড় বা গাণিতিক গড় = (তথ্য x গনসংখ্যর সমষ্টি) ÷ গনসংখ্যা।

নিচে ছবিতে সূত্রটি সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হলো-

গড় কি, গড় কাকে বলে, সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়ের সূত্র, সহজ পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়, গাণিতিক গড় নির্ণয়ের সূত্র ও পদ্ধতি, গড় নির্ণয়ের সূত্র,গড়ের প্রকারভেদ
গুরুত্ব যুক্ত তথ্যের গড় সূত্র



উদাহরণঃ

নিম্নের ছক থেকে গুরুত্ব যুক্ত তথ্যের গড় নির্ণয় করো-

টাকার পরিমাণ গণসংখ্যা
১০
১৫
৩০
৩৫


সমাধানঃ

গুরুত্ব যুক্ত তথ্যের গড় নির্ণয়ের জন্য সারণী তৈরী করা হলো-

টাকার পরিমাণ
(xi)
গণসংখ্যা
(wi) 
টাকার পরিমাণ x গণসংখ্যা
(xi.wi)
১০ ২০
১৫ ১৫
৩০ ৩০
৩৫ ৩৫
- মোট=৫ সমষ্টি=১০০

অতএব,
গড় বা গাণিতিক গড়= ১০০÷৫=২০



শ্রেণী যুক্ত ছকে থাকা তথ্যের গড় নির্ণয়ঃ

শ্রেণী যুক্ত বলতে শ্রেণী ব্যাপ্তি আছে এমন তথ্য উপাত্তকে বোঝানো হয়েছে। ৫-১০ বা ১৯-২০ এমন ভাবে শ্রেণীতে তথ্য থাকলে তাকে শ্রেণী যুক্ত তথ্য বলে। শ্রেণী যুক্ত তথ্যের গড় নির্ণয়ের ২ টি পদ্ধতি রয়েছে। যথা-

  • ১. সাধারণ পদ্ধতিতে গড় নির্ণয় (শ্রেণী যুক্ত ছকে থাকা তথ্য) 
  • ২. সংক্ষিপ্ত বা সহজ পদ্ধতিতে গড় নির্ণয় (শ্রেণী যুক্ত ছকে থাকা তথ্য)


 

সাধারণ পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়ের সূত্র - ছকে থাকা শ্রেণী যুক্ত তথ্যঃ

ছকে থাকা শ্রেণী যুক্ত তথ্যের গড় নির্ণয়ের সূত্র হলো-

গড় বা গাণিতিক গড় = (গণসংখ্যা x মধ্যমানের সমষ্টি) ÷ গণসংখ্যা

অন্যভাবে বলা যায়, গড় বা গাণিতিক গড়কে x̄, গণসংখ্যাকে fi, গণসংখ্যার সমষ্টিকে n, মধ্যমানকে xi ধরলে, গণসংখ্যা গুণ মধ্যমান হবে fi.xi এবং গণসংখ্যা গুণ মধ্যমানের সমষ্টি হবে ∑fi.xi সুতারং গড় নির্ণয়ের সূত্রটি হবে,

গড় বা গাণিতিক গড়, x̄=(∑fi.xi)÷n


নিচে ছবিতে সূত্রটি সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হলো-

গড় কি, গড় কাকে বলে, সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়ের সূত্র, সহজ পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়, গাণিতিক গড় নির্ণয়ের সূত্র ও পদ্ধতি, গড় নির্ণয়ের সূত্র,গড়ের প্রকারভেদ
শ্রেণী বিন্যাসকৃত তথ্যের গড় নির্ণয় সূত্র


শ্রেণী যুক্ত তথ্যের সাধারণ পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়ের জন্যে ছকে অতিরিক্ত দুটি ঘর কাটতে হয়। অতিরিক্ত ঘর দুটি হলো-

  • ১. শ্রেণীর মধ্যমান বা xi 
  • ২. মধ্যমান x গণসংখ্যা বা fi.xi


নিম্নে উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি সহজ ভাবে বোঝানো হলো।


উদাহরণঃ

প্রদত্ত তথ্যের গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয় করঃ

শ্রেণী ব্যাপ্তি গণসংখ্যা
১১-২০
২১-৩০
৩১-৪০
৪১-৫০


সমাধানঃ

গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয়ের জন্য (সাধারণ পদ্ধতি) ছক তৈরি করা হলো-

শ্রেণী ব্যাপ্তি শ্রেণীর মধ্যমান
(xi)
গণসংখ্যা
(fi)
শ্রেণীর মধ্যমান x গণসংখ্যা
(fi.xi)
১১-২০ ১৫.৫ ৩১
২১-৩০ ২৫.৫ ২৫.৫
৩১-৪০ ৩৫.৫ ৩৫.৫
৪১-৫০ ৪৫.৫ ৪৫.৫
------ ----- n=৫ ∑fi.xi=১৩৭.৫

অতএব,
গড় বা গাণিতিক গড়, 
x̄=(∑fi.xi)÷n বা, ১৩৭.৫ ÷ ৫ বা, ২৭.৫



সংক্ষিপ্ত বা সহজ পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়ের সূত্র - ছকে থাকা শ্রেণী যুক্ত তথ্যঃ

সংক্ষিপ্ত বা সহজ পদ্ধতিতে গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয় করতে গেলে ছকে অতিরিক্ত ৩ টি ঘর বেশি কাটতে হয়। ঘর গুলো হলো-

  • ১. মধ্যমান বা xi 
  • ২. ধাপ বিচ্যুতি বা ui 
  • ৩. গণসংখ্যা x ধাপ বিচ্যুতি বা fi.ui

গড় বা গাণিতিক গড়কে x̄, গণসংখ্যাকে fi, শ্রেণী ব্যাপ্তি কে h, গণসংখ্যার সমষ্টিকে n, মধ্যমানকে xi, অনুমিত শ্রেণীর মধ্যমানকে a, ধাপ বিচ্যুতি কে ui ধরলে গণসংখ্যা গুণ ধাপ বিচ্যুতি হবে fi.ui এবং গণসংখ্যা গুণ ধাপ বিচ্যুতির সমষ্টি হবে ∑fi.ui সুতারং সংক্ষিপ্ত বা সহজ পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়ের সূত্রটি হবে-

গড় বা গাণিতিক গড় = অনুমিত শ্রেণীর মধ্যমান + (গণসংখ্যা গুণ ধাপ বিচ্যুতির সমষ্টি ÷ গণসংখ্যা) x শ্রেণী ব্যাপ্তি।

অর্থাৎ-
x̄=a+(∑fi.ui÷n).h

নিচে ছবিতে সূত্রটি সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হলো-
গড় কি, গড় কাকে বলে, সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়ের সূত্র, সহজ পদ্ধতিতে গড় নির্ণয়, গাণিতিক গড় নির্ণয়ের সূত্র ও পদ্ধতি, গড় নির্ণয়ের সূত্র,গড়ের প্রকারভেদ
সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে গড় নির্ণয় সুত্র



এখানে, ধাপ বিচ্যুতি নির্ণয়ের জন্যে ছকের মাঝামাঝি একটি ঘরে শূন্য বা ০ ধরতে হয়। ঘর সংখ্যা জোড় হলে মাঝে দুটি ঘর থাকে সে ক্ষেত্রে যে দুটি ঘর মাঝে পড়ে তার নিচের টি তে ০ ধরতে হয়। এই শূন্য ধরা শ্রেণী বা লাইন টি হলো অনুমিত শ্রেণী। যে ঘরে ০ ধরা হবে তার আগের ঘরে -১, তার আগের ঘরে -২, তার আগের ঘরে -৩ এভাবে ঘর গুলো পূর্ণ করতে হবে। আবার যে ঘরে ০ ধরা হবে তার নিচের ঘরে +১, তার নিচের ঘরে +২, তার নিচের ঘরে +৩, তার নিচের ঘরে +৪ এভাবে পূর্ণ করতে হবে। এভাবে ধাপ বিচ্যুতি ঘর বা ui ঘর পূর্ণ করার পর যে ঘরে ০ ধরা হয়েছে সেই লাইনে বাম দিকে মধ্যমানের ঘরে যে মান থাকবে সেই মান হবে অনুমিত শ্রেণীর মধ্যমান বা a এর মান।


নিম্নে উদাহরণের মাধ্যমে সহজ বা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয়ের সূত্র ও পদ্ধতি সম্পর্কে বোঝানো হলো।


উদাহরণঃ

প্রদত্ত তথ্যের সহজ বা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয় করঃ

শ্রেণী ব্যাপ্তি গণসংখ্যা
১১-২০
২১-৩০
৩১-৪০
৪১-৫০

সমাধানঃ সহজ বা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে গড় বা গাণিতিক গড় নির্ণয়ের জন্য নিম্নে ছক তৈরি করা হলো-
শ্রেণী ব্যাপ্তি শ্রেণীর মধ্যমান
(xi)
গণসংখ্যা
(fi)
ধাপ বিচ্যুতি
(ui)
গণসংখ্যা x ধাপ বিচ্যুতি
(fi.ui)
১১-২০ ১৫.৫ -২ -৪
২১-৩০ ২৫.৫ -১ -১
৩১-৪০ ৩৫.৫=a
৪১-৫০ ৪৫.৫ +১
------ ------ n=৫ --- ∑fi.ui=-৪


এখানে অনুমিত শ্রেণী ৩১-৪০, কারণ এই শ্রেণীতেই বিচ্যুতি মান ০ ধরা হয়েছে, সুতারং এই শ্রেণীর মধ্যমান বা অনুমিত শ্রেণীর মধ্যমান a=৩৫.৫ এবং ৩১থেকে ৪০ পর্যন্ত ১০ টি সংখ্যা আছে, সুতারং শ্রেণী ব্যাপ্তি h=১০

অতএব, 
গড় বা গাণিতিক গড় x̄
= a+(∑fi.ui÷n).h
= ৩৫.৫ + (-৪÷৫) ১০ 
= ৩৫.৫ + (-০.৮)১০
= ৩৫.৫ + (-৮)
= ৩৫.৫ - ৮
= ২৭.৫


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ∑ এটি স্যামেশন এর চিহ্ন, যার অর্থ সমষ্টি বা যোগফল। ∑f বলতে বোঝায় f এর সমষ্টি আর একে, স্যামেশন অফ f, এভাবে পড়া হয়।


উৎপাদক নির্ণয়ের মজার ও সহজ সূত্র শিখতে এখানে ক্লিক করুন>>>


শুভকামনায় 

কে-মাহমুদ
৮-১-২০২১