আধুনিক চাষাবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আধুনিক চাষাবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার

বাছুরের পাতলা পায়খানার কারণ ও চিকিৎসা

বাছুরের পাতলা পায়খানার কারণ ও প্রতিকার


এখানে যা থাকছে---

  • বাছুরের সাদা উদারাময়
  • বাছুরের পাতলা পায়খানা
  • বাছুরের পাতলা পায়খানা হলে করণীয়
  • বাছুরের পাতলা পায়খানার চিকিৎসা 

বাছুরের সাদা উদারাময়, বাছুরের পাতলা পায়খানা, বাছুরের পাতলা পায়খানা হলে করণীয়, বাছুরের পাতলা পায়খানার চিকিৎসা
বাছুরের পাতলা পায়খানা চিকিৎসা


বাছুরের পাতলা পায়খানার (ডায়রিয়া) বিভিন্ন কারণ, প্রতিকার, প্রকার ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিচে তুলে ধরা হলো:



এই আর্টিকেলটি ভিডিও আকারে দেখতে নিচের ভিডিও আইকনে ক্লিক করুন:

বাছুরের সাদা উদারাময়, বাছুরের পাতলা পায়খানা, বাছুরের পাতলা পায়খানা হলে করণীয়, বাছুরের পাতলা পায়খানার চিকিৎসা
ভিডিও: গরুর পাতলা পায়খানা হলে করণীয়


বাছুরের পাতলা পায়খানার কারণ:

  • 1. ইনফেকশন: ভাইরাস (যেমন রোটাভাইরাস, করোনাভাইরাস), ব্যাকটেরিয়া (যেমন ই. কোলাই, স্যালমোনেলা), এবং প্যারাসাইট (যেমন ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়াম, কোক্সিডিয়া)। এসকল ভাইরাসের আক্রণে বাছুরের পাতলা পায়খানা দেখা দিতে পারে।
  • 2. খাদ্য: অপর্যাপ্ত বা অনুপযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, নতুন খাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য করতে না পারা। অর্থাৎ বাছুর অতিরিক্ত দুধ পান করলে বা অতিরিক্ত টক্সিন সমৃদ্ধ দানাদার খাদ্য গ্রহণ করলে পাতলা পায়খানা দেখা দিতে পারে।
  • 3. অপরিচ্ছন্নতা: অসচ্ছ জায়গায় থাকা, অপরিচ্ছন্ন পানি বা খাদ্য গ্রহণের ফলে বাছুরের পাতলা পায়খানা হতে পারে।
  • 4. প্রাকৃতিক কারণ: আবহাওয়ার পরিবর্তন, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরম।
  • 5. স্ট্রেস বা ধকল: পরিবেশগত বা সামাজিক পরিবর্তনের কারণে স্ট্রেস বা ধকল জনিত কারনে দূর্বল হয়ে ও খাদ্য পরিপাকে সমস্যার ফলে পাতলা পায়খানা দেখা দিতে পারে।




বাছুরের পাতলা পায়খানার প্রতিকার:

  • 1. পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা: বসতবাড়ি ও খাদ্যের সঠিক পরিস্কার রাখা।
  • 2. নিয়মিত টিকা: ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকা প্রদান।
  • 3. সঠিক খাদ্য: সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য প্রদান।
  • 4. পর্যাপ্ত পানি: পরিষ্কার ও সঠিক পরিমাণে পানি সরবরাহ।
  • 5. স্ট্রেস বা ধকল কমানো: বাছুরকে আরামদায়ক পরিবেশে রাখা।



বাছুরের পাতলা পায়খানার প্রকার:

  • 1. প্রাথমিক ডায়রিয়া: সাধারণত খাদ্য বা পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে হয়।
  • 2. দ্বিতীয়িক ডায়রিয়া: ইনফেকশন বা সংক্রমণের কারণে হয়।
  • 3. ক্রনিক ডায়রিয়া: দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কারণে হয়।



বাছুরের পাতলা পায়খানার চিকিৎসা পদ্ধতি:

  • 1. হাইড্রেশন: ডায়রিয়ার কারণে বাছুরের শরীরে পানির ঘাটতি পূরণের জন্য স্যালাইন (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন বা ইলেকটোলাইট) দেয়া। পর্যাপ্ত পরিমানে খাওয়াবেন।
  • 2. ঔষধ: ইনফেকশন নির্ণয় করে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ঔষধ (সালফাডিন বা মেট্রানিডাজল ট্যাবলেট বা ডায়াডিন ইঞ্জেকশন) প্রয়োগ। প্রয়োগ মাত্রা ঔষুধের গায়ে থাকা নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করুন।
  • 3. প্রোবায়োটিকস: অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রোবায়োটিকস (বায়োল্যাক্ট বা বায়োগাট ট্যাবলেট বা পাওডার) সরবরাহ। প্রয়োগ মাত্রা ঔষুধের গায়ে থাকা নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করুন।
  • 4. খাদ্য পরিবর্তন: সুষম ও সহজ পাচ্য খাদ্য (দানাদার খাদ্য কমিয়ে দেওয়া) প্রদান।
  • 5. পুষ্টি: ভিটামিন এবং মিনারেল (রেনা ভেট বা ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ পাওডার) সম্পূরক দেয়া। প্রয়োগ মাত্রা ঔষুধের গায়ে থাকা নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করুন।



বাছুরের ডায়রিয়া রোগের সঠিক ব্যবস্থাপনা:

  • 1. রোগ নির্ণয়: প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা।
  • 2. পর্যবেক্ষণ: বাছুরের স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখা এবং চিকিৎসার পর ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা।
  • 3. পরামর্শ: প্রয়োজনে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।



বাছুরের পাতলা পায়খানার সমস্যা দ্রুত সমাধান করা না হলে এটি তাদের শারীরিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই যথাযথ যত্ন ও চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



এই আর্টিকেলটি ইউটিউবে দেখুন:





উৎস: এই আর্টিকেলটি লিখতে আমার নিজের লেখার পাশাপাশি এআই টেকনোলজির সাহায্যে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার

চাল ভালো রাখার উপায় - ১০০% কার্যকর

দীর্ঘদিন চাল সংরক্ষণের উপায়


এখানে যা থাকছে---

  • অনেক দিন ধরে চাল ভালো রাখার উপায়
  • চাল সংরক্ষণের উপায়
  • চাল কত দিন ভালো থাকে
  • চাল ভালো রাখার কার্যকরী কৌশল
  • চাল সংরক্ষণ পদ্ধতি
  • চাউল সংরক্ষণের উপায়

অনেক দিন ধরে চাল ভালো রাখার উপায়, চাল সংরক্ষণের উপায়, চাল কত দিন ভালো থাকে, চাল ভালো রাখার কার্যকরী কৌশল, চাল সংরক্ষণ পদ্ধতি, চাউল সংরক্ষণের উপায়
চাল সংরক্ষণের উপায়

ধান থেকে চাল উৎপাদনের পরবর্তী কাজ সেই চাল (Rice) সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করা। কারণ সঠিক উপায় বা পদ্ধতি অনুসরণ না করলে চাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না। এছাড়া সঠিক নিয়ম মেনে চাল সংরক্ষণ না করলে পোকা ও ছত্রাকের আক্রমনের ফলে তা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আর্থিক ক্ষতি রোধ করে চাল কে দীর্ঘদিন খাবার উপযোগী রাখতে কিছু কৌশল বা টিপস মেনে চলা উচিত। আমাদের আজকের আলোচনা দীর্ঘদিন চাল ভালো রাখার কিছু কার্যকরী উপায় বা কৌশল নিয়ে। 


চাউল বা চাল সংরক্ষণের উপায় সমূহঃ

  • ১. দীর্ঘদিন চাল সংরক্ষণের একটি কার্যকরী উপায় হল চাল'কে বায়ুনিরোধক পাত্রে সংরক্ষণ করা। এজন্য আমরা পলেথিনের থলি অথবা প্লাস্টিকের ড্রাম ব্যবহার করতে পারি। তবে সবচেয়ে ভালো হয় স্টিল বা এলুমিনিয়ামের ড্রাম ব্যবহার করা। ড্রাম বা পলেথিনে চাউল রেখে এর মুখ ভালোকরে বন্ধ করে দীর্ঘদিন চাল ভালো রাখা যায়। ড্রাম বা প্লাস্টিকের থলি কে বায়ুরোধী করতে প্রয়োজনে টেপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে চাল অনেক দিন ধরে পোকা মুক্ত ও ছত্রাক মুক্ত ভাবে ভালো রাখা যায়।


  • ২. চাল ভালো রাখার আরেকটি কৌশল হল, চালের পাত্রে কিছু পরিমাণে নিম পাতা রেখে ঢাকনা দিয়ে সংরক্ষণ করা। নিম পাতা না পেলে আমরা তেজপাতা ব্যবহার করতে পারি। এছাড়া চালের পাত্রে কিছু পরিমাণ গোলমরিচ রেখেও চাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।


  • ৩. এক বা দুই বছর পর্যন্ত চাল সংরক্ষণ করতে চাল অবশ্যই শুষ্ক স্থানে রাখা প্রয়োজন। ভেজা ও আদ্র আবহাওয়ায় চাউল যাতে ছত্রাকে ধরে নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া চাউল সংরক্ষণের পাত্র যাতে পিপড়া বা ইঁদুর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। 


  • ৪. সিদ্ধ করা ধান থেকে উৎপন্ন চাল বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়। তাই চাল আতপ চাল বেশিদিন সংরক্ষণ না করায় উত্তম। তবে বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করলে যে কোনো ধরনের চাল দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়।


  • ৫. চাল পোকা মুক্ত ভাবে সংরক্ষণ করতে অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্থানে চাল সংরক্ষণ করতে হবে। চাউল রাখার স্থান প্রথমে ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এর পর জীবানু নাশক  স্প্রে করে স্থানটি জীবানু মুক্ত করতে হবে। এছাড়া কীটনাশক স্প্রে করে কীট মুক্ত করা যেতে পারে। ফ্লোরে সরাসরি না রেখে পলেথিন বিছিয়ে, মাচা বা র‍্যাকে বাক্স বন্দী করে চাউল সংরক্ষণ করতে হবে।


  • ৬. চাউল পোকা মুক্ত ভাবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে আমরা ফ্রিজ ব্যবহার করতে পারি। ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে চাল অনেক দিন ফ্রেশ ও পোকা মুক্ত ভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া পোকা যুক্ত চাউল পোকামুক্ত করতে আমরা রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করতে পারি। চার থেকে পাচ দিন চাউল রেফ্রিজারেটরে রাখলে চাউলের সকল পোকা মারা যায়।


  • ৭. চাউল বস্তাবন্দি করে সংরক্ষণ করতে প্লাস্টিকের বা পলেথিনের বস্তা উত্তম। পাটের বস্তা ব্যবহার করলে বস্তার মাঝে প্লাসটিকের আস্তরণ থাকা উচিত। এছাড়া পোকা দমনের জন্য চালে মেডিসিন ব্যবহার করে চাল দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করা যায়।



চাল থেকে ভাত হয় আর সেই ভাতে পোকা থাকুক সেটি কেউ আশা করে না। তাই চাউল পোকা মুক্ত ভাবে অনেক দিন ভালো রাখতে সচেতনতার পাশাপাশি উপরোক্ত ট্রিক্স বা কৌশলের মত নানা বিধ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।

আম গাছের ফুল ফল ঝরা রোধে ঔষুধ প্রয়োগ

আম গাছের ফুল ও গুটি ঝরা রোধে ঔষুধ ও সার প্রয়োগ পদ্ধতি


এখানে যা থাকছে---

  • আম গাছে সার প্রয়োগ পদ্ধতি
  • আম গাছে ঔষুধ স্প্রে করার নিয়ম
  • আম গাছের ফুল ফল ঝরা রোধে করণীয়
  • আমের গুটি ঝরা কমাতে হরমোন

আম গাছে সার প্রয়োগ পদ্ধতি, আম গাছে ঔষুধ স্প্রে করার নিয়ম, আম গাছের ফুল ফল ঝরা রোধে করণীয়, আমের গুটি ঝরা কমাতে হরমোন
আমের গুটি ঝরা রোধে স্প্রে


আম একটি জনপ্রিয় ফল। বাণিজ্যিক ভাবে আম চাষের মাধ্যমে আর্থিক উন্নয়ন সম্ভব আত্মকর্মসংস্থান হিসেবে আম চাষ একটি লাভজনক উপায়। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় বর্তমানে নানা জাতের নানা স্বাদের নানা রং এর আম পাওয়া যায়। সারা বছর আম ফল জগতে রাজত্ব করে চলে। প্রচুর চাহিদা থাকায় আম চাষে আধুনিকায়ন ও আম চাষ পরিকল্পনার মাধ্যমে অধিক লাভ করা সম্ভব। আম চাষে অধিক মুনাফার্জনে প্রয়োজন আম গাছের সঠিক পরিচর্যা। আম গাছের প্রধান অন্তরায় আম গাছের রোগ বালাই ও ক্ষতিকারক পোকামাকড়। সঠিক সময়ে রোগ বালাই ও পোকামাকড় দমন করতে না পারলে আম চাষে ভালো মুনাফার্জন সম্ভব নয়। আমাদের আজকের আলোচনা আম গাছে ঔষুধ প্রয়োগের নিয়ম ও সার ব্যবস্থা নিয়ে।



আম গাছে মুকুল বা ফুল না আসার কারণঃ

বিভিন্ন কারণে আম গাছে নির্ধারিত সময়ে মুকুল নাও আসতে পারে। সঠিক সময়ে ও সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ না করলে আম গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে ফলে আম গাছে ফুল বা মুকুল আসে না। বর্ষা মৌসুমে আম গাছের গোড়ায় দীর্ঘ দীন জলাবদ্ধতা দেখা দিলে শিকড় পচে যায় ফলে গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে এবং ফুল আসে না। ছায়া যুক্ত স্থানে সূর্যালোক কম পড়ায় আম গাছ সঠিক মাত্রায় খাদ্য তৈরী করতে পারে না ফলে গাছে ফুল আসে না। এছাড়া ফুল আসার কয়েক মাস আগে থেকে বর্ষার কারণে বা ছায়া যুক্ত হওয়ায় আম গাছের গোড়ার মাটি নরম থাকলে শিকড় পচে যায় ফলে গাছ খাদ্য সবরাহ করতে ব্যর্থ হয়ে ফুল ফল ধরার পরিবেশ তৈরী করতে পারে না ফলে আম গাছে ফুল আসে না।



আম গাছে সার প্রয়োগের মাত্রা ও সময়ঃ

আম গাছে সার প্রয়োগ পদ্ধতি, আম গাছে ঔষুধ স্প্রে করার নিয়ম, আম গাছের ফুল ফল ঝরা রোধে করণীয়, আমের গুটি ঝরা কমাতে হরমোন
আম পাতা

সঠিক বয়সে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ ছাড়া আম গাছ থেকে ভালো ফলন আশাকরা যায় না। সাধারণত মাঘ থেকে ফাল্গুন মাসে আম গাছে মুকুল আসে। নির্ধারিত সময়ে মুকুল আসতে প্রয়োজন আম গাছের সঠিক পরিচর্যা ও সার ব্যবস্থাপনা। আম গাছে ভালো ফলন পেতে বছরে ৩ বার সার প্রয়োগ করা উচিত। আম গাছে সার প্রয়োগের সময়কে তাই নিম্নোক্ত ৩ কিস্তিতে ভাগ করা যেতে পারে-

  • ১. আম গাছে সার প্রয়োগের ১ম কিস্তি - সেপ্টেম্বর
  • ২. আম গাছে সার প্রয়োগের ২য় কিস্তি - মার্চ
  • ৩. আম গাছে সার প্রয়োগের ৩য় কিস্তি - মে


নিম্নে ৩ কিস্তিতে আম গাছে সার প্রয়োগের মাত্রা চার্ট বা ছক আকারে তুলে ধরা হলো।



১ম কিস্তিতে সার প্রয়োগের নিয়ম

আম গাছে সার প্রয়োগের সময়: সেপ্টেম্বর

সার প্রয়োগের সময় আম গাছের অবস্থা: ফল-ফুল বিহীন অবস্থা

  • আম গাছের বয়স: ১-৪ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ২৫ কেজি

ইউরিয়া: ২৫০ গ্রাম

টিএসপি: ৪৫০ গ্রাম

এমওপি: ১০০ গ্রাম

জিপসাম: ২০০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ২০ গ্রাম

বরিক এসিড: ৩০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ৫-৭ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ৩৫ কেজি

ইউরিয়া: ৫০০ গ্রাম

টিএসপি: ৫০০ গ্রাম

এমওপি: ২০০ গ্রাম

জিপসাম: ৪০০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ২০ গ্রাম

বরিক এসিড: ৩০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ৮-১০ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ৪৫ কেজি

ইউরিয়া: ৭০০ গ্রাম

টিএসপি: ৯০০ গ্রাম

এমওপি: ২৫০ গ্রাম

জিপসাম: ৫০০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ৩০ গ্রাম

বরিক এসিড: ৫০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ১১-১৫ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ৫৫ কেজি

ইউরিয়া: ৯৫০ গ্রাম

টিএসপি: ১ কেজি

এমওপি: ৩৫০ গ্রাম

জিপসাম: ৬০০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ৩০ গ্রাম

বরিক এসিড: ৫০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ১৬-২০ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ৭০ কেজি

ইউরিয়া: ১ কেজি ৩০০ গ্রাম

টিএসপি: ১ কেজি ২০০ গ্রাম

এমওপি: ৪৫০ গ্রাম

জিপসাম: ৭০০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ৪০ গ্রাম

বরিক এসিড: ৭০ justify

  • আম গাছের বয়স: ২১ বছর এর ঊর্ধ্বে হলে

গোবর সার: ৮০ কেজি

ইউরিয়া: ১ কেজি ৮০০ গ্রাম

টিএসপি: ১ কেজি ৮০০ গ্রাম

এমওপি: ৭০০ গ্রাম

জিপসাম: ৮০০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ৪০ গ্রাম

বরিক এসিড: ৮০ গ্রাম



২য় কিস্তিতে সার প্রয়োগের নিয়ম

আম গাছে সার প্রয়োগের সময়: মার্চ এর মাঝামাঝি

সার প্রয়োগের সময় আম গাছের অবস্থা: ফল মটর দানার মত হলে

  • আম গাছের বয়স: ১-৪ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ০ কেজি

ইউরিয়া: ১৫০ গ্রাম

টিএসপি: ০ গ্রাম

এমওপি: ৫০ গ্রাম

জিপসাম: ০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ০ গ্রাম

বরিক এসিড: ০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ৫-৭ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ৩৫ কেজি

ইউরিয়া: ২৫০ গ্রাম

টিএসপি: ০ গ্রাম

এমওপি: ১০০ গ্রাম

জিপসাম: ০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ০ গ্রাম

বরিক এসিড: ০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ৮-১০ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ৪৫ কেজি

ইউরিয়া: ৩৫০ গ্রাম

টিএসপি: ০ গ্রাম

এমওপি: ১৫০ গ্রাম

জিপসাম: ০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ০ গ্রাম

বরিক এসিড: ০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ১১-১৫ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ০ কেজি

ইউরিয়া: ৫০০ গ্রাম

টিএসপি: ০ কেজি

এমওপি: ২০০ গ্রাম

জিপসাম: ০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ০ গ্রাম

বরিক এসিড: ০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ১৬-২০ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ০ কেজি

ইউরিয়া: ৭০০ গ্রাম

টিএসপি: ০ গ্রাম

এমওপি: ২৫০ গ্রাম

জিপসাম: ০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ০ গ্রাম

বরিক এসিড: ০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ২১ বছর এর ঊর্ধ্বে হলে

গোবর সার: ৮০ কেজি

ইউরিয়া: ৯০০ গ্রাম

টিএসপি: ০ গ্রাম

এমওপি: ৪০০ গ্রাম

জিপসাম: ০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ০ গ্রাম

বরিক এসিড: ০ গ্রাম



৩য় কিস্তিতে সার প্রয়োগের নিয়ম

আম গাছে সার প্রয়োগের সময়: মে এর মাঝামাঝি

সার প্রয়োগের সময় আম গাছের অবস্থা: ফল-ফুল বিহীন অবস্থা

  • আম গাছের বয়স: ১-৪ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ০ কেজি

ইউরিয়া: ১৫০ গ্রাম

টিএসপি: ০ গ্রাম

এমওপি: ৫০ গ্রাম

জিপসাম: ০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ০ গ্রাম

বরিক এসিড: ০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ৫-৭ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ৩৫ কেজি

ইউরিয়া: ২৫০ গ্রাম

টিএসপি: ০ গ্রাম

এমওপি: ১০০ গ্রাম

জিপসাম: ০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ০ গ্রাম

বরিক এসিড: ০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ৮-১০ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ৪৫ কেজি

ইউরিয়া: ৩৫০ গ্রাম

টিএসপি: ০ গ্রাম

এমওপি: ১৫০ গ্রাম

জিপসাম: ০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ০ গ্রাম

বরিক এসিড: ০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ১১-১৫ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ০ কেজি

ইউরিয়া: ৫০০ গ্রাম

টিএসপি: ০ কেজি

এমওপি: ২০০ গ্রাম

জিপসাম: ০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ০ গ্রাম

বরিক এসিড: ০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ১৬-২০ বছর বয়সের গাছ হলে

গোবর সার: ০ কেজি

ইউরিয়া: ৭০০ গ্রাম

টিএসপি: ০ গ্রাম

এমওপি: ২৫০ গ্রাম

জিপসাম: ০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ০ গ্রাম

বরিক এসিড: ০ গ্রাম

  • আম গাছের বয়স: ২১ বছর এর ঊর্ধ্বে হলে

গোবর সার: ৮০ কেজি

ইউরিয়া: ৯০০ গ্রাম

টিএসপি: ০ গ্রাম

এমওপি: ৪০০ গ্রাম

জিপসাম: ০ গ্রাম

জিংক সালফেট: ০ গ্রাম

বরিক এসিড: ০ গ্রাম



আম গাছে সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

আম গাছে সার প্রয়োগ পদ্ধতি, আম গাছে ঔষুধ স্প্রে করার নিয়ম, আম গাছের ফুল ফল ঝরা রোধে করণীয়, আমের গুটি ঝরা কমাতে হরমোন
পাকা সুস্বাদু আম

বয়স বাড়ার সাথে সাথে আম গাছে সার প্রয়োগের মাত্রা বাড়াতে হয়। উপরের চার্টে গাছের বয়স ও সময় অনুযায়ী সার প্রয়োগের মাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। ইউরিয়া এবং এমপিও সার ৩ কিস্তিতেই নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। তবে ইউরিয়া ও এমপিও সার বাদে অন্য সকল সার শুধু মাত্র ১ম কিস্তিতে বছরে একবার প্রয়োগ করলেই হবে। সার সাধারণত গাছের গোড়া থেকে ১ থেকে ১.৫ সেমি দূরে প্রয়োগ করতে হয়। তবে গাছের বয়স বেশি হলে দূরত্ব আরো বেশি রেখে সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রথমে আম গাছের গোড়ার চারিদিকে সমান দূরত্ব রেখে কুপিয়ে নিতে হবে। কোপানো মাটিতে সার ছিটিয়ে পুনরায় আরেকবার মাটি কুপিয়ে সার মাটির নিচে তলিয়ে দিতে হবে। প্রতিবার সার প্রয়োগের পর আম বাগানে অথবা গাছের গোড়ায় হালকা সেচ দিতে হবে যাতে সার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশে যায়।



আম গাছের ফুল ও ফল ঝরা রোধে ঔষুধ ও করণীয়ঃ

সঠিক সার প্রয়োগ ও পরিচর্যার মাধ্যমে আম গাছ থেকে প্রচুর ফুল ও ফল পাওয়া যায়। আম গাছের ফুল ঝরা রোধ ও বেশি ফল উৎপন্ন করতে ফল ঝরা রোধ ও দ্রুত ফোল বড় করার আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। আম গাছের ফুল ও ফল ঝরা রোধে নিম্নোক্ত হরমন, ঔষুধ ও পরিচর্যা গ্রহণ করা যেতে পারে-

  • ১. আম গাছের পাউডারি মিলডিউ রোধে আম গাছে মুকুল আসার ৭-১০ দিন আগে অর্থাৎ মাঘ-ফাল্গুন মাসে সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন, থিওভিট/ম্যাকসালফার/রনভিট ইত্যাদি প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে আম গাছ ভালো ভাবে স্প্রে করে দিতে হবে। ছত্রাকনাশক স্প্রে করার সময় আম গাছের দূর্বলতা রোধে ভিটামিন জাতীয় ঔষুধ যেমন, ফ্লোরা এবং হরমন জাতীয় ঔষুধ যেমন, লিটোসিন বা ভক্সাল সুপার নির্ধারিত মাত্রায় একসাথে মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে। এই সময় ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও বিছাপোকা রোধে যে কোনা গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। পাউডারি মিলডিউ রোধের মাধ্যমে আম গাছের ফুল ফল ঝরা রোধ করা অনেকাংশে সম্ভব হয়।
  • ২. আমের মুকুল বের হবার এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ মুকুলের দৈর্ঘ্য ১-১.৫ ইঞ্চি হলে বা মুকুলের ফুল ফোটার ঠিক আগে আমের হপার পোকা দমনের জন্য ইমিডাক্লোপ্রিড (Imidacloprid) -৭০ ডব্লিউ জি গ্রুপের কীটনাশক যেমন, ইমিটাফ/কনফিড/টিডো ইত্যাদি প্রতি লিটার পানিতে ০.২ গ্রাম হারে ভালো ভাবে স্প্রে করে আম গাছের পাতা, মুকুল ও কান্ডে প্রয়োগ করতে হবে অথবা, ইমিডাক্লোপ্রিড -৭০ এর পরিবর্তে সাইপারমেথ্রিন (Cypermethrin) ১০ ইসি গ্রুপের কীটনাশক যেমন, কট/রিপ কর্ড/রেলোথ্রিন প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে। কীটনাশক প্রয়োগের সময় আম গাছের ছত্রাক রোধের জন্য ম্যানকোজেব (Mancozeb) এম-৪৫ গ্রুপের ছত্রাক নাশক যেমন, ডাইথেন/ইন্ডোফিল প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে কীটনাশকের সাথে একসাথে প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে এই সময় নাইট্রোবেনজিন ২০% ডব্লিউ গ্রুপের ভিটামিন যেমন, ফ্লোরা বা প্লানোফিক্স হরমোন যেমন, লিটোসেন মেশানো যেতে পারে যা আমের মুকুলকে পুষ্ট করে দ্রুত বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। এই সময় হফার দমন ও ছত্রাক দমনের মাধ্যমে আমের মুকুল নষ্ট হওয়া থেকে মুকুল কে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
  • ৩. আম গাছের সব মুকুলের সমস্ত ফুল ফুটে গেলে এই সময়ে প্রতি লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম হারে জিবেরেলিক এসিড স্প্রে করতে হবে যা আমের গুটি ঝরা রোধ করে আমের প্রতিটি বোটায় বা থলিতে আমের গুটির সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। এই সময় জিবেরেলিক এসিডের সাথে এক সাথে বোরিক এসিড প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৬ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে যা আমের গুটি ঝরা রোধ করে আমের সংখ্যা বাড়াতে সহায়ক হিসাবে কাজ করবে।
  • ৪. আমের গুটি মটর দানার আকার ধারণ করলে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার মিশিয়ে আম গাছে স্প্রে করতে হবে অথবা প্রতি ৪.৫ লিটার পানিতে ২ মিলি হারে প্লানোফিক্স (Planofix) হরমোন যেমন, লিটোসেন মিশিয়ে আম গাছে স্প্রে করতে হবে। ইউরিয়া/হরমোন স্প্রে করার সময় আগের নিয়মেই ইমিডাক্লোপ্রিড/সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক এবং ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক একসাথে মিশিয়ে আম গাছের পাতা, গুটি, শাখা ও কান্ডে ভালো করে স্প্রে করতে হবে। এই সময় অতিরিক্ত সহায়ক হিসাবে বোরিক এসিড ১০ লিটার পানিতে ৬ মিলি হারে মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। হপার পোকার আক্রমণ বেশি হলে এবং ছত্রাক জনিত এথ্রাকনোজ রোগ এর লক্ষণ বেশি পরিলক্ষিত হলে ৭-১০ দিন পর পুনরায় একি নিয়মে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক আম গাছে স্প্রে করা যেতে পারে। এই সময় আম বাগানের মাটি শুষ্ক থাকলে আমের গুটি ঝরা রোধ কমাতে ইউরিয়া/হরমোন আম গাছে স্প্রে করার পাশাপাশি পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। মাটি ভিজা না থাকলে ১০-১৫ দিন পরপর সেচ দিয়ে যেতে হবে যা আমের গুটি ঝরা বহুলাংশে কমিয়ে দেবে।
  • ৫. আমের গুটি মার্বেল আকার ধারণ করলে গুটি দ্রত বৃদ্ধি করতে এবং গুটি ঝরা কমাতে প্লানোফিক্স হরমোন বা ভিটামিন হিসেবে ফ্লোরা / ভক্সাল সুপার এর মতো ঔষুধ বা হরমোন প্রয়োগ করা যেতে পারে। এই সময়ে মশা বা পোকা দমনে প্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
  • ৬. আম পরিপক্ব হলে মাছি পোকার আক্রমণ থেকে আমকে রক্ষা করতে পলেথিন দিয়ে আম মুড়িয়ে অথবা আমের থলি ঢেকে দেওয়া যেতে পারে সেই সাথে মাছি পোকার হরমোন ফাদ আম বাগানে রেখে মাছি পোকা দমন করা যেতে পারে।



উপরোক্ত নিয়মে পরিচর্যা করলে সুস্থ সবল আমগাছ পাওয়ার সাথে সাথে অধিক ফুল ফল সমৃদ্ধ আম গাছ পাওয়া যাবে। ফুল ফল ঝরা রোধ করে প্রতিটি আম গাছ থেকে পাওয়া যাবে আশানুরূপ ফল। অধিক মুনাফার্জনে তাই আধুনিক পদ্ধতিতে আম চাষের কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার

গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়ানোর উপায়

গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির ওষুধ ও উপায়


এখানে যা থাকছে---

  • গাভীর দুধ বৃদ্ধির উপায়
  • গাভীর দুধ বাড়ানোর ওষুধ
  • গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে করণীয়

গাভীর দুধ বৃদ্ধির উপায়, গাভীর দুধ বাড়ানোর ওষুধ, গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে করণীয়
গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির উপায়

গরুর দুধ উৎপাদনের উপর দুগ্ধ খামারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। গাভীকে সঠিক নিয়মে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে খামার বা বাড়িতে পালিত গাভী থেকে অধিক দুধ পাওয়া সম্ভব।



দুধ উৎপাদন বাড়াতে গাভী বাছাইঃ

দুধ উৎপাদন বাড়ানোর প্রথম শর্ত হলো ভালো মানের গাভী বাছাই করা। সাধারণত উন্নত জাতের গাভী থেকে বেশি দুধ পাওয়া যায়। হলেস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী অন্যান্য জাতের গাভী অপেক্ষা বেশি দুধ দেয়। জার্সি জাতের গরু থেকেও ভালো পরিমাণ দুধ পাওয়া যায়। তবে দেশি, সংকর অথবা উন্নত যে কোনো জাতের গাভী থেকে অধিক দুধ পেতে গাভীর প্রতি যত্নশীল হতে হয়। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে অধিক দুধ পাওয়া সম্ভব। গাভী বাছাই করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেনো গাভীর মাথা ছোট হয়, পিছনের দু-পায়ের মধ্যবর্তী স্থান চওড়া হয়, গায়ের পশপম মসৃন ও উজ্জ্বল চাহুনি হয়। সুস্থ সবল ও রোগমুক্ত ভালো জাতের গরু থেকে অধিক পরিমাণ দুধ উৎপাদন সম্ভব।



গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণঃ

গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার নানাবিধ কারণ রয়েছে। অধিক পরিমাণে দুধ দেওয়া কালীন কৃমির ওষুধ খাওয়ালে হঠাৎ দুধ উৎপাদন কমে যেতে পারে। গাভীর নানারকম চিকিৎসার জন্য মুখে এন্টিবায়োটিক খাওয়ালে রুমেনে থাকা মাইক্রোফোরা মারা যায় ফলে অরুচির পাশাপাশি বদহজম দেখা দেয় এবং দুধ উৎপাদন কমে যায়। অনেক সময় গাভীর নানারকম ছোট খাটো রোগ বা ক্ষয় জনিত রোগের চিকিৎসা করাতে দেরি হয়ে যায় বা অবহেলার কারণে চিকিৎসা করানো হয় না ফলে বিপাকীয় রোগ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দুধ উৎপাদন কমে যায়। নানারকম ভুল চিকিৎসার ফলে দুধ উৎপাদন কমে গেলে তা সারিয়ে উঠতে অনেক দেরি হয়ে যায়, তবে বিপাকীয় কারণে দুধ উৎপাদন কমে গেলে তা চিকিৎসার মাধ্যমে সহজেই ভালো করা যায়।



গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়াতে কখন থেকে যত্ন নিতে হবেঃ

গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়াতে বাছুর জন্মের ৩ মাস পূর্বথেকেই গাভীর যত্ন নিতে হবে। এই সময় থেকে গাভীকে প্রতিদিন জিংক (Zinc) ও ক্যালসিয়াম সিরাপ খাওয়াতে হবে। সপ্তাকে একটি করে মাল্টিভিটামিন ইঞ্জেকশন ও ক্যাটাফস ইঞ্জেকশন দিতে হবে। বাছুর জন্মের ২-৩ মাস পূর্বে দুধ দোহন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এভাবে যত্ন নিলে গাভী সুস্থ থাকবে এবং দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।



দুধ বাড়াতে গাভীর পরিচর্যা ও যত্নঃ

দুগ্ধবতী গাভী থেকে অধিক পরিমাণে দুধ পেতে নিয়মিত গাভীর যত্ন নেওয়া উচিত। গাভীকে নিম্নের নিয়মে যত্ন নেওয়া যেতে পারে-
  • ১. গাভীকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে, গরমের দিনে দিনে দুই বার গোসল করানো যেতে পারে, শীতের দিনে হালকা গরম পানি দিয়ে সপ্তাহে ৩-৪ দিন গোসল করানো যেতে পারে।
  • ২. নিয়মিত গোয়াল পরিষ্কার করতে হবে, সকাল বিকাল দুইবার গোয়াল বা খামার পরিষ্কার করা ভালো।
  • ৩. সকাল ও বিকাল দুইবার গরুকে দানাদার খাবার দিতে হবে।
  • ৪. গরুর চাহিদা মতো দিনে দুইবার ইউএমএস বা ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র বা ইউরিয়া ও চিটাগুড় প্রক্রিয়া জাত খড় খাওয়াতে হবে (ইউ.এম.এস তৈরির প্রক্রিয়া আমাদের অন্য আর্টিকেলে লেখা হয়েছে, খুজলে পেয়ে যাবেন), গাভী ইউ.এম.এস খেতে খুব পছন্দ করে এবং ইউ.এম.এস খাওয়ালে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ কমিয়েও আগের চেয়ে বেশি দুধ পাওয়া সম্ভব।
  • ৫. নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় ১-২ বার গাভীকে কাচা ঘাস খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে, ঘাসের অভাবে খড় খাওয়াতে হবে।
  • ৬. গর্ভে বাছুর থাকা অবস্থাতে-ই গাভীর খাবার ও অন্যান্য পরিচর্যা সঠিক নিয়মে করতে হবে।
  • ৭. দানাদার খাদ্যের সাথে জল বা পানি মিশিয়ে না খাইয়ে শুকনা দানাদার খাদ্য খাওয়াতে হবে।
  • ৮. গাভীর নিকট সবসময় একটি পাত্রে জল রাখতে হবে যাতে গাভী ইচ্ছা মতো জল খেতে পারে, এই পদ্ধতিতে (ফ্রি চুজ পদ্ধতি) জল খাওয়ালে গাভীর দুধ উৎপাদন আগের চেয়ে বৃদ্ধি পায়।
  • ৯. গরুকে বাসি খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • ১০. নিয়মিত খাবার ও পানির পাত্র জীবাণুনাশ জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
  • ১১. নিয়মিত গাভীকে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে।
  • ১২. কোনো প্রকার রোগ দেখা দেওয়া মাত্র দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।



গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়াতে খাবার সরবরাহঃ

গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পরিমিত মাত্রায় খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিম্নে গাভীকে খাবার খাওয়ানোর প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলো-
  • ১. গাভীকে দানাদার খাদ্য হিসেবে চালের কুড়া - ৩ কেজি, গমের ভূষি - ৪ কেজি, সয়ামিল - ৪ কেজি, যে কোনো ডালের ভূষি - ১ কেজি এই হারে একসাথে  মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
  • ২. প্রতিদিন গাভীকে প্রথম ১ কেজি দুধের জন্য ৩ কেজি দানাদার খাদ্যা খাওয়াতে হবে এবং এর পর প্রতি ১ কেজি দুধ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আধা কেজি করে দানাদার খাদ্য বাড়াতে হবে, অর্থাৎ গাভী যে পরিমাণ দুধ দেয় তার চেয়ে ২ কেজি দুধ বাড়াতে ১ কেজি দানাদার খাদ্য বেশি খাওয়াতে হবে, এভাবে খাওয়াতে খাওয়াতে যখন আধা কেজি দানাদার খাওয়ালে  গাভী আরো ১ কেজি বেশি দুধ উৎপাদন করতে পারবে না তখন দানাদার খাদ্য আর বাড়ানো যাবে না এবং এই হারে গাভীকে নিয়মিত দানাদার খাদ্য খাওয়াতে হবে।
  • ৩. মোট দানাদার খাদ্যকে দুই ভাগ করে সকাল বিকাল দুইবার খাওয়াতে হবে।
  • ৪. গাভীকে প্রতিদিন দুই বার চাহিদা মতো ইউ.এম.এস খড় খাওয়াতে হবে, এর পরিমাণ কমপক্ষে যেনো  ৪-৬ কেজির বেশি হয় (ইউ.এম.এস তৈরির পদ্ধতি আমাদের অন্য আর্টিকেলে দেওয়া হয়েছে)।
  • ৫. গাভীকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিষ্কার জল সরবরাহ করতে হবে, সবচেয়ে ভালো হয় গরুর কাছে একটি পাত্রে সবসময় পরিষ্কার জল রাখা।



দুগ্ধবতী গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়াতে ওষুধ ও ভিটামিনঃ

গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়াতে নিয়মিত ভিটামিন, মিনারেল ও ওষুধ খাওয়াতে হবে। দুগ্ধবতী গাভীকে যে সকল ভিটামিন ও মিনারেল তথা ওষুধ খাওয়াতে হবে তা নিম্নে তুলেধরা হলো-
  • ১. গাভীকে দানাদার খাদ্য খাওয়ানোর সময় এতে ডিসিপি পাওডার বা সিরাপ অথবা ক্যালসিয়াম পাওডার বা সিরাপ মিশিয়ে খাওয়াতে হবে অথবা দানাদার খাদ্য তৈরি বা মিশানোর সময় এর সাথে ডিসিপি বা ক্যালসিয়াম পাওডার মিশিয়ে রাখা যেতে পারে। ডিসিপি পাওডার যেমন - DCP plus (Opsonin), ক্যালসিয়াম সিরাপ যেমন - Calvit-P (Square)। দুধের বেশির ভাগ অংশ ক্যালসিয়াম তাই ডিসিপি বা ক্যালসিয়াম পরিমিত মাত্রায় প্যাকেট বা বোতলের গায়ে লেখা নির্দেশ বা মাত্রা মতো গাভীকে খাওয়াতে হবে।
  • ২. গাভীকে দানাদার খাদ্য খাওয়ানোর সময় এতে মাল্টিভিটামিন পাওডার বা সিরাপ মিশিয়ে খাওয়াতে হবে অথবা দানাদার খাদ্য তৈরি বা মিশানোর সময় এর সাথে মাল্টিভিটামিন পাওডার মিশিয়ে রাখা যেতে পারে। মাল্টিভিটামিন পাওডার যেমন - EVM Gold (Globe), মাল্টিভিটামিন খাওয়ালে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিপায় এবং দুধ উৎপাদন বেড়ে যায়। প্যাকেট বোতল বা বক্সের গায়ে লেখা নির্দেশ বা মাত্রা মতো গাভীকে প্রতিদিন পরিমিত মাত্রায় ভিটামন মিনারেল বা মাল্টিভিটামিন খাওয়াতে হবে।
  • ৩. বাচ্চা প্রসবের ৩ মাস পূর্ব থেকে শুরুকরে দুধ দেওয়া কালীন প্রতিদিন গাভীকে জিংক সিরাপ খাওয়াতে হবে। জিংক সিরাপ যেমন - ZS Solution (Opsonin), বোতলের গায়ে থাকা নির্দেশ বা মাত্রা অনুযায়ী নিয়মিত খাওয়াতে হবে। জিংক রক্ত বৃদ্ধির সাথে সাথে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • ৪. গাভীকে প্রতিদিন দানাদার খাদ্যের সাথে ভিটামিন ADE খাওয়াতে হবে অথবা প্রতি ১৫ দিন অন্তর Vitamin ADE ইঞ্জেকশন ওষুধের গায়ে থাকা লেবেল অনুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৫. বাচ্চা প্রসবের এক সপ্তাহ আগে ১০ মিলি Catophos ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে হবে। এই ইঞ্জেকশন মাংস ও দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • ৬. বাচ্চা প্রসবের এক ঘন্টা পর ১০ মিলি ক্যাটোফস (Catophos) ইঞ্জেকশন ও ১০ মিলি মাল্টিভিটামিন ইঞ্জেকশন যেমন Bejec vet প্রয়োগ করতে হবে। প্রসব জনিত ধকল সামলাতে এটি সহায়তা করবে।
  • ৭. গাভীর ওলানের গঠণ ঠিক রাখতে ও ওলানের ম্যাস্টাইটিস রোগ প্রতিরোধ করতে বাচ্চা প্রসবের ১০ দিন আগে থেকে শুরু করে ১০ দিন পর পর্যন্ত অল্প মাত্রায় Masti qure plus বা ম্যাস্টাইটিস প্রতিরোধক পাওডার খাওয়াতে হবে, সেই সাথে দুধ দেওয়া কালীন প্রতি মাসে ৩ দিন এই পাওডার খাওয়াতে হবে।
  • ৮. বাচ্চা প্রসবের ১ সপ্তাহ পর ৫-১০ মিলি অক্সিন ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে হবে এবং একদিন বাদ রেখে তার পরের দিন আরেক ডোজ ৫-১০ মিলি মাত্রায় অক্সিন ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে হবে। অক্সিন ইঞ্জেকশন দুধ বৃদ্ধির সহায়ক।
  • ৯. প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫ দিন রুচিবর্ধক পাওডার যেমন রুচিমিক্স ১ প্যাকেট করে খাওয়াতে হবে।
  • ১০. অতিরিক্ত যত্ন হিসেবে বাজারে বিভিন্ন নামে পাওয়া দুধ বৃদ্ধি সহায়ক মিনারেল বা টনিক প্রতিদিন পরিমিত মাত্রায় খাওয়ানো যেতে পারে যেমন - এস. আর মিল্ক টনিক ৫-৮ চামচ করে প্রতিদিন খাওয়ানো যেতে পারে।
  • ১১. প্রতি ৩-৪ মাস পরপর গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট যেমন- Renadex vet tablet ৭৫ কেজি ওজনের গাভীর জন্য একটি বোলাস বা ট্যাবলেট হারে সকালে খালিপেটে খাওয়াতে হবে এবং ট্যাবলেট খাওয়ানোর পর প্রচুর পানি খেতে দিতে হবে এবং কৃমিনাশক খাওয়ানোর কমপক্ষে ১ ঘন্টার মাঝে অন্য কোনো খাবার খাওয়ানো যাবে না। গাভী যখন সর্বচ্চো দুধ দেবে সে সময় কৃমিনাশক না খাইয়ে কিছুদিন দেরি করে খাওয়াতে হবে এবং কৃমিনাশক খাওয়ানোর পরের দিন থেকে পরপর ৫ দিন লিভারটনিক সিরাপ যেমন লিভাটন (Livaton) লেবেলে লেখা মাত্রা অনুযায়ী খাওয়াতে হবে।



গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়াতে বাড়তি করণীয়ঃ

গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়াতে ভিটামিন মিনারেল খাওয়ানোর পাশাপাশি বাড়তি কিছু কার্যাবলী সম্পাদন করলে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যেমন-
  • ১. বাচ্চা প্রসবের কমপক্ষে ৬০-৯০ দিন পর গাভীকে পুনরয় ডাকে আসলে সিমেন বা বীজ দিতে হবে। ৬০-৯০ দিনের আগে সিমেন বা বীজ দিলে গরুর দুধ উৎপাদন দ্রুত হ্রাস পায় বা কমতে থাকে।
  • ২. বাছুরের বয়স ৭ দিন হলে ধীরেধীরে অল্প অল্প করে দানাদার খাদ্য ও ঘাস খাইয়ে এতে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে (বাছুর পালন সম্পর্কে জানতে আমাদের আধুনিক পদ্ধতিতে বাছুর পালন আর্টিকেলটি পড়তে পারেন)। এভাবে দানাদার খাদ্য ও ঘাস খাওয়াতে অভ্যস্ত হলে বাছুরের দুধের চাহিদা কম হবে এবং দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
  • ৩. দুধ দোয়ানোর বা দোহনের সময় ওলান বা বাটে থাকা সম্পূর্ণ দুধ দোয়াতে হবে বা সংগ্রহ করতে হবে। বাটে দুধ রেখে দোয়ানো বা দোহন শেষ করলে দুধ উৎপাদন কমে যায় এবং গাভী দ্রুত দুধ দেওয়া বন্ধ করে।
  • ৪. প্রতিদিন এক বার দুধ না দুই'য়ে বা দোহন না করে সকাল বিকাল নির্দিষ্ট সময়ে একি ব্যক্তি দ্বারা দুই বার দুধ দোয়াতে হবে এতে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং দুধের গুণগত মান বৃদ্ধিপায়।
  • ৫. দুধ দোহন বা দোয়ানোর সময় গাভীকে দানাদার খাদ্য খাওয়ানো যেতে পারে এতে গাভীর মনসংযোগ খাবারের দিকে যায়, গাভী বিরক্ত কম করে ফলে বেশি পরিমানে দুধ পাওয়া যায়।
  • ৬. দুধ দোয়ানো বা দোহন করার সময় গাভীর সম্মুখে বাছুর রাখতে হবে এবং মশা মাছির উপদ্রব থেকে গাভীকে শান্ত রাখতে মশা মাছি তাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
  • ৭. দুধ দোহন শুরু করার পর ৮ মিনিটের মাঝে সম্পূর্ণ দুধ দোহন দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করতে হবে কারণ এই সময়ের মাঝে গাভী সর্বোচ্চ পরিমাণে দুধ দেয়।
  • ৮. গাভীকে মাঝে মাঝে হাটাতে হবে বা ব্যায়াম করাতে হবে এতে গাভীর শরীর সুস্থ থাকে।
  • ৯. দুধ দোয়ানোর আগে বাট ও ওলান ভালোকরে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুইয়ে মুছে নিতে হবে এবং দোহন শেষে বাটে জীবাণুনাশ লিকুইড যেমন Povidon লাগিয়ে দিতে হবে।
  • ১০. নিয়মিত খাবার পাত্র, গোয়াল বা খামার পরিষ্কার করতে হবে মাঝে মাঝে জীবাণুনাশ স্প্রে যেমন FAM 30 পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে ও খাবার পাত্রে দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • ১১. গাভীকে নিয়মিত টিকা দিতে হবে এবং যে কোনো রোগ বা সমস্যা দেখা দেওয়া মাত্র বিলম্ব না করে ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ দিতে হবে।



গাভীর দুধ বাড়াতে ঘরোয়া টোটকা, প্কৃতিক বা আয়ুর্বেদী পদ্ধতিঃ

গাভীর দুধ বৃদ্ধি করতে নিম্নোক্ত ঘরোয়া টোটকা বা আয়ুর্বেদী পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে-
  • ১.  এক কেজি খাটি সরিষার তেল থেকে অল্প পরিমাণ তেল কড়াইতে ঢেলে তাতে ২ কেজি শুকনো আস্ত হলুদ দিয়ে খয়েরী বা কালচে করে ভেজে নিতে হবে।
  • ২. ভাজা হলুদ থেকে তেল ঝরিয়ে মিহি করে গুড়া করে নিতে হবে।
  • ৩. একটি পাত্রে হলুদ গুড়ার মাঝে হলুদ থেকে ঝরিয়ে রাখা তেল সহ বাকি তেল ঢেলে দিতে হবে।
  • ৪. তেল মিশ্রিত হলুদ গুড়ার মাঝে ২ কেজি আখের গুড় অথবা লাল চিনি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • ৫. মিশ্রণ টি একটি পাত্রে বা বয়েমে ঢেলে ৭ দিন ঠান্ডা ও শুকনো স্থানে রেখে দিতে হবে।
  • ৬. সাত দিন পর প্রতিদিন সকাল বেলা ১০০ গ্রাম করে গাভীকে খাওয়াতে হবে।

উক্ত টোটকা, প্রাকৃতিক বা আয়ুর্বেদী পদ্ধতিটি নিয়মিত গাভী বা গরুকে খাওয়ালে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে গাভীর খাদ্য চাহিদা বাড়বে  এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।



গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়াতে হোমিও ওষুধঃ

গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়াতে নিম্নের হোমিও ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে-
  • ১. চায়না অথবা আর্টিকা ইউরেন্স মাদারটিংচার ১০ মিলি করে প্রতিদিন একবার করে খাওয়াতে হবে এতে গাভীর রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং ভগ্ন দেহ ঠিক হয়ে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এটি জিংকের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
  • ২. বায়োক্যামিক ওষুধ ক্যালকেরিয়া ফস ১২ এক্স ৪০-৫০ টি ট্যাবলেট সামান্য গরম পানি সহ ৩ দিন অন্তর একবার খাওয়াতে হবে। এটি ক্যালসিয়ামের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
  • ৩. চেলিডোনিয়াম মাদারটিংচার ১০ মিলি করে সপ্তাহে ১ বার করে খাওয়াতে হবে। এটি লিভার টনিকের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
  • ৪. এগনাসকাসট মাদার টিংচার প্রতিদিন ১০ ফোটা করে গাভীকে নিয়মিত খাওয়ালে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

উপরোক্ত হোমিও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গাভী পালনে ব্যয় কমার পাশাপাশি দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে হোমিও ডাক্তারগণ মতামত দিয়েছেন।


উপরোক্ত নিয়ম গুলো অনুসরণ করলে আমরা পেতে পারি সুস্থ গাভী এবং অধিক দুধ।



নিচে কমেন্ট করুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট আমাদের নতুন নতুন আরটিকেল লেখার প্রেরণা যোগায়। 

বুধবার

গরুর পাতলা পায়খানা - ওষুধ ও চিকিৎসা

গরুর ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানার চিকিৎসা ও করণীয়


এখানে যা থাকছে---

  • গরুর পাতলা পায়খানা হলে করণীয়
  • গরুর পাতলা পায়খানার চিকিৎসা
  • গরুরর পাতলা পায়খানার ওষুধ
  • গরুর ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানা

গরুর পাতলা পায়খানা হলে করণীয়, গরুর পাতলা পায়খানার চিকিৎসা, গরুরর পাতলা পায়খানার ওষুধ, গরুর ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানা
গরুর পাতলা পায়খানা


গরুর পাতলা পায়খানার কারণঃ

গরুর ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা বা উদরাময় (Diarrhea) হওয়ার অসংখ্য কারণ রয়েছে। অতিরিক্ত দানাদার জাতীয় খাদ্য গ্রহণের ফলেও অনেক সময় গরুর ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানা হয়ে থাকে। অনেক সময় ড্রেনের পানিতে জন্মানো ব্যালানটিডিয়াম কলাই (Balantidium Coli) খাবার ও পানির সাথে গরুর পেটে প্রবেশ করলে বদহজম এর পাশাপাশি ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা দেখা দেয়। এছাড়া খাদ্যে অনিয়ম, অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ সহ নানাবিধ কারণে গরুর বদহজমের সাথে ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানা বা উদারাময় দেখা দিতে পারে। অনেক সময় পাতলা পায়খানার সাথে আমাশয় বা রক্ত আমাশয় দেখাদিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না করালে পাতলা পায়খানা হয়ে গরুর মৃত্যু ঝুকি তৈরি হয়।



গরুর পাতলা পায়খানা বা উদারাময়ের প্রকারভেদঃ

ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও বিপাকীয় সমস্যার করণে গরুর বিভিন্ন প্রকার পাতলা পায়খানা ও ডায়রিয়া জনিত জটিলতা দেখা দেয়। জটিলতা ও পাতলা পায়খানার উৎপত্তিগত দিক দিয়ে গরুর পাতলা পায়খানাকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যেতে পারে-

  • ১. গরুর সাধারণ পাতলা পায়খানা
  • ২. গরুর ডায়রিয়া জনিত পাতলা পায়খানা
  • ৩. গরুর ব্যালানটিডিয়াসিস পাতলা পায়খানা
  • ৪. গরুর বিপাকীয় পাতলা পায়খানা

উপরোক্ত প্রকারভেদ সমূহের কারণ, প্রতিকার, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সহ ওষুধ পত্রের কিছু ধারণা নিচে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করা হলো।



গরুর সাধারণ পাতলা পায়খানাঃ

অজানা কারনে বা খাবারে আশ জাতীয় উপাদানের অপর্যাপ্ততার কারণে বা অপরিষ্কার পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া জনিত কারণে গরুর পাতলা পায়খানা দেখা দিতে পারে। এমতাবস্থায় চিকিৎসা না করালে ধীরেধীরে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে, দূর্বল হয় এমনকি মারাও যেতে পারে।



গরুর সাধারণ পাতলা পায়খানার চিকিৎসাঃ

বাছুর ও গর্ভবতী গাভীর ক্ষেত্রে-

  • ১. সালফা-৩ (বোলাস বা ট্যাবলেট) - ৩৫ কেজি ওজনের গরুর জন্য ১ টি করে এক ডোজ খাওয়ানোর ৯-১০ ঘন্টা পর আরেক ডোজ অর্থাৎ দিনে ২ ডোজ, ২য় ডোজ খাওয়ানোর ৯-১০ ঘন্টা পর অর্থাৎ পরের দিন থেকে ১ম বা ২য় ডোজের অর্ধেক পরিমাণে ৩য় ডোজ খাওয়াতে হবে, এভাবে পায়খানা কমা না পর্যন্ত দিনে ২ বার করে খাওয়াতে হবে, পায়খানা না কমলে প্রয়োজনে পরের ডোজ গুলোর মাত্রা ১ম ডোজের সমপরিমাণ করতে হবে।
  • ২. মেট্রানিডাজল ভেট (বোলাস বা ট্যাবলেট) - ২০০ কেজি ওজনের জন্য ৬ টি করে দিনে ১ ডোজ করে পায়খানা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত চলবে ।
  • ৩. জিংক সিরাপ - ১৫-২০ মিলি করে দিনে ২ বার, পায়খানা শক্ত না হওয়া পর্যন্ত।
  • ৪. Biogut পাওডার - ১০০ কেজি ওজনের গরুর জন্য ১০ গ্রাম করে সকাল বিকাল ২ বার করে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।
  • ৫. ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ইঞ্জেকশন ৫-১০ মিলি করে ৩ দিন প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৬. Glucolyte vet বা Electrolyte বা গবাদিপশুর স্যালাইন - দিনে ২-৩ টা করে খাওয়াতে হবে পায়খানা না কমা পর্যন্ত।
  • ৭. পায়খানা সারার পর নিয়মিত প্রতিদিন ১ টি করে Biolact vet ট্যাবলেট ১৫ দিন খাওয়াতে হবে।


এঁড়ে বা বলদ গরুর ক্ষেত্রে-

  • ১. সালফা ৩ ভেট - সকাল ও বিকাল ৩৫ কেজি ওজনের গরুর জন্য ১ টি  করে দিনে ২ বার করে ২ দিন, এবং ৩য় দিন থেকে অর্ধ মাত্রায় দুই বার করে পায়খানা কমা না পর্যন্ত খাওয়াতে হবে, পায়খানা ঘন হয়ে না আসলে পরের ডোজ গুলো ১ম ডোজের পরিমাণে বাড়াতে হবে।
  • ২. জিংক সিরাপ - ১৫-২০ মিলি করে দিনে ২ বার, পায়খানা শক্ত না হওয়া পর্যন্ত।
  • ৩. রুচিবর্ধক পাউডার যেমন, এস.আর.রুচি বা রুচিমিক্স পাওডার - ১ প্যাকেট করে দিনে ২ বার রোগ সারা না পর্যন্ত।
  • ৪. Biogut পাওডার - ১০০ কেজি ওজনের গরুর জন্য ১০ গ্রাম করে সকাল বিকাল ২ বার করে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।
  • ৫. Glucolyte vet বা Electrolyte বা গবাদিপশুর স্যালাইন - দিনে ২-৩ টা করে খাওয়াতে হবে পায়খানা না কমা পর্যন্ত। 
  • ৬. মেট্রানিডাজল ভেট (বোলাস বা ট্যাবলেট) - ২০০ কেজি ওজনের জন্য ৬ টি করে প্রতিদিন এক ডোজ  পায়খানা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত চলবে ।
  • ৭. পায়খানা সারার পর নিয়মিত প্রতিদিন ১ টি করে Biolact vet ট্যাবলেট ১৫ দিন খাওয়াতে হবে।



গরুর ডায়রিয়া জনিত পাতলা পায়খানার লক্ষণ ও চিকিৎসাঃ

হঠাৎ করে গরুর পাতলা পায়খানা শুরু হয়। ওষুধ প্রয়োগের পরেও পায়খানা নিন্ত্রনে আসে না। ১৫-২০ দিনের বেশি বা দীর্ঘদিন ধরে পায়খানা তরল থাকে। খাবারে অরুচি দেখা দেয়। এমন অবস্থাকে ডায়রিয়া বলে। এ ধরণের পাতলা পায়খানা হলে দ্রুত চিকিৎসা না করালে গরু দিনদিন শুকিয়ে যায় এবং কংকালসার হয়ে মারাও যেতে পারে।

গরুর ডায়রিয়া জনিত পাতলা পায়খানার চিকিৎসা-

  • ১. প্রতিদিন ১ থেকে ২ বার এক প্যাকেট করে এস.আর.ডাইভেট এর সাথে ১ গ্রাম করে পটাসিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট (পটাশ) মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
  • ২. প্রতিদিন ২ বার, এক প্যাকেট করে রুচি বর্ধক পাউডার যেমন রুচিমিক্স পাউডার খাওয়াতে হবে।
  • ৩. প্রতিদিন ১০০ মি.লি. করে দিনে ১ বার তরল জিংক বা জিংক লিকুইড খাওয়াতে হবে।
  • ৪. ইলেক্ট্রোলাইট ১ প্যাকেট ২০ লিটার জল বা পানির সাথে মিশিয়ে পানির পাত্রে রেখে দিতে হবে যাতে পানিশূন্যতা রোধ হয়।
  • ৫. Biogut পাওডার - ১০০ কেজি ওজনের গরুর জন্য ১০ গ্রাম করে সকাল বিকাল ২ বার করে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।
  • ৬. পায়খানা সারার পর নিয়মিত প্রতিদিন ১ টি করে Biolact vet ট্যাবলেট ১৫ দিন খাওয়াতে হবে।

উপরোক্ত ওষুধ গুলো ডায়রিয়া না সারা পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে।



গরুর ব্যালানটিডিয়াসিস পাতলা পায়খানাঃ

গরুর পানির পাত্র ও ড্রেনের পানিতে জন্মানো ব্যালানটিডিয়াম কলাই (Balantidium Coli) খাবারের সাথে অতিরিক্ত মাত্রায় অথবা দীর্ঘদিন ধরে গরুর পেটে প্রবেশ করলে পাতলা পায়খানা শুরু হতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরে এ ধরণের পাতলা পায়খানা স্থায়ী হয়ে থাকে। এ ধরণের পাতলা পায়খানা হলুদ রং বিশিষ্ট ও দূর্গন্ধ হয়।

চিকিৎসা-
গরুর প্যারা টি.বি বা জোনস ডিজিজ হলে চিকিৎসায় ভালো হয় না। অপরদিকে ব্যালানটিডিয়াম কলাই দ্বারা পাতলা পায়খানা হলে ওষুধে কাজ করে না। এমতো অবস্থায় শুধুমাত্র কপার সালফেট (তুতে) খাওয়ালে কাজ হতে পারে। দিনে ১ বার করে ৪-৮ গ্রাম তুতে জলের সাথে মিশিয়ে একদিন পর একদিন খাওয়াতে হবে। ৩ ডোজ খাওয়ালে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।পায়খানা সারার পর নিয়মিত প্রতিদিন ১ টি করে Biolact vet ট্যাবলেট ১৫ দিন খাওয়াতে হবে।



গরুর বিপাকীয় পাতলা পায়খানাঃ

বদহজম বা বিপাকীয় কারণে দীর্ঘদিন ধরে গরুর এ ধরনের পাতলা পায়খানা হয়ে থাকে। এ ধরনের পাতলা পায়খানা সেরে যাওয়ার পর পুনরয় আবার শুরু হয়। এক সপ্তাহ ভালো থাকলে পরের সপ্তাহে আবার শুরু হয়। পাতলা পায়খানা বারবার সারে আর বারবার শুরু হয়। এভাবে একের পর এক চলতে থাকায় চিকিৎসা খরচ বেশি হয়ে পড়ে। খামার মালিক লাভবান হওয়ার বদলে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়ে। সাধারণত খাদ্য সঠিক ভাবে হজম না হওয়ায় গরুর এ ধরনের বিপাকীয় পাতলা পায়খানা দেখা দেয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি-

  • ১. রুচি বর্ধক পাউডার যেমন রুচিমিক্স ১ প্যাকেট করে দিনে ১ বার পায়খানা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খাওয়াতে হবে।
  • ২. লিভারটনিক সিরাপ বা লিকুইড যেমন Livaton দিনে ১ বার করে লেবেলে থাকা পরিমাণ অনুযায়ী ১০-১৫ দিন খাওয়াতে হবে।
  • ৩. জিংক সিরাপ বা লিকুইড যেমন ZS vet প্রতিদিন ১ বার ১০০ মি.লি করে খাওয়াতে হবে।
  • ৪. Biogut পাওডার - ১০০ কেজি ওজনের গরুর জন্য ১০ গ্রাম করে সকাল বিকাল ২ বার করে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।
  • ৫. Glucolyte vet বা Electrolyte বা গবাদিপশুর স্যালাইন - দিনে ২-৩ টা করে খাওয়াতে হবে পায়খানা না কমা পর্যন্ত।
  • ৬. পায়খানা সারার পর নিয়মিত প্রতিদিন ১ টি করে Biolact vet ট্যাবলেট ১৫ দিন খাওয়াতে হবে।



গরুর পাতলা পায়খানা হলে সতর্কতাঃ

গরুর পাতলা পায়খানা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ও জীবাণু  ঘটিত হওয়ায় পাতলা পায়খানা সংক্রমক একিটি রোগ। গরুর পাতলা পায়খানা দেখা দেওয়া মাত্র রোগাক্রান্ত গরুকে অন্যান্য গরু থেকে দ্রুত আলাদা করতে হবে নইলে সকল গরুর পাতলা পায়খানা দেখা দিতে পারে। গরুর পাতলা পায়খানা দেখা দিলে গোয়াল বা খামার জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত স্প্রে করতে হবে। গরু ও খামার কে সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে পাতলা পায়খানা সহ নানারকম রোগজীবাণু থেকে গরুকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।



উপরোক্ত চিকিৎসা ও প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আশাকরি গরুর সকল প্রকার পাতলা পায়খানা দূর করা সম্ভব হবে। যে কোনো ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ মতো খাওয়ানো উচিত।  সুস্থ গরু আর লাভজনক খামার। পাতলা পায়খানা গরুর মাংস ও দুধ উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই পাতলা পায়খানা দেখা দেওয়া মাত্র অবহেলা না করে দ্রুত রোগাক্রান্ত গরুর চিকিৎসা করাতে হবে।

শুক্রবার

চালকুমড়া চাষ - আধুনিক পদ্ধতি

চাল কুমড়া বা জালি কুমড়া চাষ - রোগবালাই ও পোকা দমন


এখানে যা থাকছে---

  • আধুনিক পদ্ধতিতে চালকুমড়া চাষ
  • চালকুমড়ার ফলন বাড়ানোর উপায়
  • জালি বা ঝালি কুমড়া চাষ পদ্ধতি
  • চাল কুমড়া গাছের পোকা দমন
  • চালকুমড়ার রোগবালাই ও প্রতিকার

আধুনিক পদ্ধতিতে চালকুমড়া চাষ, চালকুমড়ার ফলন বাড়ানোর উপায়, জালি বা ঝালি কুমড়া চাষ, চাল কুমড়া গাছের পোকা দমন, চালকুমড়ার রোগবালাই ও প্রতিকার
আধুনিক পদ্ধতিতে চালকুমড়া চাষ


চাল কুমড়া একটি জনপ্রিয় সব্জি। এটি খেতে খুবি মজাদার। অবহেলা আর অনাদরে বাড়ির আনাচে কানাচে, বনে বা আঙ্গীনাতে এটি জন্মালেও বর্তমানে এটি আর অবহেলার সব্জি নয়। বাজারে ব্যপক চাহিদা থাকায় এটি কৃষকের সব্জি ফসলের তালিকায় যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। শুরু হয়েছে খামারে চাষাবাদ। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে চালকুমড়া থেকে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। আমাদের আজকের আলোচনা আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নতমানের হাইব্রীড ও দেশি চালকুমড়া বা জালি কুমড়া চাষ পদ্ধতি ও চালকুমড়ার ফলন বৃদ্ধির উপায় ও করণীয় সম্পর্কে।


চালকুমড়ার উৎপত্তি ও নামকরণঃ

চালকুমড়া কে গ্রাম্য ভাষায় চালকুমড়ো বলা হয়ে থাকে। আঞ্চলিক ভাবে চালকুমড়া কে অনেকে জালিকুমড়া বা জালি বলে থাকে। অনেকে অঞ্চলে একে চালকুমরা বা চালকুমরো নামে ডাকা হয়। বিশ্ব জ্ঞানকোষ উইকিপিডিয়া এর তথ্য মতে চালকুমড়াকে ইংরেজিতে Wax Gourd বা Winter Melon বা Winter Gourd বলা হয়ে থাকে। সাদা রং বা আবরনের কারনে চাল কুমড়ার ইংরেজি  White Gourd করা হয়েছে। এ ছাড়া ইংরেজিতে চাল কুমড়া কে Tallow gourd বা Ash Gourd বা Chinese Preserving Melon সহ নানান নামে ডাকা হয়ে থাকে। চালকুমড়া কুষ্মাণ্ড বা কুমড়ো জাতীয় সবজি। ঘরের চাল বা চালায় চাষ করা হয় বলে একে চালকুমড়া বলা হয়ে থাকে। অন্যদিকে কাচা ও জালি অবস্থায় সবজি হিসাবে খাওয়া হয় বলে একে জালিকুমড়াও বলা হয়।


চালকুমড়ার বীজ সংগ্রহঃ

সাধারনত বড় ও রোগমুক্ত সুস্থ সবল চালকুমড়ো বা চালকুমড়া বীজ সংগ্রহের জন্য নির্বাচন করা উচিৎ। পাকা চালকুমড়া কেটে বীজ বের করে জলে ভিজিয়ে ধুয়ে বা পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। পরিষ্কার করে নেওয়া বীজ পরপর কয়েকদিন রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। শুকানো বীজে কার্বনডাইজিম জাতীয় ছত্রাক নাশক মিশিয়ে বয়েমে বা পাত্রে মুখ আটকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। রোদে শুকানোর পর সরাসরি বীজ বপন করতে চাইলে কার্বনডাইজিম জাতীয় ছত্রাক নাশক মিশিয়ে বপন করতে হবে। বর্তমানে বাজারে নানান জাতের বীজ প্যাকেটজাত আকারে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে লাল তীর, বিডি বীজ, এসিআই সহ নানা বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্টান উন্নত পদ্ধতিতে সংরক্ষিত ভালো মানের হাইব্রীড চালকুমড়া বীজ বাজারজাত করে থাকে, যা চাষিদের জন্য খুবি উপকারি।


চালকুমড়া বীজ বপনের সময়ঃ

এটেল বা এটেল দোয়াশ মাটি চাল কুমড়া চাষের জন্যে ভালো। সারা বছর চাল কুমড়ার চাষ হলেও  চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। তবে হাইব্রীড জাতের বীজ বপনে জাত উপযোগী সময় বেছে নেওয়া উচিত।



চাল কুমড়ার জাত নির্বাচনঃ

চাল কুমড়ার অনেক জাত রয়েছে। দেশি জাতের পশা পাশি কৃষকেরা ঝুকছে হাইব্রীড জাতের দিকে। হীরা, সবুজ, ভৈরবী, ওয়ান্ডারফুল, জুপিটার, পোলস্টার, দূরন্ত, দূর্বার হাইব্রীড জাতগুলির মধ্যে অন্যতম। নিম্নে জনপ্রিয় কয়েকটি হাইব্রীড জাতের তথ্য তুলেধরা হলো-

  • হীরা - ৪৫১:: উচ্চ ফলনশীল হাইব্রীড জাতের মধ্যে হীরা বেশ জনপ্রিয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন এ জাতের চালকুমড়া দূর-পরিবহনযোগ্য, রং গাঢ় সবুজ, ওজন ১ - ১.৫ কে.জি, সারা বছর চাষযোগ্য, ৫০ - ৫৫ দিনে ফল আসে। খেতেও খুব সুস্বাদু।
  • ওয়ান্ডারফুল:: রং সবুজ এবং ফলের গড় ওজন ১.৫-২.০ কেজি গাছ প্রতি ৮-১০টি ফল ধরে, মেয়াদ চৈত্র-কার্ত্তিক, ফল আসতে সময় লাগে ৪০ - ৪৫ দিন, লম্বা ২৫ - ৩০ সে.মি।
  • সুমাইয়া:: পাকা চালকুমড়া হিসাবে উৎপাদনে এটি বেশ জনপ্রিয়, সহজে পরিবহন যোগ্য, রং সবুজ, আকার লম্বাটে-গোল, একর প্রতি ফলন ১২ টন। রোপনের ৫০ দিন পর ফল ধরে।
  • সবুজ(উপশী):: ভাইরাস, পাওডারি ও ডাইনি মিল্ডিউ সহনশীল,  এ জাতের ওজন ২ - ২.৫ কেজি রং গাঢ় সবুজ, বপন কাল মাঘ - চৈত্র, একর প্রতি উৎপাদন ২৫ - ৩০ টনের মত, ৬০ - ৬৫ দিনে ফল ধরে, লম্বা ১০ - ১২ ইঞ্চি হয়ে থাকে।
  • ভৈরবী:: এ জাতের চালকুমড়া সারা বছর চাষ করা যায় তবে শীত কালে চাষ করার অনুপযুক্ত। এ জাতের চালকুমড়ো বা কুমড়াগাছে ৪০ - ৪৫ দিনে ফল ধরতে শুরু করে। কচি অবস্থায় গায়ের রং সবুজ এবং গড় দৈর্ঘ্য ২০-২৫ সে.মি  এর মতো হয়ে থাকে। আধুনিক চাষাবাদে একর প্রতি ১০ - ১৫ টনের মত ফলন হয়ে থাকে।
  • জুপিটার এফ-১:: ১৮ - ২০ সে.মি লম্বা, রং গাঢ় সবুজ, ওজন১.৫ কে.জি, ৫০-৫৫ দিনে ফসল তোলা যায়, শতক প্রতি বীজ ১.৫ গ্রাম, ফলন ১৮ থেকে ২০ টন।
  • পোলস্টার এফ-১:: এ জাতের চালকুমড়ার গড় দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ২৫ সে.মি হয়ে থাকে। এ জাতের চাল কুমড়ার গায়ের রং কচি অবস্থায় হালকা-সবুজ, গড় ওজন ১.৫ কে.জি এর মত। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে একর প্রতি ১৮ থেকে ২০ টনের মত ফলন পাওয়া যায়। সাধারণত ফেব্রু-আগষ্ট মাস পর্যন্ত এ জাতের চালকুমড়া চাষ করা হয়। চারা রোপনের ৫০-৫৫ দিনের মাঝে ফসল বাজারে তোলা যায়। বীজ বপনের জন্য শতাংশ প্রতি ১.৫ গ্রাম বীজ প্রয়োজন হয়। ৪৫ থেকে ৫০ দিনে ফসল বাজারে তোলা যায় এবং খেতে ভালো, সারা বছর চাষযোগ্য হলেও শীতকালে সম্ভব নয়, ২০-২৫ সে.মি লম্বার এ জাতের চালকুমড়ার রং সবুজ ও ওজন ১.৫ কেজির মত হয়ে থাকে।
  • দূরন্ত:: এ জাতের চালকুমড়া সাধারণত ফেব্রু- আগষ্ট কালীন চাষ উপযোগী ফসল। কচি বা জালি অবস্থায় এ জাতের গায়ে সবুজ রং ধারণ করে। এ জাতের চাল কুমড়া ২০-৩০ সে.মি লম্বা হয়। প্রতিটি ফলের গড় ওজন ১.৫ কে.জি এর মত হয়ে থাকে। চারা রোপনের পর গাছ থেকে ৫০-৫৫ দিনে জালি ফল বাজারে তোলা যায়।


চালকুমড়া গাছে সার প্রয়োগঃ

আধুনিক পদ্ধতিতে চালকুমড়া চাষ, চালকুমড়ার ফলন বাড়ানোর উপায়, জালি বা ঝালি কুমড়া চাষ, চাল কুমড়া গাছের পোকা দমন, চালকুমড়ার রোগবালাই ও প্রতিকার
জালি কুমড়া বা চাল কুমড়া চাষ


একর প্রতি ইউরিয়া ১০-১২ কেজি, টিএসপি ৮-১০ কেজি, এমপি ৩-৫ কেজি, জিংক ১০০-১৫০ গ্রাম, জিপসাম ৩ কেজি ও পর্যাপ্ত জৈবসার প্রয়োগ করলে ফসল ভালো হয়। মাদা করার সময় সকল সার ভালোকরে মিশিয়ে রাখতে হবে এর সাত আট দিন  পর বীজ বপন করতে হবে এবং শুধু ইউরিয়া সার চারা বড় হলে কয়েক কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে।


চালকুমড়ার চারা উৎপাদনঃ

মাচায় বা চালে দু ভাবেই চাল কুমড়ার চাষ করা হয়। ২.৫ ফুট চওড়া এবং ২ ফুট গভীর গর্ত করে তাতে জৈব ও রাসায়নিক সার মিশিয়ে ভরাট করে কিছুদিন রেখে পরে উচু মাদা করে মাদা প্রতি ৪-৫ টি বীজ বপন করতে হয়। প্রতিটি মাদার দূরত্ব ২-২.৫ মিটার হওয়া ভালো। হাইব্রীড জাতের ক্ষেত্রে এ দূরত্ব কম বেশী হতে পারে। চারা গজালে ২ টি সবল চারা' রেখে বাকি গুলো ফেলে দিতে হবে। চারা বাওয়ার জন্য একটি বাওনি দিতে হবে এবং চারা বাওয়া শুরু করলে গোড়ার মাটি আলগা ও নিড়ানি দিয়ে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। পরে মাচা করে অধবা চালে বাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। চাল কুমড়া পানি অসহিনষু তাই মাদায় মাটি উচু সহ খেয়াল রাখতে হবে যেন জমিতে কখনো পানি না জমে।


চালকুমড়ার বিভিন্ন রোগ বালাই ও পোকা দমনঃ

চালকুমড়ার বিভিন্ন রোগ ও তার প্রতিকারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। চালকুমড়ার একটি মারাত্মক রোগ পাতা পচা রোগ। পাতা পচা বা পাতা পোড়া বা পাতা ঝলসানো রোগ দেখা দেওয়া মাত্র দ্রুত ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে। ছত্রাক নাশক দিতে দেরি হলে পাতা পচা রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এ রোগের বিস্তারে পুরো গাছ শুকিয়ে মারা যেতে পারে। চালকুমড়া গাছের আরেকটি সমস্যা পাতা কাটা পোকার আক্রমণ। পাতা কাটা পোকা দেখা দিলে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। এছাড়া মাছি পোকা চাল কুমড়ার ব্যপক ক্ষতি করে থাকে। মাছি পোকার হাত থেকে কচি বা জালি চালকুমড়া কে রক্ষা করতে ফ্রেমন হরমনের ফাদ পাতা যেতে পারে। এ ছাড়া সাবান ও নিম পাতার রস এক সাথে মিশিয়ে স্প্রে করলে মাছি পোকা দ্রুত দমন করা যায়। মাছি পোকা চালকুমড়ার ব্যাপক ক্ষতি করে তাই এ পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে দমন করতে হবে। মাছি পোকার হাত থেকে কীটনাশক ছাড়াও কচি চালকুমড়া রক্ষা করা যায়। সাদা পলেথিনে চালকুমড়া ভরে মুখ বন্ধ করে বেধে রাখলে এ পোকার হাত থেকে চাল কুমড়াকে সহজেই রক্ষা করা যেতে পারে।


চালকুমড়ার ফলন বৃদ্ধিতে করণীয়ঃ

কৃত্রীম পরাগায়নের মাধ্যমে চাল কুমড়ার ফলন বাড়ানো সম্ভব। পরাগায়নের অভাবে কচি ফল ঝরে পড়ে বা শুকিয়ে যায়। সকালে যত তাড়া তাড়ি সম্ভব পুরুষ ফুল ছিড়ে স্ত্রী বা ফল আসা ফুলের গর্ভে পুরুষ ফুলের পরাগ রেনু লাগিয়ে পরাগায়ন ঘটালে প্রায় প্রতিটি ফল দ্রুত বড় হবে এবং ঝরে পড়া হ্রাস পাবে, আকারে বড় হবে ফলে ফলের বাজার মূল্যও বৃদ্ধি পাবে।


চাল কুমড়ার ব্যবহার ও উপকারিতাঃ

চাল কুমড়া কচি অবস্থায় সাধারণত বেশি খাওয়া হয়। তবে জালি বা পাকা উভয় ভাবেই রান্না করে বা সব্জি হিসাবে অনেকে খায়। চাল কুমড়ার উপকারিতা অনেক। নানা পদের চাল কুমড়া রেসিপি খুবি সুস্বাদু ও মজাদার। চালকুমড়ায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন। এটি ক্যালসিয়াম এর চাহিদাও পুরোন করে থাকে। এছাড়া এতে শর্করা, আমিষ ও চর্বি সহ নানা খনিজ উপাদান রয়েছে যা মানব দেহের জন্য খুবি উপকারি। পাকা চাল কুমড়ার বড়ি বা বড়া বাঙ্গালীর এক জনপ্রিয় খাবার। বড়ি বা বড়া হিসেবে চালকুমড়া সারা বছর সংরক্ষন করে খাওয়া যায়। চাল কুমড়ার বীজ ক্রিমি নাশক হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া চাল কুমড়ার অনেক ঔষধি গুন রয়েছে। চাল কুমড়ার মোরব্বা খুবি জনপ্রিয় একটি খাবার। চাল কুমড়ার পাতা সব্জি হিসাবে খাওয়া যেতে পারে।  পুরুষ চাল কুমড়া ফুল বেটে ডিমের সাথে মিশিয়ে বড়া ভাজা খুবি মজাদার। পাকা বা বতি চালকুমড়া সারা বছর সংরক্ষন করে রাখা যায়। তাই চাল কুমড়ার অভাব জ্ঞাপক সব্জি বা আপদ কালীন সবজি হিসাবে সুনাম অনেক। চাল কুমড়া কেটে রোদে শুকিয়ে শুটকি হিসাবে সংরক্ষন করা যায়। সব্জি হিসাবে চালকুমড়া শুটকি খুবি পুষ্টি কর ও মুখরোচক খাবার।


আশাকরি আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে আমরা ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধির সাথে সাথে অধিক পরিমাণে চালকুমড়া বা চালকুমড়ো বা জালিকুমড়া উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবো। চালকুমড়ার আধুনিক চাষাবাদ আত্মকর্মসংস্থানে আগ্রহী প্রতিটি উদ্যোক্তা ও কৃষকের এক অন্যতম উপায় হতে পারে। সমন্বিত চাষাবাদ পদ্ধতিতে পুকুর বা খামারের পাশে চালকুমড়া অতি সহজেই চাষ করা যায়। আধা ছায়া বা ছায়াযুক্ত স্থানে অন্যকোন ফসল উৎপাদন ভালো না হলেও চালকুমড়া ছায়া যুক্ত স্থানেও চাষ বা উৎপাদন সম্ভব।



সকলের শুভকামনায়----
কে-মাহমুদ
০৪-০৬-২১