ছাগল পালন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছাগল পালন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার

গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর নিয়ম

গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর নিয়ম ও পদ্ধতি


এখানে যা থাকছে---

  • গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর নিয়ম
  • গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর পদ্ধতি
  • গরুকে কেন ইউরিয়া খাওয়ানো হয়
  • গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর উপকারিতা

গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর নিয়ম, গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর পদ্ধতি, গরুকে কেন ইউরিয়া খাওয়ানো হয়, গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর উপকারিতা
গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর নিয়ম


ইউরিয়া কিঃ

ইউরিয়ার প্রধান উপাদান নাইট্রজেন গ্যাস। ইউরিয়ার প্রধান উপাদান প্রক্রিয়াজাত নাইট্রজেন গ্যাস। মূলত ইউরিয়া উত্তাপে অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করে। অ্যামোনিয়া ও সায়ানিক গ্যাসের সমন্বয়ে তৈরি হয় ইউরিয়া। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান এমনিয়া হওয়ায় পৃথিবীর অনেক দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে ইউরিয়া (Urea) বা ইউরিয়া সার উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে এমনিয়া গ্যাসের অন্যতম উৎস ইউরিয়া বলে এটি প্রাণী দেহে প্রবেশের পর অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন করে। অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রতিটি অণুতে একটি  নাইট্রজেন পরমাণু এবং দুটি হাইড্রজেন পরমাণু থাকে। তাই ইউরিয়া সারকে অনেকে নাইট্রজেন সার বলেও অভিহিত করে থাকে।



গরুকে কেন ইউরিয়া খাওয়ানো হয়ঃ

মানুষের পরিপাকতন্ত্র এবং গরুর পরিপাকতন্ত্র এক নয়। সকল জাবরকাটা প্রাণীর পরিপাকতন্ত্র ৪টি প্রকোষ্ঠে বা ভাগে বিভক্ত। গরুর পেটে গাস, লতা পাতা, খড় প্রবেশের পর তা থেকে প্রটিন উৎপন্ন হয়। প্রটিন ভেঙ্গে উৎপন্ন হয় নাইট্রজেন। অপার দিকে নাইট্রজেন ভেঙ্গে অ্যামোনিয়া উৎপন্ন হয়ে গরুর শরীরে আমিষের সরবরাহ ঘটে। অর্থাৎ গরুর দৈহিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন আমিষ। আমিষ তৈরীর জন্য প্রয়োজন অ্যামোনিয়া। আর অ্যামোনিয়া উৎপন্নের জন্য প্রয়োজন ইউরিয়া। অন্যদিকে ইউরিয়া সারে প্রচুর পরিমাণে গরুর আমিষের উৎস এমনিয়া বিদ্যামান থাকে। তাই কৃত্তিম উপায়ে গরুকে ইউরিয়া সার খাওয়ালে গরুর আমিষের ঘাটতি পূরণ হয় ফলে গরু দ্রুত বেড়ে ওঠে। ইউরিয়া সারে ২৪৫% গরুর প্রয়োজনীয় ক্রুড আমিষ বিদ্যামান। তাই আমিষের সরবরাহ নিশ্চিত করে দ্রুত মাংস ও দুধ উৎপাদনের জন্য গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো হয়।



গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর নিয়মঃ

গরুর দেহে প্রতিদিন স্বাভাবিক ভাবে ২০ গ্রাম ইউরিয়া প্রয়োজন। গরুর দেহে এর চেয়ে কম ইউরিয়া উৎপন্ন হলে গরু শুকিয়ে যেতে থাকে। অন্যদিকে কৃত্তিম উপায়ে ইউরিয়া সরবরাহ করলে ২০ গ্রামের চেয়ে বেশি ইউরিয়া খাওয়ালে বেশি আমিষ পেয়ে গরু দ্রুত মোটা হতে থাকে। কিন্তু ইউরিয়া থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন হয়। ফলে বেশি পরিমাণে ইউরিয়া খাওয়ালে বেশি পরিমাণে অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন হয়। অধিক গ্যাসের চাপে করুর বদ হজম শুরু হতে পারে। এছাড়া অধিক পরিমাণে অ্যামোনিয়া গ্যাসের চাপে গরুর পেট ফেপে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই ওজন ও বয়স ভেদে গরুকে ২০ গ্রাম বা তার চেয়ে সামান্য পরিমাণ বেশি ইউরিয়া প্রতিদিন সরবরাহ করা উত্তম। ৬ মাস বয়সের আগে গরু পূর্ণ মাত্রায় জাবর কাটা শেখে না। তাই ৬ মাস বয়সের চেয়ে ছোট গরুকে ইউরিয়া সার খাওয়ানো কখনোই ঠিক নয়।



গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর পদ্ধতিঃ

গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো উত্তম। কিন্তু গরকে কি ভাবে ইউরিয়া খাওয়াতে হবে সে সম্পর্কে ধারনা ছাড়া গরুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। নিম্নে গরুকে ইউরিয়া সার খাওয়ানোর আধুনিক ও প্রচলিত ৩ টি পদ্ধতি তুলে ধরা হল। পদ্ধতি গুলো হল-

  • ১. ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র বা ইউএমএস (UMS) পদ্ধতি
  • ২. ইউরিয়া মোলাসেস মাল্টি মিনারেল ব্লক বা ইউএমএমবি (UMMB) পদ্ধতি
  • ৩. সরাসরি খাদ্যের সাথে ইউরিয়া খাওয়ানোর পদ্ধতি



ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র তৈরির নিয়ম ও গরুকে খাওয়ানোর পদ্ধতিঃ

গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে ইউএমএস পদ্ধতি খুবি জনপ্রিয়। ইউএমএস বা UMS এর পূর্ণ রূপ হল Urea Molasses Straw. এখানে Urea বলতে ইউরিয়া সার কে বোঝানো হয়েছে, Molasses অর্থ চিটাগুড় এবং Straw অর্থ খড় বা পল। সুতারং ইউরিয়া মোলাসিস স্ট্র বলতে ইউরিয়া এবং চিটাগুড় মিশ্রিত খড়কে বোঝানো হয়ে থাকে। ইউএমএস পদ্ধতিতে খড়ের সাথে ইউরিয়া ও গুড় মেশাতে পানি বা জল যোগ করতে হয়। শুধু মেশালেই হবে না। ইউএমএস তৈরী করতে চিটাগুড়, ইউরিয়া ও চিটাগুড়ের পরিমাণ সবসময় ঠিক রাখতে হয়। নইলে সঠিক ফল পাওয়া যায় না। ইউরিয়া মোলাসিস স্ট্র তৈরি করতে ৮২ কেজি খড়ের সাথে ১৫ কেজি চিটাগুড়, ৩০ কেজি পানি এবং ৩ কেজি ইউরিয়া মেশাতে হবে। চিটাগুড় বেশি ঘণ হলে পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে আর চিটাগুড় বেশি তরল হলে পানির পরিমাণ কমাতে হবে। অর্থাৎ ইউএমএস তৈরিতে খড়, চিটাগুড়, পানি এবং ইউরিয়ার অনুপাত হবে ৮২:১৫:৩০:৩ পরিমাণ অথবা ১০ কেজি খড়ে ২.৫ কেজি চিটাগুড়, ৫ কেজি পানি এবং ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া মেশালেও হবে। কুচিকুচি করে কাটা শুকনো খড়ে পানি মিশ্রিত চিটাগুড় এবং ইউরিয়া ভালো করে মেশালেই তৈরি হয়ে যাবে ইউএমএস বা ইউরিয়া মোলাসিস স্ট্র। ইউএমএস তৈরি করে সংগে সংগে গরুকে খাওয়ানো যায় আবার সংরক্ষণ করেও খাওয়ানো যায়। তবে তৈরির পর সর্বোচ্চ ৩ দিনের বেশি সংরক্ষণ করে খাওয়ানো যাবে না। ইউএমএস বা ইউরিয়া মোলাসিস স্ট্র নিয়ে বিস্তারিত তথ্য আমরা দ্রুত লিখবো। আশাকরি আমাদের সাথেই থাকবেন। ইউ এম এস গরুকে ইচ্ছামত ও গরুর চাহিদা মত ৬ মাসের বড় সকল গরুকে নিয়মিত খাওয়ানো যায়।



ইউরিয়া মোলাসেস মিনারেল ব্লক তৈরির নিয়ম ও গরুকে খাওয়ানোর পদ্ধতিঃ

ইউরিয়া মোলাসিস মিনারেল ব্লক পদ্ধতিতে গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো খুবি সোজা। প্রথমে ইউএমএমবি (UMMB) তৈরি করে নিতে হবে। ইউএমএমবি বা ইউরিয়া মোলাসেস মিনারেল ব্লক তৈরির জন্য ৩ কেজি পরিমাণ গমের ভূষি নিতে হবে। চিটাগুড় বা মোলাসিস নিতে হবে ৬ কেজি। ৩৫ গ্রাম লবণ, ৫০০ গ্রাম খাবার চুন এবং ৯০ গ্রাম ইউরিয়া নিতে হবে। সমস্ত পরিমাণ জিনিস একসাথে ভালো করে মিশিয়ে কাদা কাদা করে নিতে হবে। এবার কাঠের ফ্রেমে বা লোহার ফ্রেমে অথবা পলেথিনের উপর চারটি ইট দিয়ে ফ্রেম তৈরি করে তার মাঝে মিশ্রণ ঢেলে দিতে হবে। অর্থাৎ কাচা ইট যে ভাবে ফ্রেমে বানায় সেভাবে UMMB বানাতে হবে। এই মিশ্রণ ফ্রেমে করে রোদে শুকালে শক্ত হলে অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এটি শক্ত ইট আকারে বা ফ্রেম আকারে তৈরি করা হয় বলে একে ব্লক বা মোলাসিস ইউরিয়া দিয়ে তৈরি ইট বলে। UMMB তৈরির পর প্রতি গরুকে প্রতিদিন ৪০-৫০ গ্রাম করে খেতে দিতে হবে। অভ্যাস হয়ে গেলে প্রতিটি গরু মজা করে চেটে চেটে ইউএমএমবি তৃপ্তি সহকারে খাবে।



গরুকে সরাসরি ইউরিয়া খাওয়ানোর নিয়মঃ

গরুকে সরাসরি ইউরিয়া খাওয়ানোর জন্য প্রথম কাজ হল গরুকে ধীরেধীরে ইউরিয়া খেতে অভ্যস্ত করে তোলা। এজন্য প্রথমে ৫ গ্রাম ইউরিয়া এবং ২০০ গ্রাম মোলাসিস বা চিটাগুড় ১.৫-২ লিটার পানির সাথে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার উক্ত মিশ্রণ কুচি করে কাটা ৪-৫ কেজি খড়ের সাথে এমন ভাবে মেশাতে হবে যেন সমস্ত তরল খড়ের সাথে ভালো করে মিশে যায়। উক্ত খড় সরাসরি গরুকে এক দিনে খাইয়ে ফেলতে হবে। এভাবে ১৫ দিন খাওয়াতে হবে। ১৫ দিন পর সকল উপাদান ঠিক থাকবে কিন্তু ইউরিয়া ৫ গ্রামের পরিবর্তে ১০ গ্রাম বা ২ চা চামচ দিতে হবে। এভাবে আরো ১৫ দিন খাওয়াতে হবে। ১৫ দিন পর সকল উপাদান ঠিক রেখে ইউরিয়া ২ চা চামচের পরিবর্তে ৩ চা চামচ বা ১৫ গ্রাম দিতে হবে। এভাবে ১৫ দিন খাওয়াতে হবে। এর পর আবার সব উপাদান ঠিক রেখে ইউরিয়া ৩ চা চামচের পরিবর্তে ৪ চা চামচ বা ২০ গ্রাম দিতে হবে। এই ভাবে গরুকে খাইয়ে যেতে হবে। প্রতিদিন ৪ চা চামচ বা ২০ গ্রামের বেশি ইউরিয়া কখনো সরাসরি পদ্ধতিতে গরুকে খাওয়ানো যাবে না। এভাবে খাওয়ালে ৪-৫ মাসে গরু মোটাতাজা হয়ে উঠবে। সরাসরি পদ্ধতিতে ইউরিয়া খাওয়ানো সহজ ও ঝামেলা মুক্ত। তাই এই পদ্ধতি দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।



গরুকে ইউরিয়া খাওয়াতে সতর্কতাঃ

গরকে ইউরিয়া খাওয়াতে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। ইউরিয়া খাওয়াতে যে সকল সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত তা নিম্নরূপ-

  • ১. ৬ মাসের কম বয়সী গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো ঠিক নয়।
  • ২. প্রতিদিন ২০ গ্রামের বেশি ইউরিয়া খাওয়ানো ঠিক নয় তবে জাত ও ওজন ভেদে এই মাত্রা কম বেশি হতে পারে।
  • ৩. দ্রুত মোটা করার আশায় গরুকে বেশি মাত্রায় ইউরিয়া খাওয়ালে বেশি মাত্রায় অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন হয়ে গরু মারা যেতে পারে।
  • ৪. ধীরেধীরে গরুকে ইউরিয়া মিশ্রিত খড়ে অভ্যস্ত করে তোলা উচিত, হঠাৎ বেশি পরিমাণে খাওয়ালে বদ হজম হয়ে গরু মারা যেতে পারে।
  • ৫. ইউরিয়া মিশ্রিত খড় খাওয়ার পরপরি পানি না খাইয়ে ৩০-৪০ মিনিট পর পানি খাওয়াতে হবে যাতে বদহজম কম হয়।
  • ৬. ইউরিয়া মিশ্রিত খড় কখনো পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যাবে না বরং শুষ্ক শুষ্ক অবস্থায় খাওয়ানো উত্তম।
  • ৭. গর্ভবতী গরুর গর্ভের শেষদিকে ইউরিয়া খাওয়ানো উচিৎ নয় অর্থাৎ বাচ্চা প্রস্রবের ২ মাস আগ ইউরিয়া খাওয়ানো বন্ধ করতে হবে।



গরুকে উইরিয়া খাওয়ানোর উপকারিতাঃ

গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর প্রয়োজনিয়তা বা উপকারিতা অপরিসীম। গরুকে নিয়মিত ইউরিয়া খাওয়ানোর ফলে গরুর আমিষের অভাব দূর হয়। ফলে দ্রুত মাংস ও দুধ উৎপাদন বাড়তে থাকে। আধুনিক নিয়মে বানিজ্যিক ভাবে ফার্ম করে লাভবান হতে গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানোর কোনো বিকল্প নেই। ইউরিয়া খাওয়ানোর ফলে গরুর খাদ্য হজম প্রক্রিয়া বেশি হয়, গরুর খাদ্য চাহিদা বাড়ে এবং দ্রুত বেড়ে ওঠে। গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো কোনো ক্ষতিকার ব্যপার নয় বরং দেশের মাংস ও দুধের চাহিদা মেটাতে সকল গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো উচিত। ইউরিয়া দামে সস্থা, মোলাসেস বা চিটাগুড়ের দামো অনেক কম। স্বল্প খরচে গরু থেকে বেশি মুনাফা পেতে ইউরিয়া খাওয়ানো অত্যাবশ্যক একটি উপায়।

শনিবার

পশু পাখিকে জিংক খাওয়ানোর নিয়ম

লেয়ার, পোল্ট্রি ও গরু কে জিংক খাওয়ানোর নিয়ম


এখানে যা থাকছে---

  • জিংক খাওয়ানোর নিয়ম
  • জিংক কি
  • জিংকের উপকারিতা
  • গরুকে জিংক খাওয়ানোর নিয়ম
  • পোল্ট্রি কে জিংক খাওয়ানোর নিয়ম

জিংক খাওয়ানোর নিয়ম, জিংক কি, জিংকের উপকারিতা, গরুকে জিংক খাওয়ানোর নিয়ম, পোল্ট্রি কে জিংক খাওয়ানোর নিয়ম
পশু পাখিকে জিংক খাওয়ানোর নিয়ম


জিংক কিঃ

জিংক (Zinc) এক ধরণের ধাতব পদার্থ। একে জিংক অক্সাইড বলা হয়ে থাকে। জিংক অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত ZnO যা সাদা পাউডার আকারে পাওয়া যায়। অক্সিজেন এবং দস্থার সংমিশ্রণে ZoN গঠিত। আয়রন এর স্বল্পতা রোধে জিংক বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।



জিংক কেন প্রয়োজনঃ

প্রাণী দেহে বিশেষ করে গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, কুকুর, বেড়াল সহ হাস, মুরগি, কবুতর বা যে কোনো পশু পাখির শরীরে প্রতিদিন খুব সামান্য পরিমাণে জিংকের প্রয়োজন। জিংক প্রাণী দেহে শোষিত হয়ে দেহের অন্যান্য উপাদানের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে দৈহিক বৃদ্ধি ও রক্ত উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এটি মিনারেল বা খাদ্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে বলে প্রাণীদেহে জিংকের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।



জিংকের উৎসঃ

বিভিন্ন ভাবে প্রাণী, শরীরে জিংকের যোগান দিয়ে থাকে। সাধারণত কাচা ঘাসে জিংক পাওয়া যায়। যে সকল প্রাণী কাচা ঘাস বা সবুজ ঘাস পাতা খায় সে সকল প্রাণীদেহে জিংকের ঘাটতি কম পরিলক্ষিত হয়। তাই কাচা ঘাস সরবরাহ করা গেলে, গরু, ছাগল, ভেড়া বা মহিষ এর খাবারে বাড়তি জিংক সরবরাহ না করলেও চলে। খোলা যায় গায় পালিত পাখি বা মুরগী ঘাস পাতা খায় তাই এসকল পাখি দের বাড়তি জিংক না দিলেও চলে।



যে সকল প্রাণীকে বাড়তি জিংক সরবরাহ করতে হবেঃ

যে সকল প্রাণী বা পাখি তথা গরু, ছাগল, হাস, মুরগি আবদ্ধ অবস্থায় পালিত হয় সে সকল পশু পাখিকে বাড়তি জিংক সরবরাহ করতে হয়। পোল্ট্রি বা বয়লার দের অবশ্যই খাবারের সাথে নিয়মিত জিংক সরবরাহ করতে হবে। খামারে পালিত গরু, ছাগল বা মহিষকে খাবারের সাথে নিয়মিত জিংক সরবরাহ করা প্রয়োজন। এছাড়া দুগ্ধবতী গাভী বা দুধ দেয় এমন পশু পাখিকে নিয়মিত জিংক সরবরাহ না করলে দুধ উৎপাদন কমে যায়। ডিম দেয় এমন হাস মুরগিকে নিয়মিত জিংক সরবরাহ করতে হবে তাতে ডিম উৎপাদন বেড়ে যাবে এছাড়া ডিমের খোসা মজবুত করতে জিংক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।



গরু, ছাগল, হাস, মুরগির জন্য জিংকের উপকারিতা বা প্রয়োজনীয়তাঃ

জিংকের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।  গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, কুকুর, বেড়াল ও হাস, মুরগি বা পল্ট্রি বা বয়লার এর শরীরে অন্যান্য খাদ্য উপাদান সঠিক মাত্রায় শোষণে জিংক বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিম্নে জিংকের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হলো-

  • ১. জিংক আয়রনের জোগান নিশ্চিত করে রক্তশূন্যতা রোধ করে।
  • ২. জিংক পশু পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • ৩. জিংক দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
  • ৪. জিংক পশু পাখির রুচি বৃদ্ধি করে সঠিক মাত্রায় খাদ্য গ্রহণে ভূমিকা রাখে।
  • ৫. জিংক হাড়ের গঠণ মজবুত করে।
  • ৬. হাস, মুরগী ও পোল্ট্রি বা লেয়ার বা সোনালি বা বয়লারের দ্রুত পশম বা পালক গজাতে সহায়তা করে ও পশমের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
  • ৭. জিংক ডিমের খোসা শক্ত করে ও ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি করে।
  • ৮. জিংক গবাদিপশুর লোম পড়ে যাওয়া রোধ করে ও লোম চামড়া মসৃণ ও চকচকে করে।
  • ৯. পশু পাখির ডায়রিয়া প্রতিরোধে জিংক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
  • ১০. জিংক গরু ছাগলের ক্ষুর বেড়ে যাওয়া রোধ করে এবং চর্মরোগ প্রতিহত করেম
  • ১১. জিংক গরু ছাগল ও পশু পাখির খাদ্য হজমে সহায়তা করে।



গরু, ছাগল, হাস, মুরগি ও পোল্ট্রি বা বয়লার বা লেয়ার কে জিংক খাওয়ানোর মাত্রা ও নিয়মঃ

হাস, মুরগি, পোল্ট্রি ও লেয়ার ও বয়লার কে প্রতি মাসে ৫-৭ দিন প্রতি লিটার পানিতে ২-৩ মিলিলিটার পরিমাণ জিংক মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। গরু, ছাগল, মহিষ বা গবাদিপশু কে প্রতি ৫০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ২০ মিলিলিটার করে প্রতি মাসে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে। জিংক কোনো ঔষুধ নয় তাই মাত্রা বেশি বা কম হলে কোনো প্রকার সমস্যা নেই। দুগ্ধবতী, গর্ভবতী, রোগাক্রান্ত ও মোটাতাজা করণে ব্যবহৃত পশু পাখিকে মাত্রা বেশি করে নিয়মিত জিংক খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়। ক্রিমির ট্যাবলেট বা ইঞ্জেকশন প্রয়োগের পর ৫-৭ দিন ধরে জিংক খাওয়ানো উত্তম। ৩০ লিটার দুধ দেয় এমন গাভীকে প্রতিদিন ৩২ মিলিগ্রাম জিংক খাওয়ানো প্রয়োজন।



জিংক এর মূল্যঃ

জিংক স্বল্প মূল্যে বাজারে পাওয়া যায়। মানুষের জিংক আর পশু পাখির জিংক এক হলেও পশু পাখির জন্য তৈরি জিংক মানুষের খাওয়া নিরাপদ নয়। তাই মানুষের জন্য ব্যবহৃত জিংকের চেয়ে পশুপাখির জন্য ব্যবহৃত জিংকের দাম তুলনামূলক কম। 



জিংক বাজারে কোথায় এবং কিভাবে পাওয়া যায়ঃ

যে কোনো ভেটেনারী বা ওষুধের দোকানে জিংক পাওয়া যায়। জিংক সিরাপ বা লিকুইড আকারে পাওয়া যায় আবার গুড়া বা পাউডার আকারেও পাওয়া যায়। জিস ভেট, এসআর জিং, ফেরো জিং, জিংক ভেট সহ বিভিন্ন নামে জিংক বাজারে পাওয়া যায়। জিংকের সাথে ভিটামিন ও মিনারেল যোগ করে অনেক কম্পানি বাজারে জিংক সরবরাহ করে থাকে। ট্যাবলেট বা বোলাস আকারেও জিংক পাওয়া যায়। 


বাছুরের নাভি পাকা বা নাভি ফোলা রোগ

গরুর নাভি পাকা রোগ বা নাভিতে ঘা - ওষুধ ও চিকিৎসা


এখানে যা থাকছে---

  • বাছুরের নাভি পাকা রোগ
  • গরুর নাভি পাকা রোগের ওষুধ ও চিকিৎসা
  • গরুর নাভিতে ঘা বা ক্ষত
  • গরু বা বছুরের নাভি পচা বা নাভি প্রদাহ

বাছুরের নাভি পাকা রোগ, গরুর নাভি পাকা রোগের ওষুধ ও চিকিৎসা, গরুর নাভিতে ঘা বা ক্ষত, গরু বা বছুরের নাভি পচা বা নাভি প্রদাহ
গরুর নাভি পাকা রোগ ও চিকিৎসা


গরু ও বাছুরের নাভি পাকা রোগের কারণঃ

গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগ বা Naval Ill মারাত্মক সংক্রমণ জাতীয় একটি রোগ। গরু বা বাছুরের নাভি ফুলে গেলেই ধরে নিতে হবে নাভিতে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটেছে। গরুর নাভি পাকা বা নাভি ফোলা বা নাভি পচা রোগ ব্যাকটেরিয়া ঘটিত এক ধরণের রোগ। বয়ষ্ক গরুর চেয়ে বাছুরের নাভি পাকা রোগ বেশি দেখা দেয়। সাধারন্ত ২ দিন থেকে ৩ মাস বয়সের বাছুরের নাভি পাকা, নাভি ফোলা বা নাভিতে ঘা বা ক্ষত রোগ (Naval ill of Calf) বেশি পরিলক্ষিত হয়। Staphylococcus নামক এক ধরণের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে গরুর নাভী ফোলা বা নাভি পাকা রোগ হয়ে থাকে। ছ্যাতছেতে আদ্র ও কর্দমাক্ত পরিবেশে Staphylococcus ব্যাকটেরিয়া বেচে থাকে ও বংশ বিস্তার করার উপযুক্ত পরিবেশ পায়। নবজাতক বাছুরের নাভিতে ঝুলে থাকা কাচা নাড়িতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে নাভি পচা বা নাভি ফোলা রোগ সৃষ্টি করে। বয়ষ্ক গরুর ক্ষেত্রে নাভিতে প্রাথমিক ক্ষত ও ক্ষতে মাছির আক্রমণে নাভি পচা রোগ দেখা দেয়। গরু বা বাছুরের নাড়ি বা নাভি লিভারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। নাভি পাকা রোগে জীবাণু সহজে নাভির মাধ্যমে লিভার বা যকৃতে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে জীবাণু রক্তে ছড়িয়ে পড়ে রক্তের মাধ্যমে গরুর লাঞ্চ বা ফুসফুস, বিভিন্ন অস্থি বা হাড়, মস্তিষ্ক সহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করতে পারে। তাই নাভি পচা বা নাভি ফোলা বা নাভি পাকা রোগের দ্রুত চিকিৎসা না করালে গরু বা বাছুরের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।



গরু বা বাছুরের নাভিতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণঃ

গরু বা বাছুরের যে সকল কারণে নাভি পাকা রোগের উৎপত্তি হয় বা নাভিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে তা নিম্নরূপ-

  • ১. ভেজা ও স্যাতছেতে পরিবেশে গরু পালন করলে অর্থাৎ ভেজা কর্দমাক্ত স্থানে গরু বা বাছুর দীর্ঘক্ষণ থাকলে গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগ দেখা দিতে পারে।
  • ২. জন্মের পর জীবাণু মুক্ত ব্লেড বা ছুরি দিয়ে বাছুরের নাভিতে যুক্ত নাড়ি না কাটলে এবং বাছুরের নাভিতে যুক্ত নাড়িতে নিয়মিত জীবাণুনাশ ব্যবহার না করলে বাছুরের নাভি পচা রোগ দেখা দিতে পারে।
  • ৩. জন্মের পর বাছুরের নাভি ঘন ঘন গাভী চাটতে থাকলে বাছুরের নাভি পচা বা নাভি পাকা রোগ দেখা দিতে পারে।
  • ৪. গরু বা বাছুরের নাভিতে কোনো কারণে ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি হলে এবং তাতে মাছি বসে ডিম পাড়লে ক্ষত বা ঘা এ মাছির লার্ভা জন্মায় এবং তা বাছুর বা গরুর নাভি পচা রোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
  • ৫. জন্মের পর বাছুর পরিমিত মাত্রায় শাল দুধ বা কোলেস্ট্রম না পেলে অপুষ্টিতে ভোগে এবং রোগজীবাণু সহজেই আক্রমণ করে ফলে বাছুরের নাভি পাকা রোগ দেখা দিতে পারে।
  • ৬. নিয়মিত বাছুর ও গরুর পরিচর্যা, চেকাপ ও চিকিৎসা না করালে বিভিন্ন রোগজীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে রোগাক্রান্ত করে ফেলে, নাভি পাকা রোগ এসকল ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগের মধ্যে অন্যতম।



গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগের লক্ষণঃ

বাছুরের নাভি পাকা বা বাছুরের নাভি ফোলা বা গরুর নাভি পচা রোগের লক্ষণ সমূহ নিম্নরূপ-

  • ১. বাছুরের নাভি পাকা রোগের প্রাথমিক লক্ষণ বাছুরের নাভি ফুলে ওঠা।
  • ২. বাছুরের নাভি পাকা রোগের অন্যতম আরেকটি লক্ষণ বাছুরের নাভি দিয়ে পুজ বা রক্ত বের হওয়া।
  • ৩. গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগ হলে বাছুর বা গরুর গায়ে মৃদু থেকে মাঝারি পর্যায়ে এমনকি ১০৫ ডিগ্রি  থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে।
  • ৪. বাছুরের নাভি পাকা রোগ দেখা দিলে বাছুর বার বার নাভি চাটতে চেষ্টা করে।
  • ৫. বাছুরের নাভি পাকা রোগে বাছুরের নাভিতে ব্যথা থাকায় বাছুর নড়তে চড়তে সমস্যা বোধ করে এবং দুধ পানে অনিহা প্রকাশ করে।
  • ৬. গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগে গরু বা বাছুর ঝুপ মেরে দাঁড়িয়ে থাকে, খাবার গ্রহণে অনিহা প্রকাশ করে এবং ধীরেধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
  • ৭. গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগে নাভিতে মাছি লাগার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, মাছি বসে ডিম পাড়ে ফলে গরু বা বাছুরের নাভিতে মাছির লার্ভা বা পোকা জন্মায় এবং ক্ষত বা ঘা বেড়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করে।
  • ৮. বাছুরের নাভি পাকা রোগ হলে বাছুরের ঘন ঘন প্রস্রাব করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
  • ৯. বাছুরের নাভি পাকা রোগের আরেকটি অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে বাছুরের নাভি ফুলে ওঠা ও ভেজা ভেজা ভাব প্রকাশ পাওয়া।



গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগের প্রকারঃ

সংক্রমণের উপর ভিত্তি করে গরু বা বাছুরের নাভি পাকা বা নাভি পচা বা নাভি ফোলা বা নাভি প্রদাহ কে প্রধানত ৩ টি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে, যথা-

  • ১. গরু বা বাছুরের নাভি ফোলা বা সাধারণ নাভি প্রদাহ
  • ২. গরু বা বাছুরের নাভি পাকা বা নাভি পচা
  • ৩. গরু বা বাছুরের নাভিতে পোকা বা মারাত্মক নাভি পাকা



গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগের চিকিৎসাঃ

নিম্নে ধরণ বা প্রকার অনুযায়ী গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হল-

  • গরু বা বাছুরের নাভি ফোলা বা সাধারণ নাভি প্রদাহ হলে চিকিৎসা-

    গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগের প্রাথমিক অবস্থায় সাধারন্ত নাভি ফুলে যায় এ সময় দ্রুত চিকিৎসা করালে গরু বা বাছুর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং মৃত্যু ঝুকি হ্রাস পায়।

    চিকিৎসা-

        ১. ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য Renamycin Vet injunction  অথবা Tetracycline Vet injunction, ৩-৪ মিলি পরিমাণ অথবা প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশ মত দিনে এক বার করে ৫ থেকে ৭ দিন প্রয়োগ করতে হবে।

        ২. ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত ঘা শুকাতে Penicillin গ্রুপের এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ইনজেকশন যেমন Pronapen Vet অথবা StreptoPen Vet injunction দিনে ১ বার করে ৫-৭ দিন প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশ মত নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

        ৩. ব্যথা নিবারণের জন্য Ketoprofen গ্রুপের ইঞ্জেকশন যেমন KETO-A VET দিনে এক বার করে প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রায় ৩-৪ দিন প্রয়োগ করতে হবে।

        ৪. গরু বা বাছুরের শরীরে জ্বর থাকলে জ্বর নিবারণের জন্য Paracitamol গ্রুপের ট্যাবলেট বা ইনজেকশন বা সাসপেনশন বা লিকুইড প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রায় জ্বর না কমা পর্যন্ত ব্যবহার করতে হবে।

        ৫. সহায়ক চিকিৎসা হিসাবে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স জাতীয় ইঞ্জেকশন যেমন- B50-Vet প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রায় দিনে এক বার করে পর পর ৩-৫ দিন প্রয়োগ করতে হবে। 

  • গরু বা বাছুরের নাভি পাকা বা নাভি পচা রোগের চিকিৎসা-

    গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগের দ্বিতীয় পর্যায়ে গরু বা বাছুরের নাভি পেকে বা পচে পুজ রক্ত বের হতে পারে এ সময় দ্রুত চিকিৎসা না করালে গরু বা বাছুরের নাভি পচে ভয়ানক রূপ ধারণ করতে পারে।

    চিকিৎসা-

        ১. ধারালো ব্লেড বা ছুরি দিয়ে নাভি কেটে পুজ বের করে দিতে হবে।

        ২. পুজ বের করার পর জীবাণুনাশ মিশ্রিত পানি বা জল যেমন পটাশ মিশ্রিত পানি বা জল দিয়ে নাভি ও ক্ষত ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে।

        ৩. নাভির ক্ষতের ভিতরে কাটা অংশ দিয়ে প্রতি দিন ২ বার টিংচার আয়োডিন যুক্ত জীবাণুনাশ যেমন POVIDON মাখানো গজ বা কাপড় ঢুকিয়ে দিতে হবে এবং পরিষ্কার করে নতুন গজ ব্যবহার করতে হবে।

        ৪. নিয়মিত ২ দিন POVIDON মাখানো গজ ব্যবহার করার পর গজ ব্যবহার না করে Sulpher গ্রুপের পাওডার যেমন- Sumid vet powder নাভির ভিতরে ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দিতে হবে।

        ৫. ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত ঘা শুকাতে Penicillin গ্রুপের এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ইনজেকশন যেমন Pronapen Vet অথবা StreptoPen Vet injunction দিনে ১ বার করে ৫-৭ দিন প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশ মত নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

        ৬. ব্যথা নিবারণের জন্য Ketoprofen গ্রুপের ইঞ্জেকশন যেমন KETO-A VET দিনে এক বার করে প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রায় ৩-৪ দিন প্রয়োগ করতে হবে।

        ৭. গরু বা বাছুরের শরীরে জ্বর থাকলে জ্বর নিবারণের জন্য Paracitamol গ্রুপের ট্যাবলেট বা ইনজেকশন বা সাসপেনশন বা লিকুইড প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রায় জ্বর না কমা পর্যন্ত ব্যবহার করতে হবে।

        ৮. সহায়ক চিকিৎসা হিসাবে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স জাতীয় ইঞ্জেকশন যেমন- B50-Vet প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রায় দিনে এক বার করে পর পর ৩-৫ দিন প্রয়োগ করতে হবে। 

  • গরু বা বাছুরের নাভিতে পোকা বা মারাত্মক নাভি পাকা রোগের চিকিৎসা-

    গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগের মারাত্মক পর্যায়ে গরু বা বাছুরের নাভি পেকে বা পচে পুজ রক্ত বের হওয়ার পাশাপাশি নাভিতে মাছির উপদ্রব হলে মাছি গরু বা বাছুরের নাভিতে ডিম পাড়ে ফলে এই ডিম ফুটে নাভির ক্ষতে মাছির লার্ভা জন্মায় যা মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি করে। দ্রুত চিকিৎসা না করালে এ পর্যায়ে গরু বা বাছুরের নাভি সম্পূর্ণ রূপে পচে যেতে পারে এবং ভয়ানক রূপ ধারণ করে গরু বা বাছুর মারা যেতে পারে।

    চিকিৎসা-

      1. ১. ধারালো ব্লেড বা ছুরি দিয়ে নাভি কেটে পুজ বের করে দিতে হবে এবং চিমটি দিয়ে ধরে পোকা বের করে দিতে হবে।

        ২. পুজ ও পোকা যথা সম্ভব বের করার পর হাইড্রজেন পার অক্সাইড দিয়ে নাভি ও ক্ষত ভালো করে পরিষ্কার করে দিতে হবে।

        ৩. নাভির ক্ষতের ভিতরে কাটা অংশ দিয়ে প্রতি দিন আইভারমেকটিন গ্রুপের ড্রপ যেমন- Ivertin drop তুলোতে মাখিয়ে অথবা সিরিঞ্জে পুরে ভালো করে লাগিয়ে দিতে হবে।

        ৪. নিয়মিত ২-৩ দিন, দিনে ২ বার করে নাপথলিন গুড়া করে কাপড় বা গজে লাগিয়ে নাভিতে গজ হিসাবে ব্যবহার করতে হবে, এবং ২-৩ দিন নাপথলিন মাখানো গজ ব্যবহার করার পর গজ ব্যবহার না করে Sulpher গ্রুপের পাওডার যেমন- Sumid vet powder নাভির ভিতরে ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দিতে হবে।

        ৫. ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত ঘা শুকাতে Penicillin গ্রুপের এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ইনজেকশন যেমন Pronapen Vet অথবা StreptoPen Vet injunction দিনে ১ বার করে ৫-৭ দিন প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশ মত নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

        ৬. ব্যথা নিবারণের জন্য Ketoprofen গ্রুপের ইঞ্জেকশন যেমন KETO-A VET দিনে এক বার করে প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রায় ৩-৪ দিন প্রয়োগ করতে হবে।

        ৭. গরু বা বাছুরের শরীরে জ্বর থাকলে জ্বর নিবারণের জন্য Paracitamol গ্রুপের ট্যাবলেট বা ইনজেকশন বা সাসপেনশন বা লিকুইড প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রায় জ্বর না কমা পর্যন্ত ব্যবহার করতে হবে।

        ৮. সহায়ক চিকিৎসা হিসাবে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স জাতীয় ইঞ্জেকশন যেমন- B50-Vet প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রায় দিনে এক বার করে পর পর ৩-৫ দিন প্রয়োগ করতে হবে। 




গরু বা বাছুরের নাভি পাকা রোগ প্রতিরোধের উয়ায়ঃ

বাছুরের নাভি বা নাড়ি (আমবিলিক্যাল শিরা) জন্মের সময় ছিড়ে যায়। এমনিয়টিক মেমব্রেন, আমবিলিক্যাল ধমনী, ইউরেকাস ও আমবিলিক্যাল শিরার সমন্বয়ে নাভি বা নাভির নাড়ি গঠিত হয়। বাছুর গর্ভে থাকা অবস্থায় আমবিলিক্যাল শিরা বা নাড়ি বা নাভির মাধ্যমে মা বা গাভীর দেহ থেকে খাদ্য ও পুষ্টি গ্রহণ করে থাকে। বাছুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় আমবিলিক্যাল কর্ড ছিড়ে যাওয়ায় ফলে আমবিলিক্যাল শিরা ও ইউরেকাস বন্ধ হয়ে গেলেও নাভির অন্যান্য অংশ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে, ফলে বাছুরের নাভিতে সহজেই জীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে। বয়ষ্ক গরুর ক্ষেত্রে নাভিতে ক্ষতের মাধ্যমে নাভি পচা রোগের সূত্রপাত হয়ে থাকে। নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গুলো গ্রহণের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই গরু বা বাছুরের নাভি পাকা বা নাভি পচা তথা নাভিকে জীবাণু সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি-

  • ১. জন্মের পর কমপক্ষে ১০ দিন বাছুরকে শাল দুধ খাওয়াতে হবে যা ইমুনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
  • ২. আর্দ্র, ভেজা, স্যাতছেতে ও কর্দমাক্ত পরিবেশে মুক্ত শুষ্ক পরিবেশে গরু পালন করতে হবে।
  • ৩. বাছুর জন্মের পর-পরি ধারালো জীবাণু মুক্ত ব্লেড বা ছুরি দিয়ে ১ ইঞ্চি পরিমাণ নাভি বা নাড়ি (Umbilicus) রেখে বাকি অংশ কেটে ফেলতে হবে।
  • ৪. বাছুরের নাভি কাটার পর সিল্ক জাতীয় সুতা দিয়ে নাড়ির অগ্রভাগ বা মুখ বেধে দিতে হবে এবং টিংচার অব আয়োডিন যুক্ত জীবাণুনাশ যেমন POVIDON লাগিয়ে নাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে, নাড়ি শুকানো না পর্যন্ত প্রতিদিন ২ বার পভিডন লাগাতে হবে।
  • ৫. গাভীকে বাছুরের নাভী চাটা থেকে বিরত রাখতে হবে।
  • ৬. বাছুরের নাভি যেন গাভীর চাটা বা কোনো কারণে গোড়া থেকে জন্মের ৭ দিনের আগে ছিড়ে না যায় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং কোনো কারণে ছিড়ে গেলে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে।
  • ৭. নিয়মিত বাছুরের নাভি পরীক্ষা করতে হবে নাভীতে ফোলা বা কোনো প্রকার সমস্যা পরিলক্ষিত হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে অথবা চিকিৎসা দিতে হবে।
  • ৮. গরু বা বাছুরের নাভিতে ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি হলে জীবাণুনাশক লাগাতে হবে, দ্রুত চিকিৎসা দিতে হবে এবং মাছির উপদ্রব্য হতে ক্ষত রক্ষা করতে হবে, কারণ মাছি ক্ষতে ডিম পাড়ে ফলে লার্ভা জন্মায় যা পরবর্তীতে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে।
  • ৯. গরু বা গাভীকে নিয়মিত সকল প্রকার টিকা বা ভ্যাকসিন দিতে হবে এবং পুষ্টিকর ও সুষম খাবার সরবরাহ করতে হবে।
  • ১০. গরু বা বাছুর কে নিয়মিত গোসল করাতে হবে বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার

গরুর ক্ষুরা রোগ বা জরা - ওষুধ ও চিকিৎসা

গরুর ক্ষুরা রোগ ও গালে ঘা রোগের কারণ, ওষুধ ও টিকা


এখানে যা থাকছে---

  • গরুর খুরা রোগের ঔষধ ও চিকিৎসা
  • গরুর খুরা রোগের টিকা বা ভ্যাকসিন
  • গরুর ক্ষুরা রোগের ঘরোয়া ও হোমিও চিকিৎসা

গরুর খুরা রোগের ঔষধ ও চিকিৎসা, গরুর খুরা রোগের টিকা বা ভ্যাকসিন, গরুর ক্ষুরা রোগের ঘরোয়া ও হোমিও চিকিৎসা
গরুর ক্ষুরা রোগের ওষুধ ও চিকিৎসা

গরুর ক্ষুরা রোগ কেন হয়ঃ

গরুর খুরা রোগ বা ক্ষুরা রোগ কে অনেকে গরুর জরা রোগ বা গরু জরা বলে। গরু জরলে বা গরুর ক্ষুরা রোগ হলে সাধারণত গরুর ক্ষুর বা পায়ে ও গালে ক্ষত সৃষ্টি হয় এজন্য গরুর ক্ষুরা রোগ কে পায়ের পাতা বা ক্ষুর ও মুখের ক্ষত রোগ বা ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ বা এফ.এম.ডি (Foot & Mouth Disease বা FMD) বলে। গরুর ক্ষুরা রোগ ব্যাকটেরিয়া ঘটিত মারাত্মক রোগ গুলোর মধ্যে অন্যতম। ক্ষুরা রোগের জন্য দায়ি ভাইরাস গরুর দেহে প্রবেশের পর নানারকম লক্ষণ প্রকাশ পায়। বিশেষ করে গরুর পা ও মুখে ক্ষত দেখা দেওয়ার সাথে সাথে ক্ষত দ্রুত বেড়ে যায় গরু খাবার গ্রহণে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং দূর্বল হয়ে একসময় মারা যায়। ক্ষুরা রোগ হলে গরুর মারাত্মক জ্বর দেখা দেয় তাই গরুর ক্ষুরা রোগ কে Aphthous fever নামে নামকরণ করা হয়ে থাকে। ক্ষুরা রোগ হলে হার্টের উপর ভাইরাসের ব্যপক ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে গরুর ক্ষুরা রোগ কে Tiger Heart Disease নামেও অভিহিত করা হয়।



গরুর ক্ষুরা রোগের লক্ষণ সমূহঃ

ক্ষুরা রোগের জন্য দায়ি ভাইরাস গরুর দেহে প্রবেশের পর গরুর দেহে যে সকল লক্ষণ দেখা দেয় তা নিম্নরূপ-

  • ১. পায়ের ক্ষুরের চারিদিকে ও ক্ষুরের মাঝে ক্ষত বা ঘা দেখা দেয়।
  • ২. দাতের মাড়ি, জিহ্বা ও সম্পূর্ণ মুখে ক্ষত বা ঘা সৃষ্টির ফলে গাল বা মুখ দিয়ে লালা পড়ে বা লালা ঝরে এবং গরুর মুখ বা গাল খাবার গ্রহণে অক্ষম হয়ে পড়ে।
  • ৩. পায়ে ক্ষতের ফলে গরু হাটাচলা করতে কষ্ট বোধ করে এবং খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটতে থাকে।
  • ৪. ক্ষুরা রোগ হলে গরুর শরীরের তাপমাত্রা মারাত্মক আকারে বেড়ে যায়।
  • ৫. গাভীর ওলানে ক্ষত বা ফোসকা দেখা দিতে পারে।
  • ৬. ক্ষুরা রোগের ফলে গর্ভবতী গাভীর গর্ভপাত পর্যন্ত হতে পারে।
  • ৭. ক্ষুরা রোগের ফলে দুগ্ধবতী গাভীর দুধ উৎপাদন মারাত্মক আকারে কমে যায় বা হ্রাস পায়।
  • ৮. ক্ষুরা রোগের আক্রমণে বয়ষ্ক গরু ও বাছুর দ্রুত দূর্বল হয়ে পড়ে এবং মৃত্যু ঝুকি বেড়ে যায়।



গরুর ক্ষুরা রোগ হলে বা গরু জরলে করনীয়ঃ

  • ১. দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
  • ২. ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরু কে অন্যান্য সুস্থ গরু থেকে দ্রুত আলাদা করতে হবে।
  • ৩. ক্ষুরা রোগ হলে গরুর গালে ঘা থাকায় শক্ত খাবার ক্ষেতে পারে না তাই নরম, ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ সুষম খাবার প্রদান করতে হবে।
  • ৪. গরুকে পূর্ণ বিশ্রাম দিতে হবে এবং শুষ্ক ও ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে, ভিজা ও কাদা মাটিতে বাধলে বা রাখলে গরুর পায়ের ক্ষত বেড়ে যেতে পারে।
  • ৫. গরুকে শুষ্ক ও আরাম দায়ক পরিবেশে রাখতে হবে, নিয়মিত রোগাক্রান্ত গরুর ওষুধ প্রয়োগ ও দেখা শোনা করতে হবে।



ক্ষুরা রোগের ভাইরাসের প্রজাতি সমূহঃ

গরুর খুরা রোগের ঔষধ ও চিকিৎসা, গরুর খুরা রোগের টিকা বা ভ্যাকসিন, গরুর ক্ষুরা রোগের ঘরোয়া ও হোমিও চিকিৎসা
এফএমডি ভাইরাস

ক্ষুরা রোগের জন্য দায়ি ভাইরাসের অনেক গুলো প্রজাতি রয়েছে। দিন দিন এ প্রজাতি বা গ্রুপ বা সেরোটাইপ বা স্ট্রোনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে গরুকে ক্ষুরা রোগের টিকা দেওয়া সত্তেও অনেক সময় ক্ষুরা রোগের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে গরুকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। গরুর ক্ষুরারোগের জন্য দায়ি ভাইরাসের প্রজাতিসমূহ হচ্ছে, সেরোটাইপ -ও, সেরোটাইপ -এ, সেরোটাইপ -সি, স্যাট-১, স্যাট-২, স্যাট-৩, এশিয়া-১ ইত্যাদি।



গরুর ক্ষুরা রোগের ভ্যাকসিন ও টিকা দেওয়ার নিয়মঃ

গরুর ক্ষুরা রোগের ভ্যাকসিন বা গরুর ক্ষুরা রোগের টিকার নাম FMD Vaccine বা ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ ভ্যাক্সিন। গরুকে ক্ষুরা রোগের টিকা বা ভ্যাকিসিন সাধারন্ত ৬ মাস অন্তর বছরে ২ বার দিতে হয়। পশু হাসপাতালে ও ওষুধের দোকানে ক্ষুরা রোগের টিকা বা ভ্যাকসিন কিনতে পাওয়া যায়। সরকারি পশু হাসপাতালের চেয়ে ওষুধের দোকানে ভ্যাকসিনের দাম অনেকটা বেশি হয়ে থাকে। ৬ মাস বয়সের ছোট গরুকে ক্ষুরা রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া যায় না। বাছুরের ৬ মাস বয়স হলে ক্ষুরা রোগের প্রথম ডোজ দিতে হয়। ১ম ডোজ দেওয়ার পর প্রতি ৬ মাস অন্তর গরুকে ক্ষুরা রোগের টিকা দিতে হয়। অর্থাৎ বছরে দুই বার FMD টিকা দিতে হয়। গরুর ক্ষুরা রোগের টিকা দেওয়া খুবি সহজ। ক্ষুরা রোগের ভ্যাকসিন গরুর মাংসপেশিতে প্রয়োগ করতে হয়। ভ্যাকসিন সাধারন্ত ঠান্ডা বা শীতল অবস্তায় সংরক্ষণ করতে হয়। গরুকে ভ্যাকসিন প্রয়োগের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেন সিরিঞ্জ জীবাণু মুক্ত হয় এবং  ভ্যাকসিন খোলার পর তা দ্রুত গরুর মাংশে পুশ বা ইঞ্জেকশন করা হয়।



গরুর ক্ষুরা রোগের ঘরোয়া চিকিৎসাঃ

ক্ষুরা রোগ হলে নিম্নোক্ত ঘরোয়া চিকিৎসা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে প্রয়োগ করতে হবে-

  • ১. গরুর পা ও ক্ষুর, বাট এবং গাল হালকা গরম জল বা পানিতে সামান্য পটাশ (পটাশিয়াম পার ম্যাগনেট) মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার ধুইয়ে দিতে হবে।
  • ২. দিনে ২ বার ১০ গ্রাম বা দুই চা চামচ ফিটকিরি এক লিটার পানিতে মিশিয়ে সেই পানি বা জল দিয়ে মুখ বা গাল বা জিহ্বা ভালো ভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
  • ৩. সোহাগা কড়াইতে দিয়ে জ্বাল দিলে তা খই এর মত ফুটে উঠলে তা কড়াই থেকে নামিয়ে বেটে মিহি গুড়া করে গরুর গাল, পা ও ওলান বা বাটের ক্ষত স্থানে লাগাতে হবে।



গরুর ক্ষুরা রোগের হোমিও চিকিৎসাঃ

হোমিওপ্যাথিতে ভাইরাস ধ্বংস করার মতো কোনপ্রকার হোমিও ঔষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে গরুর ক্ষুরা রোগ হলে হোমিও ওষুধ হিসাবে ক্ষত বা ঘা শুকাতে হিপারসালফার -২০০ ও মার্কসল-২০০, জ্বর নিবারনের জন্য একোনাইট-৩x এবং ব্যথা কমাতে আর্নিকা-২০০ আধা ঘন্টা অন্তর পর্যায়ক্রমে খাওয়াতে হবে।



গরুর ক্ষুরা রোগের চিকিৎসা বা এলোপ্যাথি চিকিৎসাঃ

  • ১. ওষুধ প্রয়োগের সময় খাবার সোডা এক লিটার জলে ৪০ গ্রাম মিশিয়ে গরুর পায়ের ক্ষত স্থানে লাগিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
  • ২. পা পরিষ্কার করার পর দ্রুত ঘা বা ক্ষত শুকাতে Sulfanilamide পাওডার গরুর পা বা ক্ষুরের মাঝের ক্ষত স্থানে ভালো করে লাগিয়ে দিতে হবে। Sulfanilamide powder এর পরিবর্তে Tetracycline powder অথবা উভয় ওষুধ এক সাথে নিয়মিত ৫-৭ দিন ব্যবহার করতে হবে।
  • ৩. গরু বা বাছুরের জ্বর কমাতে Paracitamol গ্রুপের ট্যাবলেট বা লিকুইড বা সিরাপ শরীরের তাপ কমা না পর্যন্ত খাওয়াতে হবে।
  • ৪. মাছির উপদ্রব হতে গরুর ঘা বা ক্ষত রক্ষা করতে হবে যাতে মাছি ডিম না পাড়ে, এ জন্য Sulfanilamide পাউডার ব্যবহারের সময় এতে কর্পূর মিশাতে হবে এবং এই মিশ্রণ ভ্যাসলিন অথবা নারিকেল তেল যোগে ক্ষত স্থানে নিয়মিত প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৫. ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোধে এন্টি বায়োটিক ইঞ্জেকশন যেমন- StreptoPen ইঞ্জেকশন অথবা Penicillin ইঞ্জেকশন অথবা Oxytetracycline ইঞ্জেকশন প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশ মত ৩-৫ দিন প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৬. গরুর মুখে, গালে, জিহ্বায় ও মাড়িতে সোহাগা ভেজে খৈ বানিয়ে তা গুড়া করে এর সাথে মধু মিশিয়ে ভালোভাবে লাগিয়ে দিতে হবে এতে ব্যথা, ফোলা ও ক্ষত দ্রুত কমতে সহায়তা করবে।



গরুর ক্ষুরা রোগ পরবর্তী সমস্যাঃ

ক্ষুরা রোগ থেকে মুক্ত হলেও গরুর উৎপাদন কমে যায়, দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দগ্ধ খামার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বাছুরের ক্ষুরা রোগ পরবর্তী Tiger Heart Disease বা THD রোগ দেখা দেয়। THD রোগে বাছুরের মৃত্যু হতে পারে। ক্ষুরা রোগ থেকে রোগ মুক্ত হলেও গরু খাওয়া কমিয়ে দেয়, গরমে হাপায় ও মুখ দিয়ে লালা বা রস ছাড়ে, গায়ের পশম বা লোম বড় বড় হয়ে যায়, বিপাকীয় সমস্যা দেখা দেয় এবং গরু দিন দিন শুকিয়ে এক সময় মারা যায়। বয়ষ্ক গরু ক্ষুরারোগ থেকে মুক্ত হবার ১০-২০ দিন পরেও খাবার ক্ষেতে ক্ষেতে মারা যাওয়ার অনেক প্রমাণ রয়েছে। ক্ষুরা রোগে হার্টের ব্যপক ক্ষতি করায় গরুর এমন অপমৃত্যু হয়ে থাকে। গরু, গাভী বা বাছুর কে ক্ষুরারোগ পরবর্তী হার্ট এটাক থেকে রক্ষা করতে নিম্নের চিকিৎসা গ্রহণ করলে ক্ষুরারোগ পরবর্তী মৃত্যু ঝুকি কমানো সম্ভব হয়-

  • ১. ক্ষুরারোগ চিকিৎসা করার শেষ দিকে পূর্ণ বয়ষ্ক গরু বা গাভীকে পরপর ৩ দিন ১৫-২০ মিলি হারে Ciprofloxacilin vet ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করলে ক্ষুরারোগ সেরে যাওয়ার পর হার্ট এটাকে মৃত্যু ঝুকি কমানো সম্ভব।
  • ২. খামারের অন্য কোন গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হলে অথবা পাশের বাড়ি বা গ্রামে কোন গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হলে ছোট গরু বা বাছুর কে সুস্থ অবস্থায় Sulpher গ্রুপের ইঞ্জেকশন যেমন - Selidon vet ইঞ্জেকশন ২৫ সিসি পরিমাণ এক ডোজ করে রাখলে বাছুর পরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হলেও মৃত্যু ঝুকি কমে যায়।



ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হলে গরুর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ওষুধ ও চিকিৎসাঃ

গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হলে খাদ্য খাবার খাওয়া কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়। রোগ মুক্ত হবার পর গরম সহ্য হয় না, দুপুর বেলা হাপিয়ে ওঠে, গায়ের পশম বা লোম বড় হয়ে যায়। এছাড়া গরু বিপাকীয় সমস্যায় ভোগে। দূর্বল হতে হতে গরুর দৈহিক বৃদ্ধি কমে যায়। দুধ, মাংস উৎপাদন কমতে কমতে একেবারে দুধ শূন্য হয়ে পড়ে। এসকল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা পেয়ে গরুর মাংস ও দুধ উৎপাদন ঠিক রাখতে নিম্নের চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে-

  • ১. গরুর গায়ে জ্বর থাকলে জ্বর নিবারণ হওয়া না পর্যন্ত Paracitamol গ্রুপের ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে।
  • ২. গরুর খাদ্যের প্রতি রুচি বৃদ্ধির জন্য Ruchi Mix vet জাতীয় পাওডার ১০০-২০০ গ্রাম করে দিনে ২ বার ৭ দিন খাওয়াতে হবে।
  • ৩. শরীরের দূষন কমিয়ে রক্ত পরিষ্কার করতে Dexamethasone গ্রুপের স্ট্রয়েড ট্যাবলেট যেমন- Oradexon ট্যাবলেট অথবা Decason  ট্যাবলেট প্রথম ৩ দিন প্রতিবারে ৫ টি করে দিনে ৩ বার, পরবর্তী ৩ দিন প্রতিবারে ৪ টি করে দিনে ৩ বার, পরবর্তী ৩ দিন প্রতিবারে ৩ টি করে দিনে ৩ বার, পরবর্তী ৩ দিন প্রতিবারে ২ টি করে দিনে ৩ বার, পরবর্তী ২ দিন প্রতিবারে ১ টি করে দিনে ৩ বার, পরবর্তী ১ দিন প্রতিবারে ১ টি করে দিনে ২ বার, পরবর্তী ১ দিন প্রতিবারে ১ টি করে দিনে ১ বার খাওয়াতে হবে। স্ট্রয়েড গ্রুপের ওষুধ ধীরে ধীরে মাত্রা কমিয়ে শেষ করতে হয় বলে উপরের মাত্রা ধীরে ধীরে কমিয়ে শেষ করা হয়েছে।
  • ৪. জিংক সিরাপ বা লিকুইড যেমন - ZS vet সিরাপ ১০০-২০০ মিলি করে দিনে এক বার এভাবে ১০-১৫ দিন খাওতাতে হবে।



গরুর ক্ষুরা রোগ ছড়িয়ে মহামারি রূপ নেওয়ার কারণঃ

গরুর ক্ষুরারোগ সারা বছর দেখা দিলেও সাধারন্ত বর্ষার শেষের দিকে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বেশি দেখা দিয়ে অনেক সময় মহামারি রূপ ধারণ করে। বয়ষ্ক গরুকে ক্ষুরা রোগের হাত থেকে সারিয়ে তোলা সম্ভব হলেও গরু খুব দূর্বল হয়ে পড়ে ফলে দীর্ঘ দিন অপুষ্টিতে ভোগে। ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গাভীর দুধ উৎপাদন মারাত্মক রূপে কমে যায়। সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি এ সময়য়ে ছোট বাছুর অর্থাৎ ৬ মাসের কম বয়সী বাছুরের ক্ষুরা রোগ বেশি দেখা দেয় এবং এ সময়ে এ রোগ মহামারি বা মড়ক আকার ধারণ করে। ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত প্রায় ৯৫% বাছুর মারা যায় ফলে বাছুরের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। ক্ষুরা রোগে আক্রাত বাছুর শেষ পর্যায়ে হার্ট সমস্যায় ভোগে যাকে বাছুরের Tiger Heart disease বা THD রোগ বলা হয়ে থাকে। নিম্নে গরুর ক্ষুরারোগ মহামারী বা মড়কে রূপ নেওয়ার কিছু কারণ তুলে ধরা হল-

  • ১. বর্ষার মাঝে গরু কাদা যুক্ত স্থানে থাকায় গরু ক্ষুরা রোগের জন্য দায়ি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে শুরু করে, অন্যদিকে বর্ষার শেষ দিকে শীতের আগমনে  ক্ষুরা রোগ দ্বারা সৃষ্ট গরুর ক্ষত শুকাতে বিলম্বিত হয়  ফলে সুস্থ গরুতে দীর্ঘ দিন ধরে সংক্রমণের সুযোগ পায় ফলে ক্ষুরা রোগ মহামারি রূপ ধারণ করে।
  • ২. ক্ষুরা রোগ বা গরু জরলে রোগাক্রান্ত গরুর মুখের লালা, দুধ, ক্ষত থেকে বের হওয়া পুজ, রক্ত ও রস এবং গোবর এর সংস্পর্শে সুস্থ গরু এলে সহজেই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হতে পারে, এভাবে খামার বা গোয়ালের সকল গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
  • ৩. ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরুর খাবারের মাধ্যমে বা গরুর নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বায়ুতে ভাইরাস সহজে ছড়িয়ে পড়ে ফলে এক খামার বা গোয়াল থেকে অন্য খামার বা গোয়ালে সহজেই ক্ষুরা রোগ বিস্তার লাভ করে।
  • ৪. ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস, চামড়া বা ব্যবহৃত দ্রব্যাদির মাধ্যমে ক্ষুরা রোগের জন্য দায়ি ক্ষতিকারক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে ফলে দ্রুত ক্ষুরা রোগ মহামারী রূপ নেয়।
  • ৫. নতুন কেনা গরুর ক্ষুরা রোগ থাকলে খামারে ক্ষুরা রোগের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
  • ৬. ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরুর সংস্পর্শে থাকা কেও সুস্থ গরুর নিকিট এলে ব্যবহৃত জুতা বা জামার মাধ্যমে ক্ষুরা রোগের জীবাণু খামারে প্রবেশ করতে পারে।
  • ৭. বাতাসের মাধ্যমেও ক্ষুরা রোগের ভাইরাস চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে মহামারী আকারে রেকর্ড সংখ্যক গরুর ক্ষুরা রোগ হতে পারে।



গরুর ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধের উপায়ঃ

  • ১. গরুকে নিয়মিত তথা ৬ মাস অন্তর ক্ষুরা রোগ বা এফএমডি রোগের টিকা দিতে হবে।
  • ২. ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত মৃত পশুকে মাটিতে কমপক্ষে ৫ ফুট গর্ত করে তাতে পুতে ফেলতে হবে, কোনক্রমে খোলা স্থানে ও জলে ফেলে রাখা যাবে না।
  • ৩. খামারে কোনো গরুর ক্ষুরারোগ দেখা দেওয়া মাত্র সুস্থ গরু অর্থাৎ অন্যান্য এঁড়ে, বাছুর, বলদ ও গাভী থেকে রোগাক্রান্ত গরুকে দ্রুত আলাদা করে ফেলতে হবে।
  • ৪. গরুর থাকার স্থান শুষ্ক ও কাদা মুক্ত হতে হবে।
  • ৫. গরুর খাবার পাত্র ও গোয়াল সপ্তাহে কমপক্ষে দুই দিন জীবাণুনাশক স্প্রে যেমন FM 30 ব্যবহার করে জীবাণু মুক্ত করতে হবে এবং আসুস্থ গরুর ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ১০০ মি.লি পানিতে ২ গ্রাম কষ্টিক সোডা অথবা ৪ গ্রাম সোডিয়াম কার্বনেট মিশিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • ৬. ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরুর দুধ কোন ক্রমে বাছুরকে খাওয়ানো যাবে না।
  • ৭. খামার বা গোয়ালে প্রবেশের সময় অথবা গরুর সংস্পর্শে যেতে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে জীবাণুমুক্ত হয়ে প্রবেশ করতে হবে।

শনিবার

গরুর ওজন মাপার নিয়ম ও সহজ পদ্ধতি

ফিতা দিয়ে গরুর ওজন মাপার সূত্র ও এপস


এখানে যা থাকছে---

  • গরুর ওজন মাপার সূত্র
  • ফিতা দিয়ে গরুর ওজন মাপার পদ্ধতি
  • গরুর ওজন মাপার সহজ নিয়ম
  • গরুর ওজন ও মাংসের পরিমাণ নির্ণয়
  • গরুর ওজন মাপার এপস

গরুর ওজন মাপার সূত্র, ফিতা দিয়ে গরুর ওজন মাপার পদ্ধতি, গরুর ওজন মাপার সহজ নিয়ম, গরুর ওজন ও মাংসের পরিমাণ নির্ণয়, গরুর ওজন মাপার এপস
গরুর ওজন মাপার পদ্ধতি


আধুনিক পদ্ধতিতে গরু পালন করতে নিয়মিত গরুর ওজন বা ওয়েট মাপার গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত গরুর ওজন মাপা ও তা লিখে রাখার মাধ্যমে গরুর দৈহিক বৃদ্ধি সম্পর্কে জানা যায়। বছুরের দৈহিক বৃদ্ধি জানার মাধ্যমে বাছুরের দৈনিক খাদ্যের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়। দুগ্ধবতী গাভীর নিয়মিত ওজন মাপার মাধ্যমে দুধ উৎপাদন হার সঠিক রেখে খাদ্যের অপচয় রোধ করা যায়। অপর দিকে গরু মোটাতাজাকরণে নিয়মিত গরুর লাইভ ওয়েট বা ওজন মাপার মাধ্যমে দৈহিক বৃদ্ধির হার জানা যায় এবং সে অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে খাদ্য সরবরাহ করা যায়। তাই খামারে খাদ্যের অপচয় রোধ করে বাছুর, গাভী বা যে কোনো গরু থেকে মুনাফার্জনে নিয়মিত গরুর ওজন মাপা আবশ্যক। গরুর ওজন মাপার জন্য অনেকে মেশিন ক্রয় করে থাকেন। কিন্তু একটু মেধা খাটালে সহজেই গরুর ওজন পরিমাপ করা সম্ভব। সকলেই সুবিধার্থে আমাদের আজকের আলোচনা, গরুর ওজন মাপার সহজ পদ্ধতি, গরুর ওজন মাপার সঠিক নিয়ম ও গরুর ওজন মাপার এপস বা এপ্লিকেশন নিয়ে।



ফিতা দিয়ে গরুর ওজন মাপতে করণীয়ঃ

ফিতা দিয়ে যে কোনো গরুর ওজন মাপতে একটা লম্বা ফিতা নিতে হবে। গরুকে সোজা করে দাড় করিয়ে সর্বপ্রথম গরুর লেজের গোড়া থেকে সিনা বরাবর সামনের পা এর কোটি এর হাড় পর্যন্ত দূরত্ব বা দৈর্ঘ্য কত ইঞ্চি সেটা মেপে নিতে হবে। এর পর গরুর সামনের পা এর ঠিক পিছন দিয়ে পেট এর বেড় এর দৈর্ঘ্য কত ইঞ্চি তা মেপে নিতে হবে। অর্থাৎ গরুর ওজন বের করতে গরুর ২ স্থানের দৈর্ঘের মাপ নিতে হবে-
  • ১. সামনের পা এর কোটি থেকে পিছনের পা এর কোটি বা লেজের গোড়া পর্যন্ত দূরত্ব বা দৈর্ঘ্য।
  • ২. সামনের দুই পা এর ঠিক পিছন দিয়ে সম্পূর্ণ বুক বা পেট সহ পিঠের বেড়ের দৈর্ঘ্য বা বৃত্তাকার পেটের বেড় বা দৈর্ঘ্য। 
নিম্নে ফিতা বা স্কেল দিয়ে গরুর ওজন নির্ণয়ে যে দুই ধরণের মাপ নেওয়া প্রয়োজন গরুর শরীরে সেই মাপ নেওয়ার স্থান চিহ্নিত করে চিত্রাকারে দেখানো হলো-
গরুর ওজন মাপার সূত্র, ফিতা দিয়ে গরুর ওজন মাপার পদ্ধতি, গরুর ওজন মাপার সহজ নিয়ম, গরুর ওজন ও মাংসের পরিমাণ নির্ণয়, গরুর ওজন মাপার এপস
ফিতা দিয়ে গরুর ওজন পরিমাপ



গরুর ওজন মাপার সূত্রঃ

গরুর সমগ্র শরীরের ওজন=(গরুর দৈর্ঘ্য × বুকের বেড়  × বুকের বেড়) ÷ ৬৬০


অর্থাৎ -
গরুর সমগ্র শরীরের ওজন=(গরুর সামনের পা থেকে পিছনের পা পর্যন্ত দূরত্ব  × বুক বা পেটের বেড়  × বুক বা পেটের বেড়) ÷ ৬৬০


অর্থাৎ -
গরুর সমগ্র শরীরের ওজন=(গরুর সামনের পা এর কোটি থেকে পিছনের পা এর কোটি পর্যন্ত দূরত্ব × বুক বা পেটের বেড়  × বুক বা পেটের বেড়) ÷ ৬৬০


অর্থাৎ -
গরুর সমগ্র শরীরের ওজন=(সামনের পায়ের কোটি থেকে পিছনের পায়ের কোটি বা লেজের গোড়া পর্যন্ত দূরত্ব × বুক বা পেটের বেড় × বুক বা পেটের বেড়) ÷ ৬৬০


অর্থাৎ -
গরুর সমগ্র শরীরের ওজন=গরুর সাননের পায়ের কোটি থেকে লেজের গোড়া পর্যন্ত দৈর্ঘ্য এর সাথে গরুর বুকের বেড়ের দৈর্ঘ্য প্রথমে গুণ করে নিতে হবে, প্রাপ্ত গুণফলের সাথে পুনরায় গরুর বুকের বেড়ের দৈর্ঘ্য গুণ করে গুণফল বের করে নিতে হবে, সব শেষে প্রাপ্ত গুণফল কে ৬৬০ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে গরুর মোট ওজন।


মনেরাখতে হবে গরুর ওজন নির্ণয় করতে, সূত্রে বুক বা পেটের বেড়ের পরিমাপ ২ বার গুণ করতে হয়।



ফিতা দিয়ে বাছুরের ওজন মাপার পিদ্ধতিঃ

পা, ভুড়ি, হাড়, মাংস সহ বাছুরের সমগ্র ওজন পরিমাপ করতে নিচের ধাপ গুলো অনুসরণ করতে হবে-
  • ১. বাছুর কে সোজা করে দাড় করাতে হবে।
  • ২. বাছুরের সামনের পায়ের কোটি থেকে পিছনের পায়ের কোটি বা লেজের গোড়া পর্যন্ত দৈর্ঘ্য কত ইঞ্চি তা ফিতা বা স্কেল দিয়ে মেপে লিখে রাখতে হবে।
  • ৩. বাছুরের সামনের পায়ের ঠিক পিছন দিয়ে ফিতা ঢুকিয়ে বাছুরের পেট বা বুকের বেড়ের দৈর্ঘ্য কত ইঞ্চি তা মেপে লিখে রাখতে হবে।
  • ৪. লিখে রাখা পরিমাপ সূত্রে বসিয়ে বাছুরের মোট ওজন নির্ণয় করতে হবে, সূত্রটি হলো- (সামনের ও পিছনের পায়ের কোটি দ্বয়ের মধ্যকার দূরত্ব × বুকের বেড় × বুকের বেড়) ÷ ৬৬০ = বাছুরের মোট ওজন।
  • ৫. বাছুরের ওজন নির্ণয়ের সূত্র প্রয়োগ করতে ফিতায় ইঞ্চি তে পরিমাপ করতে হবে।



গাভীর দৈহিক ওজন মাপার পদ্ধতিঃ

ভুড়ি, হাড়, মাংস সহ সম্পূর্ণ গাভীর ওজন নির্ণয় করতে নিচের ধাপ গুলো অনুসরণ করতে হবে-
  • ১. গাভীকে সোজা করে দাড় করাতে হবে।
  • ২. গাভীর সামনের পায়ের কোটি থেকে পিছনের পায়ের কোটি বা লেজের গোড়া পর্যন্ত দৈর্ঘ্য কত ইঞ্চি তা ফিতা দিয়ে মেপে লিখে রাখতে হবে।
  • ৩. গাভীর সামনের পায়ের ঠিক পিছন দিয়ে ফিতা ঢুকিয়ে বুকের বেড়ের দৈর্ঘ্য কত ইঞ্চি তা মেপে লিখে রাখতে হবে।
  • ৪. লিখে রাখা দৈর্ঘ্য দুটি সূত্রে বসিয়ে গাভীর মোট ওজন নির্ণয় করতে হবে, সূত্রটি হলো- (সামনের ও পিছনের পায়ের কোটি দুটির দূরত্ব বা দৈর্ঘ্য × গাভীর বুকের বেড় × গাভীর বুকের বেড়) ÷ ৬৬০ = গাভীর মোট ওজন।



ফিতা দিয়ে গরুর ওজন মাপার সূত্র, নিয়ম ও পদ্ধতিঃ

হাড়, ভুড়ি, মাংস সহ গরুর শরীরের সম্পূর্ণ ওজন নির্ণয় করতে নিচের ধাপ গুলো অনুসরণ করতে হবে-
  • ১. গরুকে শক্ত করে বেধে সোজা করে দাড় করাতে হবে।
  • ২. গরুর সামনের পায়ের কোটি থেকে পিছনের পায়ের কোটি বা লেজের গোড়া পর্যন্ত কত ইঞ্চি লম্বা তা ফিতা দিয়ে মেপে কোথাও লিখে রাখতে হবে।
  • ৩. গরুর সামনের পায়ের ঠিক পিছন দিয়ে ফিতা ঢুকিয়ে বুকের বেড়ের দৈর্ঘ্য কত ইঞ্চি তা পরিমাপ করে লিখে রাখতে হবে।
  • ৪. লিখে রাখা দৈর্ঘ্য দুটি সূত্রে বসিয়ে গরুর মোট ওজন পরিমাপ করতে হবে, সূত্রটি হলো- (গরুর সামনের ও পিছনের পায়ের কোটি দুটির দূরত্বের দৈর্ঘ্য × গরুর বুকের বেড় × গরুর বুকের বেড়) ÷ ৬৬০ = গরুর মোট ওজন।



উদাহরণের সাহায্যে গরুর মোট ওজন নির্ণয়ঃ

  • ১. মনে করি, একটি গরুর সামনের পা এর কোটি থেকে পিছনের পা এর কোটি বা লেজের গোড়া পর্যন্ত দূরত্ব ৪০ ইঞ্চি এবং সামনের পা দুটির ঠিক পিছন বরাবর গরুর বুকের বেড়ের দৈর্ঘ্য ৫০ ইঞ্চি।
  • ২. সূত্রে মাণ বসালে দাঁড়ায়,
গরুর-মোট-ওজন=(৪০×৫০×৫০)÷৬৬০
=(২০০০×৫০)÷৬৬০
=(১০০০০০)÷৬৬০
=১৫১.৫১৫১৫২
=১৫২ কেজি (প্রায়)
এখানে, দশমিকের পরের সংখ্যা বাদ দিয়ে দশমিকের আগের  সংখ্যার সাথে ১ যোগ করা হয়েছে, অর্থাৎ ১৫১+১=১৫২ কেজি করা হয়েছে।



গরুর শরীরে মাংসের পরিমাণ নির্ণয়ের সূত্র ও পদ্ধতিঃ

উপরের সূত্র প্রয়োগ করে সর্বপ্রথম গরুর মোট শরীরের বা বডির ওজন নির্ণয় করতে হবে। গরুর মোট শরীরের ওজন নির্ণয় করার পর নিচের সূত্র গুলো প্রয়োগ করে গরুর শরীরে থাকা ভূড়ি, গোবোর, চামড়া বাদে হাড় সহ গোস্ত বা মাংসের পরিমাণ নির্ণয় করা যাবে-
গরুর শরীরে মাংসের পরিমাণ =(গরুর মোট ওজন × ৫৫) ÷ ১০০
অর্থাৎ, গরুর মোট ওজনের ৫৫% মাংস থাকে।



গরুর ওজন মাপার এপস বা সফটওয়ারঃ

গরুর মোট ওজন ও গরুর শরীরে মাংসের পরিমাণ দ্রুত নির্ণয় করার অনেক মোবাইল এপস ও কম্পিউটার সফটওয়ার পাওয়া যায়। এন্ড্রয়েড ফোনের জন্য গরুর ওজন মাপার এপস বা এপেক ফাইল বা এপ্লিকেশন আপনার ফোনে ইনেস্টল করতে এখানে ক্লিক করুন>>>



আজ এ পর্যন্তই। আশাকরি উপরোক্ত পদ্ধতি ও সূত্র গুলো অনুসরণ করে আমরা সহজেই কোনো বাছুর, বকনা, গাভী, ষাঁড় বা যে কোনো গরুর ওজন দ্রুত বের করতে পারবো।


বুঝতে সমস্যা হলে নিচে কমেন্ট করুন। আমরা যতো দ্রুত সম্ভব আপনার কমেন্টের উত্তর দিতে চেষ্টা করবো।

বৃহস্পতিবার

গরুর পা ফোলা রোগের ঔষুধ ও চিকিৎসা

বাছুর, গাভী বা গরুর গিরা ফোলা রোগের ওষুধ ও চিকিৎসা


এখানে যা থাকছে---

  • গরুর গিরা ফোলা রোগের ঔষুধ
  • বাছুর ও গাভীর গিরা ফোলা চিকিৎসা
  • গরুর পা ফোলা রোগ
  • গরুর ক্ষুর ও হাটু ফোলা রোগের কারণ

গরুর গিরা ফোলা রোগের ঔষুধ, বাছুর ও গাভীর গিরা ফোলা চিকিৎসা, গরুর পা ফোলা রোগ, গরুর ক্ষুর ও হাটু ফোলা রোগের কারণ
গরুর গিরা ফোলা রোগের চিকিৎসা


গরুর গিরা ফোলা বা হাটু ফোলা বা পা ফোলা গরুর মারাত্মক রোগ গুলোর মধ্যে অন্যতম। বাছুর বা গর্ভবতী গাভী বা দুগ্ধবতী গাভী সহ এড়ে বা বলদ এমনকি বকন বা বকনা সব বয়সের গরুর পা ফোলা বা গিরা ফোলা রোগ দেখা দিতে পারে। দুগ্ধবতী গরুর গিরা বা পা ফোলা রোগ বেশি দেখা দেয়। পা বা গিরা ফোলা রোগ কোনো জেনেটিক বা বংশিও রোগ নয়, এটি সাধারনত গরুর ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে গরুর গিরা ফোলা বা পা ফোলা রোগ দেখা দেয়। সময় মতো চিকিৎসা না করালে গরুর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। আমাদের আজকের আলোচনা গরুর পা ফোলা রোগের কারণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার, লক্ষণ, চিকিৎসা ও ঔষুধ নিয়ে।



গরুর গিরা ফোলা রোগের প্রকারভেদঃ

গিরা ফোলা রোগ সব বয়সের গরুর দেখা দিলেও সাধারনত দুগ্ধবতী ও ৫ বছরের বেশি বয়সের গরুর বেশি দেখা দেয়। গরুর গিরা ফোলা রোগ সাধারনত ২ প্রকার যথা-

  • ১. গরুর ব্যথাহীন বা অপ্রদাহিক ডিজেনারেটিভ গিরা ফোলা রোগ
  • ২. গরুর ব্যথা যুক্ত বা জীবাণু ঘটিত অস্থি সন্ধি প্রদাহ বা গিরা ফোলা রোগ


গরুর ব্যথাহীন অপ্রদাহিক গিরা ফোলা রোগের ক্ষেত্রে ২ থেকে ৪ টি গিরা একসাথে ফুলে যায় , পা ফুলে গেলেও তাতে কোনো ব্যথা না থাকায় গরু হাটা চলা করতে পারে। 


গরুর ব্যথাযুক্ত জীবাণু ঘটিত পা ফোলা বা হাটু ফোলা রোগের ক্ষেত্রে পায়ে খুব ব্যথা থাকায় গরু হাটতে চলতে অসুবিধা বোধ করে। এ ধরনের রোগের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ গরুর পিছনের পা ব্যকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ফুলে যায়। গরুর পিছনের পা ফোলার এ হার শতকরা ৯২ ভাগ। শতকরা ৬৫ ভাগ গরুর বাইরের ক্ষুর আক্রান্ত হয় এবং ভেতরের ক্ষুর আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকে শতকরা ১৪ ভাগ। এছাড়া হাটা চলার সময় ২৮% গরু ব্যথায় খোড়াতে শুরু করে। ব্যকটেরিয়া জনিত এ রোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুগদ্ধবতী গাভীর পা বা অস্থি সন্ধি সমূহে বেশি সংক্রামিত হয়ে থাকে।



গরুর পা ফোলা রোগের কারণঃ

নানা কারণে গরু, বাছুর বা গাভীর পা বা গিরা ফোলা রোগ দেখা দিতে পারে। আঘাত জনিত কারনেও গরুর পা ফুলে যেতে পারে। তবে ব্যাকটেরিয়া জনিত পা ফোলা খুবি মারাত্মক রূপ ধারণ করে। সাধারনত Streptococcus spp, Staphylococcus spp, Corynebacterium pyogenes, E. Coli সহ নানা প্রজাতির ক্ষতিকারক ব্যক্টেরিয়ার সংক্রমণে গরুর পা, হাটু ও ক্ষুর ফোলা রোগ হয়ে থাকে। FMD বা ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হবার পর অনেক সময় ক্ষুর বা পা ফোলা রোগ দেখা দিতে পারে। দুগ্ধবতী গাভীর দুধ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় মিনারেল যেমন- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সহ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের অভাব দেখা দিলে গাভীর পা বা গিরা ফোলা রোগ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় গরুর শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অনুপাত ৩ঃ১ এর কম বা বেশি হলে বা তারতম্য হলেও গরুর গিরা ফোলা রোগ দেখা দিতে পারে। আবার বাছুরের নাভী পাকা বা নাভী ফোলা রোগ দেখা দিলে, দুগ্ধবতী গাভীর ওলান প্রদাহ বা ম্যাসটাইটিস রোগ দেখা দিলে, মাইকোপ্লাজমা এর কার্যকারিতা হ্রাস পেলে এবং গরুর নিউমোনিয়া সহ মারাত্মক রোগ ভোগের পর পা ফোলা বা গিরা ফোলা বা হাটু ফোলা রোগ দেখা দিতে পারে। গরুর পায়ে আঘাত পেলে বা শক্ত কিছুতে ঘষা খেলেও গরুর পায়ে ব্যথা পেয়ে ফুলে যেতে পারে। গোয়ালের মেঝের ঘষায় বা গরুকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও অনেক সময় গরুর পা ফোলা রোগ দেখা দিতে পারে। গরুর হাড়ে বা পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হলে, অতিমাত্রায় বেশি করে দীর্ঘদিন শুধু দানাদার খাদ্য খাওয়ালে, গরুকে হাটা চলা না করালে গরুর পা ফোলা রোগ দেখা দিতে পারে। ক্ষুরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা ক্ষুরে ক্ষুরে ঘষা লাগার ফলেও গরুর পা বা ক্ষুরে ব্যথা সহ পা ফোলা রোগ দেখা দিতে পারে। গরুর পা ফোলা বা গিরা ফোলা বা হাটু ফোলা বা ক্ষুর ফোলা রোগের দ্রুত চিকিৎসা না করালে গরু খোড়া হয়ে যেতে পারে, গরুর দুধ ও মাংস উৎপাদন কমে যেতে পারে এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।



গরুর গিরা ফোলা রোগের লক্ষণঃ

গরুর পা ফোলা বা গিরা ফোলা বা হাটু ফোলা বা ক্ষুর ফোলা বা পায়ে ব্যথা রোগ কে গরুর সন্ধি প্রদাহ বলে। যে কোনো গরু বা গাভী বা বাছুরের পা ফোলা রোগের লক্ষণ গুলো নিম্নরূপ -

  • ১. গাভী, বাছুর বা গরুর এক বা একাধিক পা বা পায়ের গিরা বা ক্ষুর ফুলে যাবে।
  • ২. গিরা ফুলে যাওয়ায় গরুর পায়ে ব্যথা অনুভূত হবে ফলে হাটা চলা করতে সমস্যা হবে এবং খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটতে দেখা যাবে।
  • ৩. পা ফোলা রোগে গরু জাবর কাটা কমিয়ে দেবে, খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দেবে এবং এক স্থানে ঝুপটি মেরে দাঁড়িয়ে থাকবে।
  • ৪. দুগ্ধবতী গাভীর পা ফোলা রোগে গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যাবে।
  • ৫. গরুর পায়ে বা গিরায় তাপমাত্রা বেড়ে যাবে এবং ফোলা স্থানে চাপ প্রয়োগে নরম অনুভব হবে।
  • ৬. গাভী, বাছুর বা গরুর ওঠা বসা করতে কষ্ট হবে এবং নড়াচড়া কমিয়ে দেবে।
  • ৭. অরুচি ও খাদ্যগ্রহণে অনিহা দেখা দেওয়ার সাথে সাথে শারিরীক দূর্বলতা দেখা দেবে।
  • ৮. গরুর পা ফোলা রোগে গরুর মাংস উৎপাদন হ্রাস পাবে।
  • ৯. বাছুরের পা ফোলা রোগে বাছুর ঝুপ মেরে শুয়ে থাকবে এবং শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে।
  • ১০. গর্ভবতী গাভীর বাচ্চা দিতে বিলম্বিত হতে পারে এবং গাভীর উর্বরতা কমে যেতে পারে।
  • ১১. ডিজেনারেটিভ প্রকৃতির পা বা গিরে বা গিরা ফোলা রোগে গরুর ব্যথা নাও থাকতে পারে তবে ফোলা স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাবে।
  • ১২. গরুর শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং হার্ট বিট অস্বাভাবিক হতে পারে।
  • ১৩. গরুর এক বা দুই এমনকি চারটি গিরা বা পা বা ক্ষুর ফুলে যেতে পারে এবং গরু খুড়িয়ে হাটা চলা করতে পারে বা পা উচু করে রাখতে পারে।



গরুর পা বা গিরা ফোলা রোগের ওষুধ ও চিকিৎসাঃ

গরুর পা ফোলা বা ক্ষুর ও হাটু বা গিরা ফোলা রোগের দ্রুত চিকিৎসা করানো উচিত। নিম্নে গরুর পা ফোলা রোগের ওষুধ (ঔষুধ), চিকিৎসা বা প্রেসক্রিপশন তুলে ধরা হলো-

দুগ্ধবতী ও গর্ভবতী গাভীর পা ফোলা চিকিৎসা-

  • ১. এন্টি হিসটামিন গ্রুপের গর্ভকালীন নিরাপদ ইঞ্জেকশন নির্দেশিত মাত্রায় দিনে এক বার করে ৩-৫ দিন।
  • ২. Ceftriaxone গ্রুপের হায়ার এন্টিবায়োটিক যেমন- Taxovet ইনজেকশন, প্রতি ১ কেজি ওজনের গরুর জন্য ১০ মিলিগ্রাম, দিনে ১ বার করে ৩-৫ দিন।
  • ৩. ব্যথানাশক ইঞ্জেকশন যেমন- Kto A vet নির্দেশিত মাত্রায় দিনে ১ বার করে ৩-৪ দিন।
  • ৪. ক্যালসিয়াম ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে হবে অথবা ক্যালসিয়াম লিকুইড যেমন - RenaCal-P পরিমিত মাত্রায় খাওয়াতে হবে।
  • ৫. মাল্টিভিটামিন, মাল্টি মিনারেল ও এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হবে অথবা লিকুইড বা সিরাপ খাওয়াতে হবে অথবা পাউডার যেমন- Renavit DB Plus প্রতিদিন পরিমিত মাত্রায় খাওয়াতে হবে।
  • ৬. ভিটামিন ADE ইনজেকশন ৫-১০ মিলি দিনে এক বার করে পরপর ৩ দিন প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৭. ফোলা স্থানে দিনে ৩-৪ বার হালকা গরম জল ঢালতে হবে। 


বাছুরের পা ফোলা চিকিৎসা-

  • ১. এন্টি হিসটামিন জাতীয় ওষুধ যেমন- Hista-Vet ইনজেকশন, ০.৫-১ মিলি, দিনে এক বার করে ৩-৫ দিন।
  • ২. Streptomycin & Penicillin গ্রুপের এন্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন যেমন- SP-Vet, ৩-৫ দিন ওষুধের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রা অনুযায়ী দিনে এক বার করে প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৩. ব্যথানাশক ইঞ্জেকশন যেমন - Ketoprofen vet দিনে এক বার করে ঔষুধের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রা অনুযায়ী ৩-৪ দিন প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৪. ক্যালসিয়াম ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে হবে অথবা ক্যালসিয়াম লিকুইড যেমন - RenaCal-P পরিমিত মাত্রায় খাওয়াতে হবে।
  • ৫. মাল্টিভিটামিন, মাল্টি মিনারেল ও এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হবে অথবা লিকুইড বা সিরাপ খাওয়াতে হবে অথবা পাউডার যেমন- Renavit DB Plus প্রতিদিন পরিমিত মাত্রায় খাওয়াতে হবে।
  • ৬. ভিটামিন ADE ইনজেকশন ৫-১০ মিলি দিনে এক বার করে পরপর ৩ দিন প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৭. ফোলা স্থানে দিনে ৩-৪ বার হালকা গরম জল ঢালতে হবে। 


এড়ে, বলদ বা বকন ও যে কোনো গরুর পা ফোলা রোগের চিকিৎসা-

  • ১. এন্টি হিসটামিন জাতীয় ওষুধ যেমন- AstaVet ইনজেকশন, ৫-১০ মিলি, দিনে এক বার করে ৩-৫ দিন।
  • ২. টাইলোসিন অথবা Ceftriaxone গ্রুপের এন্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে হবে অথবা  Streptomycin & Penicillin গ্রুপের হায়ার এন্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন যেমন- SP-Vet, ৩-৫ দিন ওষুধের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রা অনুযায়ী দিনে এক বার করে প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৩. ব্যথানাশক ইঞ্জেকশন যেমন - Ketoprofen vet অথবা Tolfamin vet অথবা Prednisolon vet দিনে এক বার করে ঔষুধের গায়ে থাকা নির্দেশিত মাত্রা অনুযায়ী ৩-৪ দিন প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৪. ক্যালসিয়াম ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে হবে অথবা ক্যালসিয়াম লিকুইড যেমন - RenaCal-P পরিমিত মাত্রায় খাওয়াতে হবে।
  • ৫. মাল্টি ভিটামিন, মাল্টি মিনারেল ও এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হবে অথবা লিকুইড বা সিরাপ খাওয়াতে হবে অথবা পাউডার যেমন- Renavit DB Plus প্রতিদিন পরিমিত মাত্রায় খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
  • ৬. ভিটামিন ADE ইনজেকশন ৫-১০ মিলি দিনে এক বার করে পরপর ৩ দিন প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৭. ফোলা স্থানে দিনে ৩-৪ বার হালকা গরম জল ঢালতে হবে। 



গরুর গিরা ফোলা রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকারঃ

  • ১. গরুর গোয়াল বা খামারের মেঝে পাকা বা ইটের তৈরি হলে মেঝেতে রাবারের ম্যাট বা বিছানা বিছিয়ে দিতে হবে।
  • ২. গরুর শোবার ঘর নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে এবং সপ্তাহে কমপক্ষে ২ বার আয়োডিন যুক্ত জীবাণুনাশক যেমন - FAM 30 প্রয়োজন মতো জলের সাথে মিশিয়ে মেঝেতে স্প্রে করতে হবে এবং গরুর খাবার পাত্রে স্প্রে করে পরিষ্কার জল বা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • ৩. গরুকে নিয়মিত কাচা ঘাস সর্বরাহ করতে হবে যাতে গরু পর্যাপ্ত পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট ও মাল্টিভিটামিন পায়।
  • ৪. পরিমিত মাত্রায় দানা দার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে এবং দানাদার খাদ্যে তৈরিতে এর উপাদান গুলোর মিশ্রণ সঠিক অনুপাতে রাখতে হবে।
  • ৫. পরিমিত মাত্রায় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস সরবরাহ করতে হবে এবং খাবারে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অনুপাত ৩ঃ১ রাখতে হবে।
  • ৬. নিয়মিত গরুকে ভিটামিন ADE লিকুইড খাওয়াতে হবে অথবা ইনজেকশন করতে হবে।
  • ৭. প্রতিদিন গরুকে হাটা চলা করাতে হবে এবং খামারে বেধে পালন করা গরুকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১-২ ঘন্টা ব্যায়াম বা হাটা চলা করাতে হবে।
  • ৮. গরুর ক্ষুরে ব্রাশ করে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং ক্ষুর বেড়ে গেলে বাড়তি ক্ষুর ছাটাই করে দিতে হবে।
  • ৯. গোয়াল বা খামারের মেঝে যাতে ছ্যাতছেতে না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • ১০. গরুকে আলো-বাতাস পূর্ণ স্থানে রাখতে হবে এবং নিয়মিত কৃমিমুক্ত করতে হবে।
  • ১১. ক্ষুরা রোগ সহ যে কোনো জটিল রোগের দ্রুত ও সঠিক নিয়মে চিকিৎসা করাতে হবে।
  • ১২. সঠিক নিয়মে গরুর ঘর তৈরী করে আরামদায়ক পরিবেশে গরু পালন করতে হবে ও নিয়মিত গরুর পরিচর্যা করতে হবে।



উপরোক্ত নিয়ম ও চিকিৎসার মাধ্যমে আশাকরি আমরা বাছুর, গাভী বা গরুর  গিরা ফোলা, হাটু ফোলা, পা ফোলা, ক্ষুর ফোলা বা পা ব্যথা রোগের সমাধান করতে পারবো। মনে রাখতে হবে যে কোনো রোগের চিকিৎসা ডাক্তারের পরামর্শ মতো নেওয়া উত্তম।


রবিবার

গরুর কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর নিয়ম ও চিকিৎসা

গাভী, বাছুর ও গরুর কৃমি চিকিৎসা - ইঞ্জেকশন ও ট্যাবলেট


এখানে যা থাকছে---

  • গরুর কৃমিনাশক
  • গরুর কৃমির ট্যাবলেট
  • গরুর কৃমির ইনজেকশন
  • গরুর কৃমি চিকিৎসা
  • গাভী ও বাছুরের কৃমির ওষুধ

গরুর কৃমিনাশক, গরুর কৃমির ট্যাবলেট, গরুর কৃমির ইনজেকশন, গরুর কৃমি চিকিৎসা, গাভী ও বাছুরের কৃমির ওষুধ
গরুর কৃমি রোগ


গরুর কৃমি বা কৃমি রোগ কিঃ

যে সকল প্রাণী অন্য কোনো প্রাণীর দেহে বসবাস করে জীবন ধারণ করে তাদের পরজীবি প্রাণী বলে। গরুর দেহে যে সকল পরজীবি বসবাস করে তাদের দুটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-

  • ১. গরুর বহিঃ পরজীবি 
  • ২. গরুর আন্তঃ পরজীবি


গরুর বাইরের দেহে যে সকল পরজীবি বসবাস করে তাদের গরুর বহিঃ পরজীবি বলে যেমন, উকুন। অন্যদিকে যে সকল পরজীবি গরুর দেহের অভ্যান্তরে বা ভিতরে বসবাস করে তাদের গরুর আন্তঃ পরজীবি বলে। গরুর দেহের অভ্যান্তরে বসবাসকারী আন্তঃ পরজীবির মধ্যে কৃমি (worm) অন্যতম। কৃমি গরুর দেহের অভ্যান্তরে বসবাস করে গরুর নানামুখী ক্ষতিসাধন করে থাকে। তাই সুস্থ ও রোগমুক্ত মোটাতাজা গরু সহ ভালো দুগদ্ধবতী গাভী পেতে গরুকে কৃমিমুক্ত করা আবশ্যক। কৃমি বা কৃমি রোগ নিরাময় ছাড়া গরু পালনে লাভবান হওয়া সম্ভব হয় না।



গরুর কৃমির প্রকারভেদঃ

গরুর দেহে বসবাস ও ক্ষতির দিক বিবেচনায় গরুর দেহে বসবাসকারী কৃমিকে ৩ শ্রেণী বা ধরনে ভাগ করা যেতে পারে, যথা-

  • ১. গরুর গোল কৃমি
  • ২. গরুর পাতা কৃমি বা কলিজা কৃমি
  • ৩. গরুর ফিতা কৃমি



গরুর দেহে কৃমির অবস্থানঃ

গরুর দেহের নানান অঙ্গপ্রত্যঙ্গে কৃমি অবস্থান করে জীবিকানির্বাহ ও বংশবিস্তার করে থাকে। গরুর গোল কৃমি ও ফিতা কৃমি সাধারনত গরুর পাকস্থলী ও অন্ত্র নালীতে বসবাস করে। অপরদিকে গরুর পাতা কৃমি বা কলিজা কৃমি গরুর কলিজায় বসবাস করে। পাকস্থলী, অন্ত্র ও কলিজা ছাড়াও কৃমি গরুর চোখ, ফুসফুস ও চামড়া সহ নানান অঙ্গে অবস্থান করে বংশবিস্তার করে ও গরুর ক্ষতি সাধন করে। 



গরুর দেহে কৃমির ক্ষতিকর প্রভাবঃ

কৃমি গরুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে। গরুর খাদ্যে ভাগ বসিয়ে খাদ্যের পুষ্টি কৃমি গ্রহণ করে ফলে গরু দূর্বল হয়ে পড়ে। গরুর দেহে কৃমির ক্ষতিকর প্রভাব গুলো নিম্নরূপ-

  • ১. কৃমি আক্রান্ত গরু দিন দিন দূর্বল হয়ে পড়ে ফলে দৈহিক বৃদ্ধি হ্রাস পায়।
  • ২. কৃমি আক্রান্ত গরু যে পরিমাণ খাদ্যগ্রহণ করে সে পরিমাণে বৃদ্ধি পায় না।
  • ৩. পাতলা পায়খানা সহ নানারকম রোগে গরু নিয়মিত আক্রান্ত হতে থাকে ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।
  • ৪. মাংস ও দুধ উৎপাদন কমে যায় ফলে খামারে লোকসান দেখা দিতে পারে।
  • ৫. অপুষ্ট ও দূর্বল বাছুর জন্ম নেয় এবং বাছুর জন্মানোর পর মারা যাওয়ার ঝুকি বেড়ে যায়।



গরুর কৃমি আক্রান্তের লক্ষণঃ

নিম্নোক্ত লক্ষণ গুলো দেখে বোঝা যেতে পারে যে একটি গরু বা গাভী বা বাছুর কৃমি আক্রান্ত-

  • ১. কৃমি আক্রান্ত গরু, গাভী বা বাছুর দিন দিন শুকিয়ে যেতে থাকে বা দূর্বল হয়ে পড়ে।
  • ২. কৃমি আক্রান্ত বাছুরের পেট দেহের তুলনায় বড় হয়ে ওঠে এবং দেহ দিন দিন কঙ্কালসার হয়ে পড়ে।
  • ৩. কৃমি আক্রান্ত গাভী, বাছুর বা গরু যে পরিমাণ খাবার খায় সে পরিমাণে বেড়ে ওঠে না।
  • ৪. কৃমি আক্রান্ত গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায়।
  • ৫. কৃমি আক্রান্ত বাছুরের পশম বা গায়ের লোম দিনদিন বড় হয়ে যায়।
  • ৬. কৃমি আক্রান্ত গরুর দেহের লোম উষ্ক খুষ্ক ও চামড়া অমসৃন দেখায়।
  • ৭. কৃমি আক্রান্ত গরুর পায়খানা নরম বা পাতলা পায়খানা লেগে থাকতে পারে এমনকি মাঝে মাঝে পায়খানা বা গোবোর শক্ত হয়ে কোষ্ট কাঠিন্য দেখা দিতে পারে।
  • ৮. কৃমি আক্রান্ত গরুর পেটের হাড় গুলো ভেসে ওঠে এবং গায়ের মাংস শুকিয়ে যেতে থাকে।
  • ৯. কৃমি আক্রান্ত গরুর পায়খানা দুর্গন্ধ যুক্ত হতে পারে।
  • ১০. কৃমি আক্রান্ত গরুর পায়খানা বা গোবোরে কৃমি দেখা যেতে পারে বা পাওয়া যেতে পারে।
  • ১১. গরু অধিক পরিমাণে কৃমি আক্রান্ত হলে গরুর গলার নিচে পানি জমে ফুলে উঠতে পারে।
  • ১২. কৃমি আগ্রান্ত বকনা বা গাভী সহজে ডাকে বা হিটে আসে না।
  • ১৩. কৃমি আক্রান্ত গাভী বা বকনা ডাকে বা হিটে আসলেও সহজে কন্সিভ বা গর্ভধারণ করে না।
  • ১৪. কৃমি আক্রান্ত বাছুর অলস ও দূর্বল হয়ে পড়ে, এমনকি হাটতে চলতে দূর্বলতা প্রকাশ করে।
  • ১৫. কৃমি আক্রান্ত গরু খাদ্যগ্রহন কমিয়ে দিতে পারে এবং গরুর ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিতে পারে।
  • ১৬. কৃমি আক্রান্ত গরু অধিক খাদ্যগ্রহণ করলেও তেমন শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে না এবং দিনদিন রক্ত শূন্য হয়ে পড়ে।


উপরোক্ত লক্ষণ গুলোর এক বা একাধিক লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ধরে নিতে হবে বাছুর, গাভী, এড়ে বা গরু কৃমি আক্রান্ত।



বাছুরের কৃমিনাশক ওষুধ চিকিৎসা ও প্রতিরোধঃ

বাছুর কে কৃমি মুক্ত করতে নিম্নোক্ত পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করতে হবে-

  • ১. বাছুর মা এর গর্ভে থাকা কালীন মা গরু কে নিয়মিত ক্রিমিনাশক ট্যাবলেট বা ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে হবে।
  • ২. বাছুর জন্ম নেওয়ার ৫-৭ দিনের মাঝে পাইপেরাজিন সাইট্রেট গ্রুপের কৃমিনাশক পাওডার বা লিকুইড যেমন- Ascarex Powder 100 অথবা 500 mg জিহবায় মাখিয়ে খাওয়াতে হবে অথবা লিকুইড বা তরল পেলে তা খাওয়াতে হবে।
  • ৩. বাছুরের বয়স এক মাস পূর্ণ হলে একটি এলবেন্ডেজল গ্রুপের ক্রিমিনাশক যেমন - Almex vet খাওয়াতে হবে।
  • ৪. বাছুরকে কৃমি মুক্ত রাখতে বাছুরের ৬ মাস বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে ১ টি করে এলবেন্ডাজল গ্রুপের কৃমিনাশক যেমন- Almex vet খাওয়াতে হবে। প্রথম ৩ মাসে ১ টি করে খাওয়ানোর পর ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ মাসে প্রতি ৩৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য একটি করে Almex vet খাওয়াতে হবে।
  • ৫. বাছুরের বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে এর পর প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর প্রতি ৩৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি করে এলবেন্ডাজল গ্রুপের ক্রিমিনাশক যেমন - Almex vet খাওয়াতে হবে।
  • ৬. বাছুরের ১.৫-২ বছর বয়সে কলিজা বা পাতা কৃমি রোধ করতে Lvermectin & Clorsulon গ্রুপের ইনজেকশন যেমন- A-Mectin Plus অথবা নাইট্রক্সিনিল গ্রুপের ইঞ্জেকশন যেমন- নাইট্রনেক্স ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৭. প্রতিবার কৃমইনাশক দেওয়ার পরের দিন থেকে বাছুরকে পরপর ৪-৫ দিন লিভার টনিক লিকুইড যেমন - লিভাটন পরিমিত মাত্রায় খাওয়াতে হবে।



গর্ভবতী গাভীর কৃমিনাশক ওষুধ চিকিৎসা ও প্রতিরোধঃ

গর্ভবতী গাভীকে নিম্নোক্ত নিয়মে ক্রিমিনাশক ঔষুধ দেওয়া যেতে পারে-

  • ১. গর্ভবতী গাভীকে গর্ভধারণের ১ মাস পর Levamisole + Triclabendazole গ্রুপের ট্যাবলেট যেমন - Renadex vet প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য একটি হারে খাওয়াতে হবে।
  • ২. গর্ভের ৪ মাস পর Levamisole + Triclabendazole গ্রুপের ট্যাবলেট যেমন - Renadex vet প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য একটি হারে খাওয়াতে হবে।
  • ৩. গর্ভের ৭ মাস পর Levamisole + Triclabendazole গ্রুপের ট্যাবলেট যেমন - Renadex vet প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য একটি হারে খাওয়াতে হবে।
  • ৪. কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানোর পরের দিন থেকে পরপর ৫ দিন লিভারটনিক সিরাপ যেমন - লিভাটন নির্ধারিত মাত্রায় খাওয়াতে হবে।
  • ৫. কৃমি নাশক খাওয়ানোর পরের দিন থেকে পরপর ৭ দিন জিংক লিকুইড বা সিরাপ ২০-৫০ মিলি করে খাওয়াতে হবে।



দুগ্ধ বতী গাভীর কৃমিনাশক ওষুধ চিকিৎসা ও প্রতিরোধঃ

দুগ্ধ বতী গাভীকে অধিক দুধ প্রদানের সময় কৃমিনাশক না খাওয়ানো উত্তম। তবে দুগ্ধ বতী গাভীকে গর্ভধারন করানোর আগে বা সিমেন বা বীজ দেওয়ার আগে ক্রিমিনাশক ব্যবহার করা ভালো। দুগ্ধ বতী গাভীকে নিম্নোক্ত নিয়মে ক্রিমিনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে-

  • ১. বাছুর জন্মের ৪৫ দিন পর দুগ্ধ বতী গাভীকে Lvermectin & Clorsulon গ্রুপের ইনজেকশন যেমন- A-Mectin Plus অথবা নাইট্রক্সিনিল গ্রুপের ইঞ্জেকশন যেমন- নাইট্রনেক্স ইঞ্জেকশন নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
  • ২. উপরোক্ত ডোজ প্রয়োগের ১ মাসের মাঝে দুগ্ধবতী গাভী ডাকে আসলে কন্সিভ না করালে বা সিমেন প্রয়োগ না করলে বা ১ মাসের মাঝে গর্ভবতী না হলে ১ মাস পর Levamisole + Triclabendazole গ্রুপের ট্যাবলেট যেমন - Renadex vet প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য একটি হারে খাওয়াতে হবে। এভাবে গাভী শুকনো বা গর্ভ হীন  থাকা পর্যন্ত প্রতি ৩ মাস অন্তর কৃমিনাশক ব্যবহার করতে হবে।
  • ৩. প্রতিবার কৃমিনাশক প্রয়োগের পরের দিন থেকে পরপর ৫ দিন লিভারটনিক নির্ধারিত মাত্রায় খাওয়াতে হবে।



ষাড় বা এড়ে বা যে কোনো গরুর কৃমিনাশক ওষুধ চিকিৎসা ও প্রতিরোধঃ

যে কোনো গরু বা মোটাতাজা করণে বাছাই কৃত গরুকে নিম্নোক্ত নিয়মে কৃমিনাশক প্রয়োগ করতে হবে-

  • ১. গরুকে Lvermectin & Clorsulon গ্রুপের ইনজেকশন যেমন- A-Mectin Plus অথবা নাইট্রক্সিনিল গ্রুপের ইঞ্জেকশন যেমন- নাইট্রনেক্স ইঞ্জেকশন নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
  • ২. Lvermectin & Clorsulon গ্রুপের ইনজেকশন যেমন- A-Mectin Plus অথবা নাইট্রক্সিনিল গ্রুপের ইঞ্জেকশন প্রয়োগের ৭ দিন পর Levamisole + Triclabendazole গ্রুপের ট্যাবলেট যেমন - Renadex vet প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য একটি হারে খাওয়াতে হবে।
  • ৩. প্রতি বছর একবার Lvermectin & Clorsulon গ্রুপের ইনজেকশন যেমন- A-Mectin Plus অথবা নাইট্রক্সিনিল গ্রুপের ইঞ্জেকশন নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৪. প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর Levamisole + Triclabendazole গ্রুপের ট্যাবলেট যেমন - Renadex vet প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য একটি হারে নিয়মিত খাওয়াতে হবে।
  • ৫. প্রতিবার কৃমিনাশক প্রয়োগের পরের দিন থেকে পরপর ৫ দিন লিভারটনিক সিরাপ বা লিকুইড খাওয়াতে হবে।
  • ৬. কৃমিনাশক প্রয়োগের পরের দিন থেকে পরপর ৩ দিন ৩০-৫০ মিলি করে জিংক সিরাপ খাওয়ানো উত্তম।



রোগাক্রান্ত গরুর কৃমি চিকিৎসাঃ

কোনো গরু কৃমি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে দূর্বল ও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে নিম্নোক্ত ভাবে চিকিৎসা করতে হবে-

  • ০. প্রথমে গরুর অন্যান্য রোগ ওষুধ ও চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে তুলতে হবে। এবং রোগ মুক্তির পর কৃমিনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
  • ১. কলিজা বা পাতা কৃমি মুক্ত করার জন্য গরুকে সর্ব প্রথম নাইট্রক্সিনিল গ্রুপের ইঞ্জেকশন যেমন- নাইট্রনেক্স ইঞ্জেকশন নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
  • ২. নাইট্রক্সিনিল গ্রুপের ইঞ্জেকশন প্রয়োগের ৭ দিন পর গোল কৃমি ও ফিতা কৃমি মুক্ত করতে গরুকে Levamisole + Triclabendazole গ্রুপের ট্যাবলেট যেমন - Renadex vet প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য একটি হারে নিয়মিত খাওয়াতে হবে।
  • ৩. ক্রিমিনাশক খাওয়ানোর পরের দিন থেকে পরপর ৫ দিন লিভারটনিক সিরাপ যেমন - লিভাটন খাওয়াতে হবে।
  • ৪. কৃমিনাশক খাওয়ানোর পর থেকে নিয়মিত গরুকে ২০-৫০ মিলি করে জিংক সিরাপ বা লিকুইড খাওয়াতে হবে।
  • ৫. গরুকে কৃমিনাশক খাওয়ানোর ১০ দিন পর থেকে মাল্টিভিটামিন ও মাল্টিমিনারেল প্রমিক্স যেমন- ডিসিপি প্লাস বা রেনা গোল্ড প্লাস গরুকে খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
  • ৬. প্রতিদিন নিয়মিত ভিটামিন AD3E সিরাপ নির্ধারিত মাত্রায় খাওয়াতে হবে অথবা মাসে ২ বার ভিটামিন AD3E ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৭. ক্যালসিয়াম সিরাপ যেমন রেনা ক্যাল পি ৫০-১০০ মিলি করে গরুকে খাওয়াতে হবে।



গরুর চোখে কৃমির প্রতিকার ও চিকিৎসাঃ

গরুর চোখ সাধারনত মাছি বা ডাশ মাছির মাধ্যমে কৃমি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। দ্রুত চিকিৎসা না করালে গরু অন্ধ পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে-

  • ১. প্রথমে বোরিক পাওডার পানিতে মিশিয়ে গরুর চোখ ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
  • ২. সিপ্রফ্লক্সাসিন ও ডেক্সামেথাসন গ্রুপের এন্টিবায়োটিক যেমন - সিপলক্স-ডি গরুর আক্রান্ত চোখে ৫ ফোটা করে ৫ ঘন্টা অন্তর প্রয়োগ করতে হবে।
  • ৩. আইভারমেকটিন গ্রুপের ইনজেকশন প্রতি ১ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ০.২ মিলি গ্রাম হারে প্রয়োগ করতে হবে।



গরুকে কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ানোর নিয়মঃ

গরুকে কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ানোর জন্য নিম্নোক্ত নিয়ম গুলো অনুসরণ করতে হবে-

  • ১. সকালে খালি পেটে গরুকে কৃমিনাশক খাওয়াতে হবে।
  • ২. কৃমিনাশক পানি বা জলে গুলিয়ে বোতলে করে খাওয়ানো যেতে পারে অথবা গুড়ো করে গুড়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে অথবা কলা পাতায় মুড়ে খাওয়ানো যেতে পারে।
  • ৩. কৃমিনাশক খাওয়ানোর পর কমপক্ষে ১ ঘন্টার মাঝে গরুকে কোনো প্রকার খাবার খাওয়ানো যাবে না।
  • ৪. Levamisole + Triclabendazole গ্রুপের কৃমিনাশক খাওয়ানোর পর গরুকে প্রচুর পরিমাণে পানি বা জল খাওয়ানো উচিত তবে জল বা পানি ছাড়া ১ ঘন্টার মাঝে অন্য কোনো খাদ্য খাওয়ানো যাবে না।
  • ৫. কৃমিনাশক প্রয়োগের দিন গরুকে অবশ্যই গোসল করাতে হবে এবং সর্বদা ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।
  • ৬. গর্ভবতী গরুকে গর্ভের ৮ মাস পর কৃমিনাশক প্রয়োগ উচিত নয়।
  • ৭. কৃমির ওষুধ গরুকে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি মাত্রায় খাওয়ালে সমস্যা নেই তবে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম খাওয়ালে গরু কৃমি মুক্ত হবে না।
  • ৮. কৃমিনাশক প্রয়োগের পরের দিন থেকে পরপর ৪-৫ দিন গরুকে লিভারটনিক ও জিংক সিরাপ খাওয়াতে হবে।
  • ৯. কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানোর দিন গরুকে ছায়া যুক্ত স্থানে রাখতে হবে ও গোসল করাতে হবে।



গরুকে কৃমির ইনজেকশন প্রয়োগের নিয়মঃ

  • ১. সকালে খালি পেটে ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হবে।
  • ২. কৃমির ইনজেকশন গরুর গলার চামড়া টেনে ধরে চামড়ার নিচে প্রোয়োগ করতে হবে, মাংশ ও শিরায় প্রয়োগ করা যাবে না।
  • ৩. ইনজেকশন প্রয়োগের পর কমপক্ষে ১ ঘন্টা কোনো খাবার খাওয়ানো যাবে না।
  • ৪. ইনজেকশন প্রয়োগের দিন গরুকে ছায়া ও ঠান্ডা যুক্ত স্থানে রাখতে হবে।
  • ৫. ইনজেকশন প্রয়োগের দিন গরুকে অবশ্যই গোসল করাতে হবে।
  • ৬. ইনজেকশন প্রয়োগের পরের দিন থেকে গরুকে ৪-৫ দিন লিভার টনিক খাওয়াতে হবে এবং ৩-৪ দিন জিংক সিরাপ খাওয়াতে হবে।
  • ৭. কৃমিনাশক ইনজেকশন নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম মাত্রায় করলে কাজ করবে না, কৃমির ইনজেকশন নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি করলে সমস্যা নেই তাই ভালো কাজের জন্য দ্বিগুণ মাত্রায়  ইনজেকশন প্রোয়োগ করতে হবে।



গরুর কৃমি পতিরোধে করণীয়ঃ

  • ১. গরুকে সকালের ভেজা ঘাস ও জলে ডোবা ঘাস বা বর্ষার জলে দ্রুত বেড়ে ওঠা ঘাস খাওয়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে।
  • ২. গরুকে শামাক মুক্ত জমির ঘাস ও খড় খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
  • ৩. গরুকে নিয়মিত কৃমিনাশক দিতে হবে।
  • ৪. গরুকে ঘাস ও খড় ছোট ছোট করে খাওয়াতে হবে।
  • ৫. কৃমিমুক্ত রাখতে গরুকে সর্বদা শুকনো পরিবেশে রাখতে হবে।
  • ৬. ছ্যাত ছেতে ও ভেজা জায়গায় কৃমির উপযুক্ত পরিবেশ বিধায় এইসমস্ত স্থানে গরু বাধা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • ৭. নিয়মিত গোয়াল ও গরুর খাবার পাত্র জিবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
  • ৮. সপ্তাহে ১ বার গরুর গোবর পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে এতে কৃমি আছে কি না।
  • ৯. খমার বা গোয়ালের সকল সুস্থ ও কৃমি আক্রান্ত  গরুকে একসাথে কৃমির ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।
  • ১০. গোয়াল প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ বার পরিষ্কারের পাশাপাশি গোয়াল মশা-মাছির উপদ্রব মুক্ত রাখতে হবে।
  • ১১. গরুর খামার বা গোয়াল ঘর উচু ও বেলে মাটি দ্বারা তৈরি করতে হবে।.
  • ১২. গোয়ালের চারধারে পানি জমতে দেওয়া যাবে না এবং খামারের ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।



গরুর কিছু কৃমিনাশক ওষুধের নামঃ

গরুর কৃমিনাশক পাওডার-

পাইপারজিন পাউডার, মেনাফেক্স পাওডার, কোপেন পাওডার, রিনটাল পাওডার।


গরুর কৃমিনাশক ট্যাবলেট-

ট্রাইক্লাবেনডাজল + লিভামিসল ট্যাবলেট, এলবেনডাজল ট্যাবলেট, রেনাডেক্স ভেট ট্যাবলেট, ইনডেক্স ভেট ট্যাবলেট, এলটি ভেট ট্যাবলেট, এন্টিওয়ার্ম ভেট ট্যাবলেট, নেমাফেক্স ট্যাবলেট বা বোলাস, প্যারাজল ট্যাবলেট, ফেনভিক ভেট ট্যাবলেট।


গরুর কৃমিনাশক লিকুইড বা সিরাপ বা ওরাল সলুশন-

আইভারমেকটিন সলুশন।


গরুর কৃমিনাশক ইনজেকশন-

লিভামিসল ইনজেকশন, নাইট্রক্সিনিল ইনজেকশন, আইভারমেকটিন ইনজেকশন, নাইট্রনেক্স ইনজেকশন, টোডাক্স ইনজেকশন।